وَاِذۡ تَقُوۡلُ لِلَّذِیۡۤ اَنۡعَمَ اللّٰہُ عَلَیۡہِ وَاَنۡعَمۡتَ عَلَیۡہِ اَمۡسِکۡ عَلَیۡکَ زَوۡجَکَ وَاتَّقِ اللّٰہَ وَتُخۡفِیۡ فِیۡ نَفۡسِکَ مَا اللّٰہُ مُبۡدِیۡہِ وَتَخۡشَی النَّاسَ ۚ وَاللّٰہُ اَحَقُّ اَنۡ تَخۡشٰہُ ؕ فَلَمَّا قَضٰی زَیۡدٌ مِّنۡہَا وَطَرًا زَوَّجۡنٰکَہَا لِکَیۡ لَا یَکُوۡنَ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ حَرَجٌ فِیۡۤ اَزۡوَاجِ اَدۡعِیَآئِہِمۡ اِذَا قَضَوۡا مِنۡہُنَّ وَطَرًا ؕ وَکَانَ اَمۡرُ اللّٰہِ مَفۡعُوۡلًا
উচ্চারণ
ওয়া ইযতাকূলু লিল্লাযী আন‘আমাল্লা-হু আলাইহি ওয়াআন‘আমতা ‘আলাইহি আমছিক ‘আলাইকা ঝাওজাকা ওয়াত্তাকিল্লা-হা ওয়া তুখফী ফী নাফছিকা মাল্লা-হু মুবদীহি ওয়া তাখশান্না-ছা ওয়াল্লা-হু আহাক্কুআন তাখশা-হু ফালাম্মা-কাদা-ঝাইদুম মিন হাওয়াতারান ঝাওয়াজনা-কাহা-লিকাই লা-ইয়াকূনা ‘আলাল মু’মিনীনা হারাজুন ফীআঝওয়াজি আদ‘ইয়াইহিম ইযা-কাদাও মিনহুন্না ওয়াতারা- ওয়া কা-না আমরুল্লা-হি মাফ ‘ঊলা-।
মুফতী তাকী উসমানী
এবং (হে রাসূল!) স্মরণ কর, যার প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছিলেন এবং তুমিও অনুগ্রহ করেছিলে, ৩৩ তাকে যখন তুমি বলছিলে, তুমি তোমার স্ত্রীকে নিজ বিবাহে রেখে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর। ৩৪ তুমি নিজ অন্তরে এমন কথা গোপন করছিলে, আল্লাহ যা প্রকাশ করে দেওয়ার ছিলেন। ৩৫ তুমি মানুষকে ভয় করছিলে অথচ আল্লাহই এ বিষয়ের বেশি হকদার যে, তুমি তাকে ভয় করবে। অতঃপর যায়দ যখন নিজ স্ত্রীর সাথে সম্পর্কচ্ছেদ ঘটাল তখন আমি তার সাথে তোমার বিবাহ সম্পন্ন করলাম, যাতে মুসলিমদের পক্ষে তাদের পোষ্যপুত্রদের স্ত্রীগণকে বিবাহ করাতে কোন সমস্যা না থাকে, যখন তারা তাদের সাথে সম্পর্ক শেষ করে ফেলবে। আর আল্লাহর আদেশ তো কার্যকর হওয়ারই ছিল।
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
৩৩. এর দ্বারা হযরত যায়দ ইবনে হারেছা (রাযি.)কে বোঝানো হয়েছে। তার প্রতি আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ তো ছিল এই যে, তিনি তাকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যে পৌঁছে দেন ও ইসলাম গ্রহণ করার তাওফীক দান করেন। তিনি ছিলেন সেই চার সাহাবীর একজন, যারা সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন। আর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছিলেন, তার ব্যাখ্যা এই যে, তিনি আট বছর বয়সে নিজ মায়ের সাথে নানাবাড়ি গিয়েছিলেন। সেখানে কায়ন গোত্রের লোক হামলা চালিয়ে তাকে গোলাম বানিয়ে ফেলে এবং উকাজের মেলায় হযরত হাকীম ইবনে হিযাম (রাযি.)-এর কাছে বিক্রি করে ফেলে। তিনি তার এ শিশু গোলামটিকে নিজ ফুফু হযরত খাদীজাতুল কুবরা (রাযি.)কে দিয়ে দেন। অতঃপর যখন হযরত খাদীজা (রাযি.)-এর সাথে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবাহ হয়, তখন হযরত খাদীজা (রাযি.) তাকে তাঁর খেদমতে পেশ করেন। হযরত যায়দ (রাযি.)-এর বয়স তখন পনের বছর। এর কিছুকাল পর তার পিতা ও চাচা জানতে পারে যে, তাদের সন্তান মক্কা মুকাররমায় আছে। তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছুটে আসল এবং আরজ করল আপনি যে কোনও বিনিময় চান আমরা দিতে রাজি আছি, তবু আমাদের সন্তানকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন। তিনি বললেন, আপনাদের ছেলে যদি আপনাদের সাথে যেতে চায়, তবে কোনরূপ বিনিময় ছাড়াই তাকে আপনাদের হাতে ছেড়ে দেব। কিন্তু সে যদি যেতে সম্মত না হয়, তবে আমি তাকে যেতে বাধ্য করতে পারব না। একথা শুনে তারা অত্যন্ত খুশী হল। তারপর হযরত যায়দ (রাযি.)কে ডাকা হল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এখতিয়ার দিলেন যে, তিনি চাইলে নিজ পিতা ও চাচার সঙ্গে যেতে পারেন এবং চাইলে থেকেও যেতে পারেন, কিন্তু হযরত যায়দ (রাযি.) এই বিস্ময়কর উত্তর দিলেন যে, আমি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ছেড়ে কোথাও যেতে পারব না। একথা শুনে তার পিতা ও চাচা হতবিহ্বল হয়ে গেল। কী বলে তাদের ছেলে! স্বাধীনতার চেয়ে দাসত্বকেই সে বেশি পছন্দ করছে? নিজ পিতা ও চাচার উপর এক অনাত্মীয় ব্যক্তিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে? কিন্তু হযরত যায়দ (রাযি.) তার কথায় অনড়। তিনি বললেন, আমি আমার এ প্রভুর আচার-ব্যবহার দেখেছি। আমি তার যে ব্যবহার পেয়েছি তারপর দুনিয়ার কোনও ব্যক্তিকেই আমি তার উপর প্রাধান্য দিতে পারব না। প্রকাশ থাকে যে, এটা সেই সময়ের ঘটনা, যখনও পর্যন্ত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াত লাভ করেননি। শেষ পর্যন্ত তার পিতা ও চাচা তাকে ছাড়াই ফিরে গেল, তবে আশ্বস্ত হয়ে গেল যে, তাদের ছেলে এখানে ভালো থাকবে। অনন্তর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আজাদ করে দিলেন এবং পবিত্র কাবার কাছে গিয়ে কুরাইশের লোকজনের সামনে ঘোষণা করে দিলেন ‘আজ থেকে সে আমার পুত্র! আমি তাকে দত্তক গ্রহণ করলাম। এরই ভিত্তিতে লোকে তাকে যায়দ ইবনে মুহাম্মাদ ‘মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র’ বলে ডাকত।