وَمَا کَانَ لِمُؤۡمِنٍ وَّلَا مُؤۡمِنَۃٍ اِذَا قَضَی اللّٰہُ وَرَسُوۡلُہٗۤ اَمۡرًا اَنۡ یَّکُوۡنَ لَہُمُ الۡخِیَرَۃُ مِنۡ اَمۡرِہِمۡ ؕ وَمَنۡ یَّعۡصِ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ فَقَدۡ ضَلَّ ضَلٰلًا مُّبِیۡنًا ؕ
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
৩২. এ আয়াত নাযিল হয়েছে এমন কয়েকটি ঘটনার পটভূমিতে, যাতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন সাহাবীর সঙ্গে কয়েক নারীর বিবাহ সম্পন্ন করেছিলেন, কিন্তু সে বিবাহে সেই নারী বা তার অভিভাবকগণ প্রথম দিকে সম্মত থাকেনি। হাফেজ ইবনে কাছীর (রহ.) সেসব ঘটনা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। সবগুলো ঘটনারই সাধারণ অবস্থা ছিল এই যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেই-যেই সাহাবীর সঙ্গে বিবাহের পয়গাম দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে বিশেষ কোন দোষ ছিল না, কিন্তু সংশ্লিষ্ট নারী বা তার আত্মীয়গণ কেবল বংশীয় বা আর্থিক শ্রেষ্ঠত্বের কারণে প্রথম দিকে প্রস্তাব গ্রহণে অসম্মতি জানিয়েছিল। অন্যদিকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব সম্ভব বংশীয় ও বিত্তগত অহমিকা নির্মূল করতে চাচ্ছিলেন, যাতে মানুষ এ জাতীয় শ্রেষ্ঠত্বের কারণে বিবাহের ভালো-ভালো প্রস্তাব গ্রহণ থেকে পিছিয়ে না থাকে। শরীয়ত যদিও বর-কণের মধ্যকার সমতা ও কাফাআতের বিষয়টিকে মোটামুটিভাবে বিবেচনায় রেখেছে, কিন্তু আত্মীয়তা প্রতিষ্ঠার আরও বড় কোন আকর্ষণ যদি বর্তমান থাকে, তবে কেবল এই বিবেচনায় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা কিছুতেই সমীচীন নয় যে, খান্দানী শরাফাতের দিক থেকে বরপক্ষ কণে পক্ষের সমপাল্লার নয়। সুতরাং এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর সবগুলো ঘটনায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রস্তাব গ্রহণ করে নেওয়া হয় এবং তাঁর ইচ্ছামতই বিবাহ সম্পন্ন হয়ে যায়।
এর মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য হল হযরত যায়দ ইবনে হারিছা (রাযি.)-এর বিবাহের ঘটনা। পরবর্তী আয়াতসমূহ এরই সাথে সম্পৃক্ত। হযরত যায়দ (রাযি.) প্রথম দিকে হযরত খাদিজা (রাযি.)-এর গোলাম ছিলেন। তিনি তাকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দান করে দেন। কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে গোলামীর জীবনে বহাল রাখেননি; বরং আযাদ করে তাকে নিজের পোষ্যপুত্র বানিয়ে নেন। পরবর্তী আয়াতের টীকায় এটা বিস্তারিত আসছে। আরও পরে যখন তার বিবাহের সময় আসল তখন তিনি নিজ ফুফাত বোন হযরত যয়নব বিনতে জাহাশ (রাযি.)-এর সাথে তার বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। হযরত যয়নব (রাযি.) ছিলেন উঁচু খান্দানের মেয়ে। সেকালে কোন মুক্তিপ্রাপ্ত গোলামের সাথে এরূপ উঁচু ঘরের মেয়ের বিবাহকে ভালো চোখে দেখা হত না। স্বাভাবিকভাবেই হযরত যয়নব এ প্রস্তাবে সম্মত হতে পারেননি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়। আয়াত নাযিল হওয়ার পর তিনি পত্রপাঠ প্রস্তাবটি গ্রহণ করে নেন এবং হযরত যায়দ ইবনে হারেছা (রাযি.)-এর সঙ্গে তার বিবাহ হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই এ বিবাহের মোহরানা আদায় করেন। আয়াতটি যদিও এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছে, কিন্তু এর শব্দাবলী সাধারণ। এটা শরীয়তের এই বুনিয়াদী মূলনীতি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হুকুমের পর কারও নিজের মতামত খাটানোর অধিকার থাকে না।