আস সিজদাহ্‌

সূরা নং: ৩২, আয়াত নং: ৫

তাফসীর
یُدَبِّرُ الۡاَمۡرَ مِنَ السَّمَآءِ اِلَی الۡاَرۡضِ ثُمَّ یَعۡرُجُ اِلَیۡہِ فِیۡ یَوۡمٍ کَانَ مِقۡدَارُہٗۤ اَلۡفَ سَنَۃٍ مِّمَّا تَعُدُّوۡنَ

উচ্চারণ

ইউদাব্বিরুল আমরা মিনাছছামাইইলালআরদিছু ম্মা ইয়া‘রুজুইলাইহি ফী ইয়াওমিন কানা মিকদা-রুহূআলফা ছানাতিম মিম্মা-তা‘উদ্দূন।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত প্রতিটি কাজের ব্যবস্থাপনা তিনি নিজেই করেন। তারপর সে কাজ এমন এক দিনে তার কাছে উপরে পৌঁছে, তোমাদের গণনা অনুযায়ী যার পরিমাণ হাজার বছর।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

৪. আল্লাহ তাআলার কাছে এক দিন মানুষের গণনা অনুযায়ী হাজার বছর হয় এ কথার অর্থ কী? এর প্রকৃত ব্যাখ্যা তো আল্লাহ তাআলাই জানেন এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি.) একে মুতাশাবিহাত (অর্থাৎ এমন সব দ্ব্যর্থবোধক বিষয়, যার প্রকৃত অর্থ আল্লাহ তাআলা ছাড়া কেউ জানে না)-এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন; কিন্তু মুফাসসিরগণ এর বিভিন্ন ব্যাখ্যাও প্রদান করেছেন। যেমন এর এক ব্যাখ্যা হল, এ দিন দ্বারা কিয়ামত দিবসকে বোঝানো হয়েছে, যা এক হাজার বছরের সমপরিমাণ হবে। এ হিসেবে আয়াতের মর্ম হল, বর্তমানে আল্লাহ তাআলা যত সৃষ্টির ব্যবস্থাপনা করছেন, শেষ পর্যন্ত কিয়ামতের দিন তাদের সকলকে আল্লাহ তাআলারই কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এর আরেক ব্যাখ্যা হল, আল্লাহ তাআলা যেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং তা কার্যকর করার জন্য যে সময় স্থির করেন, সেই স্থিরীকৃত সময়েই তা কার্যকর করা হয়ে থাকে। সুতরাং কোন কোন বিষয় কার্যকর করতে মানুষের গণনা অনুযায়ী এক হাজার বছরও লেগে যায়, কিন্তু আল্লাহ তাআলার কাছে সেই এক হাজার বছরও দীর্ঘ কিছু সময় নয়; বরং এক দিনের সমতুল্য। সূরা হাজ্জে (২৩ : ৪৭) বলা হয়েছে, কাফেরদেরকে যখন বলা হত, কুফরের কারণে আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তাদের উপর দুনিয়া বা আখেরাতে অবশ্যই কোন আযাব আসবে, তখন তারা একথা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করত এবং বলত এত দিন চলে গেল, কই কোন আযাব তো আসল না। সত্যিই যদি কোন আযাব আসার হয়, তবে এখনই কেন তা আসছে না? তার উত্তরে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা যে ওয়াদা করেছেন তা অবশ্যই পূরণ হবে। বাকি সেটা কখন পূরণ হবে, তা নির্ধারিত হবে আল্লাহ তাআলার নিজ হেকমত অনুযায়ী। তোমরা যে মনে করছ তার আগমন অনেক বিলম্বিত হয়ে গেছে, আসলে বিষয়টা তা নয়। তোমরা যাকে এক হাজার বছর গণ্য কর, আল্লাহ তাআলার কাছে তা এক দিনের সমান। এ আয়াত সম্পর্কে কিছুটা বিশদ আলোচনা সূরা মাআরিজ (৭০ : ৩)-এ আসবে।