আল ক্বাসাস

সূরা নং: ২৮, আয়াত নং: ৮৫

তাফসীর
اِنَّ الَّذِیۡ فَرَضَ عَلَیۡکَ الۡقُرۡاٰنَ لَرَآدُّکَ اِلٰی مَعَادٍ ؕ قُلۡ رَّبِّیۡۤ اَعۡلَمُ مَنۡ جَآءَ بِالۡہُدٰی وَمَنۡ ہُوَ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ

উচ্চারণ

ইন্নাল্লাযী ফারাদা ‘আলাইকাল কুরআ-না লারাদ্দুকা ইলা-মা‘আ-দিন কুররাববীআ‘লামুমান জাআ বিলহুদা-ওয়া মান হুওয়া ফী দালা-

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

(হে নবী!) যেই সত্তা তোমার প্রতি এই কুরআনের দায়িত্বভার অর্পণ করেছেন, তিনি তোমাকে অবশ্যই ফিরিয়ে আনবেন (তোমার) প্রিয়ভূমিতে। ৫৭ বল, আমার প্রতিপালক ভালো জানেন কে হেদায়াত নিয়ে এসেছে এবং কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

৫৭. কুরআন মাজীদে এ স্থলে শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে مَعَادْ যা কোন কোন মুফাসসিরের মতে عَادَةٌ থেকে নির্গত। عَادَةٌ অর্থ অভ্যাস। সে হিসেবে مَعَادْ এর অর্থ হবে এমন ভূমি, মানুষ যেখানে বসবাস করে অভ্যস্ত হয়ে গেছে ফলে তা তার প্রিয়ভূমিতে পরিণত হয়েছে। আবার অনেকের মতে এর অর্থ প্রত্যাবর্তনস্থল। উভয় অবস্থায়ই এর দ্বারা মক্কা-মুকাররমাকে বোঝানো উদ্দেশ্য। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা মুকাররমা থেকে হিজরত করে মদীনা মুনাওয়ারার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে যান এবং জুহফার কাছাকাছি যেখান থেকে মক্কা মুকাররমার পথ আলাদা হয়ে গেছে সেই মোড়ে গিয়ে পৌঁছান, তখন দেশ ছেড়ে যাওয়ার বেদনা তাঁর অনুভূতিতে বড় বাজছিল। তাই আল্লাহ তাআলা তাঁকে সান্তনা দানের জন্য এ আয়াত নাযিল করেন এবং এতে ওয়াদা করেন যে, এ ভূমিতে আপনাকে একদিন বিজয়ী হিসেবে ফিরিয়ে আনা হবে। পরিশেষে আট বছরের মাথায় এ ওয়াদা পূরণ করা হয়েছিল। ঠিকই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রিয় মাতৃভূমিতে বিজেতারূপে ফিরে আসেন। কোন কোন মুফাসসির مَعَادْ (প্রিয়ভূমি বা প্রত্যাবর্তনস্থল)-এর ব্যাখ্যা করেছেন জান্নাত। অর্থাৎ, এ দুনিয়ায় যদিও আপনাকে নানা রকম দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হতে হচ্ছে, কিন্তু আপনার শেষ ঠিকানা তো জান্নাত। এক সময় ক্ষণস্থায়ী এ কষ্টের অবসান হবে এবং চির সুখের সেই ঠিকানায় আপনি পৌঁছে যাবেন।