وَمَا کَانَ رَبُّکَ مُہۡلِکَ الۡقُرٰی حَتّٰی یَبۡعَثَ فِیۡۤ اُمِّہَا رَسُوۡلًا یَّتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِنَا ۚ وَمَا کُنَّا مُہۡلِکِی الۡقُرٰۤی اِلَّا وَاَہۡلُہَا ظٰلِمُوۡنَ
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
৪১. ইসলাম গ্রহণ না করার পক্ষে কাফেরদের প্রদর্শিত অজুহাতের যে তিনটি উত্তর দেওয়া হয়েছে, তার মাঝখানে এ আয়াতে তাদের একটি প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়েছে। তারা বলত, আল্লাহ তাআলা যদি আমাদের ধর্ম ও কর্মপন্থা অপছন্দ করে থাকেন তবে যেসব জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে পূর্বের আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মত আমাদেরকেও কেন ধ্বংস করছেন না? এর জবাবে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন, বিষয়টা এমন নয় যে, মানুষকে ধ্বংস করে আল্লাহ তাআলা খুব মজা পান (নাউযুবিল্লাহ)। তিনি মানুষকে ধ্বংস করেন কেবল তখনই, যখন তারা জুলুমের শেষ সীমায় পৌঁছে যায়। তার আগে তিনি তাদেরকে শুধরে যাওয়ার সব রকম ব্যবস্থা করেন। সর্বপ্রথম তিনি তাদের কেন্দ্রস্থলে কোন রাসূল পাঠান। রাসূল তাদেরকে সরল-সঠিক পথের দাওয়াত দেন। তিনি বারবার তাদেরকে ডাকতে ও সমঝাতে থাকেন, যাতে তারা কোনও ক্রমে সরল পথে এসে যায় এবং তাদেরকে শাস্তি দেওয়ার কোন প্রয়োজন না থাকে। যদি তারা রাসূলের ডাকে সাড়া দেয় ও গোমরাহী কার্যকলাপ থেকে নিবৃত্ত হয়, তবে তাদেরকে ধ্বংস করা হয় না।
পক্ষান্তরে তারা যদি জিদ ধরে বসে থাকে এবং রাসূলের ডাকে সাড়া না দিয়ে নিজেদের স্বৈরাচারী কার্যকলাপ অব্যাহত রাখে, তবে শেষ পর্যন্ত তাদেরকে শাস্তি দিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার এ নীতিই কার্যকর ছিল এবং তোমাদের ক্ষেত্রেও তাই বলবৎ আছে। আমার রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদেরকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সত্যের পথে ডেকে যাচ্ছেন এবং তোমাদেরকে তাতে সাড়া দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে। এখন সেই সুযোগকে কাজে না লাগিয়ে তোমরা যদি উল্টো বুঝ বোঝ এবং মনে কর তিনি তোমাদের উপর খুশী এবং তিনি কখনওই তোমাদেরকে শাস্তি দিবেন না, তবে সেটা হবে তোমাদের চরম নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক।