আল ক্বাসাস

সূরা নং: ২৮, আয়াত নং: ৫৭

তাফসীর
وَقَالُوۡۤا اِنۡ نَّتَّبِعِ الۡہُدٰی مَعَکَ نُتَخَطَّفۡ مِنۡ اَرۡضِنَا ؕ اَوَلَمۡ نُمَکِّنۡ لَّہُمۡ حَرَمًا اٰمِنًا یُّجۡبٰۤی اِلَیۡہِ ثَمَرٰتُ کُلِّ شَیۡءٍ رِّزۡقًا مِّنۡ لَّدُنَّا وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ

উচ্চারণ

ওয়া কা-লূইন নাত্তাবি‘ইল হুদা-মা‘আকা নুতাখাততাফ মিন আরদিনা- আওয়ালাম নুমাক্কিল লাহুম হারামান আ-মিনাইঁ ইউজবাইলাইহি ছামারা-তুকুল্লি শাইইররিঝকাম মিল্লাদুন্না-ওয়ালা-কিন্না আকছারাহুম লা-ইয়া‘লামূন।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলে, আমরা যদি তোমার সাথে হেদায়াতের অনুসরণ করি, তবে আমাদেরকে নিজ ভূমি থেকে উৎখাত করা হবে। ৩৯ আমি কি তাদেরকে এমন এক নিরাপদ হরমে প্রতিষ্ঠিত করিনি, যেখানে আমার পক্ষ হতে প্রদত্ত রিযকস্বরূপ সর্বপ্রকার ফলমূল আমদানী করা হয়? কিন্তু তাদের অধিকাংশেই জানে না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

৩৯. কোন কোন কাফের ইসলাম গ্রহণ না করার পক্ষে এই অজুহাত দেখাত যে, ইসলাম গ্রহণ করলে সারা আরববাসী আমাদের বিরোধী হয়ে যাবে। তারা এ যাবৎকাল আমাদেরকে যে ইজ্জত-সম্মান করে আসছে, তা তো ছেড়ে দেবেই, উল্টো তারা লুটতরাজ চালিয়ে আমাদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলবে এবং শেষ পর্যন্ত আমাদেরকে আমাদের বাস্তুভিটা থেকে উৎখাত করেও ছাড়বে। কুরআন মাজীদ তাদের এ কথার তিনটি উত্তর দিয়েছে। প্রথম উত্তর তো এ আয়াতেই দেওয়া হয়েছে যে, তারা কাফের হওয়া সত্ত্বেও আমি তাদেরকে পবিত্র হরমের ভেতর নিরাপদ রেখেছি। সারা আরবের সর্বত্র অরাজক পরিস্থিতি চলছে, সব জায়গায় মারামারি-হানাহানি, কিন্তু হরমের ভেতর যারা বাস করছে তাদেরকে কেউ কিছু বলে না। পরন্তু চারদিক থেকে তাদের কাছে সব রকমের ফলমূল অবাধে আমদানী হচ্ছে এবং তারা তা নির্বিঘ্নে খাচ্ছে-দাচ্ছে। হরমের দিকে যারা মালামাল নিয়ে আসে, তারাও কোন রকম লুণ্ঠনের শিকার হয় না। কুফর সত্ত্বেও যখন আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে এতটা নিরাপত্তা দান করেছেন, তখন ঈমান আনার পর বুঝি তোমাদের এ নিরাপত্তা তিনি তুলে নিবেন এবং তখন তিনি তোমাদের হেফাজত করবেন না? ৫৮নং আয়াতে দ্বিতীয় উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, ধ্বংস ও বিপর্যয় তো আসে আল্লাহ তাআলার নাফরমানী করার ফলে। তোমাদের পূর্বে যে সকল জাতি নাফরমানী করেছে শেষ পর্যন্ত তারা ধ্বংস হয়ে গেছে। যারা ঈমান এনেছিল তাদের কিছুই হয়নি। দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতেই তারা সফলতা লাভ করেছে। সবশেষে ৬০নং আয়াতে তৃতীয় উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, ইসলাম গ্রহণের কারণে ইহকালে যদি তোমাদের কিছুটা দুঃখ-কষ্ট ভোগ করতে হয়ও, তাতে এত ভয় কেন? আখেরাতের দুর্ভোগের তুলনায় এ কষ্ট কোন হিসেবেই আসে না।