وَمَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ مِنۡ رَّسُوۡلٍ وَّلَا نَبِیٍّ اِلَّاۤ اِذَا تَمَنّٰۤی اَلۡقَی الشَّیۡطٰنُ فِیۡۤ اُمۡنِیَّتِہٖ ۚ فَیَنۡسَخُ اللّٰہُ مَا یُلۡقِی الشَّیۡطٰنُ ثُمَّ یُحۡکِمُ اللّٰہُ اٰیٰتِہٖ ؕ وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ ۙ
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
৩০. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্তনা দেওয়া হচ্ছে যে, আপনার বিরুদ্ধবাদীদের পক্ষ থেকে যেসব সংশয় প্রকাশ করা হচ্ছে তা নতুন কোন বিষয় নয়। পূর্ব যুগের নবীদের ক্ষেত্রেও এরূপই ঘটেছে। তারা যখন মানুষকে আল্লাহ তাআলার কালাম পড়ে শোনাতেন, তখন শয়তান কাফেরদের অন্তরে নানা রকম সংশয় সন্দেহ সৃষ্টি করত, যে কারণে তারা ঈমান আনত না। কিন্তু তাদের সৃষ্ট সংশয়-সন্দেহ যেহেতু ভিত্তিহীন হত, তাই আল্লাহ তাআলা খাঁটি মুমিনদের অন্তরে তার কোন আছর বাকি থাকতে দিতেন না; বরং তা সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দিতেন।
এ আয়াতের আরেক তরজমাও করা সম্ভব। তা এ রকম, ‘আমি তোমার আগে যে-সকল রাসূল বা নবী পাঠিয়েছি তাদের ক্ষেত্রেও এ রকমই ঘটেছে যে, তাদের কেউ যখন কোন আকাঙ্ক্ষা করেছে, তখন শয়তান তার আকাঙ্ক্ষায় বিপত্তি সৃষ্টি করত, কিন্তু আল্লাহ তাআলা শয়তানের সৃষ্ট বিপত্তি অপসারণ করে নিজ আয়াতসমূহকে আরও দৃঢ় করতেন। এ তরজমা অনুযায়ী ব্যাখ্যা হবে এ রকম, আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম নিজ সম্প্রদায়ের ইসলামের জন্য কোন বিষয়ের আকাঙ্ক্ষা করলে প্রথম দিকে শয়তান তাদের সে আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথে বাধা সৃষ্টি করত, কিন্তু আল্লাহ তাআলা তার সে বাধা দূর করে নিজ আয়াতসমূহ অধিকতর মজবুত করে দিতেন এবং নবীগণকে সাহায্য করার সুসংবাদ শোনাতেন। তবে শয়তানের সৃষ্ট বাধা কাফেরদের পক্ষে, যাদের অন্তরে সংশয়-সন্দেহের ব্যাধি ছিল, ফিতনার কারণ হয়ে দাঁড়াত। তারা তাকে নবীগণের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে পেশ করত।