ثُمَّ لۡیَقۡضُوۡا تَفَثَہُمۡ وَلۡیُوۡفُوۡا نُذُوۡرَہُمۡ وَلۡیَطَّوَّفُوۡا بِالۡبَیۡتِ الۡعَتِیۡقِ
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
১৮. হজ্জের সময় হাজীগণ ইহরাম অবস্থায় থাকে। তখন তার জন্য চুল ও নখ কাটা জায়েয নয়। হজ্জের কুরবানী না করা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকে। কুরবানী করার পর এসব বৈধ হয়ে যায়। এ আয়াতে যে মলিনতা দূর করতে বলা হয়েছে, তার অর্থ কুরবানী করার পর হাজীগণ তাদের নখণ্ডচুল কাটতে পারবে।
মানত পূরণের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার অর্থ বহু লোক ওয়াজিব কুরবানী ছাড়া এ রকম মানতও করে থাকে যে, হজ্জের সময় নিজের পক্ষ থেকে আল্লাহর নামে কুরবানী করব। তাদের জন্য সে মানত পূরণ করা অবশ্যকর্তব্য।
কুরবানী করার পর বাইতুল্লাহ শরীফের যে তাওয়াফ করার কথা বলা হয়েছে, এর দ্বারা ‘তাওয়াফে যিয়ারত’ বুঝানো হয়েছে। সাধারণত এ তাওয়াফ করা হয় কুরবানী ও মাথা মুণ্ডন করার পর। এটা হজ্জের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রোকন।
এস্থলে বাইতুল্লাহ শরীফকে ‘আল-বাইতুল আতীক’ বলা হয়েছে। ‘আতীক’-এর এক অর্থ প্রাচীন। বাইতুল্লাহ শরীফ এ হিসেবে সর্বপ্রাচীন গৃহ যে, আল্লাহ তাআলার ইবাদতের জন্য সর্বপ্রথম নির্মিত ঘর এটিই। ‘আতীক’-এর আরেক অর্থ মুক্ত। বাইতুল্লাহ শরীফকে আতীক বা ‘মুক্ত গৃহ’ বলার কারণ এক হাদীসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আল্লাহ তাআলা এ গৃহকে জালেম ও আগ্রাসীদের আগ্রাসন থেকে মুক্ত রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা কিয়ামত পর্যন্ত এর মর্যাদা সমুন্নত রাখুন।