মারইয়াম

সূরা নং: ১৯, আয়াত নং: ৫৪

তাফসীর
وَاذۡکُرۡ فِی الۡکِتٰبِ اِسۡمٰعِیۡلَ ۫  اِنَّہٗ کَانَ صَادِقَ الۡوَعۡدِ وَکَانَ رَسُوۡلًا نَّبِیًّا ۚ

উচ্চারণ

ওয়াযকুর ফিল কিতা-বি ইছমা-ঈলা ইন্নাহূকা-না সা-দিকাল ওয়া‘দি ওয়া কা-না রাছূলান নাবিইইয়া-।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

এবং এ কিতাবে ইসমাঈলের বৃত্তান্তও বিবৃত কর। নিশ্চয়ই সে ছিল প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে সত্যবাদী এবং রাসূল ও নবী। ২৯

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

২৯. পূর্বে ৪৯ নং আয়াতে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের আওলাদের মধ্যে পুত্র ইসহাক আলাইহিস সালাম ও পৌত্র ইয়াকুব আলাইহিস সালামের নাম তো উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালামের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এর কারণ খুব সম্ভব এই যে, তাঁর বিশেষ গুরুত্বের কারণে স্বতন্ত্রভাবে তাঁর বৃত্তান্ত বর্ণনা করা উদ্দেশ্য ছিল, যা এ আয়াতে করা হয়েছে। এমনিতে প্রত্যেক নবীই ওয়াদা রক্ষায় সত্যনিষ্ঠ হয়ে থাকেন। তা সত্ত্বেও হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে বিশেষভাবে এ বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে এ সম্পর্কিত তাঁর এক অসাধারণ ঘটনার কারণে। যখন আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তাঁকে যবাহ করার হুকুম দেওয়া হয়েছিল, তখন তিনি পিতার সঙ্গে ওয়াদা করেছিলেন, যবাহকালে তিনি পরিপূর্ণ ধৈর্য ধারণ করবেন (সূরা সাফফাতে সে ঘটনা বিস্তারিত আসবে)। পিতা যখন আল্লাহ তাআলার নির্দেশ মত তাকে যবাহ করতে উদ্যত হন এবং তিনি সাক্ষাত মৃত্যুর সম্মুখীন হন, তখনও নিজ ওয়াদার কথা ভোলেননি; বরং ধৈর্য-স্থৈর্যের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছিলেন। মুফাসসিরগণ তাঁর ওয়াদা রক্ষার এ ছাড়া আরও কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন।