হুদ

সূরা নং: ১১, আয়াত নং: ৮২

তাফসীর
فَلَمَّا جَآءَ اَمۡرُنَا جَعَلۡنَا عَالِیَہَا سَافِلَہَا وَاَمۡطَرۡنَا عَلَیۡہَا حِجَارَۃً مِّنۡ سِجِّیۡلٍ ۬ۙ  مَّنۡضُوۡدٍ ۙ

উচ্চারণ

ফালাম্মা-জাআ আমরুনা-জা‘আলনা-‘আ-লিয়াহা-ছা-ফিলাহা-ওয়া আমতারনা‘আলাইহা-হিজা-রাতাম মিন ছিজজীলিম মানদূদ।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর যখন আমার হুকুম এসে গেল, তখন আমি সে জনপদের উপর দিককে নিচের দিকে উল্টিয়ে দিলাম ৫৫ এবং তাদের উপর থাকে থাকে পাকা মাটির পাথর বর্ষণ করলাম-

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

৫৫. বিভিন্ন বর্ণনায় আছে, এসব দুশ্চরিত্র লোক মোট চারটি জনপদে বাস করত। ফেরেশতাগণ সবগুলো জনপদকে একত্রে উৎপাটিত করে শূন্যে নিয়ে গেলেন এবং সেখান থেকে উল্টিয়ে নিচে ছুঁড়ে মারলেন। এভাবে সবগুলো বসতি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেল। অনেকের মতে এ জনপদসমূহের উল্টে যাওয়ার ফলেই মৃত সাগর (Dead Sea) নামক প্রসিদ্ধ সাগরটির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের এ মতকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কেননা কোনও বড় সাগরের সাথে এটির কোনও সংযোগ নেই। তাছাড়া যে স্থানে এসব বসতি অবস্থিত ছিল, মৃত সাগর-সংলগ্ন আশপাশের সে এলাকার একটা বৈশিষ্ট্য হল যে, এটি ভূ-পৃষ্ঠের মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিচু। পৃথিবীর অন্য কোনও অঞ্চল সমুদ্র-পৃষ্ঠ হতে এতটা নিচু নয়। কুরআন মাজীদে যে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি এ জনপদের উপর দিককে নিচের দিকে উল্টিয়ে দিলাম’, অসম্ভব নয় যে, এর দ্বারা এই ভৌগোলিক অবস্থানের দিকেও ইশারা করা হয়েছে এবং সেই সঙ্গে এটাও বোঝানো হয়েছে যে, জনপদবাসীদের চরম নীচতা ও অধঃপতিত চরিত্রকে দৃশ্যমান আকৃতি দিয়ে দেওয়া হয়েছে।