হুদ

সূরা নং: ১১, আয়াত নং: ১২

তাফসীর
فَلَعَلَّکَ تَارِکٌۢ بَعۡضَ مَا یُوۡحٰۤی اِلَیۡکَ وَضَآئِقٌۢ بِہٖ صَدۡرُکَ اَنۡ یَّقُوۡلُوۡا لَوۡلَاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡہِ کَنۡزٌ اَوۡ جَآءَ مَعَہٗ مَلَکٌ ؕ  اِنَّمَاۤ اَنۡتَ نَذِیۡرٌ ؕ  وَاللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ وَّکِیۡلٌ ؕ

উচ্চারণ

ফালা‘আল্লাকা তা-রিকুম বা‘দা মা-ইঊহাইলাইকা ওয়া দাইকুম বিহী সাদরুকা আইঁ ইয়াকূলূলাওলাউনঝিলা ‘আলাইহি কানঝুন আও জাআ মা‘আহূমালাকুন ইন্নামা আনতা নাযীরুওঁ ওয়াল্লা-হু ‘আলা-কুল্লি শাইইওঁ ওয়াকীল।

অর্থ

মুফতী তাকী উসমানী

(হে নবী!) তবে কি তোমার প্রতি যে ওহী নাযিল করা হচ্ছে তার কিছু অংশ ছেড়ে দিবে? ১০ এবং তারা যে বলে, তার (অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) প্রতি কোনও ধন-ভান্ডার অবতীর্ণ হল না কেন কিংবা তার সাথে কোনও ফেরেশতা আসল না কেন? এ কারণে সম্ভবত তোমার অন্তর সঙ্কুচিত হচ্ছে। তুমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র! আল্লাহ তাআলাই প্রতিটি বিষয়ে পরিপূর্ণ এখতিয়ার রাখেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

১০. মুশরিকগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলত, আপনি আমাদের মূর্তিদের সমালোচনা ত্যাগ করুন। তাহলে আপনার সাথে আমাদের কোন বিবাদ থাকবে না। এরই উত্তরে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হচ্ছে, আপনার পক্ষে তো এটা সম্ভব নয় যে, তাদেরকে খুশী করার জন্য আপনার প্রতি নাযিলকৃত ওহীর অংশবিশেষ ছেড়ে দিবেন। সুতরাং তাদের এ জাতীয় কথায় আপনি মন খারাপ করবেন না। কেননা আপনার কাজ তো কেবল তাদেরকে সত্য সম্পর্কে অবহিত করা। অতঃপর তারা মানবে কি মানবে না সেটা আপনার বিষয় নয়। সে দায়-দায়িত্ব তাদের নিজেদের। আর তারা যে আপনার প্রতি কোনও ধন-ভাণ্ডার নাযিল হওয়ার ফরমায়েশ করছে, এ ব্যাপারে কথা হলধন-ভাণ্ডারের সাথে নবুওয়াতের সম্পর্ক কী? যাবতীয় বিষয়ের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ও এখতিয়ার তো কেবল আল্লাহ তাআলার। কোন ফরমায়েশ পূরণ করা হবে এবং কোনটা নয় এ ব্যাপারে তিনি নিজ হিকমত অনুসারে ফায়সালা করে থাকেন। প্রকাশ থাকে যে, এ তরজমা করা হয়েছে মুফাসসিরদের এই মতের ভিত্তিতে যে, ‘এ স্থলে لعلك শব্দটি সম্ভাবনাব্যঞ্জক নয়; বরং অসম্ভাব্যতাবোধক। আবার কেউ বলেছেন এটা অস্বীকৃতিমূলক প্রশ্নের অর্থে ব্যবহৃত (রূহুল মাআনী; ১২ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩০৭, ৭০৬)।