فَالۡیَوۡمَ نُنَجِّیۡکَ بِبَدَنِکَ لِتَکُوۡنَ لِمَنۡ خَلۡفَکَ اٰیَۃً ؕ وَاِنَّ کَثِیۡرًا مِّنَ النَّاسِ عَنۡ اٰیٰتِنَا لَغٰفِلُوۡنَ ٪
তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী
৪৭. আল্লাহ তাআলার নীতি হল, যখন তাঁর আযাব কারও মাথার উপর এসে যায় এবং সে তা নিজ চোখে দেখতে পায় কিংবা কারও যখন মৃত্যু যন্ত্রণা শুরু হয়ে যায়, তখন তাওবার দুয়ার বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে সময় ঈমান আনলে তা গৃহীত হয় না। কাজেই ফির‘আউনের জন্য এখন আর শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনও উপায় ছিল না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তার লাশটি রক্ষা করলেন। তার লাশ সাগরের তলদেশে না গিয়ে পানির উপর ভাসতে থাকল, যাতে সকলে তাকে দেখতে পায়। এতটুকু বিষয় তো এ আয়াতে পরিষ্কার। আধুনিক কালের ঐতিহাসিকদের অনুসন্ধান ও গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, হযরত মূসা আলাইহিস সালামের আমলে যে ফির‘আউন ছিল তার নাম ছিল মিনিফতাহ এবং তার লাশটিও নিখুঁতভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। কায়রোর যাদুঘরে এখনও পর্যন্ত সে লাশ সংরক্ষিত আছে এবং তা মানুষের শিক্ষা গ্রহণের জন্য এক বিরাট নিদর্শন হয়ে আছে। এ গবেষণা সঠিক হলে এটা কুরআন মাজীদের সত্যতার যেন এক সবাক প্রমাণ। কেননা এ আয়াত যখন নাযিল হয়েছে তখন কারও জানা ছিল না যে, ফির‘আউনের লাশ এখনও সংরক্ষিত আছে। বৈজ্ঞানিকভাবে এটা উদঘাটিত হয়েছে তার বহুকাল পরে।