সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আত ত্বীন (الـتين) | ডুমুর

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৮

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

وَالتِّیۡنِ وَالزَّیۡتُوۡنِ ۙ ١

ওয়াততীন ওয়াঝঝাইতূন।

শপথ আঞ্জির ও যয়তুনের

وَطُوۡرِ سِیۡنِیۡنَ ۙ ٢

ওয়া তূরি ছীনীন।

এবং সিনাই মরুভূমির (পাহাড়) তূরের

وَہٰذَا الۡبَلَدِ الۡاَمِیۡنِ ۙ ٣

ওয়া হা-যাল বালাদিল আমীন।

এবং এই নিরাপদ শহরের

তাফসীরঃ

১. ফিলিস্তিন ও শাম এলাকায় আঞ্জির ও যয়তুন বেশি জন্মায়। কাজেই এর দ্বারা ফিলিস্তিন অঞ্চলের দিকে ইশারা করা হয়েছে, যেখানে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে নবী করে পাঠানো হয়েছিল এবং তাকে ইনজীল কিতাব দেওয়া হয়েছিল। আর সিনাই মরুভূমিস্থ তুর তো সেই পাহাড়, যার উপর হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে তাওরাত দেওয়া হয়েছিল। নিরাপদ শহর, বলতে মক্কা মুকাররমাকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী বানিয়ে পাঠানো হয় এবং তার প্রতি কুরআন মাজীদ নাযিল করা হয়। এই তিনটির শপথ করার তাৎপর্য এই যে, এর পর যে কথা বলা হচ্ছে, তা তাওরাত, ইনজিল ও কুরআন এ তিনও কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে এবং তিনও নবী আপন-আপন উম্মতকে তা জানিয়েছেন।

لَقَدۡ خَلَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ فِیۡۤ اَحۡسَنِ تَقۡوِیۡمٍ ۫ ٤

লাকাদ খালাকনাল ইনছা-না ফীআহছানি তাকবীম।

আমি মানুষকে উৎকৃষ্ট ছাঁচে ঢেলে সৃষ্টি করেছি

ثُمَّ رَدَدۡنٰہُ اَسۡفَلَ سٰفِلِیۡنَ ۙ ٥

ছু ম্মা রাদাদ না-হু আছফালা ছা-ফিলীন।

অতঃপর আমি তাকে হীনতাগ্রস্তদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা হীনতম অবস্থায় পৌঁছিয়ে দেই।

তাফসীরঃ

২. এর একাধিক ব্যাখ্যা হতে পারে। (এক) যারা ঈমান আনেনি, তারা দুনিয়ায় যত সুন্দর ও সুশ্রীই হোক, আখেরাতে তারা চরম কদর্য অবস্থায় পৌঁছে যাবে, যেহেতু তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। এ কারণেই পরের আয়াতে মুমিনদেরকে এর ব্যতিক্রম বলা হয়েছে। কেননা তারা ঈমান ও সৎকর্মের বদৌলতে জান্নাত লাভ করবে। (দুই) অধিকাংশ তাফসীরবিদ এর ব্যাখ্যা করেছেন যে, যৌবনে যত সুন্দরই হোক না কেন, বার্ধক্যে প্রতিটি মানুষ অত্যন্ত হীন অবস্থায় পৌঁছে যায় ও শ্রীহীন হয়ে পড়ে। তার সব রূপ-লাবণ্য লোপ পেয়ে যায়। শক্তি-সামর্থ্যও খতম হয়ে যায়। আর কাফেরগণ পরবর্তীতে কখনও এসব ফিরে পাবে সেই আশাও তাদের থাকে না। কেননা তারা তো আখেরাতকে বিশ্বাসই করে না। কিন্তু মুমিন-মুসলিমগণ বৃদ্ধকালে জরাজীর্ণ হয়ে পড়লেও তাদের এই বিশ্বাস থাকে যে, এ জীর্ণ দশা সম্পূর্ণ সাময়িক। কেননা মৃত্যুর পর তারা যে দ্বিতীয় জীবন লাভ করবে, তখন ইনশাআল্লাহ তারা আরও অনেক উৎকৃষ্ট নি‘আমত লাভ করবে। তখন এ সাময়িক কষ্ট শেষ হয়ে যাবে। দুনিয়ার রূপ ও সৌন্দর্য অপেক্ষা আরও অনেক ভালো রূপ ও সৌন্দর্য সেখানে দেওয়া হবে। এই অনুভূতির কারণে মুমিনদের বার্ধক্যের কষ্টও অনেক হালকা হয়ে যায়।

اِلَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فَلَہُمۡ اَجۡرٌ غَیۡرُ مَمۡنُوۡنٍ ؕ ٦

ইল্লাল্লাযীনা আ-মানূওয়া‘আমিলুসসা-লিহা-তি ফালাহুম আজরুন গাইরু মামনূন।

কিন্তু তারা ব্যতীত, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে। তাদের জন্য আছে অনিঃশেষ প্রতিদান।

فَمَا یُکَذِّبُکَ بَعۡدُ بِالدِّیۡنِ ؕ ٧

ফামা-ইউকাযযি বুকা বা‘দুবিদ্দীন।

সুতরাং (হে মানুষ!) এরপর আর কী জিনিস আছে, যা তোমাকে কর্মফল দিবস প্রত্যাখ্যানে উদ্বুদ্ধ করছে?

اَلَیۡسَ اللّٰہُ بِاَحۡکَمِ الۡحٰکِمِیۡنَ ٪ ٨

আলাইছাল্লা-হু বিআহকামিল হা-কিমীন।

আল্লাহ কি শাসকবৃন্দের মধ্যে শ্রেষ্ঠ শাসক নন?

তাফসীরঃ

৩. আবু দাঊদ ও তিরমিযীর এক হাদীস দ্বারা জানা যায়, এ আয়াত পড়ার পরوَاَنَا عَلٰى ذٰلِكَ مَنَ الشَّاهِدِيْنَ বলা মুস্তাহাব। এর অর্থ ‘কেন নয়? আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ সকল শাসকের শ্রেষ্ঠ শাসক’। [এর আরেক অর্থ হতে পারে ‘আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক নন?’ অর্থাৎ জ্ঞান ও শক্তিতে পরিপূর্ণ হওয়ার কারণে অপরাধের শাস্তিবিধান ও পারস্পরিক বিরোধের মীমাংসায় আল্লাহ তাআলাই শ্রেষ্ঠতম ন্যায়বিচারক। দুনিয়ায়ও তিনি কারও প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করেন না এবং আখিরাতের মহাবিচার দিবসেও তার পক্ষ হতে কোনও রকম জুলুমের আশংকা নেই। -অনুবাদক]