সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আদ দুহা (الضـحى) | পূর্বান্হের সুর্যকিরণ

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ১১

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

وَالضُّحٰی ۙ ١

ওয়াদদু হা-।

(হে রাসূল!) শপথ চড়তি দিনের আলোর,

وَالَّیۡلِ اِذَا سَجٰی ۙ ٢

ওয়াল্লাইলি ইযা-ছাজা-।

এবং রাতের, যখন তার অন্ধকার গভীর হয়।

مَا وَدَّعَکَ رَبُّکَ وَمَا قَلٰی ؕ ٣

মা-ওয়াদ্দা‘আকা রাব্বুকা ওয়ামা-কালা-।

তোমার প্রতিপালক তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি নারাজও হননি।

তাফসীরঃ

১. নবুওয়াত লাভের পর প্রথম দিকে কিছুদিন এমন কেটেছে, যখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কোন ওহী আসেনি। এ কারণে আবু লাহাবের স্ত্রী কটাক্ষ করল যে, ‘তোমার রব্ব তোমার প্রতি নারাজ হয়ে তোমাকে পরিত্যাগ করেছেন’। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ সূরা নাযিল হয়েছিল। আরবীতে ضحى (দুহা) বলা হয় সেই আলোকে, যা দিন চড়ে ওঠার সময় ছড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ তাআলা প্রথম সেই আলোর শপথ করেছেন। তাই সূরাটির নাম হয়েছে সূরা দুহা। চড়তি দিন ও রাতের শপথ করার ভেতর খুব সম্ভব ইঙ্গিত রয়েছে যে, রাত অন্ধকার হয়ে গেলে তার মানে এ হয় না যে, দিনের আলো আর পাওয়া যাবে না। এমনিভাবে বিশেষ কোন কারণে কিছু দিনের জন্য ওহী স্থগিত থাকলে তা থেকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছা যে, আল্লাহ তাআলা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি নারাজ হয়ে গেছেন, এটা চরম মূঢ়তা।

وَلَلۡاٰخِرَۃُ خَیۡرٌ لَّکَ مِنَ الۡاُوۡلٰی ؕ ٤

ওয়ালাল আ-খিরাতুখাইরুল্লাকা মিনাল ঊলা-।

নিশ্চয়ই পরবর্তী সময় তোমার পক্ষে পূর্বের সময় অপেক্ষা শ্রেয়।

তাফসীরঃ

২. এ আয়াতের বিভিন্ন ব্যাখ্যা হতে পারে। (ক) আখেরাতের নি‘আমতসমূহ দুনিয়া অপেক্ষা শ্রেয়। (খ) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত পূর্বের মুহূর্ত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। কেননা প্রতিটি মুহূর্তে তাঁর শান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পেতে থাকবে এবং শত্রুদের পক্ষ থেকে তিনি যে দুঃখ-কষ্ট পাচ্ছেন তা ক্রমান্নয়ে দূর হতে থাকবে এবং এক পর্যায়ে গিয়ে তাঁর পরিপূর্ণ বিজয় লাভ হবে।

وَلَسَوۡفَ یُعۡطِیۡکَ رَبُّکَ فَتَرۡضٰی ؕ ٥

ওয়া লাছাওফা ইউ‘তীকা রাব্বুকা ফাতারদা-।

অচিরেই তোমার প্রতিপালক তোমাকে এত দেবেন যে, তুমি খুশী হয়ে যাবে।

اَلَمۡ یَجِدۡکَ یَتِیۡمًا فَاٰوٰی ۪ ٦

আলাম ইয়াজিদকা ইয়াতীমান ফাআ-ওয়া-।

তিনি কি তোমাকে ইয়াতীম পাননি, অতঃপর তোমাকে আশ্রয় দিয়েছেন?

তাফসীরঃ

৩. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানিত পিতা তাঁর জন্মের আগেই ইন্তিকাল করেছিলেন এবং সম্মানিতা মা’ও তাঁর শৈশবকালেই চির বিদায় নিয়েছিলেন। কিন্তু তাই বলে ইয়াতীম-অনাথ শিশুদের মত তাঁকে নিরাশ্রয় হতে হয়নি। আল্লাহ তাআলা তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব ও চাচা আবু তালিবের অন্তরে তার প্রতি এত বেশি স্নেহ-মমতা দিয়েছিলেন যে, তাঁরা তাঁকে নিজ সন্তান অপেক্ষাও বেশি আদরের সাথে প্রতিপালন করেছেন।

وَوَجَدَکَ ضَآلًّا فَہَدٰی ۪ ٧

ওয়া ওয়াজাদাকা দাল্লান ফাহাদা-।

এবং তোমাকে পেয়েছিলেন, পথ সম্পর্কে অনবহিত; অতঃপর তোমাকে পথ দেখিয়েছেন।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ ওহী নাযিল হওয়ার আগে তিনি শরীয়তের বিধি-বিধান সম্পর্কে অনবগত ছিলেন। আল্লাহ তাআলা ওহীর মাধ্যমে তাঁকে শরীয়ত দান করলেন। তাছাড়া কোন কোন বর্ণনায় এমন কিছু ঘটনার উল্লেখ আছে, যাতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন সফরে পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন। আল্লাহ তাআলা অস্বাভাবিকভাবে তাকে ঠিক পথে পৌঁছিয়ে দেন। হতে পারে আয়াতে এ জাতীয় ঘটনার প্রতিও ইশারা করা হয়েছে।

وَوَجَدَکَ عَآئِلًا فَاَغۡنٰی ؕ ٨

ওয়া ওয়াজাদাকা ‘আইলান ফাআগনা-।

এবং তোমাকে নিঃস্ব পেয়েছিলেন, অতঃপর (তোমাকে) ঐশ্বর্যশালী বানিয়ে দিলেন।

তাফসীরঃ

৫. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত খাদীজা (রাযি.)-এর সাথে ব্যবসায়ে যে অংশীদার হয়েছিলেন, তাতে তার যথেষ্ট মুনাফা অর্জিত হয়েছিল। এর ফলে তার আর্থিক দৈন্য ঘুচে গিয়েছিল।

فَاَمَّا الۡیَتِیۡمَ فَلَا تَقۡہَرۡ ؕ ٩

ফাআম্মাল ইয়াতীমা ফালা-তাকহার।

সুতরাং যে ইয়াতীম, তুমি তার প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করো না।
১০

وَاَمَّا السَّآئِلَ فَلَا تَنۡہَرۡ ؕ ١۰

ওয়া আম্মাছ ছাইলা ফালা-তানহার।

এবং যে সওয়াল করে, তাকে দাবড়ি দিও না

তাফসীরঃ

৬. ‘সওয়ালকারী’ দ্বারা সেই ব্যক্তিকেও বোঝানো হতে পারে, যে অর্থ সাহায্য প্রার্থনা করে এবং সেই ব্যক্তিকেও, যে সত্য জানার আগ্রহে দীন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। উভয়কেই দাবড়ি দিতে ও ভর্ৎসনা করতে নিষেধ করা হয়েছে। কোন ওজর থাকলে নম্র ভাষায় অপারগতা প্রকাশ করা উচিত।
১১

وَاَمَّا بِنِعۡمَۃِ رَبِّکَ فَحَدِّثۡ ٪ ١١

ওয়া আম্মা-বিনি‘মাতি রাব্বিকা ফাহাদ্দিছ।

এবং তোমার প্রতিপালকের যে নি‘আমত (পেয়েছ), তার চর্চা করতে থাক।

তাফসীরঃ

৭. অনুগ্রহকারীর অনুগ্রহের কথা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে প্রচার করলে তাতে শরীয়তে কোন দোষ নেই বরং তা প্রশংসনীয় কাজ। সুতরাং আল্লাহ তাআলা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি যেসব অনুগ্রহ করেছেন, এ আয়াতে তাঁকে তা প্রচার করার হুকুম দেওয়া হয়েছে। বিশেষত ৭নং আয়াতে যে হেদায়েত ও শরীয়ত দানের নি‘আমতের কথা বর্ণিত হয়েছে, তার প্রচার করা তো নবী হিসেবে তাঁর দায়িত্বও বটে (-অনুবাদক তাফসীরে উছমানী থেকে গৃহীত)।