সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল মুল্‌ক (الـملك) | সার্বভৌম কতৃত্ব

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৩০

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

تَبٰرَکَ الَّذِیۡ بِیَدِہِ الۡمُلۡکُ ۫  وَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرُۨ ۙ ١

তাবা-রাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলকু ওয়া হুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

মহিমাময় সেই সত্তা, যার হাতে গোটা রাজত্ব। তিনি সবকিছুর উপর পরিপূর্ণ শক্তিমান।

الَّذِیۡ خَلَقَ الۡمَوۡتَ وَالۡحَیٰوۃَ لِیَبۡلُوَکُمۡ اَیُّکُمۡ اَحۡسَنُ عَمَلًا ؕ  وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡغَفُوۡرُ ۙ ٢

আল্লাযী খালাকাল মাওতা ওয়াল হায়া-তা লিইয়াবলুওয়াকুম আইয়ুকুম আহছানু‘আমালাওঁ ওয়া হুওয়াল ‘আঝীঝুল গাফূর।

যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য যে, কর্মে তোমাদের মধ্যে কে উত্তম। তিনিই পরিপূর্ণ ক্ষমতার মালিক, অতি ক্ষমাশীল।

الَّذِیۡ خَلَقَ سَبۡعَ سَمٰوٰتٍ طِبَاقًا ؕ مَا تَرٰی فِیۡ خَلۡقِ الرَّحۡمٰنِ مِنۡ تَفٰوُتٍ ؕ فَارۡجِعِ الۡبَصَرَ ۙ ہَلۡ تَرٰی مِنۡ فُطُوۡرٍ ٣

আল্লাযী খালাকা ছাব‘আ ছামা-ওয়া-তিন তিবা-কান মা- তারা- ফী খালকির রাহমা-নি মিন তাফা-উত ফারজি‘ইল বাসারা হাল তারা- মিন ফুতূর।

যিনি উপর-নীচ স্তর বিশিষ্ট সাত আকাশ সৃষ্টি করেছেন। তুমি দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে কোন অসঙ্গতি পাবে না। ফের দৃষ্টিপাত করে দেখ, কোন ফাটল দেখতে পাও কি?

তাফসীরঃ

১. ‘অসঙ্গতি’-এর দ্বারা বোঝানো হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতের প্রতিটি বস্তুকে এক বিশেষ সৌষম্য ও সাযুজ্যের সাথে সৃষ্টি করেছেন। এর কোথাও কোন বৈসাদৃশ্য নেই।

ثُمَّ ارۡجِعِ الۡبَصَرَ کَرَّتَیۡنِ یَنۡقَلِبۡ اِلَیۡکَ الۡبَصَرُ خَاسِئًا وَّہُوَ حَسِیۡرٌ ٤

ছু ম্মার জি‘ইলবাসারা কাররাতাইনি ইয়ানকালিব ইলাইকাল বাসারু খা-ছিআওঁ ওয়া হুওয়া হাছীর।

অতঃপর বারবার দৃষ্টিপাত কর। দৃষ্টি ক্লান্ত ও ব্যর্থ হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।

وَلَقَدۡ زَیَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنۡیَا بِمَصَابِیۡحَ وَجَعَلۡنٰہَا رُجُوۡمًا لِّلشَّیٰطِیۡنِ وَاَعۡتَدۡنَا لَہُمۡ عَذَابَ السَّعِیۡرِ ٥

ওয়া লাকাদ ঝাইয়ান্নাছ ছামাআদ্দুনইয়া- বিমাসা-বীহা ওয়াজা‘আলনা- হা- রুজূমাল লিশশায়া-তীনি ওয়া আ‘তাদনা- লাহুম ‘আযা- বাছছা‘ঈর।

আমি নিকটবর্তী আকাশকে সাজিয়েছি উজ্জ্বল প্রদীপ দ্বারা এবং সেগুলোকে শয়তানের উপর নিক্ষেপের উপকরণও বানিয়েছি। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি।

তাফসীরঃ

২. প্রদীপ দ্বারা তারকারাজি ও নভোম-লীয় বস্তুরাজিকে বোঝানো হয়েছে, যা রাতের বেলা আকাশকে সুশোভিত করে তোলে। তাছাড়া শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপ করার কাজেও এগুলো ব্যবহার করা হয়ে থাকে। শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন সূরা হিজর (১৫ : ১৮)-এর টীকা।

وَلِلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِرَبِّہِمۡ عَذَابُ جَہَنَّمَ ؕ وَبِئۡسَ الۡمَصِیۡرُ ٦

ওয়া লিল্লাযীনা কাফারূবিরাব্বিহিম ‘আযা- বুজাহান্নামা ওয়াবি’ছাল মাসীর।

যারা তাদের প্রতিপালকের সাথে কুফরী আচরণ করেছে, তাদের জন্য আছে জাহান্নামের শাস্তি। তা অতি মন্দ ঠিকানা।

اِذَاۤ اُلۡقُوۡا فِیۡہَا سَمِعُوۡا لَہَا شَہِیۡقًا وَّہِیَ تَفُوۡرُ ۙ ٧

ইযাউলকূফীহা- ছামি‘উ লাহা- শাহীকাওঁ ওয়াহিয়া তাফূর।

যখন তাদেরকে তাতে ফেলা হবে, তারা তার গর্জন শুনতে পাবে আর তা হবে উদ্বেলিত।

تَکَادُ تَمَیَّزُ مِنَ الۡغَیۡظِ ؕ کُلَّمَاۤ اُلۡقِیَ فِیۡہَا فَوۡجٌ سَاَلَہُمۡ خَزَنَتُہَاۤ اَلَمۡ یَاۡتِکُمۡ نَذِیۡرٌ ٨

তাকা- দুতামাইয়াঝুমিনাল গাইজি কুল্লামাউলকিয়া ফীহা- ফাওজুন ছাআলাহুম খাঝানাতুহাআলাম ইয়া’তিকুম নাযীর।

মনে হবে যেন তা রোষে ফেটে পড়ছে। যখনই তাতে (কাফেরদের) কোন দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তার প্রহরী তাদেরকে জিজ্ঞেস করবে, তোমাদের কাছে কি কোন সতর্ককারী আসেনি?

قَالُوۡا بَلٰی قَدۡ جَآءَنَا نَذِیۡرٌ ۬ۙ فَکَذَّبۡنَا وَقُلۡنَا مَا نَزَّلَ اللّٰہُ مِنۡ شَیۡءٍ ۚۖ اِنۡ اَنۡتُمۡ اِلَّا فِیۡ ضَلٰلٍ کَبِیۡرٍ ٩

কা- লূবালা- কাদ জাআনা- নাযীরুন ফাকাযযাবনা- ওয়া কুলনা- মানাঝঝালাল্লা- হু মিন শাইয়িন ইন আনতুম ইল্লা- ফী দালা- লিন কাবীর।

তারা বলবে, হাঁ, অবশ্যই আমাদের কাছে সতর্ককারী এসেছিল, কিন্তু আমরা (তাকে) মিথ্যাবাদী ঠাওরিয়েছি এবং বলেছি, আল্লাহ কোন কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা কেবল বিরাট গোমরাহীতেই নিপতিত।
১০

وَقَالُوۡا لَوۡ کُنَّا نَسۡمَعُ اَوۡ نَعۡقِلُ مَا کُنَّا فِیۡۤ اَصۡحٰبِ السَّعِیۡرِ ١۰

ওয়া কা-লূলাও কুন্না- নাছমা‘উ আও না‘কিলুমা- কুন্না-ফীআসহা-বিছছা‘ঈর।

এবং তারা বলবে, আমরা যদি শুনতাম এবং বুদ্ধিকে কাজে লাগাতাম, তবে (আজ) আমরা জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম না।
১১

فَاعۡتَرَفُوۡا بِذَنۡۢبِہِمۡ ۚ فَسُحۡقًا لِّاَصۡحٰبِ السَّعِیۡرِ ١١

ফা‘তারাফূবিযামবিহিম ফাছুহকালিলআসহা-বিছ ছা‘ঈর।

এভাবে তারা নিজেরা নিজেদের গুনাহ স্বীকার করবে। অভিশাপ জাহান্নামীদের জন্য!
১২

اِنَّ الَّذِیۡنَ یَخۡشَوۡنَ رَبَّہُمۡ بِالۡغَیۡبِ لَہُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّاَجۡرٌ کَبِیۡرٌ ١٢

ইন্নাল্লাযীনা ইয়াখশাওনা রাব্বাহুম বিলগাইবি লাহুম মাগফিরাতুওঁ ওয়া আজরুন কাবীর।

(পক্ষান্তরে) যারা তাদের প্রতিপালককে না দেখেই ভয় করে নিঃসন্দেহে তাদের জন্য আছে মাগফিরাত ও মহা প্রতিদান।
১৩

وَاَسِرُّوۡا قَوۡلَکُمۡ اَوِ اجۡہَرُوۡا بِہٖ ؕ اِنَّہٗ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ ١٣

ওয়া আছিররূকাওলাকুম আবিজহারূবিহী ইন্নাহূ‘আলীমুম বিযা- তিসসুদূ র।

তোমরা তোমাদের কথা গোপনে বল বা প্রকাশ্যে বল (সবই তাঁর জানা। কেননা) তিনি তো অন্তর্যামী।
১৪

اَلَا یَعۡلَمُ مَنۡ خَلَقَ ؕ  وَہُوَ اللَّطِیۡفُ الۡخَبِیۡرُ ٪ ١٤

আলা- ইয়া‘লামুমান খালাকা ওয়া হুওয়াল্লাতীফুল খাবীর।

যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি জানবেন না? অথচ তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক জ্ঞাত!
১৫

ہُوَ الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ الۡاَرۡضَ ذَلُوۡلًا فَامۡشُوۡا فِیۡ مَنَاکِبِہَا وَکُلُوۡا مِنۡ رِّزۡقِہٖ ؕ وَاِلَیۡہِ النُّشُوۡرُ ١٥

হুওয়াল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদা যালূলান ফামশূফী মানা-কিবিহা- ওয়া কুলূমির রিঝকিহী ওয়া ইলাইহিন নুশূর।

তিনিই তোমাদের জন্য ভূমিকে বশ্য করে দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা তার কাঁধে চলাফেরা কর ও তাঁর (দেওয়া) রিযক খাও। তাঁরই কাছে তোমাদেরকে পুনর্জীবিত হয়ে যেতে হবে।

তাফসীরঃ

৩. অর্থাৎ ভূমির সমস্ত জিনিস তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। তবে এসব ব্যবহার কালে ভুলে যেও না, এখানে তোমরা চিরকাল থাকতে পারবে না। একদিন এখান থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে চলে যেতে হবে। তখন তাঁর কাছে এসব নি‘আমতের হিসাব দিতে হবে। সুতরাং এখানকার প্রতিটি জিনিস আল্লাহ তাআলার হুকুম অনুযায়ী ব্যবহার কর।
১৬

ءَاَمِنۡتُمۡ مَّنۡ فِی السَّمَآءِ اَنۡ یَّخۡسِفَ بِکُمُ الۡاَرۡضَ فَاِذَا ہِیَ تَمُوۡرُ ۙ ١٦

আ আমিনতুম মান ফিছছামাই আইঁ ইয়াখছিফা বিকুমুল আরদা ফাইযা- হিয়া তামূর।

তোমরা কি আসমানওয়ালার থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, তিনি তোমাদেরকে ভূমিতে ধসিয়ে দেবেন না, যখন তা হঠাৎ থরথর করে কাঁপতে থাকবে?

তাফসীরঃ

৪. আখেরাতের আযাব তো যথাস্থানে আছেই। আল্লাহ তাআলা তোমাদের দুষ্কর্মের কারণে এখানেও শাস্তি দিতে পারেন, যেমন তিনি কারূনকে ভূগর্ভে ধ্বসিয়ে দিয়েছিলেন, তেমনি তোমাদেরকে ধ্বসিয়ে দিতে পারেন আর তখন ভূমি প্রচণ্ডভাবে কাঁপতে থাকবে, ফলে মানুষ আরও বেশি গভীরে তলিয়ে যেতে থাকবে।
১৭

اَمۡ اَمِنۡتُمۡ مَّنۡ فِی السَّمَآءِ اَنۡ یُّرۡسِلَ عَلَیۡکُمۡ حَاصِبًا ؕ فَسَتَعۡلَمُوۡنَ کَیۡفَ نَذِیۡرِ ١٧

আম আমিনতুম মান ফিছছামাই আইঁ ইউরছিলা ‘আলাইকুম হা-সিবান ফাছাতা‘লামূনা কাইফা নাযীর।

নাকি তোমরা আসমানওয়ালা হতে নিশ্চিত হয়ে গেছ এ ব্যাপারে যে, তিনি তোমাদের উপর পাথর-বৃষ্টি বর্ষণ করবেন না, অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী?
১৮

وَلَقَدۡ کَذَّبَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ فَکَیۡفَ کَانَ نَکِیۡرِ ١٨

ওয়া লাকাদ কাযযাবাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ফাকাইফা কা- না নাকীর।

তাদের পূর্বে যারা ছিল তারাও (নবীগণকে) অবিশ্বাস করেছিল। অতঃপর (দেখ) কেমন ছিল আমার শাস্তি?
১৯

اَوَلَمۡ یَرَوۡا اِلَی الطَّیۡرِ فَوۡقَہُمۡ صٰٓفّٰتٍ وَّیَقۡبِضۡنَ ؔۘؕ مَا یُمۡسِکُہُنَّ اِلَّا الرَّحۡمٰنُ ؕ اِنَّہٗ بِکُلِّ شَیۡءٍۭ بَصِیۡرٌ ١٩

আওয়ালাম ইয়ারাও ইলাত্তাইরি ফাওকাহুম সাফফা-তিওঁ ওয়াইয়াকবিদন । মাইউমছিকুহুন্না ইল্লাররাহমা-নু ইন্নাহূবিকুল্লি শাইয়িম বাসীর।

তারা কি তাদের উপর দিকে তাকিয়ে পাখীদেরকে দেখে না, যারা পাখা ছড়িয়ে দেয় আবার তা গুটিয়েও নেয়? দয়াময় (আল্লাহ) ছাড়া অন্য কেউ তাদেরকে স্থির রাখেন না। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছু পরিপূর্ণরূপে দেখেন।
২০

اَمَّنۡ ہٰذَا الَّذِیۡ ہُوَ جُنۡدٌ لَّکُمۡ یَنۡصُرُکُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ الرَّحۡمٰنِ ؕ  اِنِ الۡکٰفِرُوۡنَ اِلَّا فِیۡ غُرُوۡرٍ ۚ ٢۰

আম্মান হা-যাল্লাযী হুওয়া জুনদুল্লাকুম ইয়ানসুরুকুম মিন দূ নিররাহমা-নি ইনিল কাফিরূনা ইল্লা- ফী গুরূর।

আচ্ছা, দয়াময় আল্লাহ ছাড়া সে কে, যে তোমাদের সৈন্য হয়ে তোমাদেরকে সাহায্য করবে? বস্তুত কাফেরগণ নিছক ধোঁকার মধ্যে পড়ে রয়েছে।

তাফসীরঃ

৫. অর্থাৎ কাফেরগণ যে মনে করছে তাদের মনগড়া উপাস্যরা তাদের সাহায্য করবে, সেটা ধোঁকা ছাড়া কিছু নয়।
২১

اَمَّنۡ ہٰذَا الَّذِیۡ یَرۡزُقُکُمۡ اِنۡ اَمۡسَکَ رِزۡقَہٗ ۚ بَلۡ لَّجُّوۡا فِیۡ عُتُوٍّ وَّنُفُوۡرٍ ٢١

আম্মান হা- যাল্লাযী ইয়ারঝকুকুম ইন আমছাকা রিঝকাহূ বাল্লাজ্জূফী ‘উতুওবিওয়া নুফূর।

তিনি যদি তাঁর রিযক বন্ধ করে দেন, তবে এমন কে আছে, যে তোমাদেরকে রিযক দিতে পারে? এতদসত্ত্বেও তারা অবাধ্যতা ও সত্যবিমুখতায় অবিচল রয়েছে।
২২

اَفَمَنۡ یَّمۡشِیۡ مُکِبًّا عَلٰی وَجۡہِہٖۤ اَہۡدٰۤی اَمَّنۡ یَّمۡشِیۡ سَوِیًّا عَلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ٢٢

আফামাইঁ ইয়ামশী মুকিব্বান ‘আলা- ওয়াজহিহী আহদা আম্মাইঁ ইয়ামশী ছাবি ইয়ান ‘আলা-সিরা-তিমমুছতাকীম।

আচ্ছা যে ব্যক্তি উল্টো হয়ে মুখে ভর দিয়ে চলছে, সেই কি বেশি গন্তব্যস্থলে পৌঁছবে, না সে, যে সোজা হয়ে সরল পথে চলছে?
২৩

قُلۡ ہُوَ الَّذِیۡۤ اَنۡشَاَکُمۡ وَجَعَلَ لَکُمُ السَّمۡعَ وَالۡاَبۡصَارَ وَالۡاَفۡـِٕدَۃَ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تَشۡکُرُوۡنَ ٢٣

কুল হুওয়াল্লাযীআনশাআকুম ওয়া জা‘আলা লাকুমুছছাম‘আ ওয়াল আবসা-রা ওয়াল আফইদাতা কালীলাম মা-তাশকুরূন।

বলে দাও, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য কান, চোখ ও হৃদয় বানিয়েছেন। (কিন্তু) তোমরা শোকর আদায় কর অল্পই।
২৪

قُلۡ ہُوَ الَّذِیۡ ذَرَاَکُمۡ فِی الۡاَرۡضِ وَاِلَیۡہِ تُحۡشَرُوۡنَ ٢٤

কুল হুওয়াল্লাযী যারাআকুম ফিল আরদিওয়া ইলাইহি তুহশারূন।

বলে দাও, তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাঁরই কাছে তোমাদেরকে একত্র করে নিয়ে যাওয়া হবে।
২৫

وَیَقُوۡلُوۡنَ مَتٰی ہٰذَا الۡوَعۡدُ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ٢٥

ওয়া ইয়াকূলূনা মাতা-হা-যাল ওয়া‘দুইন কুনতুম সা-দিকীন।

তারা বলে, তোমরা সত্যবাদী হলে বল, এই প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে?

তাফসীরঃ

৬. কাফেরগণ বারবার আখেরাত নিয়ে ঠাট্টা করত এবং বলত, আখেরাতের আযাব সত্য হলে তা আসতে দেরি হচ্ছে কেন? এখনই কেন আসছে না? তারই জবাবে একথা বলা হয়েছে।
২৬

قُلۡ اِنَّمَا الۡعِلۡمُ عِنۡدَ اللّٰہِ ۪ وَاِنَّمَاۤ اَنَا نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ ٢٦

কুল ইন্নামাল ‘ইলমু‘ইনদাল্লা- হি ওয়া ইন্নামাআনা নাযীরুম মুবীন।

বলে দাও, এর জ্ঞান কেবল আল্লাহরই কাছে আছে। আমি কেবল একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
২৭

فَلَمَّا رَاَوۡہُ زُلۡفَۃً سِیۡٓـَٔتۡ وُجُوۡہُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَقِیۡلَ ہٰذَا الَّذِیۡ کُنۡتُمۡ بِہٖ تَدَّعُوۡنَ ٢٧

ফালাম্মা-রাআওহু ঝুলফাতান ছীআত ঊজূহুল্লাযীনা কাফারূওয়া কীলা হা-যাল্লাযী কুনতুম বিহী তাদ্দা‘ঊন।

যখন তারা তা (অর্থাৎ কিয়ামতের আযাব) আসন্ন দেখবে, তখন কাফেরদের চেহারা বিমর্ষ হয়ে পড়বে এবং বলা হবে, এটাই সেই জিনিস, যা তোমরা চাচ্ছিলে।
২৮

قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ اَہۡلَکَنِیَ اللّٰہُ وَمَنۡ مَّعِیَ اَوۡ رَحِمَنَا ۙ فَمَنۡ یُّجِیۡرُ الۡکٰفِرِیۡنَ مِنۡ عَذَابٍ اَلِیۡمٍ ٢٨

কুল আরাআইতুম ইন আহলাকানিয়াল্লা-হু ওয়া মাম্মা‘ইয়া আও রাহিমানা- ফামাইঁ ইউজীরুল কা-ফিরীনা মিন ‘আযা-বিন আলীম।

(হে রাসূল! তাদেরকে) বলে দাও, একটু বল তো, আল্লাহ আমাকে ও আমার সঙ্গীদেরকে ধ্বংস করুন বা আমাদের প্রতি রহমত করুন (উভয় অবস্থায়) কাফেরদেরকে যন্ত্রণাময় শাস্তি হতে কে রক্ষা করবে?

তাফসীরঃ

৭. বহু কাফের বলত, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুনিয়া থেকে চলে গেলে তার দীনও খতম হয়ে যাবে। তাই তারা তাঁর ওফাতের অপেক্ষা করছিল। যেমন সূরা তুর (৫২ : ৩০)-এ গত হয়েছে। এখানে বলা হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীগণকে ধ্বংস করুন বা তাদের প্রতি রহম করুন ও তাদেরকে জয়যুক্ত করুন (যেমন আল্লাহ তাআলার প্রতিশ্রুতি রয়েছে) উভয় অবস্থায়ই তোমাদের পরিণতিতে তো কোন প্রভেদ হবে না। উভয় অবস্থায়ই কাফেরদেরকে অবশ্যই শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে এবং তাদেরকে তা থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।
২৯

قُلۡ ہُوَ الرَّحۡمٰنُ اٰمَنَّا بِہٖ وَعَلَیۡہِ تَوَکَّلۡنَا ۚ فَسَتَعۡلَمُوۡنَ مَنۡ ہُوَ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ ٢٩

কুল হুওয়াররাহমা-নুআ-মান্না-বিহী ওয়া‘আলাইহি তাওয়াক্কালনা-, ফাছাতা‘লামূনা মান হুওয়া ফী দালা-লিম মুবীন।

বলে দাও, তিনি দয়াময় (আল্লাহ)। আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং আমরা তাঁরই উপর ভরসা করেছি। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত।
৩০

قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ اَصۡبَحَ مَآؤُکُمۡ غَوۡرًا فَمَنۡ یَّاۡتِیۡکُمۡ بِمَآءٍ مَّعِیۡنٍ ٪ ٣۰

কুল আরাআইতুম ইন আসবাহা মাউকুম গাওরান ফামাইঁ ইয়া’তীকুম বিমাইম মা‘ঈন।

বলে দাও, একটু বল তো, কোন ভোরে তোমাদের পানি যদি ভূগর্ভে অন্তর্হিত হয়ে যায়, তবে কে তোমাদেরকে প্রস্রবণ হতে প্রবাহিত পানি এনে দেবে?

তাফসীরঃ

৮. যখন এটা জানা আছে যে, পানিসহ সবকিছুই আল্লাহ তাআলারই এখতিয়ারাধীন, তখন তিনি ছাড়া আর কে ইবাদতের উপযুক্ত হতে পারে? এবং এমন কি যুক্তি আছে, যার ভিত্তিতে আখেরাতের জীবন ও সেখানকার পুরস্কার ও শাস্তিকে অস্বীকার করা সম্ভব?
সূরা আল মুল্‌ক | মুসলিম বাংলা