সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আস সাফ (الـصّـف) | সারিবদ্ধ সৈন্যদল

মাদানী

মোট আয়াতঃ ১৪

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

سَبَّحَ لِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ۚ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ١

ছাব্বাহা লিল্লা-হি মা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি ওয়া হুওয়াল ‘আঝীঝুল হাকীম।

যা কিছু আছে আকাশমণ্ডলী ও যা-কিছু আছে পৃথিবীতে, সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করেছে। তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

তাফসীরঃ

১. ‘সৃষ্টি জগতের প্রতিটি জিনিস আল্লাহ তাআলার তাসবীহ পাঠ করে (অর্থাৎ তার পবিত্রতা ঘোষণা করে)’ এ কথাটি পূর্বে একাধিক স্থানে গত হয়েছে, যেমন সূরা নূর (২৪ : ৩৬, ৪১) ও সূরা হাশর (৫৯ : ২৪)। সূরা বনী ইসরাঈল (১৭ : ৪৪)-এ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমরা তাদের তাসবীহ বুঝতে পার না। পূর্বে সূরা হাদীদ (৫৭), সূরা হাশর (৫৯) এবং সামনে সূরা জুমুআ (৬২) ও সূরা তাগাবুন (৬৪)-কে আল্লাহ তাআলা এই সত্য বর্ণনার মাধ্যমেই শুরু করেছেন যে, সবকিছুই আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। বাহ্যত এর দ্বারা এ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা উদ্দেশ্য যে, তোমাদেরকে তাওহীদের উপর ঈমান আনয়ন ও ইবাদত-বন্দেগী করার নির্দেশ দানের ভেতর আল্লাহ তাআলার নিজের কোন ফায়দা নেই। কেননা তাঁর কোন কিছুর প্রতি ঠেকা নেই। তোমরা তাঁর ইবাদত কর আর নাই কর বিশ্বজগতের প্রতিটি বস্তু তাঁর সামনে নতশির হয়ে আছে।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لِمَ تَقُوۡلُوۡنَ مَا لَا تَفۡعَلُوۡنَ ٢

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলিমা তাকূলূনা মা-লা-তাফ‘আলূন।

হে মুমিনগণ! তোমরা এমন কথা কেন বল, যা কর না?

তাফসীরঃ

২. ইমাম আহমাদ (রহ.) ও বাগাবী (রহ.) বর্ণনা করেন যে, কোন কোন সাহাবী নিজেদের মধ্যে বলাবলি করেছিলেন, কোন কাজ আল্লাহ তাআলার কাছে সর্বাপেক্ষা বেশি পছন্দ তা যদি জানতে পারতাম, তবে তার জন্য প্রয়োজনে প্রাণ দিয়ে দিতাম। একথা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছলে তিনি তাদেরকে ডেকে পাঠালেন এবং তাদের সামনে এ সূরাটি পাঠ করলেন (তাফসীরে মাযহারী ও ইবনে কাছীর)। এতে প্রথমে তাদেরকে কথা বলার এই আদব শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, এরূপ কোন কথা বলা উচিত নয়, যা দ্বারা দাবি মত কিছু বোঝা যায়। অর্থাৎ শুনলে মনে হয় দাবি করছে, অমুক কাজটি সে অবশ্যই করবে, অথচ সে কাজটি তো তার পক্ষে করা সম্ভব নাও হতে পারে। ফলে তার দাবি মিথ্যা হয়ে যাবে এবং সকলের কাছে প্রমাণ হবে, লোকটি যা বলেছিল তা করতে পারেনি। হাঁ যদি নিজের উপর ভরসা না করে বিনয়ের সঙ্গে কোন কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়, তাতে কোন দোষ নেই। অতঃপর তাদের কামনা অনুযায়ী জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জিহাদের কাজটি আল্লাহ তাআলার বড় পছন্দ এবং এর জন্য আল্লাহ তাআলা যে পুরস্কার স্থির করে রেখেছেন তাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকাশ থাকে যে, কুরআন ও হাদীসে বিভিন্ন কাজ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তা আল্লাহ তাআলার কাছে সর্বাপেক্ষা বেশি প্রিয়। আপাতদৃষ্টিতে তা পরস্পর বিরোধী মনে হয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার মধ্যে কোন বিরোধ নেই। কেননা অবস্থা, পরিবেশ-পরিস্থিতি ও ব্যক্তিভেদে একেকবার একেকটি কাজকে সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় সাব্যস্ত করা হয়েছে। যেমন যখন জিহাদ চলতে থাকে, তখনকার জন্য সেটাই সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট ও পছন্দনীয় কাজ। আবার কখনও পিতা-মাতার খেদমত বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে, তখন সেটাই সবচেয়ে উত্তম কাজ সাব্যস্ত হবে।

کَبُرَ مَقۡتًا عِنۡدَ اللّٰہِ اَنۡ تَقُوۡلُوۡا مَا لَا تَفۡعَلُوۡنَ ٣

কাবুরা মাকতান ‘ইনদাল্লা-হি আন তাকূলূমা-লা-তাফ‘আলূন।

আল্লাহর কাছে এ বিষয়টা অতি অপছন্দনীয় যে, তোমরা এমন কথা বলবে, যা তোমরা কর না।

اِنَّ اللّٰہَ یُحِبُّ الَّذِیۡنَ یُقَاتِلُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِہٖ صَفًّا کَاَنَّہُمۡ بُنۡیَانٌ مَّرۡصُوۡصٌ ٤

ইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুল্লাযীনা ইউকা-তিলূনা ফী ছাবীলিহী সাফফান কাআন্নাহুম বুনয়া-নুম মারসূস।

বস্তুত আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন, যারা তাঁর পথে এভাবে সারিবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করে, যেন তারা শিশাঢালা প্রাচীর।

وَاِذۡ قَالَ مُوۡسٰی لِقَوۡمِہٖ یٰقَوۡمِ لِمَ تُؤۡذُوۡنَنِیۡ وَقَدۡ تَّعۡلَمُوۡنَ اَنِّیۡ رَسُوۡلُ اللّٰہِ اِلَیۡکُمۡ ؕ فَلَمَّا زَاغُوۡۤا اَزَاغَ اللّٰہُ قُلُوۡبَہُمۡ ؕ وَاللّٰہُ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الۡفٰسِقِیۡنَ ٥

ওয়া ইযকা-লা মূছা-লিকাওমিহী ইয়া-কাওমি লিমা তু’যূনানী ওয়া কাততা‘লামূনা আন্নী রাছূলুল্লা-হি ইলাইকুম ফালাম্মা-ঝা-গূআঝা-গাল্লা-হু কুলূবাহুম ওয়াল্লা-হু লাইয়াহদিল কাওমাল ফা-ছিকীন।

সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন মূসা তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কেন আমাকে কষ্ট দিচ্ছ, অথচ তোমরা জান আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল হয়ে এসেছি? অতঃপর তারা যখন বক্রতা অবলম্বন করল, তখন আল্লাহ তাদের অন্তরকে বক্র করে দিলেন। আল্লাহ অবাধ্য সম্প্রদায়কে হেদায়াতপ্রাপ্ত করেন না।

তাফসীরঃ

৩. অর্থাৎ তারা যে বুঝে-শুনেই জিদ ধরেছিল ও হঠকারিতা প্রদর্শন করেছিল, আল্লাহ তাআলা তার শাস্তি স্বরূপ তাদের অন্তর বাঁকা করে দিলেন। ফলে এরপর আর সত্য গ্রহণ করার কোন সুযোগই তাদের থাকল না।

وَاِذۡ قَالَ عِیۡسَی ابۡنُ مَرۡیَمَ یٰبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ اِنِّیۡ رَسُوۡلُ اللّٰہِ اِلَیۡکُمۡ مُّصَدِّقًا لِّمَا بَیۡنَ یَدَیَّ مِنَ التَّوۡرٰىۃِ وَمُبَشِّرًۢا بِرَسُوۡلٍ یَّاۡتِیۡ مِنۡۢ بَعۡدِی اسۡمُہٗۤ اَحۡمَدُ ؕ فَلَمَّا جَآءَہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ قَالُوۡا ہٰذَا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ ٦

ওয়া ইযকা-লা ‘ঈছাবুন মারইয়ামা ইয়া-বানীইছরাঈলা ইন্নী রাছূলুল্লা-হি ইলাকুম মুসাদ্দিকাল লিমা বাইনা ইয়াদাইইয়া মিনাত্তাওরা-তি ওয়া মুবাশশিরাম বিরাছূলিইঁ ইয়া’তী মিম বা‘দিছমূহূআহমাদু ফালাম্মা-জাআহুম বিলবাইয়িনা-তি কা-লূহা-যা-ছিহরুম মুবীন।

এবং স্মরণ কর সেই সময়কে, যখন ঈসা ইবনে মারয়াম বলেছিল, হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল হয়ে এসেছি, আমার পূর্বে যে তাওরাত (নাযিল হয়ে-) ছিল, তার সমর্থনকারীরূপে এবং সেই রাসূলের সুসংবাদদাতারূপে, যিনি আমার পরে আসবেন এবং যার নাম হবে ‘আহমাদ’। অতঃপর সে যখন সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলীসহ আসল তখন তারা বলতে লাগল, এ তো এক স্পষ্ট যাদু।

তাফসীরঃ

৫. ‘আহমাদ’ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরই নাম। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এ নামেই তাঁর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। অনেক বিকৃতি সত্ত্বেও ইওহোন্নার ইনজিলে অদ্যাবধি এ রকম একটি সুসংবাদ দেখতে পাওয়া যায়। ইওহোন্নার ইনজিলে আছে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর হাওয়ারী (শিষ্যবর্গ)-কে বলছেন, “আমি পিতার নিকট চাহিব আর তিনি তোমাদের নিকটে চিরকাল থাকিবার জন্য আর একজন সাহায্যকারীকে পাঠাইয়া দিবেন” (ইওহোন্না ১৪:১৬)। এখানে যে শব্দের অর্থ করা হয়েছে সাহায্যকারী, হিব্রু ভাষায় সে মূল শব্দটি ছিল ‘ পারাক্লীত’ (চবৎরপষুঃধং) আর তার অর্থ হল ‘প্রশংসনীয় ব্যক্তি’, যা কিনা ‘আহমাদ’-এরই আভিধানিক অর্থ। কিন্তু শব্দটিকে পরিবর্তন করে (Periclytas) করে ফেলা হয়েছে, যার অর্থ সাহায্যকারী। কোন কোন অনুবাদে এর অর্থ করা হয়েছে ‘প্রতিনিধি’ বা ‘সুপারিশকারী’। পারাক্লীত শব্দটির প্রতি লক্ষ্য করলে শ্লোকটির তরজমা হবে, “তিনি তোমাদের নিকট সেই প্রশংসনীয় ব্যক্তি (আহমাদ)-কে পাঠিয়ে দিবেন, যিনি সর্বদা তোমাদের সঙ্গে থাকবেন”। এর দ্বারা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষ কোন অঞ্চল বা বিশেষ কোন কালের জন্য প্রেরিত হবেন না; বরং তার নবুওয়াত কিয়ামত পর্যন্ত সর্বাঞ্চলের মানুষের জন্য কার্যকর থাকবে। তাছাড়া বার্ণাবাসের ইনজিলে বেশ কয়েক জায়গায় দেখতে পাওয়া যায় যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম নিয়েই সুসংবাদ দিয়েছেন। খ্রিস্টান জাতি যদিও এ ইনজিলকে নির্ভরযোগ্য মনে করে না, কিন্তু আমাদের কাছে প্রসিদ্ধ চার ইনজিল অপেক্ষা বার্ণাবাসের ইনজিলই বেশি নির্ভরযোগ্য। আমি এর বিস্তারিত দলীল-প্রমাণ ‘ঈসাইয়্যাত কিয়া হ্যায়’ নামক পুস্তকে উল্লেখ করেছি। [বইটি ‘খৃস্টধর্মের স্বরূপ’ নামে বাংলায় অনূদিত ও প্রকাশিত হয়েছে।]

وَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ وَہُوَ یُدۡعٰۤی اِلَی الۡاِسۡلَامِ ؕ وَاللّٰہُ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ ٧

ওয়া মান আজলামুমিম্মানিফ তারা-‘আলাল্লা-হিল কাযিবা ওয়া হুওয়া ইউদ‘আইলাল ইছলা-মি ওয়াল্লা-হু লা-ইয়াহদিল কাওমাজ্জা-লিমীন।

সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে, অথচ তাকে ইসলামের দিকে ডাকা হয়? আল্লাহ এরূপ জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়াতপ্রাপ্ত করেন না।

তাফসীরঃ

৬. যাকে ইসলামের দিকে ডাকা হয়, আর সে কোন রাসূলের রিসালাতকে অস্বীকার করে, সে মূলত আল্লাহ তাআলা সম্পর্কেই মিথ্যা রচনা করে। কেননা আল্লাহ তাআলা তাকে নবী বানিয়েছেন, আর সে বলছে তাকে নবী বানানো হয়নি, এটা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা ছাড়া আর কী?

یُرِیۡدُوۡنَ لِیُطۡفِـُٔوۡا نُوۡرَ اللّٰہِ بِاَفۡوَاہِہِمۡ وَاللّٰہُ مُتِمُّ نُوۡرِہٖ وَلَوۡ کَرِہَ الۡکٰفِرُوۡنَ ٨

ইউরীদূনা লিইউতফিউ নূরাল্লা-হি বিআফওয়া-হিহিম ওয়াল্লা-হুমুতিম্মুনূরিহী ওয়ালাও কারিহাল কা-ফিরূন।

তারা তাদের মুখ দিয়ে আল্লাহর নূর নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তার নূরকে অবশ্যই পরিপূর্ণ করবেন, তা কাফেরদের জন্য যতই অপ্রীতিকর হোক।

ہُوَ الَّذِیۡۤ اَرۡسَلَ رَسُوۡلَہٗ بِالۡہُدٰی وَدِیۡنِ الۡحَقِّ لِیُظۡہِرَہٗ عَلَی الدِّیۡنِ کُلِّہٖ وَلَوۡ کَرِہَ الۡمُشۡرِکُوۡنَ ٪ ٩

হুওয়াল্লাযীআরছালা রাছূলাহূবিলহুদা-ওয়া দীনিল হাক্কি লিইউজহিরাহূ‘আলাদ্দীনি কুল্লিহী ওয়া লাও কারিহাল মুশরিকূন।

তিনিই তো নিজ রাসূলকে হেদায়াত ও সত্য দীনসহ প্রেরণ করেছেন, তাকে সকল দীনের উপর বিজয়ী করার জন্য, তা মুশরিকদের জন্য যতই অপ্রীতিকর হোক।

তাফসীরঃ

৭. দলীল-প্রমাণের ময়দানে তো ইসলাম সর্বদা বিজয়ীই আছে এবং থাকবেও। আর বাহ্যিক শক্তিতে মুসলিমদের বিজয়ী থাকার বিষয়টা বিভিন্ন শর্তের সাথে যুক্ত। সে সকল শর্ত বিদ্যমান থাকায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, খোলাফায়ে রাশেদীন এবং তারপরও কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহ সকলের উপর বিজয়ী ছিল। অতঃপর তাদের দ্বারা সে সব শর্ত পূরণ না হওয়ার কারণে বিজয়ও তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। পরিশেষে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভবিষ্যদ্বাণী মোতাবেক শেষ যামানায় আবার ইসলাম ও মুসলিম জাতি সারা বিশ্বে বিজয় লাভ করবে।
১০

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ہَلۡ اَدُلُّکُمۡ عَلٰی تِجَارَۃٍ تُنۡجِیۡکُمۡ مِّنۡ عَذَابٍ اَلِیۡمٍ ١۰

ইয়া-আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূহাল আদুল্লুকুমআলা-তিজা-রাতিন তুনজীকুমমিন‘আযা-বিন আলীম।

হে মুমিনগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসায়ের সন্ধান দেব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাময় শাস্তি থেকে রক্ষা করবে?

তাফসীরঃ

৮. ব্যবসায়ে দ্বিপাক্ষিক লেনদেন থাকে। অর্থাৎ এক পক্ষ অপর পক্ষকে কোন মাল দিয়ে বিনিময়ে তার মূল্য গ্রহণ করে। সে রকমই মুমিনগণ নিজের জান-মাল আল্লাহ তাআলাকে সমর্পণ করে এবং আল্লাহ তাআলা বিনিময়ে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতবাসী বানান। এটা বান্দার প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ যে, তিনি নিজের দেওয়া জান-মালকেই ক্রেতা হিসেবে জান্নাতের বিনিময়ে গ্রহণ করেন। দেখুন সূরা তাওবা (৯ : ১১১)।
১১

تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ وَتُجَاہِدُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ بِاَمۡوَالِکُمۡ وَاَنۡفُسِکُمۡ ؕ  ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ ۙ ١١

তু’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ওয়া তুজা-হিদূ না ফী ছাবীলিল্লা-হি বিআমওয়া-লিকুম ওয়া আনফুছিকুম যা-লিকুম খাইরুল্লাকুম ইন কুনতুম তা‘লামূন।

(তা এই যে,) তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটা তোমাদের পক্ষে শ্রেয় যদি তোমরা উপলব্ধি কর।
১২

یَغۡفِرۡ لَکُمۡ ذُنُوۡبَکُمۡ وَیُدۡخِلۡکُمۡ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ وَمَسٰکِنَ طَیِّبَۃً فِیۡ جَنّٰتِ عَدۡنٍ ؕ  ذٰلِکَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ ۙ ١٢

ইয়াগফিরলাকুম যুনূবাকুম ওয়া ইউদখিলকুম জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু ওয়া মাছা-কিনা তাইয়িবাতান ফী জান্না-তি ‘আদনিন যা-লিকাল ফাওঝুল ‘আজীম।

এর ফলে আল্লাহ তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন এমন উদ্যানে, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে এবং এমন উৎকৃষ্ট বাসগৃহে, যা স্থায়ী জান্নাতে অবস্থিত। এটাই মহা সাফল্য।
১৩

وَاُخۡرٰی تُحِبُّوۡنَہَا ؕ نَصۡرٌ مِّنَ اللّٰہِ وَفَتۡحٌ قَرِیۡبٌ ؕ وَبَشِّرِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ١٣

উখরা-তুহিববূনাহা- নাসরুম মিনাল্লা-হি ওয়া ফাতহুন কারীব ওয়া বাশশিরিল মু’মিনীন।

এবং তোমাদেরকে দান করবেন তোমাদের পছন্দনীয় আরও একটি জিনিস (আর তা হল) আল্লাহর পক্ষ হতে সাহায্য এবং আসন্ন বিজয় এবং (হে রাসূল!) মুমিনদেরকে (এর) সুসংবাদ শুনিয়ে দাও।
১৪

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کُوۡنُوۡۤا اَنۡصَارَ اللّٰہِ کَمَا قَالَ عِیۡسَی ابۡنُ مَرۡیَمَ لِلۡحَوَارِیّٖنَ مَنۡ اَنۡصَارِیۡۤ اِلَی اللّٰہِ ؕ  قَالَ الۡحَوَارِیُّوۡنَ نَحۡنُ اَنۡصَارُ اللّٰہِ فَاٰمَنَتۡ طَّآئِفَۃٌ مِّنۡۢ بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ وَکَفَرَتۡ طَّآئِفَۃٌ ۚ  فَاَیَّدۡنَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا عَلٰی عَدُوِّہِمۡ فَاَصۡبَحُوۡا ظٰہِرِیۡنَ ٪ ١٤

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূকূনূআনসা-রাল্লা-হি কামা-কা-লা ‘ঈছাবনুমারইয়ামা লিলহাওয়া-বিইয়ীনা মান আনসা-রী-ইলাল্লা-হি কা-লাল হাওয়া-রিইয়ূনা নাহনুআনসারুল্লা-হি ফাআ-মানাত্তাইফাতুমমিম বানীইছরাঈলা ওয়া কাফারাততাইফাতুন ফাআইঁয়াদনাল্লাযীনা আ-মানূ‘আলা-‘আদুওবিহিম ফাআসবাহূ জা-হিরীন।

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর (দীনের) সাহায্যকারী হয়ে যাও, যেমন ঈসা ইবনে মারয়াম (আলাইহিস সালাম) হাওয়ারীদেরকে বলেছিলেন, আল্লাহর পথে কে আমার সাহায্যকারী হবে? হাওয়ারীগণ বলল, আমরা আল্লাহর (দীনের) সাহায্যকারী। তারপর বনী ইসরাঈলের একদল ঈমান আনল এবং একদল কুফর অবলম্বন করল। সুতরাং যারা ঈমান এনেছিল, আমি তাদেরকে তাদের শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য করলাম, ফলে তারা বিজয়ী হল।

তাফসীরঃ

৯. হাওয়ারী বলা হয় হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের সঙ্গীগণকে, যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিলেন, যেমন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গীগণকে সাহাবী বলে।
সূরা আস সাফ | মুসলিম বাংলা