সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল হাশ্‌র (الـحـشـر) | সমাবেশ

মাদানী

মোট আয়াতঃ ২৪

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

سَبَّحَ لِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ۚ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ١

ছাব্বাহা লিল্লা-হি মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি ওয়া হুয়াওয়াল ‘আঝীঝুল হাকীম।

যা কিছু আকাশমণ্ডলী ও যা-কিছু পৃথিবীতে আছে, সবই তার তাসবীহ পাঠ করে। তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

ہُوَ الَّذِیۡۤ اَخۡرَجَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ مِنۡ دِیَارِہِمۡ لِاَوَّلِ الۡحَشۡرِ ؕؔ مَا ظَنَنۡتُمۡ اَنۡ یَّخۡرُجُوۡا وَظَنُّوۡۤا اَنَّہُمۡ مَّانِعَتُہُمۡ حُصُوۡنُہُمۡ مِّنَ اللّٰہِ فَاَتٰىہُمُ اللّٰہُ مِنۡ حَیۡثُ لَمۡ یَحۡتَسِبُوۡا ٭ وَقَذَفَ فِیۡ قُلُوۡبِہِمُ الرُّعۡبَ یُخۡرِبُوۡنَ بُیُوۡتَہُمۡ بِاَیۡدِیۡہِمۡ وَاَیۡدِی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٭ فَاعۡتَبِرُوۡا یٰۤاُولِی الۡاَبۡصَارِ ٢

হুয়াল্লাযীআখরাজাল্লাযীনা কাফারূ মিন আহলিল কিতা-বি মিন দিয়া-রিহিম লিআওওয়ালিল হাশরি মা-জানানতম আইঁ ইয়াখরুজুওয়া জান্নুআন্নাহুম মানি‘আতুহুম হুসূনুহুম মিনাল্লা-হি ফাআতা-হুমুল্লা-হু মিন হাইছুলাম ইয়াহতাছিবূ ওয়া কাযাফা ফী কুলূবিহিমুররু‘বা ইউখরিবূনা বুয়ূতাহুম বিআইদীহিম ওয়া আইদিল মু’মিনীনা ফা‘তাবিরূ ইয়াউলিল আবসা-র।

তিনিই কিতাবীদের মধ্যে যারা কাফের তাদেরকে প্রথম সমাবেশেই তাদের ঘর-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছেন। (হে মুসলিমগণ!) তোমরা কল্পনাও করনি তারা বের হয়ে যাবে। তারাও মনে করেছিল তাদের দুর্গগুলি তাদেরকে আল্লাহ হতে রক্ষা করবে। অতঃপর আল্লাহ তাদের কাছে এমন দিক থেকে আসলেন যা তারা ধারণাও করতে পারেনি। আল্লাহ তাদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করলেন। ফলে তারা নিজেদের হাতে নিজেদের ঘর-বাড়ি ধ্বংস করে ফেলছিল এবং মুসলিমদের হাতেও। সুতরাং হে চক্ষুষ্মানেরা! তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।

তাফসীরঃ

১. ‘প্রথম সমাবেশ’-এর দু’রকম ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কোন কোন মুফাসসির বলেন, এর দ্বারা মুসলিম বাহিনীর সমাবেশ বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ ইয়াহুদীদের সাথে তাদের যুদ্ধের দরকার হয়নি; বরং প্রথমে যখন তারা তাদেরকে উৎখাতের জন্য সমবেত হয়, তখনই তারা পরাজয় মেনে নেয়। কিন্তু অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে এর দ্বারা নির্বাসিত হওয়ার জন্য বনূ নাজীরের ইয়াহুদীদের নিজেদের সমাবেশকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ নির্বাসিত হওয়ার জন্য এটাই ছিল ইয়াহুদীদের প্রথম সমাবেশ। এর আগে তাদের কখনও এরূপ সমাবেশের দরকার পড়েনি। এর ভেতর সূক্ষ্ম ইঙ্গিত রয়েছে যে, এটা ছিল তাদের প্রথম নির্বাসন। এরপর তাদেরকে আরও এক নির্বাসনের সম্মুখীন হতে হবে। সুতরাং হযরত উমর (রাযি.)-এর আমলে তাদেরকে পুনরায় খায়বার থেকে নির্বাসিত করা হয়।

وَلَوۡلَاۤ اَنۡ کَتَبَ اللّٰہُ عَلَیۡہِمُ الۡجَلَآءَ لَعَذَّبَہُمۡ فِی الدُّنۡیَا ؕ وَلَہُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ عَذَابُ النَّارِ ٣

ওয়া লাওলাআন কাতাবাল্লা-হু ‘আলাইহিমুল জালাআলাআযযাবাহুম ফিদ্দুনইয়া- ওয়া লাহুম আ-খিরাতি আযা-বুন্না-র।

আল্লাহ যদি তাদের ভাগ্যে নির্বাসন না লিখতেন, তবে দুনিয়াতেই তাদেরকে শাস্তি দিতেন। অবশ্য পরকালে তাদের জন্য জাহান্নামের শাস্তি রয়েছে।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ মুসলিমদের হাতে তাদেরকে নিপাত করাতেন।

ذٰلِکَ بِاَنَّہُمۡ شَآقُّوا اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ ۚ وَمَنۡ یُّشَآقِّ اللّٰہَ فَاِنَّ اللّٰہَ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ ٤

যা-লিকা বিআন্নাহুম শাক্কুল্লা-হা ওয়া রাছূলাহু ওয়ামাই ইউশাক্কিল্লা-হা ফাইন্নাল্লাহা শাদীনুল ‘ইকা-ব।

তা এই জন্য যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে শত্রুতা করেছে। কেউ আল্লাহর সাথে শত্রুতা করলে আল্লাহ তো কঠোর শাস্তিদাতা।

مَا قَطَعۡتُمۡ مِّنۡ لِّیۡنَۃٍ اَوۡ تَرَکۡتُمُوۡہَا قَآئِمَۃً عَلٰۤی اُصُوۡلِہَا فَبِاِذۡنِ اللّٰہِ وَلِیُخۡزِیَ الۡفٰسِقِیۡنَ ٥

মা-কাতা‘তুম মিল লিনাতিন আও তারাকতুমূহা- কাইমাতান ‘আলা উসূলিহাফাবিইযনিল্লা-হি ওয়া লিইউখঝিয়াল ফা-ছিকীন।

তোমরা যে খেজুর গাছ কেটেছ কিংবা যেগুলি মূলের উপর খাড়া রেখে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই হুকুমে ছিল এবং তা এজন্য যে, আল্লাহ অবাধ্যদেরকে লাঞ্ছিত করতে চেয়েছিলেন।

তাফসীরঃ

৫. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বনূ নাজীরের দুর্গ অবরোধ করেন, তখন আশপাশের কিছু খেজুর গাছ কাটতে হয়েছিল। এতে কিছু লোক এই বলে আপত্তি জানায় যে, ফলের গাছ কাটা সমীচীন হয়নি। তারই জবাবে এ আয়াত নাযিল হয়েছে। এতে বলা হচ্ছে, যেসব গাছ কাটা হয়েছে, তা আল্লাহ তাআলার হুকুমেই কাটা হয়েছে। কোন ন্যায়সঙ্গত জিহাদে যুদ্ধ কৌশল হিসেবে যদি এরূপ করতে হয়, তবে তা দোষের নয়।

وَمَاۤ اَفَآءَ اللّٰہُ عَلٰی رَسُوۡلِہٖ مِنۡہُمۡ فَمَاۤ اَوۡجَفۡتُمۡ عَلَیۡہِ مِنۡ خَیۡلٍ وَّلَا رِکَابٍ وَّلٰکِنَّ اللّٰہَ یُسَلِّطُ رُسُلَہٗ عَلٰی مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَاللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ٦

ওয়ামাআআল্লা-হু ‘আলা-রাছূলিহী মিনহুম ফামাআওজাফ তুম আলাইহি মিন খাইলিওঁ ওয়ালা-রিকা-বিওঁ ওয়ালা-কিন্নাল্লা-হা ইউছালিলতুরুছুলাহু আলা-মাইঁ ইয়াশাউ ওয়াল্লাহু ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

আল্লাহ তাঁর রাসূলকে তাদের যে সম্পদ ‘ফায়’ হিসেবে দিয়েছেন, তার জন্য তোমরা না ঘোড়া হাঁকিয়েছ, না উট, কিন্তু আল্লাহ নিজ রাসূলগণকে যার উপর ইচ্ছা আধিপত্য দান করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে পরিপূর্ণ ক্ষমতাবান।

তাফসীরঃ

৬. বিনা যুদ্ধে শত্রুপক্ষ যে মালামাল ছেড়ে যায় তাকে ‘ফায়’ বলে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ নাজীরের ইয়াহুদীদেরকে তাদের মালামাল সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। কাজেই তাদের পক্ষে যা-কিছু নেওয়া সম্ভব ছিল তা নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু জমি-জমা তো নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। কাজেই তা ছেড়ে গেল। এ জমি-জমাই ‘ফায়’ রূপে মুসলিমদের হস্তগত হয়। আল্লাহ তাআলা মুসলিমদেরকে তাঁর এই অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তিনি মুসলিমদেরকে এ সম্পদ সম্পূর্ণ বিনা মেহনতে দান করেছেন। এটা অর্জন করার জন্য তাদের কোনরূপ যুদ্ধ-বিগ্রহ করতে হয়নি। আয়াতে যে ঘোড়া ও উট হাঁকানোর কথা বলা হয়েছে, তা দ্বারা যুদ্ধ-কার্যক্রম বোঝানো উদ্দেশ্য। অতঃপর ‘ফায়’-এর মালামাল কাদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে, পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ তাআলা তার তালিকা প্রদান করেছেন।

مَاۤ اَفَآءَ اللّٰہُ عَلٰی رَسُوۡلِہٖ مِنۡ اَہۡلِ الۡقُرٰی فَلِلّٰہِ وَلِلرَّسُوۡلِ وَلِذِی الۡقُرۡبٰی وَالۡیَتٰمٰی وَالۡمَسٰکِیۡنِ وَابۡنِ السَّبِیۡلِ ۙ  کَیۡ لَا یَکُوۡنَ دُوۡلَۃًۢ بَیۡنَ الۡاَغۡنِیَآءِ مِنۡکُمۡ ؕ  وَمَاۤ اٰتٰىکُمُ الرَّسُوۡلُ فَخُذُوۡہُ ٭  وَمَا نَہٰىکُمۡ عَنۡہُ فَانۡتَہُوۡا ۚ  وَاتَّقُوا اللّٰہَ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ ۘ ٧

মাআফাআল্লা-হু ‘আলা-রাছূলিহী মিন আহলিল কুরা-ফালিল্লা-হি ওয়া লিররাছূলি ওয়া লিযিল কুরবা-ওয়াল ইয়াতা-মা-ওয়াল মাছা-কীনি ওয়াবনিছছাবীলি কাইলা -ইয়াকূনা দূ লাতাম বাইনাল আগনিইয়াই মিনকুম ওয়ামাআ-তা-কুমুররাছূলুফাখুযূহু ওয়ামা-নাহা-কুম ‘আনহু ফানতাহূ ওয়াত্তাকুল্লা-হা শাদীদুল ‘ইকা-ব।

আল্লাহ তাঁর রাসূলকে জনপদবাসীদের থেকে ‘ফায়’ হিসেবে যে সম্পদ দিয়েছেন, তা আল্লাহর, তাঁর রাসূলের, (রাসূলের) আত্মীয়বর্গের, ইয়াতীমদের, অভাবগ্রস্তদের ও মুসাফিরদের প্রাপ্য, যাতে সে সম্পদ তোমাদের মধ্যকার কেবল বিত্তবানদের মধ্যেই আবর্তন না করে। রাসূল তোমাদেরকে যা দেয়, তা গ্রহণ কর আর তোমাদেরকে যা থেকে নিষেধ করে তা হতে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় করে চল। নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।

لِلۡفُقَرَآءِ الۡمُہٰجِرِیۡنَ الَّذِیۡنَ اُخۡرِجُوۡا مِنۡ دِیَارِہِمۡ وَاَمۡوَالِہِمۡ یَبۡتَغُوۡنَ فَضۡلًا مِّنَ اللّٰہِ وَرِضۡوَانًا وَّیَنۡصُرُوۡنَ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ ؕ  اُولٰٓئِکَ ہُمُ الصّٰدِقُوۡنَ ۚ ٨

লিল ফুকারাইল মুহা-জিরীনাল্লাযীনা উখরিজূমিন দিয়া-রিহিম ওয়া আমওয়া-লিহিম ইয়াবতাগূনা ফাদলাম মিনাল্লা-হি ওয়া রিদওয়া-নাওঁ ওয়া ইয়ানসুরূনাল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূ উলাইকা হুমুসসা-দিকূন।

(তাছাড়া ‘ফায়’-এর সম্পদ) সেই গরীব মুহাজিরদের প্রাপ্য, যাদেরকে তাদের ঘর-বাড়ি ও অর্থ-সম্পদ থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর সন্তুষ্টি সন্ধান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাহায্য করে। তারাই সত্যাশ্রয়ী।

তাফসীরঃ

৭. অর্থাৎ সেই সাহাবীগণ, যাদেরকে কাফেরগণ মক্কা মুকাররমা ছেড়ে আসতে বাধ্য করেছে, ফলে তাঁরা তাদের ঘর-বাড়ি ও জমি থেকে বঞ্চিত হয়ে গেছেন।

وَالَّذِیۡنَ تَبَوَّؤُ الدَّارَ وَالۡاِیۡمَانَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ یُحِبُّوۡنَ مَنۡ ہَاجَرَ اِلَیۡہِمۡ وَلَا یَجِدُوۡنَ فِیۡ صُدُوۡرِہِمۡ حَاجَۃً مِّمَّاۤ اُوۡتُوۡا وَیُؤۡثِرُوۡنَ عَلٰۤی اَنۡفُسِہِمۡ وَلَوۡ کَانَ بِہِمۡ خَصَاصَۃٌ ؕ۟  وَمَنۡ یُّوۡقَ شُحَّ نَفۡسِہٖ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ ۚ ٩

ওয়াল্লাযীনা তাবাওওয়াউদ্দা-রা ওয়াল ঈমা-না মিন কাবলিহিম ইউহিববূনা মান হা-জারা ইলাইহিম ওয়ালা-ইয়াজিদূ না ফী সুদূ রিহিম হা-জাতাম মিম্মাউতূওয়া ইউ’ছিরূনা ‘আলা আনফুছিহিম ওয়ালাও কা-না বিহিম খাসা-সাতুও ওয়া মাইঁ ইঊকা শুহহা নাফছিহী ফাউলাইকা হুমুল মুফলিহূন।

(এবং ‘ফায়’-এর সম্পদ) তাদেরও প্রাপ্য, যারা পূর্ব থেকেই এ নগরে (অর্থাৎ মদীনায়) ঈমানের সাথে অবস্থানরত আছে। যে-কেউ হিজরত করে তাদের কাছে আসে, তাদেরকে তারা ভালোবাসে এবং যা-কিছু তাদেরকে (অর্থাৎ মুহাজিরদেরকে) দেওয়া হয়, তার জন্য নিজেদের অন্তরে কোন চাহিদা বোধ করে না এবং তাদেরকে তারা নিজেদের উপর প্রাধান্য দেয়, যদিও তাদের অভাব-অনটন থাকে। যারা স্বভাবগত কার্পণ্য হতে মুক্তি লাভ করে, তারাই তো সফলকাম।

তাফসীরঃ

৮. এর দ্বারা আনসার সাহাবীগণকে বোঝানো হয়েছে, যারা মদীনা মুনাওয়ারার মূল বাসিন্দা ছিলেন এবং আগত মুহাজিরদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।
১০

وَالَّذِیۡنَ جَآءُوۡ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَا اغۡفِرۡ لَنَا وَلِاِخۡوَانِنَا الَّذِیۡنَ سَبَقُوۡنَا بِالۡاِیۡمَانِ وَلَا تَجۡعَلۡ فِیۡ قُلُوۡبِنَا غِلًّا لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا رَبَّنَاۤ اِنَّکَ رَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ ٪ ١۰

ওয়াল্লাযীনা জাঊ মিম বা‘দিহিম ইয়াকূ লূনা রাব্বানাগফিরলানা-ওয়া লিইখওয়া-নিনাল্লাযীনা ছাবকূনা-বিল ঈমা-নি ওয়ালা-তাজ‘আল ফী কুলূবিনা-গিল্লাল লিল্লাযীনা আ-মানূ রাব্বানাইন্নাকা রাঊফুর রাহ ীম।

এবং (ফায়-এর সম্পদ) তাদেরও প্রাপ্য, যারা তাদের (অর্থাৎ মুহাজির ও আনসারদের) পরে এসেছে। ১০ তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! ক্ষমা কর আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদেরকেও, যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে এবং আমাদের অন্তরে ঈমানদারদের প্রতি কোন হিংসা-বিদ্বেষ রেখ না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি অতি মমতাবান, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

১০. এর দ্বারা এক তো যারা সাহাবায়ে কেরামের পরে জন্মগ্রহণ করেছেন বা তাদের পরে ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদেরকে বোঝানো হয়েছে। তাদেরকেও ‘ফায়’ থেকে অংশ দেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত এর অর্থ এটাও যে, ‘ফায়’-এর যে পরিমাণ বায়তুল মালে সংরক্ষিত থাকবে, তা পরবর্তী কালের মুসলিমদের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হবে। হযরত উমর ফারূক (রাযি.) এ আয়াতের ভিত্তিতেই ইরাকের জমি-জিরাত মুজাহিদদের মধ্যে বণ্টন না করে তার উপর খারাজ (কর) ধার্য করেছিলেন, যাতে তা বায়তুল মালে জমা হয়ে সমস্ত মুসলিমের কাজে আসে। এ মাসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য ‘মাআরিফুল কুরআন’ এবং বান্দার রচিত ‘মিলকিয়াতে যমীন কী শরয়ী হায়ছিয়াত’ পুস্তিকাখানি পড়া যেতে পারে।
১১

اَلَمۡ تَرَ اِلَی الَّذِیۡنَ نَافَقُوۡا یَقُوۡلُوۡنَ لِاِخۡوَانِہِمُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ لَئِنۡ اُخۡرِجۡتُمۡ لَنَخۡرُجَنَّ مَعَکُمۡ وَلَا نُطِیۡعُ فِیۡکُمۡ اَحَدًا اَبَدًا ۙ وَّاِنۡ قُوۡتِلۡتُمۡ لَنَنۡصُرَنَّکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ یَشۡہَدُ اِنَّہُمۡ لَکٰذِبُوۡنَ ١١

আলাম তারা ইলাল্লাযীনা না-ফাকূইয়াকূলূনা লিইখওয়া-নিহিমুল্লাযীনা কাফারূ মিন আহলিল কিতা-বি লাইন উখরিজতুম লানাখরুজান্না মা‘আকুম ওয়ালা-নুতী‘উ ফীকুম আহাদান আবাদওঁ ওয়া ইন কুতিলতুম লানানসুরান্নাকুম ওয়াল্লা-হু ইয়াশহাদুইন্নাহুম লাকা-যিবুন।

তুমি কি দেখনি মুনাফেকদেরকে যারা কিতাবীদের মধ্যকার তাদের কাফের ভাইদেরকে বলে, তোমাদেরকে যদি বহিষ্কার করা হয়, তবে আমরাও তোমাদের সাথে বের হয়ে যাব এবং তোমাদের সম্পর্কে কখনও অন্য কারও কথা মানব না আর তোমাদের সাথে যদি যুদ্ধ করা হয়, তবে আমরা তোমাদের সাহায্য করব। আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন, তারা বিলকুল মিথ্যুক।
১২

لَئِنۡ اُخۡرِجُوۡا لَا یَخۡرُجُوۡنَ مَعَہُمۡ ۚ وَلَئِنۡ قُوۡتِلُوۡا لَا یَنۡصُرُوۡنَہُمۡ ۚ وَلَئِنۡ نَّصَرُوۡہُمۡ لَیُوَلُّنَّ الۡاَدۡبَارَ ۟ ثُمَّ لَا یُنۡصَرُوۡنَ ١٢

লাইন উখরিজূলা ইয়াখরুজূনা মা‘আহুম ওয়া লাইন কূতিলূলা-ইয়ানসুরূনাহুম ওয়ালাইন নাসারূহুম লাইঊওয়াল্লুন্নাল আদবা-রা ছু ম্মা লা-ইউনসারূন।

বস্তুত তাদেরকে (অর্থাৎ কিতাবীদেরকে) বহিষ্কার করা হলে তারা (অর্থাৎ মুনাফেকগণ) তাদের সাথে বের হবে না ১১ এবং তাদের সাথে যুদ্ধ করা হলে তারা তাদেরকে সাহায্যও করবে না আর যদি সাহায্য করতে আসেও, তবে অবশ্যই পিছন ফিরে পালাবে। অতঃপর তারা কোন সাহায্য পাবে না।

তাফসীরঃ

১১. অর্থাৎ মুনাফেকরা ইয়াহুদীদেরকে যখন সাহায্য করার নিশ্চয়তা দিচ্ছিল তখনও সাহায্য করার কোন ইচ্ছা তাদের মনে ছিল না এবং ভবিষ্যতেও এরূপ কোন পরিস্থিতি দেখা দিলে তখন তারা কারও সাহায্য করবে না। আসলে কারও সাহায্য করার হিম্মতই তারা রাখে না।
১৩

لَاَنۡتُمۡ اَشَدُّ رَہۡبَۃً فِیۡ صُدُوۡرِہِمۡ مِّنَ اللّٰہِ ؕ ذٰلِکَ بِاَنَّہُمۡ قَوۡمٌ لَّا یَفۡقَہُوۡنَ ١٣

লাআনতুম আশাদ্দুরাহবাতান ফী সুদূ রিহিম মিনাল্লা-হি যা-লিকা বিআন্নাহুম কাওমুল লাইয়াফকাহুন।

(হে মুসলিমগণ!) প্রকৃতপক্ষে তাদের অন্তরে আল্লাহর চেয়ে তোমাদের ভয়ই বেশি। তা এজন্য যে, তারা এমনই এক সম্প্রদায়, যাদের বুঝ-সমঝ নেই। ১২

তাফসীরঃ

১২. অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার গৌরব-গরিমা সম্পর্কে তাদের কোনো বুঝ নেই। তাঁর শক্তি ও ক্ষমতা সম্পর্কেও কোনো জ্ঞান নেই, যে কারণে আল্লাহ তা‘আলার চেয়ে তোমাদেরকে বেশি ভয় করে। সেই বুঝ থাকলে তারা তাঁকেই বেশি ভয় করত এবং মুনাফিকী ছেড়ে খাঁটি মনে ঈমান আনত। -অনুবাদক
১৪

لَا یُقَاتِلُوۡنَکُمۡ جَمِیۡعًا اِلَّا فِیۡ قُرًی مُّحَصَّنَۃٍ اَوۡ مِنۡ وَّرَآءِ جُدُرٍ ؕ  بَاۡسُہُمۡ بَیۡنَہُمۡ شَدِیۡدٌ ؕ  تَحۡسَبُہُمۡ جَمِیۡعًا وَّقُلُوۡبُہُمۡ شَتّٰی ؕ  ذٰلِکَ بِاَنَّہُمۡ قَوۡمٌ لَّا یَعۡقِلُوۡنَ ۚ ١٤

লা-ইউকা-তিলূনাকুম জামী‘আন ইল্লা ফী কুরামমুহাসসনাতিন আও মিওঁ ওয়ারাই জুদুরিন বা’ছুহুম বাইনাহুম শাদীদুন তাহছাবুহুম জামি‘আওঁ ওয়া কুলূবুহুম শাত্তা- যালিকা বিআন্নাহুম কাওমুল লা-ইয়া‘কিলূন।

তারা সকলে একাট্টা হয়েও তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করবে না, তবে এমন জনপদে (করবে), যা প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত অথবা (করবে) দেওয়ালের আড়ালে লুকিয়ে। তাদের আপসের মধ্যে বিরোধ প্রচণ্ড। তুমি তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ মনে কর, অথচ তাদের অন্তর বহুধা বিভক্ত। ১৩ তা এজন্য যে, তারা এমনই এক সম্প্রদায় যাদের আকল-বুদ্ধি নেই।

তাফসীরঃ

১৩. কাতাদা (রহ.) বলেন, “বাতিলপন্থীগণ পরস্পরে ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা-চেতনা পোষণ করে। তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যও ভিন্ন-ভিন্ন এবং তাদের ‘আকীদা-বিশ্বাসেও দুস্তর ব্যবধান। তা সত্ত্বেও মুসলিমদের সাথে শত্রুতায় তারা সব একাট্টা।” এই অন্তঃসারশূন্য গাঁটছড়ার বিপরীতে ওহে হকপন্থীগণ! এক ‘আকীদা, এক চেতনা ও এক উদ্দেশ্যের হয়েও তোমরা কেন একতাবদ্ধ হতে পারবে না? -অনুবাদক
১৫

کَمَثَلِ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ قَرِیۡبًا ذَاقُوۡا وَبَالَ اَمۡرِہِمۡ ۚ  وَلَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ۚ ١٥

কামাছালিল্লাযীনা মিন কাবলিহিম কারীবান যা-কূওয়া বা-লা আমরিহিম ওয়া লাহুম ‘আযা-বুন আলীম।

তাদের অবস্থা তাদের সামান্য পূর্বে যারা নিজেদের কৃতকর্মের পরিণাম ভোগ করেছে, তাদেরই মত। ১৪ আর তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাময় শাস্তি।

তাফসীরঃ

১৪. ইশারা বনূ কায়নুকা নামক আরেকটি ইয়াহুদী গোত্রের প্রতি। তারাও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতামূলক চুক্তিতে আবদ্ধ ছিল। কিন্তু তারা সে চুক্তি ভঙ্গ করে নিজেরাই মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল এবং তাতে পরাস্তও হয়েছিল। তাদেরকেও মদীনা মুনাওয়ারা হতে উচ্ছেদ করা হয়েছিল।
১৬

کَمَثَلِ الشَّیۡطٰنِ اِذۡ قَالَ لِلۡاِنۡسَانِ اکۡفُرۡ ۚ فَلَمَّا کَفَرَ قَالَ اِنِّیۡ بَرِیۡٓءٌ مِّنۡکَ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اللّٰہَ رَبَّ الۡعٰلَمِیۡنَ ١٦

কামাছালিশশাইতা-নি ইযকা-লা লিল ইনছা-নিকফুর ফালাম্মা-কাফারা কালা ইন্নী বারীউম মিনকা ইন্নীআখা-ফুল্লা-হা রাব্বাল ‘আ-লামীন।

তাদের তুলনা হল শয়তান। সে মানুষকে বলে, কাফের হয়ে যা। তারপর যখন সে কাফের হয়ে যায়, তখন বলে, তোর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি আল্লাহকে ভয় করি, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। ১৫

তাফসীরঃ

১৫. শয়তানের খাসলত হল প্রথমে মানুষকে কুফর ও গোনাহে লিপ্ত হতে প্ররোচনা দেওয়া। তার দ্বারা প্ররোচিত হয়ে কেউ যখন কোন গোনাহ করে ফেলে এবং সে কারণে তাকে কোন দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হয়, তখন আর শয়তান তার সাথে কোন সম্পর্ক রাখে না। এরূপ এক ঘটনা সূরা আনফালে (৮ : ৪৮) বদরের যুদ্ধ প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। আখেরাতে তো সে কাফেরদের দায়-দায়িত্ব নিতে সরাসরিই অস্বীকার করবে, যেমন সূরা ইবরাহীমে (১৪ : ২২) গত হয়েছে। মুনাফেকদের চরিত্রও ঠিক সে রকমই। শুরুতে তারা ইয়াহুদীদেরকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে উস্কানি দিতে থাকে। কিন্তু ইয়াহুদীদের যখন সাহায্যের প্রয়োজন হল, তখন এমনই ডিগবাজি খেল, যেন তাদেরকে চেনেই না।
১৭

فَکَانَ عَاقِبَتَہُمَاۤ اَنَّہُمَا فِی النَّارِ خَالِدَیۡنِ فِیۡہَا ؕ  وَذٰلِکَ جَزٰٓؤُا الظّٰلِمِیۡنَ ٪ ١٧

ফাকা-না ‘আ-কিবাতাহুমাআন্নাহুমা-ফিন্না-রি খা-লিদাইনি ফীহা- ওয়া যা-লিকা জাঝাউজ্জা-লিমীন।

সুতরাং তাদের উভয়ের পরিণাম এই যে, তারা জাহান্নামবাসী হবে, যাতে তারা স্থায়ী হয়ে থাকবে। এটাই জালেমদের শাস্তি।
১৮

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰہَ وَلۡتَنۡظُرۡ نَفۡسٌ مَّا قَدَّمَتۡ لِغَدٍ ۚ وَاتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ خَبِیۡرٌۢ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ ١٨

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানুত্তাকুল্লা-হা ওয়ালতানজুর নাফছুম মা-কাদ্দামাত লিগাদিও ওয়াত্তাকুল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা খাবীরুম বিমা-তা‘মালূন।

হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং প্রত্যেকেই ভেবে দেখুক আগামী কালের জন্য সে কী অগ্রিম পাঠিয়েছে এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই তোমরা যা-কিছু কর সে সম্পর্কে আল্লাহ পুরোপুরি অবগত।
১৯

وَلَا تَکُوۡنُوۡا کَالَّذِیۡنَ نَسُوا اللّٰہَ فَاَنۡسٰہُمۡ اَنۡفُسَہُمۡ ؕ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡفٰسِقُوۡنَ ١٩

ওয়ালা-তাকূনূকাল্লাযীনা নাছুল্লা-হা ফাআনছা-হুম আনফুছাহুম উলাইকা হুমুল ফাছিকূন।

তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল, ফলে আল্লাহ তাকে আত্মভোলা করে দেন। ১৬ বস্তুত তারাই অবাধ্য।

তাফসীরঃ

১৬. অর্থাৎ তাদের নিজেদের জন্য কোনটা উপকারী ও কোনটা ক্ষতিকর সে ব্যাপারে গাফেল ও উদাসীন হয়ে যায় আর সেই উদাসীনতার ভেতর এমন সব কাজ করতে থাকে, যা তাদের জন্য ধ্বংসকর।
২০

لَا یَسۡتَوِیۡۤ اَصۡحٰبُ النَّارِ وَاَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ ؕ اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ ہُمُ الۡفَآئِزُوۡنَ ٢۰

লা-ইয়াছতাবীআসহা-বুন্না-রি ওয়া আসহা-বুল জান্নাতি আসহা-বুল জান্নাতি হুমুল ফাইঝুন।

জাহান্নামবাসী ও জান্নাতবাসীগণ সমান হতে পারে না। জান্নাতবাসীগণই কৃতকার্য।
২১

لَوۡ اَنۡزَلۡنَا ہٰذَا الۡقُرۡاٰنَ عَلٰی جَبَلٍ لَّرَاَیۡتَہٗ خَاشِعًا مُّتَصَدِّعًا مِّنۡ خَشۡیَۃِ اللّٰہِ ؕ وَتِلۡکَ الۡاَمۡثَالُ نَضۡرِبُہَا لِلنَّاسِ لَعَلَّہُمۡ یَتَفَکَّرُوۡنَ ٢١

লাও আনঝালনা-হা-যাল কুরআ-না ‘আলা-জাবালিল লারাআইতাহু খা-শি‘আম মুতাসাদ্দি‘ আম মিন খাশয়াতিল্লা-হি ওয়া তিলকাল আমছা-লুনাদরিবুহা-লিন্নাছি লা‘আল্লাহম ইয়াতাফাক্কারূন।

আমি যদি এ কুরআনকে অবতীর্ণ করতাম কোন পাহাড়ের উপর, তবে তুমি দেখতে তা আল্লাহর ভয়ে অবনত ও বিদীর্ণ হয়ে গেছে। আমি এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্য এ কারণে বর্ণনা করি যে, তারা যেন চিন্তা-ভাবনা করে। ১৭

তাফসীরঃ

১৭. এ আয়াত দ্বারা কুরআনের মাহাত্ম্য বর্ণনার সাথে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, হে মানুষ! কুরআনের ওজন ও মহামর্যাদায় যেখানে পাহাড়ের মত বিশাল ও সুকঠিন, অথচ এক জড় সৃষ্টির যখন অবনত ও বিদীর্ণ হয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে এক ক্ষুদ্র ও কোমল, অথচ জ্ঞানবান সৃষ্টি হিসেবে এর দ্বারা তোমার তো অনেক বেশি প্রভাবিত হওয়ার কথা। কিন্তু তুমি ঠিক কতটুকু তা উপলব্ধি করছ? -অনুবাদক
২২

ہُوَ اللّٰہُ الَّذِیۡ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ عٰلِمُ الۡغَیۡبِ وَالشَّہَادَۃِ ۚ ہُوَ الرَّحۡمٰنُ الرَّحِیۡمُ ٢٢

হুওয়াল্লা-হুল্লাযী লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ‘আ-লিমুল গাইবি ওয়াশশাহা-দাতি হুওয়াররাহমা-নুর রাহীম।

তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি গুপ্ত ও প্রকাশ্য সব কিছুর জ্ঞাতা। তিনি সকলের প্রতি দয়াবান, পরম দয়ালু।
২৩

ہُوَ اللّٰہُ الَّذِیۡ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ اَلۡمَلِکُ الۡقُدُّوۡسُ السَّلٰمُ الۡمُؤۡمِنُ الۡمُہَیۡمِنُ الۡعَزِیۡزُ الۡجَبَّارُ الۡمُتَکَبِّرُ ؕ سُبۡحٰنَ اللّٰہِ عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ ٢٣

হুওয়াল্লা-হুল্লাযী লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া আলমালিকুল কুদ্দূছুছ ছালা-মুল ম’মিনুল মুহাইমিনুল ‘আঝীঝুল জাব্বা-রুল মুতাকাব্বিরু ছুবহা-নাল্লা-হি ‘আম্মা-ইউশরিকূন।

তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি বাদশাহ, পবিত্রতার অধিকারী, শান্তিদাতা, নিরাপত্তাদাতা, সকলের রক্ষক, মহা ক্ষমতাবান, সকল দোষ-ত্রুটির সংশোধনকারী, গৌরবান্বিত, তারা যে শিরক করে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র।
২৪

ہُوَ اللّٰہُ الۡخَالِقُ الۡبَارِئُ الۡمُصَوِّرُ لَہُ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰی ؕ  یُسَبِّحُ لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ۚ  وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ٪ ٢٤

হুওয়াল্লা-হুল খা-লিকুল বা-রিউল মুছাওবিরু লাহুল আছমাউল হুছনা-; ইউছাব্বিহুলাহূ মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়াহুওয়াল ‘ আঝীঝুল হাকীম।

তিনিই আল্লাহ, যিনি সৃষ্টিকর্তা, অস্তিত্বদাতা, রূপদাতা, ১৮ সর্বাপেক্ষা সুন্দর নামসমূহ তাঁরই, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে তা তাঁর তাসবীহ পাঠ করে এবং তিনিই ক্ষমতাময়, হেকমতের মালিক।

তাফসীরঃ

১৮. এখানে আল্লাহ তাআলার ‘আল-আসমাউল হুসনা’ (সুন্দরতম নামসমূহ)-এর মধ্য হতে কয়েকটি উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা তার তরজমা লিখেছি, কিন্তু তরজমা নাম নয়। মূল নাম তাই, যা আয়াতে প্রদত্ত হয়েছে, অর্থাৎ আর রহমান, আর রাহীম, আল-মালিক, আল-কুদ্দুস, আস-সালাম, আল-মুমিন, আল-মুহায়মিন, আল-আযীয, আল-জাব্বার, আল-মুতাকাব্বির, আল-খালিক, আল-বারি, আল-মুসাউবির। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাআলার নিরানব্বইটি নাম বর্ণনা করেছেন। সেগুলোকে ‘আল-আসমাউল হুসনা’ বলা হয়।
সূরা আল হাশ্‌র | মুসলিম বাংলা