সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা ক্বাফ (ق) | ক্বাফ

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৪৫

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

قٓ ۟ۚ  وَالۡقُرۡاٰنِ الۡمَجِیۡدِ ۚ ١

কাফ ; ওয়াল কুরআ-নিল মাজীদ।

কাফ, কুরআন মাজীদের কসম (কাফেরগণ যে নবীকে অস্বীকার করছে, তা কোন দলীলের ভিত্তিতে নয়);

بَلۡ عَجِبُوۡۤا اَنۡ جَآءَہُمۡ مُّنۡذِرٌ مِّنۡہُمۡ فَقَالَ الۡکٰفِرُوۡنَ ہٰذَا شَیۡءٌ عَجِیۡبٌ ۚ ٢

বাল ‘আজিবূআন জাআহুম মুনযিরুম্মিনহুম ফাকা-লাল কা-ফিরূনা হা-যা- শাইউন ‘আজীব।

বরং কাফেরগণ এই কারণে বিস্ময়বোধ করছে যে, খোদ তাদেরই মধ্য হতে তাদের কাছে একজন সতর্ককারী (কিভাবে) আসল? সুতরাং কাফেরগণ বলে, এটা তো বড় আজব ব্যাপার!

ءَاِذَا مِتۡنَا وَکُنَّا تُرَابًا ۚ ذٰلِکَ رَجۡعٌۢ بَعِیۡدٌ ٣

আ ইযা-মিতনা-ওয়াকুন্না-তুরা-বান যা-লিকা রাজ‘উম বা‘ঈদ।

আমরা যখন মরে যাব এবং মাটিতে পরিণত হব তখনও কি (আমাদেরকে আবার জীবিত করা হবে? সে প্রত্যাবর্তন (আমাদের বুঝ সমঝ থেকে) বহু দূরে।

قَدۡ عَلِمۡنَا مَا تَنۡقُصُ الۡاَرۡضُ مِنۡہُمۡ ۚ وَعِنۡدَنَا کِتٰبٌ حَفِیۡظٌ ٤

কাদ ‘আলিমনা-মা-তানকুসুল আরদুমিনহুম ওয়া ‘ইনদানা-কিতা-বুন হাফীজ।

বস্তুত আমি জানি ভূমি তাদের কতটুকু ক্ষয় করে এবং আমার কাছে আছে এক সংরক্ষণকারী কিতাব।

তাফসীরঃ

১. এর দ্বারা লাওহে মাহফুজ বোঝানো হয়েছে। যা সব কিছুর সংখ্যা, নাম, মাটিতে তাদের ক্ষয় ইত্যাদি সব কিছু সংরক্ষণ করে।

بَلۡ کَذَّبُوۡا بِالۡحَقِّ لَمَّا جَآءَہُمۡ فَہُمۡ فِیۡۤ اَمۡرٍ مَّرِیۡجٍ ٥

বাল কাযযাবূবিলহাকিলাম্মা-জাআহুম ফাহুম ফীআমরীম মারীজ।

বস্তুত তারা তখনই সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, যখন তা তাদের কাছে এসেছিল। সুতরাং তারা পরস্পর বিরোধী উক্তির মধ্যে পড়ে আছে।

তাফসীরঃ

৩. ‘পরস্পর বিরোধী উক্তির মধ্যে পড়ে আছে’ অর্থাৎ তারা কুরআন মাজীদ সম্পর্কে কখনও বলে, এটা যাদু, কখনও বলে, এটা অতীন্দ্রিয়বাদীদের কথা আবার কখনও বলে, এটা কবিতার বই (নাউযুবিল্লাহ)। এমনিভাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও কখনও কবি আবার কখনও উন্মাদ বলত।

اَفَلَمۡ یَنۡظُرُوۡۤا اِلَی السَّمَآءِ فَوۡقَہُمۡ کَیۡفَ بَنَیۡنٰہَا وَزَیَّنّٰہَا وَمَا لَہَا مِنۡ فُرُوۡجٍ ٦

আফালাম ইয়ানজু রূইলাছ ছামাইফাওকাহুম কাইফা বানাইনা-হা-ওয়া ঝাইয়ান্না-হাওয়ামা-লাহা-মিন ফুরূজ।

তবে কি তারা তাদের উপর দিকে আকাশমণ্ডলীকে দেখেনি যে, আমি তাকে কিভাবে নির্মাণ করেছি, তাকে শোভা দান করেছি এবং তাতে কোন রকমের ফাটল নেই?

وَالۡاَرۡضَ مَدَدۡنٰہَا وَاَلۡقَیۡنَا فِیۡہَا رَوَاسِیَ وَاَنۡۢبَتۡنَا فِیۡہَا مِنۡ کُلِّ زَوۡجٍۭ بَہِیۡجٍ ۙ ٧

ওয়াল আরদা মাদাদনা-হা-ওয়া আলকাইনা-ফীহা-রাওয়া-ছিয়া ওয়া আমবাতনা-ফীহামিন কুল্লি ঝাওজিম বাহীজ।

আর ভূমিকে আমি বিস্তার করে দিয়েছি, তাতে স্থাপিত করেছি পর্বতমালার নোঙ্গর। আর তাতে সব রকম নয়নাভিরাম বস্তু উদগত করেছি

تَبۡصِرَۃً وَّذِکۡرٰی لِکُلِّ عَبۡدٍ مُّنِیۡبٍ ٨

তাবসিরাতাওঁ ওয়াযিকরা-লিকুল্লি ‘আবদিম মুনীব।

যাতে তা হয় আল্লাহ অভিমুখী প্রত্যেক বান্দার জন্য জ্ঞানবত্তা ও উপদেশস্বরূপ।

وَنَزَّلۡنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءً مُّبٰرَکًا فَاَنۡۢبَتۡنَا بِہٖ جَنّٰتٍ وَّحَبَّ الۡحَصِیۡدِ ۙ ٩

ওয়া নাঝঝালনা-মিনাছ ছামাইমাআম মুবা-রাকান ফাআমবাতনা-বিহী জান্না-তিওঁ ওয়া হাব্বাল হাসীদ।

আমি আকাশ থেকে বর্ষণ করেছি বরকতপূর্ণ পানি তারপর তার মাধ্যমে উদগত করেছি উদ্যানরাজি ও এমন শস্য, যা কাটা হয়ে থাকে
১০

وَالنَّخۡلَ بٰسِقٰتٍ لَّہَا طَلۡعٌ نَّضِیۡدٌ ۙ ١۰

ওয়ান্নাখলা বা-ছিকা-তিল্লাহা-তাল‘উন্নাদীদ।

এবং উঁচু-উঁচু খেজুর গাছ, যাতে আছে গুচ্ছ গুচ্ছ দানা,
১১

رِّزۡقًا لِّلۡعِبَادِ ۙ وَاَحۡیَیۡنَا بِہٖ بَلۡدَۃً مَّیۡتًا ؕ کَذٰلِکَ الۡخُرُوۡجُ ١١

রিঝকালিলল‘ইবা-দি ওয়া আহইয়াইনা-বিহী বালদাতাম্মাইতান কাযা-লিকাল খুরূজ।

বান্দাদের জীবিকাস্বরূপ এবং (এমনিভাবে) আমি সেই পানি দ্বারা এক মৃত নগরকে সঞ্জীবিত করেছি। এভাবেই হবে (কবর থেকে মানুষের) উত্থান।

তাফসীরঃ

৪. যেভাবে আল্লাহ তাআলা এক মৃত, পরিত্যক্ত ভূমিকে বৃষ্টির মাধ্যমে সঞ্জীবিত করে তোলেন, ফলে তাতে বোনা বীজ থেকে নানা রকম ফলমূল ও তরি-তরকারি জন্ম নেয়, সেভাবেই যারা কবরে মাটিতে মিশে গেছে আল্লাহ তাআলা তাদেরকেও নতুন জীবন দান করতে সক্ষম।
১২

کَذَّبَتۡ قَبۡلَہُمۡ قَوۡمُ نُوۡحٍ وَّاَصۡحٰبُ الرَّسِّ وَثَمُوۡدُ ۙ ١٢

কাযযাবাত কাবলাহুম কাওমুনুহিওঁ ওয়া আসহা-বুর রাছছি ওয়া ছামূদ।

তাদের আগেও নূহের কওম, রাসসবাসী ও ছামুদ জাতি (এ বিষয়কে) প্রত্যাখ্যান করেছিল।

তাফসীরঃ

৫. الرس-এর অর্থ কুয়া। ইয়ামামা এলাকায় এ কুয়াকে ঘিরে একটি জনপদ গড়ে উঠেছিল। তাদেরকে ‘আসহাবুর-রাসস’ বা কুয়াওয়ালা বলা হয়। তারা ছিল ছামূদ জাতির একটি শাখা। তাদের কাছে যে নবীকে পাঠানো হয়েছিল তারা তাকে এ কুয়ার মধ্যে চাপা দিয়ে হত্যা করেছিল। -অনুবাদক
১৩

وَعَادٌ وَّفِرۡعَوۡنُ وَاِخۡوَانُ لُوۡطٍ ۙ ١٣

ওয়া ‘আ-দুওঁ ওয়া ফির ‘আউনুওয়া ইখওয়া-নুলূত।

তাছাড়া আদ জাতি, ফির‘আউন এবং লুতের সম্প্রদায়
১৪

وَّاَصۡحٰبُ الۡاَیۡکَۃِ وَقَوۡمُ تُبَّعٍ ؕ کُلٌّ کَذَّبَ الرُّسُلَ فَحَقَّ وَعِیۡدِ ١٤

ওয়া আসহা-বুল আইকাতি ওয়া কাওমুতুব্বা‘ইন কুল্লুন কাযযাবার রুছুলা ফাহাক্কা ওয়া‘ঈদ।

এবং আয়কাবাসী ও তুব্বা’ র সম্প্রদায়ও। এরা সকলেই রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল। ফলে আমি যে শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলাম, তা সত্যে পরিণত হয়।

তাফসীরঃ

৬. ‘তুব্বা’ ইয়ামানের হিময়ার বংশীয় রাজাদের উপাধি। কুরআন মাজীদে যে তুব্বা’র কথা বলা হয়েছে তিনি ছিলেন এ বংশের সর্বপ্রধান শাসক। তার মূল নাম হাসসান ইবনে আস‘আদ। তাঁর শাসনকাল ছিল খৃ.পূ. দশম শতাব্দীতে। তিনি একজন ঈমানদার শাসক ছিলেন। নিজ কওমকে ঈমানের দাওয়াত দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা তা গ্রহণ করেনি। বলা হয়ে থাকে তিনিই সর্বপ্রথম পবিত্র কাবায় গিলাফ পরিয়েছিলেন। -অনুবাদক
১৫

اَفَعَیِیۡنَا بِالۡخَلۡقِ الۡاَوَّلِ ؕ  بَلۡ ہُمۡ فِیۡ لَبۡسٍ مِّنۡ خَلۡقٍ جَدِیۡدٍ ٪ ١٥

আফা‘আঈনা-বিলখালকিল আওওয়ালি বাল হুম ফী লাবছিম মিন খালকিন জাদীদ।

তবে কি আমি প্রথমবার সৃষ্টি করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি? না। বস্তুত তারা পুনঃসৃষ্টি সম্পর্কে বিভ্রান্তিতে পড়ে রয়েছে।

তাফসীরঃ

৮. যে-কোন জিনিস নতুনভাবে সৃষ্টি করা অর্থাৎ তাকে নাস্তি থেকে অস্তিতে আনা সর্বদা কঠিন হয়ে থাকে। তাকে পুনরায় তৈরি করা সে রকম কঠিন হয় না। তো প্রথমবার সৃষ্টি করতে যখন আল্লাহ তাআলার কোনরূপ কষ্ট বা ক্লান্তি লাগেনি, তখন দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করতে কষ্ট হবে কেন?
১৬

وَلَقَدۡ خَلَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ وَنَعۡلَمُ مَا تُوَسۡوِسُ بِہٖ نَفۡسُہٗ ۚۖ وَنَحۡنُ اَقۡرَبُ اِلَیۡہِ مِنۡ حَبۡلِ الۡوَرِیۡدِ ١٦

ওয়া লাকাদ খালাকনাল ইনছা-না ওয়ানা‘লামুমা-তুওয়াছবিছুবিহী নাফছুহূ ওয়া নাহনু আকরাবুইলাইহি মিন হাবলিল ওয়ারীদ।

প্রকৃতপক্ষে আমিই মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং তার অন্তরে যেসব ভাবনা-কল্পনা দেখা দেয়, সে সম্পর্কে আমি পরিপূর্ণরূপে অবগত এবং আমি তার গলদেশের শিরা অপেক্ষাও তার বেশি নিকটবর্তী,
১৭

اِذۡ یَتَلَقَّی الۡمُتَلَقِّیٰنِ عَنِ الۡیَمِیۡنِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِیۡدٌ ١٧

ইযইয়াতালাক্কাল মুতালাক্কিইয়া-নি ‘আনিল ইয়ামীনি ওয়া ‘আনিশশিমা-লি কা‘ঈদ।

সেই সময়ও, যখন (কর্ম) লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতাদ্বয় লিপিবদ্ধ করে একজন ডান দিকে এবং একজন বাম দিকে বসা থাকে।

তাফসীরঃ

৯. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা মানুষের সমস্ত ভালো-মন্দ কাজের রেকর্ড রাখার জন্য দু’জন ফেরেশতা নিযুক্ত করে রেখেছেন। তারা সর্বদা তার ডান ও বাম পাশে উপস্থিত থাকে। এ ব্যবস্থা কেবল এজন্যই করা হয়েছে যে, যাতে কিয়ামতের দিন প্রমাণ হিসেবে মানুষের সামনে তার সে আমলনামা পেশ করা যায়। নচেৎ মানুষের কর্ম সম্পর্কে জানার জন্য আল্লাহ তাআলার অন্য কারও সাহায্য গ্রহণের প্রয়োজন নেই। তিনি মানুষের অন্তরে যেসব কল্পনা জাগে সে সম্পর্কেও অবহিত। তিনি মানুষের গলদেশের শিরা অপেক্ষাও তার বেশি কাছে [আয়াতের তরজমা করা হয়েছে এ হিসেবে যে, اِذْ শব্দটি اَقْرَبُ -এর কালাধিকরণ ظرف, যেমন রূহুল মাআনীতে বলা হয়েছে]।
১৮

مَا یَلۡفِظُ مِنۡ قَوۡلٍ اِلَّا لَدَیۡہِ رَقِیۡبٌ عَتِیۡدٌ ١٨

মা-ইয়ালফিজুমিন কাওলিন ইল্লা-লাদাইহি রাকীবুন ‘আতীদ।

মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার জন্য একজন প্রহরী নিযুক্ত আছে, যে (লেখার জন্য) সদা প্রস্তুত।
১৯

وَجَآءَتۡ سَکۡرَۃُ الۡمَوۡتِ بِالۡحَقِّ ؕ ذٰلِکَ مَا کُنۡتَ مِنۡہُ تَحِیۡدُ ١٩

ওয়া জাআত ছাকরাতুল মাওতি বিলহাক্কি যা-লিকা মা-কুনতা মিনহু তাহীদ।

মৃত্যু যন্ত্রণা সত্যিই আসবে। (হে মানুষ!) এটাই সে জিনিস যা থেকে তুমি পালাতে চাইতে।
২০

وَنُفِخَ فِی الصُّوۡرِ ؕ ذٰلِکَ یَوۡمُ الۡوَعِیۡدِ ٢۰

ওয়া নুফিখা ফিসসূরি যা-লিকা ইয়াওমুল ওয়া‘ঈদ।

এবং শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে। এটাই সেই দিন যে সম্পর্কে সতর্ক করা হত।
২১

وَجَآءَتۡ کُلُّ نَفۡسٍ مَّعَہَا سَآئِقٌ وَّشَہِیۡدٌ ٢١

ওয়া জাআত কুল্লুনাফছিম্মা‘আহা-ছাইকূ ওঁ ওয়া শাহীদ।

সে দিন প্রত্যেক ব্যক্তি এমনভাবে আসবে যে, তার সাথে থাকবে একজন চালক ও একজন সাক্ষী। ১০

তাফসীরঃ

১০. অর্থাৎ মানুষ যখন কবর থেকে বের হয়ে হাশরের মাঠের দিকে যাবে, তখন প্রত্যেকের সাথে দু’জন ফেরেশতা থাকবে। তাদের মধ্যে একজন তাকে হাঁকিয়ে হাশরের ময়দানের দিকে নিয়ে যাবে আর অন্য ফেরেশতা হিসাব-নিকাশের সময় তার কর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে। কোন কোন মুফাসসির বলেন, এ দু’জন সেই ফেরেশতা, যারা দুনিয়ায় তার আমলনামা লিখত।
২২

لَقَدۡ کُنۡتَ فِیۡ غَفۡلَۃٍ مِّنۡ ہٰذَا فَکَشَفۡنَا عَنۡکَ غِطَآءَکَ فَبَصَرُکَ الۡیَوۡمَ حَدِیۡدٌ ٢٢

লাকাদ কুনতা ফী গাফলাতিম মিন হা-যা- ফাকাশাফনা- ‘আনকা গিতাআকা ফাবাসারুকাল ইয়াওমা হাদীদ।

প্রকৃতপক্ষে তুমি এ দিন সম্পর্কে ছিলে উদাসীন। এখন তোমার থেকে উন্মোচন করেছি, তোমার (উপর পড়ে থাকা) পর্দা। ফলে আজ তোমার দৃষ্টি প্রখর ।
২৩

وَقَالَ قَرِیۡنُہٗ ہٰذَا مَا لَدَیَّ عَتِیۡدٌ ؕ ٢٣

ওয়া কা-লা কারীনুহূহা-যা-মা-লাদাইইয়া ‘আতীদ।

এবং তার সঙ্গী বলবে, এই তো তা (অর্থাৎ সেই আমলনামা), যা আমার কাছে প্রস্তুত রয়েছে। ১১

তাফসীরঃ

১১. সঙ্গী দ্বারা সেই ফেরেশতাকে বোঝানো হয়েছে, যে সর্বদা মানুষের সঙ্গে থেকে তার আমল লিপিবদ্ধ করত এবং কবর থেকে তার সঙ্গে সাক্ষীরূপে এসেছিল।
২৪

اَلۡقِیَا فِیۡ جَہَنَّمَ کُلَّ کَفَّارٍ عَنِیۡدٍ ۙ ٢٤

আলকিয়া-ফী জাহান্নামা কুল্লা কাফফা-রিন ‘আনীদ।

(হুকুম দেওয়া হবে) তোমরা দু’জন ১২ প্রত্যেক ঘোর কাফের ও সত্যের চরম শত্রুকে জাহান্নামে নিক্ষেপ কর,

তাফসীরঃ

১২. অর্থাৎ সেই ফেরেশতাদ্বয়কে হুকুম দেওয়া হবে, যারা তার সঙ্গে এসেছিল।
২৫

مَّنَّاعٍ لِّلۡخَیۡرِ مُعۡتَدٍ مُّرِیۡبِۣ ۙ ٢٥

মান্না-‘ইলিলল খাইরি মু‘তাদিমমুরীব।

যে (অন্যকে) কল্যাণে বাধা দানে অভ্যস্ত, সীমালংঘনকারী ও (সত্য কথার ভেতর) সন্দেহ সৃষ্টিকারী ছিল;
২৬

الَّذِیۡ جَعَلَ مَعَ اللّٰہِ اِلٰـہًا اٰخَرَ فَاَلۡقِیٰہُ فِی الۡعَذَابِ الشَّدِیۡدِ ٢٦

আল্লাযী জা‘আলা মা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খারা ফাআলকিয়া-হু ফিল ‘আযা-বিশশাদীদ।

যে আল্লাহর সঙ্গে অন্যকে মাবুদ বানিয়ে নিয়েছিল। সুতরাং আজ তোমরা তাকে কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ কর।
২৭

قَالَ قَرِیۡنُہٗ رَبَّنَا مَاۤ اَطۡغَیۡتُہٗ وَلٰکِنۡ کَانَ فِیۡ ضَلٰلٍۭ بَعِیۡدٍ ٢٧

কা-লা কারীনুহূরাব্বানা-মাআতগাইতুহূওয়ালা-কিন কা-না ফী দালা-লিম বা‘ঈদ।

তার সঙ্গী বলবে, ১৩ হে আমাদের প্রতিপালক! আমি তাকে বিপথগামী করিনি; বরং সে নিজেই চরম বিভ্রান্তিতে নিপতিত ছিল।

তাফসীরঃ

১৩. এখানে ‘সঙ্গী’ বলে শয়তানকে বোঝানো হয়েছে। কেননা সেও মানুষকে বিপথগামী করার জন্য সর্বদা তার সঙ্গে লেগে থাকত। কাফেরগণ চাইবে তাদের প্রাপ্য শাস্তি যেন তাদের পরিবর্তে তাদের নেতৃবর্গ ও শয়তানকে দেওয়া হয় এবং এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলবে, আমাদেরকে তারাই বিপথগামী করেছিল। এর উত্তরে শয়তান বলবে, আমি বিপথগামী করিনি। কেননা তোমাদের উপর আমার এমন কোন আধিপত্য ছিল না যে, তোমাদেরকে ভ্রান্ত পথে চলতে বাধ্য করব। আমি বড়জোর তোমাদেরকে প্ররোচনা দিয়েছিলাম ও ভুল পথে চলতে উৎসাহ যুগিয়েছিলাম, কিন্তু সে পথে তোমরা চলেছিলে তো স্বেচ্ছায়। শয়তানের এ উত্তর বিস্তারিতভাবে সূরা ইবরাহীমে গত হয়েছে (১৪ : ২২)।
২৮

قَالَ لَا تَخۡتَصِمُوۡا لَدَیَّ وَقَدۡ قَدَّمۡتُ اِلَیۡکُمۡ بِالۡوَعِیۡدِ ٢٨

কা-লা লা-তাখতাছিমূলাদাইয়া ওয়া কাদ কাদ্দামতুইলাইকুম বিলওয়া‘ঈদ।

আল্লাহ (তাআলা) বলবেন, তোমরা আমার সামনে ঝগড়া করো না। আমি পূর্বেই তো তোমাদের কাছে শাস্তির সতর্কবাণী পাঠিয়েছিলাম।
২৯

مَا یُبَدَّلُ الۡقَوۡلُ لَدَیَّ وَمَاۤ اَنَا بِظَلَّامٍ لِّلۡعَبِیۡدِ ٪ ٢٩

মা-ইউবাদ্দালুল কাওলুলাদাইয়া ওয়ামাআনা-বিজাল্লা-মিলিলল‘আবীদ।

আমার সামনে কথার কোন রদবদল হতে পারে না ১৪ এবং আমি বান্দাদের প্রতি জুলুম করি না।

তাফসীরঃ

১৪. অর্থাৎ সতর্কবাণীতে ব্যক্ত এই কথা যে, কুফর অবলম্বনকারী ও তার উৎসাহদাতা উভয়েই জাহান্নামের উপযুক্ত। এর কোন পরিবর্তন নেই।
৩০

یَوۡمَ نَقُوۡلُ لِجَہَنَّمَ ہَلِ امۡتَلَاۡتِ وَتَقُوۡلُ ہَلۡ مِنۡ مَّزِیۡدٍ ٣۰

ইয়াওমা নাকূলুলিজাহান্নামা হালিম তালা’তি ওয়া তাকূলুহাল মিম্মাঝীদ।

সেই সময় স্মরণ রাখ, যখন আমি জাহান্নামকে বলব, তুমি কি ভরে গেছ? সে বলবে, আরও কিছু আছে কি? ১৫

তাফসীরঃ

১৫. অর্থাৎ জাহান্নাম বলবে, আমি আরও মানুষ গ্রাস করতে প্রস্তুত আছি।
৩১

وَاُزۡلِفَتِ الۡجَنَّۃُ لِلۡمُتَّقِیۡنَ غَیۡرَ بَعِیۡدٍ ٣١

ওয়া উঝলিফাতিল জান্নাতুলিলমুত্তাকীনা গাইরা বা‘ঈদ।

আর মুত্তাকীদের জন্য জান্নাতকে নিকটবর্তী করে দেওয়া হবে, কোন দূরত্বই থাকবে না।
৩২

ہٰذَا مَا تُوۡعَدُوۡنَ لِکُلِّ اَوَّابٍ حَفِیۡظٍ ۚ ٣٢

হা-যা-মা-তূ‘আদূনা লিকুল্লি আওওয়া-বিন হাফীজ।

(এবং বলা হবে,) এটাই তা যার প্রতিশ্রুতি তোমাদেরকে দেওয়া হত প্রত্যেক আল্লাহ অভিমুখী (গুনাহ থেকে) আত্মরক্ষাকারীর জন্য, ১৬

তাফসীরঃ

১৬. অর্থাৎ আল্লাহর হুকুমের বিপরীত কাজ করা হতে নিজেকে রক্ষা করে।
৩৩

مَنۡ خَشِیَ الرَّحۡمٰنَ بِالۡغَیۡبِ وَجَآءَ بِقَلۡبٍ مُّنِیۡبِۣ ۙ ٣٣

মান খাশিয়ার রাহমা-না বিলগাইবি ওয়া জাআ বিকালবিম মুনীব।

যে দয়াময় আল্লাহকে ভয় করে তাঁকে না দেখেই এবং আল্লাহর দিকে রুজুকারী অন্তঃকরণ নিয়ে উপস্থিত হয়।
৩৪

ادۡخُلُوۡہَا بِسَلٰمٍ ؕ ذٰلِکَ یَوۡمُ الۡخُلُوۡدِ ٣٤

উদখুলূহা-বিছালা-মিন যা-লিকা ইয়াওমুল খুলূদ ।

তোমরা এতে প্রবেশ কর শান্তির সাথে। সেটা হবে অনন্ত জীবনের দিন।
৩৫

لَہُمۡ مَّا یَشَآءُوۡنَ فِیۡہَا وَلَدَیۡنَا مَزِیۡدٌ ٣٥

লাহুম মা-ইয়াশাঊনা ফীহা-ওয়ালাদাইনা-মাঝীদ।

এবং তারা (অর্থাৎ জান্নাতবাসীগণ) তাতে পাবে এমন সবকিছু, যা তারা চাবে এবং আমার কাছে আছে আরও বেশি কিছু। ১৭

তাফসীরঃ

১৭. আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজীদের বিভিন্ন স্থানে জান্নাতের নি‘আমতরাজি সম্পর্কে মোটামুটিভাবে আলোকপাত করেছেন। তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়ার অবকাশ এ সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে নেই। কেননা অনন্ত বসবাসের সে জান্নাতে আল্লাহ তাআলা যে অফুরান নি‘আমতের ব্যবস্থা রেখেছেন একটি ‘হাদীসে কুদসী’তে তার দিকে এভাবে ইশারা করা হয়েছে যে, ‘আল্লাহ তাআলা জান্নাতে এমন সব নি‘আমত প্রস্তুত করে রেখেছেন, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শোনেনি এবং কোন ব্যক্তির অন্তর তা কল্পনাও করেনি, এ আয়াতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাষায় আল্লাহ তাআলা সেসব নি‘আমতের প্রতি ইশারা করছেন যে, ‘আমার কাছে আছে আরও বেশি কিছু’। সেই নি‘আমতসমূহের মধ্যে এক বিরাট নি‘আমত হল আল্লাহ তাআলার দর্শন লাভ। আরও দেখুন সূরা ইউনুস (১০ : ২৬)।
৩৬

وَکَمۡ اَہۡلَکۡنَا قَبۡلَہُمۡ مِّنۡ قَرۡنٍ ہُمۡ اَشَدُّ مِنۡہُمۡ بَطۡشًا فَنَقَّبُوۡا فِی الۡبِلَادِ ؕ ہَلۡ مِنۡ مَّحِیۡصٍ ٣٦

ওয়াকাম আহলাকনা-কাবলাহুম মিন কারনিন হুম আশাদ্দুমিনহুম বাতশান ফানাক্কাবূফিল বিলা-দি হাল মিম্মাহীস।

আমি তাদের (অর্থাৎ মক্কাবাসী কাফেরদের) আগে কত জাতিকে ধ্বংস করেছি, যারা শক্তিতে তাদের চেয়ে প্রবল ছিল। তারা নগরে-নগরে ঘুরে বেড়িয়েছিল। ১৮ তাদের কি পালানোর কোন জায়গা ছিল?

তাফসীরঃ

১৮. অর্থাৎ খুবই সমৃদ্ধশালী ছিল। ব্যবসা-বাণিজ্য উপলক্ষে তারা নগরে-নগরে ঘুরে বেড়াত। আয়াতটির এক অর্থ এ রকমও হতে পারে যে, তারা শাস্তি থেকে আত্মরক্ষার্থে বিভিন্ন শহরে দৌড়াদৌড়ি করেছিল, কিন্তু তারা আল্লাহর ধরা থেকে বাঁচতে পারেনি।
৩৭

اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَذِکۡرٰی لِمَنۡ کَانَ لَہٗ قَلۡبٌ اَوۡ اَلۡقَی السَّمۡعَ وَہُوَ شَہِیۡدٌ ٣٧

ইন্না ফী যা-লিকা লাযিকরা-লিমান কা-না লাহূকালবুন আও আলকাছ ছাম‘আ ওয়া হুওয়া শাহীদ।

নিশ্চয়ই এর ভেতর এমন ব্যক্তির জন্য উপদেশ রয়েছে, যার আছে অন্তর কিংবা যে মনোযোগ দিয়ে কর্ণপাত করে।
৩৮

وَلَقَدۡ خَلَقۡنَا السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ وَمَا بَیۡنَہُمَا فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ ٭ۖ وَّمَا مَسَّنَا مِنۡ لُّغُوۡبٍ ٣٨

ওয়া লাকাদ খালাকনাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ওয়ামা-বাইনাহুমা-ফী ছিত্তাতি আইয়ামিওঁ ওয়ামা-মাছছানা-মিল্লুগূব।

আমি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এ দু’য়ের মধ্যবর্তী জিনিস সৃষ্টি করেছি ছয় দিনে আর এতে আমাকে বিন্দুমাত্র ক্লান্তি স্পর্শ করেনি।
৩৯

فَاصۡبِرۡ عَلٰی مَا یَقُوۡلُوۡنَ وَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ قَبۡلَ طُلُوۡعِ الشَّمۡسِ وَقَبۡلَ الۡغُرُوۡبِ ۚ ٣٩

ফাসবির ‘আলা-মা-ইয়াকূ লূনা ওয়া ছাববিহ বিহামদি রাব্বিকা কাবলা তুলূ‘ইশশামছি ওয়া কাবলাল গুরূব।

সুতরাং (হে রাসূল!) তারা যা-কিছু বলছে, তুমি তাতে সবর কর এবং সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে প্রশংসার সাথে নিজ প্রতিপালকের তাসবীহ পাঠ করতে থাক।
৪০

وَمِنَ الَّیۡلِ فَسَبِّحۡہُ وَاَدۡبَارَ السُّجُوۡدِ ٤۰

ওয়া মিনাল্লাইলি ফাছাববিহহু ওয়া আদবা-রাছছুজূদ।

তাঁর তাসবীহ পাঠ কর রাতের অংশসমূহেও ১৯ এবং সিজদার পরেও। ২০

তাফসীরঃ

১৯. ‘সিজদা’ দ্বারা বোঝানো উদ্দেশ্য ফরয নামায এবং তারপর ‘তাসবীহ পাঠ’ দ্বারা নফল নামাযে লিপ্ত হতে বলা হয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে এ রকম তাফসীরই বর্ণিত আছে (রূহুল মাআনী)।
৪১

وَاسۡتَمِعۡ یَوۡمَ یُنَادِ الۡمُنَادِ مِنۡ مَّکَانٍ قَرِیۡبٍ ۙ ٤١

ওয়াছতামি‘ ইয়াওমা ইউনা-দিল মুনা-দি মিম মাকা-নিন কারীব।

এবং মনোযোগ দিয়ে শোন, যে দিন এক আহ্বানকারী নিকটবর্তী একস্থান থেকে ডাক দেবে, ২১

তাফসীরঃ

২১. অর্থাৎ প্রত্যেকের কাছে মনে হবে ঘোষণাকারী খুব নিকটবর্তী স্থান থেকেই ঘোষণা করছে। খুব সম্ভব এই ঘোষণাকারী হবেন হযরত ইসরাফিল আলাইহিস সালাম, যিনি মৃতদেরকে কবর থেকে বের হয়ে আসার জন্য ডাক দেবেন।
৪২

یَّوۡمَ یَسۡمَعُوۡنَ الصَّیۡحَۃَ بِالۡحَقِّ ؕ ذٰلِکَ یَوۡمُ الۡخُرُوۡجِ ٤٢

ইয়াওমা ইয়াছমা‘ঊনাসসাইহাতা বিলহাক্কি যা-লিকা ইয়াওমুল খুরূজ।

যে দিন তারা সত্যি সত্যি আওয়াজ শুনবে, ২২ সেটাই (কবর থেকে) বের হওয়ার দিন।

তাফসীরঃ

২২. এর দ্বারা ঘোষণাকারীর ঘোষণার আওয়াজও বোঝানো হতে পারে এবং শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার আওয়াজও।
৪৩

اِنَّا نَحۡنُ نُحۡیٖ وَنُمِیۡتُ وَاِلَیۡنَا الۡمَصِیۡرُ ۙ ٤٣

ইন্না নাহনুনুহয়ী ওয়ানুমীতুওয়া ইলাইনাল মাসীর।

নিশ্চয়ই আমিই দান করি জীবন এবং মৃত্যুও। শেষ পর্যন্ত আমারই কাছে ফিরে আসতে হবে।
৪৪

یَوۡمَ تَشَقَّقُ الۡاَرۡضُ عَنۡہُمۡ سِرَاعًا ؕ ذٰلِکَ حَشۡرٌ عَلَیۡنَا یَسِیۡرٌ ٤٤

ইয়াওমা তাশাক্কাকুল আরদু‘আনহুম ছিরা-‘আন যা-লিকা হাশরুন ‘আলাইনাইয়াছীর।

সে দিন ভূমি তাদের (উপর) থেকে ফেটে যাবে এবং তারা (কবর থেকে) অতি দ্রুত বের হয়ে আসবে। এভাবে সকলকে একত্র করে ফেলা আমার পক্ষে খুবই সহজ।
৪৫

نَحۡنُ اَعۡلَمُ بِمَا یَقُوۡلُوۡنَ وَمَاۤ اَنۡتَ عَلَیۡہِمۡ بِجَبَّارٍ ۟  فَذَکِّرۡ بِالۡقُرۡاٰنِ مَنۡ یَّخَافُ وَعِیۡدِ ٪ ٤٥

নাহনুআ‘আলামুবিমা-ইয়াকূলূনা ওয়ামাআনতা ‘আলাইহিম বিজাব্বা-রিন ফাযাক্কির বিলকুরআ-নি মাইঁ ইয়াখা-ফুওয়া‘ঈদ।

তারা যা-কিছু বলছে আমি তা ভালোভাবেই জানি এবং (হে রাসূল!) তুমি তাদের উপর জবরদস্তিকারী নও। ২৩ আমার সতর্কবাণীকে ভয় করে এমন প্রত্যেককে তুমি কুরআনের সাহায্যে উপদেশ দিতে থাক।

তাফসীরঃ

২৩. [নানাভাবে বোঝানো সত্ত্বেও কাফেরগণ তাঁর ডাকে সাড়া না দেওয়ায়, উপরন্তু তাঁর ও কুরআন সম্পর্কে বিভিন্ন রকম অশোভন উক্তি করায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মনে বড় ব্যথা ছিল এবং এত কিছুর পরও তারা যেন ঈমান আনে, সেজন্য তার অন্তরে অবর্ণনীয় জ্বালা ছিল।] তাই এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁকে সান্তনা দিচ্ছেন যে, জবরদস্তিমূলকভাবে মানুষকে ঈমান আনতে বাধ্য করা আপনার দায়িত্ব নয়। আপনার কাজ কেবল তাদের কাছে উপদেশ বাণী পৌঁছিয়ে দেওয়া। যার অন্তরে কিছুটা হলেও আল্লাহর ভয় থাকবে, সে আপনার কথা মেনে নেবে। আর যে মানবে না তার ব্যাপারে আপনার কোন দায়-দায়িত্ব নেই। [এ ধরনের লোকে যে সব মন্তব্য করছে আমার তা জানা আছে। আমি সময় মত তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব]।
সূরা ক্বাফ | মুসলিম বাংলা