সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা মুহাম্মাদ (محمّـد) | নবী মুহাম্মাদ (সঃ)

মাদানী

মোট আয়াতঃ ৩৮

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

اَلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَصَدُّوۡا عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ اَضَلَّ اَعۡمَالَہُمۡ ١

আল্লাযীনা কাফারূওয়াছাদ্দূ‘আন ছাবীলিল্লা-হি আদাল্লা আ‘মা-লাহুম।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে এবং অন্যদেরকে আল্লাহর পথে বাধা দান করেছে, আল্লাহ তাদের কর্ম নিষ্ফল করে দিয়েছেন।

তাফসীরঃ

১. কাফেরগণ দুনিয়ায় যেসব ভালো কাজ করে, যেমন গরীব-দুঃখীর সাহায্য, আর্তের সেবা ইত্যাদি, এর প্রতিদান আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ইহকালেই দিয়ে দেন। আখেরাতে তারা কিছুই পাবে না। কেননা আখেরাতের পুরস্কার পাওয়ার জন্য ঈমান শর্ত। তাই আখেরাতের হিসেবে তাদের কর্ম সম্পূর্ণ নিষ্ফল হয়ে যায়।

وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَاٰمَنُوۡا بِمَا نُزِّلَ عَلٰی مُحَمَّدٍ وَّہُوَ الۡحَقُّ مِنۡ رَّبِّہِمۡ ۙ کَفَّرَ عَنۡہُمۡ سَیِّاٰتِہِمۡ وَاَصۡلَحَ بَالَہُمۡ ٢

ওয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ওয়া মা-মানূবিমা-নুঝঝিলা ‘আলামুহাম্মাদিওঁ ওয়াহুওয়াল হাক্কুমির রাব্বিহিম কাফফারা ‘আনহুম ছাইয়িআ-তিহিম ওয়া আসলাহা বা-লাহুম।

আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি যা-কিছু অবতীর্ণ হয়েছে আর সেটাই তো তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে আগত সত্য তা আন্তরিকভাবে মেনে নিয়েছে, আল্লাহ তাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং তাদের অবস্থা সংশোধন করে দিয়েছেন।

ذٰلِکَ بِاَنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوا اتَّبَعُوا الۡبَاطِلَ وَاَنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّبَعُوا الۡحَقَّ مِنۡ رَّبِّہِمۡ ؕ کَذٰلِکَ یَضۡرِبُ اللّٰہُ لِلنَّاسِ اَمۡثَالَہُمۡ ٣

যা-লিকা বিআন্নাল্লাযীনা কাফারুত্তাবা‘উল বা-তিলা ওয়া আন্নাল্লাযীনা আ-মানুত্তাবা‘উল হাক্কা মির রাব্বিহিম কাযা-লিকা ইয়াদরিবুল্লা-হু লিন্না-ছি আমছা-লাহুম।

তা এইজন্য যে, যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা মিথ্যার অনুগামী হয়েছে এবং যারা ঈমান এনেছে, তারা তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে আগত সত্যের অনুসরণ করেছে। এভাবেই আল্লাহ মানুষের কাছে তাদের অবস্থাদি বর্ণনা করেন।

তাফসীরঃ

২. ضرب المثل -এর অর্থ দৃষ্টান্ত পেশ করা। বোঝানো হয়েছে, মুমিনদের কর্তৃক সত্যের অনুসরণ ও তাদের সফলতা লাভ এবং কাফেরদের কর্তৃক মিথ্যার অনুসরণ ও তাদের অকৃতকার্যতা দুই সম্প্রদায়ের এই দুই অবস্থা চমৎকারিত্বের দিক থেকে দৃষ্টান্তস্বরূপ। আল্লাহ তাআলা তাদের সেই অবস্থা মানুষের কাছে বর্ণনা করেন, যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে। আয়াতের দ্বিতীয় তরজমা এভাবেও করা যেতে পারে যে, ‘এভাবেই আল্লাহ মানুষের জন্য তাদের দৃষ্টান্ত পেশ করেন।’ তখন প্রশ্ন হবে এ স্থলে সে দৃষ্টান্ত কোথায়? উত্তর হল, কাফেরদের কুফরী কাজের দৃষ্টান্ত হল মিথ্যার অনুসরণ’ আর মুমিনদের কর্মপ্রচেষ্টার দৃষ্টান্ত ‘সত্যের অনুসরণ’। -অনুবাদক

فَاِذَا لَقِیۡتُمُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فَضَرۡبَ الرِّقَابِ ؕ حَتّٰۤی اِذَاۤ اَثۡخَنۡتُمُوۡہُمۡ فَشُدُّوا الۡوَثَاقَ ٭ۙ فَاِمَّا مَنًّۢا بَعۡدُ وَاِمَّا فِدَآءً حَتّٰی تَضَعَ الۡحَرۡبُ اَوۡزَارَہَا ۬ۚ۟ۛ ذٰؔلِکَ ؕۛ وَلَوۡ یَشَآءُ اللّٰہُ لَانۡتَصَرَ مِنۡہُمۡ وَلٰکِنۡ لِّیَبۡلُوَا۠ بَعۡضَکُمۡ بِبَعۡضٍ ؕ وَالَّذِیۡنَ قُتِلُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ فَلَنۡ یُّضِلَّ اَعۡمَالَہُمۡ ٤

ফাইযা-লাকীতুমুল্লাযীনা কাফারূফাদারবার রিকা-ব হাত্তাইযা আছখানতুমূহুম ফাশুদ্দুল ওয়াছা-কা ফাইম্মা-মান্নাম বা‘দুওয়াইম্মা-ফিদাআন হাত্তা-তাদা‘আল হারবুআওঝা-রাহা-যা-লিকা ওয়ালাও ইয়াশাউল্লা-হু লানতাসারা মিনহুম ওয়ালা-কিল লিইয়াবলুওয়া বা‘দাকুম ব্বিা‘দিওঁ ওয়াল্লাযীনা কুতিলূফী ছাবীলিল্লা-হি ফালাইঁ ইউদিল্লা আ‘মা-লাহুম।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তাদের সাথে যখন তোমরা মুকাবেলা কর, তখন তাদের গর্দানে আঘাত করবে। অবশেষে তোমরা যখন তাদের শক্তি চূর্ণ করবে, তখন তাদেরকে শক্তভাবে গ্রেফতার করবে। তারপর চাইলে (তাদেরকে) মুক্তি দেবে অনুকম্পা দেখিয়ে অথবা মুক্তিপণ নিয়ে। (তোমাদের প্রতি এটাই নির্দেশ,) যাবৎ না যুদ্ধ তার অস্ত্র রেখে দেয় (অর্থাৎ যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়)। (তাদের ব্যাপারে) তোমাদের প্রতি এই নির্দেশ। আল্লাহ চাইলে নিজেই তাদেরকে শাস্তি দিতেন, কিন্তু (তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিচ্ছেন এজন্য যে,) তিনি তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান। আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, আল্লাহ কখনই তাদের কর্ম নিষ্ফল করবেন না।

তাফসীরঃ

৩. বদরের যুদ্ধে কাফেরদের সত্তরজন লোক বন্দী হয়েছিল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের সাথে পরামর্শক্রমে তাদেরকে মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছিলেন। এটা আল্লাহ তাআলার পছন্দ ছিল না, যে কারণে সূরা আনফালে (৮ : ২২-২৩) ইরশাদ হয়েছিল, কাফেরদের শক্তি যতক্ষণ সম্পূর্ণরূপে চূর্ণ না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত মুক্তিপণের বিনিময়েও তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া সঠিক ব্যবস্থা নয়। কেননা এ অবস্থায় শত্রুদের ছেড়ে দিলে, তাদেরকে আরও বেশি শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ দেওয়া হয়। সূরা আনফালের সে আয়াতসমূহ দ্বারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার অবকাশ ছিল যে, ভবিষ্যতেও বোধ হয় যুদ্ধবন্দীদেরকে মুক্তি দেওয়া জায়েয হবে না। তাই এ আয়াতে বিষয়টা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। বোঝানো হচ্ছে যে, তখনকার পরিস্থিতি বন্দী মুক্তির অনুকূল ছিল না, যেহেতু তখনও পর্যন্ত তাদের শক্তি ভালোভাবে চূর্ণ হয়নি। আর সে কারণেই মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়ায় আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন যেহেতু তাদেরকে বেশ পর্যুদস্ত করা হয়েছে, তাই তাদেরকে মুক্তি দানে কোন ক্ষতি নেই। এখন মুসলিম শাসকের পক্ষে দুটো পন্থার যে-কোনওটিই অবলম্বন করা জায়েয। চাইলে কোন রকম মুক্তিপণ ছাড়াই সম্পূর্ণ অনুকম্পার ভিত্তিতে তাদেরকে ছেড়ে দেবে অথবা মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেবে। সুতরাং এ আয়াতের আলোকে ইসলামী সরকার চার কিসিমের এখতিয়ার সংরক্ষণ করে। (এক) বন্দীদেরকে বিনা মুক্তিপণে ছেড়ে দিয়ে তাদের প্রতি অনুকম্পা প্রদর্শন করা। (দুই) মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া। বন্দী বিনিময়ও এর অন্তর্ভুক্ত। (তিন) তাদেরকে জীবিত ছেড়ে দেওয়ার ভেতর যদি এই আশঙ্কা থাকে যে, তারা মুসলিমদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তবে তাদেরকে হত্যা করারও অবকাশ আছে, যেমন সূরা আনফালে (৮ : ২২-২৩) বলা হয়েছে। (চার) যদি তাদের অবস্থা দেখে মনে হয়, জীবিত রাখা হলে তারা মুসলিমদের জন্য বিপজ্জনক হবে না; বরং তারা মুসলিমদের পক্ষে অনেক উপকারী হবে এবং তারা বিভিন্ন রকমের সেবা দান করতে পারবে, তবে তাদেরকে গোলাম বানিয়ে রাখা যাবে আর সেক্ষেত্রে ইসলাম তাদের প্রতি যে সদাচরণের হুকুম দিয়েছে তা পুরোপুরি রক্ষা করে তাদেরকে ভ্রাতৃত্বের মর্যাদা দান করতে হবে। উপরিউক্ত চার পন্থার কোনওটিই বাধ্যতামূলক নয়; বরং ইসলামী রাষ্ট্রের অবস্থা অনুযায়ী সরকার যে-কোনও পন্থা অবলম্বন করতে পারে। তবে এ এখতিয়ার সেই সময়ই প্রযোজ্য, যখন যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে শত্রুপক্ষের সাথে কোনও রকম চুক্তি না থাকে। চুক্তি থাকলে সে অনুযায়ী কাজ করা অপরিহার্য। বর্তমানকালে আন্তর্জাতিকভাবে অধিকাংশ রাষ্ট্র এই চুক্তিতে আবদ্ধ রয়েছে যে, তারা যুদ্ধবন্দীকে হত্যা করতে বা দাস বানাতে পারবে না। যেসব রাষ্ট্র এ চুক্তিতে শরীক আছে, তারা যত দিন শরীক থাকবে তাদের জন্য শরীয়তের দৃষ্টিতেও এর অনুসরণ করা অপরিহার্য।

سَیَہۡدِیۡہِمۡ وَیُصۡلِحُ بَالَہُمۡ ۚ ٥

ছাইয়াহদীহিম ওয়া ইউসলিহুবা-লাহুম।

তিনি তাদেরকে গন্তব্যে পৌঁছিয়ে দেবেন এবং (আখিরাতে) তাদের অবস্থা ভালো রাখবেন।

وَیُدۡخِلُہُمُ الۡجَنَّۃَ عَرَّفَہَا لَہُمۡ ٦

ওয়াইউদখিলুহুম জান্নাতা ‘আররাফাহা-লাহুম।

তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যা তাদেরকে ভালোভাবে চিনিয়ে দিয়েছিলেন

তাফসীরঃ

৭. এর দু’টি ব্যাখ্যা হতে পারে। (এক) আল্লাহ তাআলা নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে দুনিয়াতেই তাদেরকে জান্নাত চিনিয়ে দিয়েছিলেন। তখন তারা জান্নাতের যে পরিচয় জানতে পেরেছিল এ জান্নাত সে অনুযায়ীই হবে। (দুই) তবে অধিকাংশ মুফাসসির এর দ্বিতীয় ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছেন। তা এই যে, প্রত্যেক জান্নাতবাসীই তার জান্নাতের ঠিকানা সহজেই খুঁজে পাবে। আপন-আপন ঠিকানা খুঁজে পেতে তাদের কোন রকম কষ্ট করতে হবে না। আল্লাহ তাআলা সেজন্য অত্যন্ত সহজ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা করে রেখেছেন। ফলে বিনা তালাশেই সকলে নিজ-নিজ জায়গায় পৌঁছে যাবে।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنۡ تَنۡصُرُوا اللّٰہَ یَنۡصُرۡکُمۡ وَیُثَبِّتۡ اَقۡدَامَکُمۡ ٧

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূইন তানসরুল্লা-হা ইয়ানসুরকুম ওয়া ইউছাব্বিত আকদামাকুম।

হে মুমিনগণ! তোমরা যদি আল্লাহ (তাআলার দীন)-এর সাহায্য কর, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের কদম অবিচলিত রাখবেন।

وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فَتَعۡسًا لَّہُمۡ وَاَضَلَّ اَعۡمَالَہُمۡ ٨

ওয়াল্লাযীনা কাফারূফাতা‘ছাল্লাহুম ওয়া আদাল্লা আ‘মা-লাহুম।

আর যারা কুফর অবলম্বন করেছে তাদের জন্য আছে ধ্বংস। আল্লাহ তাদের কর্ম ব্যর্থ করে দিয়েছেন।

ذٰلِکَ بِاَنَّہُمۡ کَرِہُوۡا مَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ فَاَحۡبَطَ اَعۡمَالَہُمۡ ٩

যা-লিকা বিআন্নাহুম কারিহূমাআনঝালল্লা-হু ফাআহবাতা আ‘মা-লাহুম।

তা এই জন্য যে, তারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা অপছন্দ করেছিল। সুতরাং আল্লাহ তাদের কর্ম নিষ্ফল করে দিয়েছেন।
১০

اَفَلَمۡ یَسِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَیَنۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ؕ دَمَّرَ اللّٰہُ عَلَیۡہِمۡ ۫ وَلِلۡکٰفِرِیۡنَ اَمۡثَالُہَا ١۰

আফালাম ইয়াছীরূফিল আরদিফাইয়ানজুরূকাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল্লাযীনা মিন কাবলিহিম দাম্মারাল্লা-হু ‘আলাইহিম ওয়া লিল কা-ফিরীনা আমছা-লুহা-।

তবে কি তারা ভূমিতে বিচরণ করে দেখেনি তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের পরিণাম কী হয়েছে? আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। আর (মক্কার) কাফেরদের জন্য রয়েছে অনুরূপ পরিণাম।
১১

ذٰلِکَ بِاَنَّ اللّٰہَ مَوۡلَی الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَاَنَّ الۡکٰفِرِیۡنَ لَا مَوۡلٰی لَہُمۡ ٪ ١١

যা-লিকা বিআন্নাল্লা-হা মাওলাল্লাযীনা আ-মানূওয়া আন্নাল কা-ফিরীনা লা-মাওলা-লাহুম।

তা এই জন্য যে, আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক আর কাফেরদের কোন অভিভাবক নেই।
১২

اِنَّ اللّٰہَ یُدۡخِلُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ ؕ وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا یَتَمَتَّعُوۡنَ وَیَاۡکُلُوۡنَ کَمَا تَاۡکُلُ الۡاَنۡعَامُ وَالنَّارُ مَثۡوًی لَّہُمۡ ١٢

ইন্নাল্লা-হা ইউদখিলুল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু ওয়াল্লাযীনা কাফারূইয়াতামাত্তা‘ঊনা ওয়া ইয়া’কুলূনা কামাতা’কুলুল আন‘আ-মুওয়ান্না-রু মাছওয়াল্লাহুম।

নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে আল্লাহ তাদেরকে দাখিল করবেন এমন উদ্যানে, যার তলদেশে নহর বহমান থাকবে। আর যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা (দুনিয়ায়) মজা লুটছে এবং চতুষ্পদ জন্তু যেভাবে খায়, সেভাবে খাচ্ছে। তাদের শেষ ঠিকানা জাহান্নাম।
১৩

وَکَاَیِّنۡ مِّنۡ قَرۡیَۃٍ ہِیَ اَشَدُّ قُوَّۃً مِّنۡ قَرۡیَتِکَ الَّتِیۡۤ اَخۡرَجَتۡکَ ۚ اَہۡلَکۡنٰہُمۡ فَلَا نَاصِرَ لَہُمۡ ١٣

ওয়া কাআইয়িম মিন কারইয়াতিন হিয়া আশাদ্দুকুওওয়াতাম মিন কারয়াতিকাল্লাতী আখরাজাতকা আহলাকনা-হুম ফালা-না-সিরা লাহুম।

এমন কত জনপদ ছিল, যা তারা তোমাকে তোমার যে জনপদ থেকে বের করে দিয়েছে তা অপেক্ষা বেশি শক্তিশালী ছিল, আমি তাদের সকলকে ধ্বংস করে দিয়েছি। তখন তাদের কোন সাহায্যকারী ছিল না।

তাফসীরঃ

৮. মক্কা মুকাররমার কাফেরগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ঘর-বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য করেছিল। এ আয়াতের ইশারা সেই দিকে। বলা হচ্ছে, তাদের সেই জুলুমবাজি দেখে কেউ যেন মনে না করে তারা শক্তিশালী হওয়ার কারণে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর বিজয়ী হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তো তাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিমান জাতিকেও ধ্বংস করে দিয়েছেন। তাদের তুলনায় এরা তো হিসাবেই আসে না। সুতরাং শেষ পর্যন্ত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই জয়লাভ করবেন।
১৪

اَفَمَنۡ کَانَ عَلٰی بَیِّنَۃٍ مِّنۡ رَّبِّہٖ کَمَنۡ زُیِّنَ لَہٗ سُوۡٓءُ عَمَلِہٖ وَاتَّبَعُوۡۤا اَہۡوَآءَہُمۡ ١٤

আফামান কা-না ‘আলা-বাইয়িনাতিম মির রাব্বিহী কামান ঝুইয়িনা লাহূছূ উআ‘মালিহী ওয়াত্তাবা‘ঊআহওয়া-আহুম।

সুতরাং (বল তো), যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে এক উজ্জ্বল পথে রয়েছে, সে কি তাদের মত হতে পারে যাদের দুষ্কর্মকে তাদের দৃষ্টিতে শোভন করে তোলা হয়েছে এবং যারা তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে থাকে?
১৫

مَثَلُ الۡجَنَّۃِ الَّتِیۡ وُعِدَ الۡمُتَّقُوۡنَ ؕ فِیۡہَاۤ اَنۡہٰرٌ مِّنۡ مَّآءٍ غَیۡرِ اٰسِنٍ ۚ وَاَنۡہٰرٌ مِّنۡ لَّبَنٍ لَّمۡ یَتَغَیَّرۡ طَعۡمُہٗ ۚ وَاَنۡہٰرٌ مِّنۡ خَمۡرٍ لَّذَّۃٍ لِّلشّٰرِبِیۡنَ ۬ۚ وَاَنۡہٰرٌ مِّنۡ عَسَلٍ مُّصَفًّی ؕ وَلَہُمۡ فِیۡہَا مِنۡ کُلِّ الثَّمَرٰتِ وَمَغۡفِرَۃٌ مِّنۡ رَّبِّہِمۡ ؕ کَمَنۡ ہُوَ خَالِدٌ فِی النَّارِ وَسُقُوۡا مَآءً حَمِیۡمًا فَقَطَّعَ اَمۡعَآءَہُمۡ ١٥

মাছালুল জান্নাতিল্লাতী উ‘ইদাল মুত্তাকূনা ফীহাআনহা-রুম মিম্মাইন গাইরি আ-ছিনিও ওয়া আন হা-রুম মিল্লাবানিল লাম ইয়াতাগাইইয়ার তা‘মুহূ ওয়া আন হা-রুম মিন খামরিল লাযযাতিল লিশশা-রিবীনা ওয়া আন হা-রুম মিন ‘আছালিম মুসাফফাওঁ ওয়ালাহুম ফীহা-মিন কুলিছছামারা-তি ওয়া মাগফিরাতুমমির রাব্বিহিম কামান হুওয়া খা-লিদুন ফিন্না-রি ওয়া ছুকূমাআন হামীমান ফাকাত্তা‘আ আম‘আআহুম।

মুত্তাকীদের যেই জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তার অবস্থা এই যে, তাতে আছে এমন পানির নহর, যা কখনও নষ্ট হওয়ার নয়, আছে এমন দুধের নহর, যার স্বাদ থাকবে অপরিবর্তনীয়, আছে এমন সুরার নহর, যা পানকারীদের জন্য অত্যন্ত সুস্বাদু, আছে এমন মধুর নহর যা থাকবে পরিশোধিত এবং তাতে তাদের জন্য থাকবে সব রকম ফলমূল ও তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে মাগফিরাত। তারা কি ওইসব লোকের মত হতে পারে, যারা স্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকবে এবং তাদেরকে পান করানো হবে উত্তপ্ত পানি, যা তাদের নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন-ভিন্ন করে ফেলবে?
১৬

وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ یَّسۡتَمِعُ اِلَیۡکَ ۚ حَتّٰۤی اِذَا خَرَجُوۡا مِنۡ عِنۡدِکَ قَالُوۡا لِلَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡعِلۡمَ مَاذَا قَالَ اٰنِفًا ۟ اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ طَبَعَ اللّٰہُ عَلٰی قُلُوۡبِہِمۡ وَاتَّبَعُوۡۤا اَہۡوَآءَہُمۡ ١٦

ওয়া মিনহুম মাইঁ ইয়াছতামি‘উ ইলাইকা হাত্তা-ইযাখারাজূমিন ‘ইনদিকা কা-লূ লিল্লাযীনা ঊতুল ‘ইল মা মা-যা কা-লা আ-নিফান উলাইকাল্লাযীনা তাবা‘আল্লাহু ‘আলা-কুলূবিহিম ওয়াত্তাবা‘ঊআহওয়াআহুম।

(হে রাসূল!) তাদের মধ্যে কিছু লোক এমন আছে, যারা তোমার কথা কান পেতে শোনে, কিন্তু যখন তোমার কাছ থেকে বের হয়ে যায়, তখন যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে জিজ্ঞেস করে, এইমাত্র তিনি (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কী বললেন? এরা এমন লোক, আল্লাহ যাদের অন্তরে মোহর করে দিয়েছেন এবং যারা অনুসরণ করে নিজেদের খেয়াল-খুশীর।

তাফসীরঃ

৯. এটা মুনাফেকদের বৃত্তান্ত। তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে বসে তাঁর কথা শোনার ভান করত, কিন্তু বাইরে গিয়ে অন্যকে জিজ্ঞেস করত, তিনি কি-কি কথা বলেছেন। এর মানে দাঁড়ায় আমরা মজলিসে বসে তার কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনিনি। খুব সম্ভব তাদের সমমনাদেরকে এর দ্বারা বোঝাতে চাইত, আমরা তাঁর (অর্থাৎ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) কথাবার্তাকে গুরুত্ব দেওয়ার মত কোন বিষয় মনে করি না (নাউযুবিল্লাহ)।
১৭

وَالَّذِیۡنَ اہۡتَدَوۡا زَادَہُمۡ ہُدًی وَّاٰتٰہُمۡ تَقۡوٰىہُمۡ ١٧

ওয়াল্লাযিনাহতাদাও ঝা-দাহুম হুদাওঁ ওয়া আ-তা-হুম তাকওয়া-হুম।

যারা হেদায়াতের পথ অবলম্বন করেছে, আল্লাহ তাদেরকে হেদায়াতে উৎকর্ষ দিয়েছেন এবং তাদেরকে দান করেছেন তাদের (প্রয়োজনীয়) তাকওয়া। ১০

তাফসীরঃ

১০. এর আরেক অর্থ হতে পারে‘তাদেরকে দান করেছেন তাদের তাকওয়ার পুরস্কার। -অনুবাদক
১৮

فَہَلۡ یَنۡظُرُوۡنَ اِلَّا السَّاعَۃَ اَنۡ تَاۡتِیَہُمۡ بَغۡتَۃً ۚ فَقَدۡ جَآءَ اَشۡرَاطُہَا ۚ فَاَنّٰی لَہُمۡ اِذَا جَآءَتۡہُمۡ ذِکۡرٰىہُمۡ ١٨

ফাহাল ইয়ানজু রূনা ইল্লাছছা-‘আতা আন তা’তিয়াহুম বাগতাতান ফাকাদ জাআ আশরাতুহা- ফাআন্না- লাহুম ইযা- জাআতহুম যিকরা-হুম।

তবে কি তারা (কাফেরগণ) কেবল এরই অপেক্ষা করছে যে, কিয়ামত তাদের উপর আকস্মিকভাবে আপতিত হবে? (যদি সেই অপেক্ষায়ই থাকে) তবে তার আলামতসমূহ তো এসে গেছে। অতঃপর তা যখন তাদের সামনে এসেই পড়বে, তখন তাদের উপদেশ গ্রহণের সুযোগ থাকবে কোথায়?
১৯

فَاعۡلَمۡ اَنَّہٗ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا اللّٰہُ وَاسۡتَغۡفِرۡ لِذَنۡۢبِکَ وَلِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَالۡمُؤۡمِنٰتِ ؕ  وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ مُتَقَلَّبَکُمۡ وَمَثۡوٰىکُمۡ ٪ ١٩

ফা‘লাম আন্নাহূলাইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াছতাগফির লিযামবিকা ওয়ালিলমু’মিনীনা ওয়ালমু’মিনা-তি ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামুমুতাকাল্লাবাকুম ওয়া মাছওয়া-কুম।

সুতরাং (হে রাসূল!) জেনে রেখ, আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কেউ নেই আর ক্ষমা প্রার্থনা কর নিজ ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য ১১ এবং মুসলিম নর-নারীর জন্যও। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি ও তোমাদের অবস্থানস্থল সম্পর্কে জানেন।

তাফসীরঃ

১১. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাসূম ছিলেন। তাঁর দ্বারা গুনাহের কোন কাজ হতেই পারত না। তবে তাঁর কোন কোন রায় সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা জানিয়েছেন যে, তা তাঁর উচ্চ মর্যাদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না (যেমন বদর যুদ্ধের বন্দীদের সম্পর্কে তাঁর গৃহীত সিদ্ধান্তটি, যে সম্পর্কে সূরা আনফালে [৮ : ২২-২৩] বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে)। তাছাড়া মানবীয় স্বভাব অনুযায়ী কখনও কখনও তাঁর দ্বারা নামাযের রাকাআত ইত্যাদিতেও ভুল হয়ে গেছে। এ জাতীয় বিষয়কেই এ আয়াতে ‘ত্রুটি-বিচ্যুতি’ শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে এর দ্বারা প্রকৃতপক্ষে তাঁর উম্মতকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুনাহ নয় এমন ছোট-ছোট বিষয়ের কারণেও যখন ইস্তিগফার করতেন তখন তাঁর উম্মতের তো তাওবা ইস্তিগফারে অনেক বেশি যত্নবান থাকা উচিত, যেহেতু তাদের দ্বারা ছোট-বড় গুনাহ হর-হামেশাই হয়ে থাকে।
২০

وَیَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَوۡلَا نُزِّلَتۡ سُوۡرَۃٌ ۚ  فَاِذَاۤ اُنۡزِلَتۡ سُوۡرَۃٌ مُّحۡکَمَۃٌ وَّذُکِرَ فِیۡہَا الۡقِتَالُ ۙ  رَاَیۡتَ الَّذِیۡنَ فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ مَّرَضٌ یَّنۡظُرُوۡنَ اِلَیۡکَ نَظَرَ الۡمَغۡشِیِّ عَلَیۡہِ مِنَ الۡمَوۡتِ ؕ  فَاَوۡلٰی لَہُمۡ ۚ ٢۰

ওয়া ইয়াকূলুল্লাযীনা আ-মানূলাওলা-নুঝঝিলাত ছূরাতুন ফাইযাউনঝিলাত ছূরাতুমমুহকামাতুওঁ ওয়া যুকিরা ফীহাল কিতা-লু রাআইতাল্লাযীনা ফী কুলূবিহিম মারাদুইঁ ইয়ানজু রূনা ইলাইকা নাজারাল মাগশিইয়ি ‘আলাইহি মিনাল মাওতি ফাআওলালাহুম।

আর যারা ঈমান এনেছে তারা বলে, কোন (নতুন) সূরা নাযিল হয় না কেন? ১২ অতঃপর যখন যথোচিত কোন সূরা নাযিল হয় এবং তাতে যুদ্ধের উল্লেখ থাকে, তখন যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে, তুমি তাদেরকে দেখবে তোমার দিকে তাকিয়ে আছে মৃত্যুভয়ে মূর্ছিত ব্যক্তির তাকানোর মত। তাদের জন্য রয়েছে চরম ধ্বংস।

তাফসীরঃ

১২. কুরআন মাজীদের প্রতি সাহাবায়ে কেরামের ছিল পরম আসক্তি। তাই যাতে নতুন-নতুন সূরা নাযিল হয় সেজন্য তারা সর্বদা প্রতীক্ষারত থাকতেন, বিশেষত যারা জিহাদের জন্য উদগ্রীব ছিলেন, তারা অপেক্ষা করছিলেন কখন তাদেরকে নতুন কোন সূরার মাধ্যমে জিহাদের অনুমতি দেওয়া হবে। মুনাফেকরাও তাদের দেখাদেখি কখনও তাদের সামনে এ রকম আগ্রহ প্রকাশ করে থাকবে। কিন্তু যখন জিহাদের আয়াত আসল, তখন তাদের আসল চেহারা প্রকাশ হয়ে গেল। আল্লাহ তাআলা বলছেন, কেবল মুখে-মুখে আগ্রহ প্রকাশে লাভ কী? যখন সময় আসে, তখন যদি আল্লাহ তাআলার সাথে কৃত অঙ্গীকারকে সত্যে পরিণত করে দেখায়, তাতেই তাদের মঙ্গল।
২১

طَاعَۃٌ وَّقَوۡلٌ مَّعۡرُوۡفٌ ۟  فَاِذَا عَزَمَ الۡاَمۡرُ ۟  فَلَوۡ صَدَقُوا اللّٰہَ لَکَانَ خَیۡرًا لَّہُمۡ ۚ ٢١

তা-‘আতুওঁ ওয়া কাওলুম মা‘রূফুন ফাইযা-‘আঝামাল আমরু ফালাও সাদাকুল্লা-হা লাকা-না খাইরাল্লাহুম।

তারা আনুগত্য জাহির করে ও ভালো-ভালো কথা বলে। ১৩ যখন (জিহাদের) আদেশ চূড়ান্ত হয়ে যায়, তখন যদি তারা আল্লাহর সাথে সত্যবাদিতার পরিচয় দিত, তবে তাদের জন্য ভালো হত।

তাফসীরঃ

১৩. এর অন্য অর্থ হতে পারে, (হে মুহাম্মদ!) তোমার প্রতি আন্তরিক আনুগত্য এবং তোমার সাথে উত্তম ও ন্যায়নিষ্ঠ কথাই তাদের পক্ষে উত্তম। -অনুবাদক
২২

فَہَلۡ عَسَیۡتُمۡ اِنۡ تَوَلَّیۡتُمۡ اَنۡ تُفۡسِدُوۡا فِی الۡاَرۡضِ وَتُقَطِّعُوۡۤا اَرۡحَامَکُمۡ ٢٢

ফাহাল ‘আছাইতুম ইন তাওয়াল্লাইতুম আন তুফছিদূফিল আরদি ওয়া তুকাত্তি‘ঊআরহামাকুম।

অতঃপর তোমরা (জিহাদ থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিলে কি তোমাদের দ্বারা ভূমিতে অশান্তি বিস্তার এবং রক্তের আত্মীয়তা ছিন্ন করার সম্ভাবনা আছে? ১৪

তাফসীরঃ

১৪. জিহাদের এক উদ্দেশ্য হল দুনিয়ায় ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা এবং অনৈসলামিক শাসন দ্বারা যে অন্যায়-অনাচার বিস্তার লাভ করেছে তার অবসান ঘটানো। আল্লাহ তাআলা বলছেন, তোমরা জিহাদ থেকে বিমুখ হলে পৃথিবীতে ব্যাপক অশান্তি দেখা দেবে এবং আল্লাহ তাআলার আদেশ অমান্য করার পরিণামে চারদিকে অন্যায়-অনাচার বিস্তার লাভ করবে। তার একটা দিক এইও যে, আত্মীয়-স্বজনের হক পদদলিত করা হবে। [আয়াতটির অন্য অর্থ হতে পারে, ‘ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে কি তোমাদের দ্বারা ভূমিতে অশান্তি বিস্তার ও রক্তের আত্মীয়তা ছিন্ন করার সম্ভাবনা আছে?’ যেমনটা ক্ষমতার মদমত্তে বেসামাল লোকদের দ্বারা হয়ে থাকে। -অনুবাদক]
২৩

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ لَعَنَہُمُ اللّٰہُ فَاَصَمَّہُمۡ وَاَعۡمٰۤی اَبۡصَارَہُمۡ ٢٣

উলাইকাল্লাযীনা লা‘আনাহুমুল্লা-হু ফাআসাম্মাহুম ওয়া আ‘মাআবসা-রাহুম।

এরাই তারা, যাদেরকে আল্লাহ লা’নত করেছেন (অর্থাৎ তাঁর রহমত থেকে দূর করে দিয়েছেন।) ফলে তাদেরকে বধির বানিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের চোখ অন্ধ করে দিয়েছেন।
২৪

اَفَلَا یَتَدَبَّرُوۡنَ الۡقُرۡاٰنَ اَمۡ عَلٰی قُلُوۡبٍ اَقۡفَالُہَا ٢٤

আফালা-ইয়াতাদাব্বারূনাল কুরআ-না আম ‘আলা-কুলূবিন আকফা-লুহা-।

তারা কি কুরআন সম্পর্কে চিন্তা করে না, নাকি অন্তরে লেগে আছে তার (সংশ্লিষ্ট) তালা? ১৫

তাফসীরঃ

১৫. ‘অন্তরের তালা’ কথাটি প্রতীকী। তার মানে তাদের অন্তর ঈমানের আলো ও কুরআনের উপলব্ধি থেকে বঞ্চিত। এটা তাদের একটানা কুফর করে যাওয়ার পরিণাম। কুরআন বোঝার তাওফীক হলে তারা বুঝতে পারত জিহাদের ভেতর দুনিয়া ও আখেরাতের কতই না কল্যাণ নিহিত। -অনুবাদক।
২৫

اِنَّ الَّذِیۡنَ ارۡتَدُّوۡا عَلٰۤی اَدۡبَارِہِمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِ مَا تَبَیَّنَ لَہُمُ الۡہُدَی ۙ الشَّیۡطٰنُ سَوَّلَ لَہُمۡ ؕ وَاَمۡلٰی لَہُمۡ ٢٥

ইন্নাল্লাযীনারতাদ্দূ‘আলাআদবা-রিহিম মিম বা‘দি মা-তাবাইয়ানা লাহুমুল হুদাশশাইতা-নু ছাওওয়ালা লাহুম ওয়াআমলা-লাহুম।

প্রকৃতপক্ষে যারা তাদের সামনে হেদায়াত পরিস্ফুট হয়ে যাওয়ার পরও পেছন ফিরিয়ে চলে যায়, শয়তান তাদেরকে ফুসলানি দিয়েছে এবং তাদেরকে অসম্ভব আশা দিয়েছে।
২৬

ذٰلِکَ بِاَنَّہُمۡ قَالُوۡا لِلَّذِیۡنَ کَرِہُوۡا مَا نَزَّلَ اللّٰہُ سَنُطِیۡعُکُمۡ فِیۡ بَعۡضِ الۡاَمۡرِ ۚۖ وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ اِسۡرَارَہُمۡ ٢٦

যা-লিকা বিআন্নাহুম কা-লূলিল্লাযীনা কারিহূমা-নাঝঝাল্লা-হু ছানুতী‘উকুম ফী বা‘দিল আমরি ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামুইছরা-রাহুম।

তা এজন্য যে, যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিষয়কে অপছন্দ করে তাদেরকে তারা (অর্থাৎ মুনাফেকগণ) বলেছে, কোন কোন বিষয়ে আমরা তোমাদের কথাও মানব। ১৬ আল্লাহ তাদের গুপ্ত কথাসমূহ ভালোভাবে জানেন।

তাফসীরঃ

১৬. অর্থাৎ মুনাফেকরা ইয়াহুদী ও অন্যান্য কাফেরদেরকে বলত যদিও আমরা প্রকাশ্যে মুসলিম হয়ে গেছি, কিন্তু আমরা তাদের সাথে মিলে তোমাদের বিরুদ্ধে লড়ব না; বরং সুযোগ পেলে তোমাদের সাহায্য করব এবং এ জাতীয় কাজে তোমাদের কথা মানব -অনুবাদক (তাফসীরে উসমানী থেকে গৃহীত)।
২৭

فَکَیۡفَ اِذَا تَوَفَّتۡہُمُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ یَضۡرِبُوۡنَ وُجُوۡہَہُمۡ وَاَدۡبَارَہُمۡ ٢٧

ফাকাইফা ইযা-তাওয়াফফাতহুমুল মালাইকাতুইয়াদরিবূনা উজূহাহুম ওয়াআদবা-রাহুম।

ফেরেশতাগণ যখন তাদের চেহারায় ও পেছন দিকে আঘাত করতে করতে তাদের জান কবজ করবে, তখন তাদের দশা কী হবে?
২৮

ذٰلِکَ بِاَنَّہُمُ اتَّبَعُوۡا مَاۤ اَسۡخَطَ اللّٰہَ وَکَرِہُوۡا رِضۡوَانَہٗ فَاَحۡبَطَ اَعۡمَالَہُمۡ ٪ ٢٨

যা-লিকা বিআন্নাহুমুত্তাবা‘ঊ মাআছখাতাল্লা-হা ওয়া কারিহূরিদওয়া-নাহূফাআহবাতা আ‘মা-লাহুম।

তা এজন্য যে, তারা এমন পথ অনুসরণ করেছে যা আল্লাহকে নারাজ করে এবং তারা আল্লাহর সন্তোষ সাধনকে অপছন্দ করেছে। তাই আল্লাহ তাদের কর্ম নিষ্ফল করে দিয়েছেন।
২৯

اَمۡ حَسِبَ الَّذِیۡنَ فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ مَّرَضٌ اَنۡ لَّنۡ یُّخۡرِجَ اللّٰہُ اَضۡغَانَہُمۡ ٢٩

আম হাছিবাল্লাযীনা ফী কুলূবিহিম মারাদুন আল্লাইঁ ইউখরিজাল্লা-হু আদগা-নাহুম।

যাদের অন্তরে (মুনাফেকীর) ব্যাধি আছে, তারা কি মনে করে আল্লাহ তাদের (অন্তরে) লুকায়িত বিদ্বেষ কখনও প্রকাশ করে দেবেন না?
৩০

وَلَوۡ نَشَآءُ لَاَرَیۡنٰکَہُمۡ فَلَعَرَفۡتَہُمۡ بِسِیۡمٰہُمۡ ؕ وَلَتَعۡرِفَنَّہُمۡ فِیۡ لَحۡنِ الۡقَوۡلِ ؕ وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ اَعۡمَالَکُمۡ ٣۰

ওয়া লাও নাশাউ লাআরাইনা-কাহুম ফালা‘আরাফতাহুম বিছীমা-হুম ওয়া লাতা‘রিফান্নাহুম ফী লাহনিল কাওলি ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামুআ‘মা-লাকুম।

আমি চাইলে তোমায় তাদেরকে দেখিয়ে দিতাম, ফলে তুমি লক্ষণ দেখে তাদেরকে চিনে ফেলতে এবং (এখনও) তুমি কথা বলার ধরন দেখে তাদেরকে অবশ্যই চিনতে পারবে। আল্লাহ তোমাদের কার্যাবলী ভালোভাবেই জানেন।
৩১

وَلَنَبۡلُوَنَّکُمۡ حَتّٰی نَعۡلَمَ الۡمُجٰہِدِیۡنَ مِنۡکُمۡ وَالصّٰبِرِیۡنَ ۙ وَنَبۡلُوَا۠ اَخۡبَارَکُمۡ ٣١

ওয়া লানাবলুওয়ান্নাকুম হাত্তা-না‘লামাল মুজা-হিদীনা মিনকুম ওয়াসসা-বিরীনা ওয়া নাবলুওয়া আখবা-রাকুম।

(হে মুসলিমগণ!) আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব, যাতে দেখে নিতে পারি তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদকারী ও ধৈর্যশীল এবং যাতে তোমাদের অবস্থাদি যাচাই করে নিতে পারি।
৩২

اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَصَدُّوۡا عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ وَشَآقُّوا الرَّسُوۡلَ مِنۡۢ بَعۡدِ مَا تَبَیَّنَ لَہُمُ الۡہُدٰی ۙ لَنۡ یَّضُرُّوا اللّٰہَ شَیۡئًا ؕ وَسَیُحۡبِطُ اَعۡمَالَہُمۡ ٣٢

ইন্নাল্লাযীনা কাফারূওয়াসাদ্দূ‘আন ছাবীলিল্লা-হি ওয়া শাক্কুর রাছূলা মিম বা‘দি মাতাবাইয়ানা লাহুমুল হুদা- লাইঁ ইয়াদুররুল্লা-হা শাইআওঁ ওয়া ছাইউহবিতুআ‘মালাহুম।

নিশ্চিতভাবে জেনে রেখ, যারা কুফর অবলম্বন করেছে এবং অন্যদেরকে আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রেখেছে এবং রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছে, তাদের সামনে সৎপথ সুস্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তারা কখনই আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। অচিরেই তিনি তাদের যাবতীয় কর্ম নস্যাৎ করে দেবেন। ১৭

তাফসীরঃ

১৭. এর এক অর্থ হতে পারে, তারা আল্লাহর দীনের বিরুদ্ধে যেসব ষড়যন্ত্র করছে, আল্লাহ তাআলা তা পণ্ড করে দেবেন। দ্বিতীয় অর্থ হতে পারে, তারা যা-কিছু ভালো কাজ করে আখেরাতে তার কোন সওয়াব পাবে না, যেমন সূরার প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে।
৩৩

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَطِیۡعُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوا الرَّسُوۡلَ وَلَا تُبۡطِلُوۡۤا اَعۡمَالَکُمۡ ٣٣

ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ আতী‘উল্লা-হা ওয়া আতী‘উর রাছূলা ওয়ালাতুবতিলূআ‘মা-লাকুম।

হে মুমিনগণ! আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর এবং নিজেদের কর্ম বরবাদ করো না।
৩৪

اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَصَدُّوۡا عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ثُمَّ مَاتُوۡا وَہُمۡ کُفَّارٌ فَلَنۡ یَّغۡفِرَ اللّٰہُ لَہُمۡ ٣٤

ইন্নাল্লাযীনা কাফারূওয়াসাদ্দূ‘আন ছাবীলিল্লা-হি ছু ম্মা মা-তূওয়াহুম কুফফা-রুন ফালাইঁ ইয়াগফিরাল্লা-হু লাহুম।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে এবং অন্যদেরকে আল্লাহর পথ থেকে নিবৃত্ত করেছে, তারপর কুফর অবস্থায়ই মারা গেছে, আল্লাহ তাদেরকে কখনও ক্ষমা করবেন না।
৩৫

فَلَا تَہِنُوۡا وَتَدۡعُوۡۤا اِلَی السَّلۡمِ ٭ۖ وَاَنۡتُمُ الۡاَعۡلَوۡنَ ٭ۖ وَاللّٰہُ مَعَکُمۡ وَلَنۡ یَّتِرَکُمۡ اَعۡمَالَکُمۡ ٣٥

ফালা-তাহিনূওয়া তাদ‘ঊইলাছছালমি ওয়া আনতুমুল আ‘লাওনা ওয়াল্লা-হু মা‘আকুম ওয়ালাইঁ ইয়াতিরাকুম আ‘মা-লাকুম।

সুতরাং (হে মুসলিমগণ!) তোমরা মনোবল হারিয়ে সন্ধির প্রস্তাব দিও না। ১৮ তোমরাই উপরে থাকবে। আল্লাহ তোমাদের সাথে। তিনি কখনই তোমাদের কর্মফল খর্ব করবেন না। ১৯

তাফসীরঃ

১৮. অর্থাৎ ভীরুতার কারণে শত্রুর কাছে সন্ধির প্রস্তাব দিও না। এমনিতে সন্ধি নিষিদ্ধ নয়। সূরা আনফালে (৮ : ৬১) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তারা যদি সন্ধির দিকে ঝোঁকে তবে তোমরাও সন্ধির দিকে ঝুঁকবে।’ অর্থাৎ সন্ধি প্রস্তাব যদি কাপুরুষতার কারণে না হয়ে অন্য কোন উপযোগিতা বিবেচনায় হয়ে থাকে, তবে তা দূষনীয় নয়; বরং তা জায়েয হবে।
৩৬

اِنَّمَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا لَعِبٌ وَّلَہۡوٌ ؕ وَاِنۡ تُؤۡمِنُوۡا وَتَتَّقُوۡا یُؤۡتِکُمۡ اُجُوۡرَکُمۡ وَلَا یَسۡـَٔلۡکُمۡ اَمۡوَالَکُمۡ ٣٦

ইন্নামাল হায়া-তুদ্দুনইয়া-লা‘ইবুওঁ ওয়া লাহ উওঁ ওয়া ইন তু’মিনূওয়া তাত্তাকূইউ’তিকুম উজূরাকুম ওয়ালা-ইয়াছআলকুম আম ওয়া-লাকুম।

পার্থিব জীবন তো খেল-তামাশা মাত্র। তোমরা যদি ঈমান আন ও তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে তিনি তোমাদেরকে তোমাদের পুরস্কার দান করবেন এবং তিনি তোমাদের কাছে তোমাদের অর্থ-সম্পদ চাবেন না।
৩৭

اِنۡ یَّسۡـَٔلۡکُمُوۡہَا فَیُحۡفِکُمۡ تَبۡخَلُوۡا وَیُخۡرِجۡ اَضۡغَانَکُمۡ ٣٧

ইয়ঁইয়াছআলকুমূহা-ফাইউহফিকুম তাবখালূওয়া ইউখরিজ আদগা-নাকুম।

তিনি যদি তোমাদের কাছে তা চান এবং তোমাদেরকে সবকিছুই দিতে বলেন, তবে তোমরা কার্পণ্য করবে এবং তখন তিনি তোমাদের মনের অসন্তোষ প্রকাশ করে দেবেন। ২০

তাফসীরঃ

২০. আনুগত্যের তো দাবি ছিল, আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে তোমাদের সমুদয় সম্পদ তাঁর পথে ব্যয় করার হুকুম দিলে তোমরা তাতেও খুশী থাকবে এবং অবিলম্বে তাই করবে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা জানেন এ রকম নির্দেশ তোমাদের কাছে দুর্বহ মনে হবে এবং তাতে তোমাদের মনে অসন্তোষ দেখা দেবে। তাই তিনি এ রকম আদেশ করেননি। তবে তিনি তোমাদেরই কল্যাণার্থে তোমাদের সম্পদের অংশবিশেষ জিহাদে ব্যয় করতে বলছেন। কাজেই এটা করতে তোমাদের কার্পণ্য করা উচিত নয়।
৩৮

ہٰۤاَنۡتُمۡ ہٰۤؤُلَآءِ تُدۡعَوۡنَ لِتُنۡفِقُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ۚ  فَمِنۡکُمۡ مَّنۡ یَّبۡخَلُ ۚ  وَمَنۡ یَّبۡخَلۡ فَاِنَّمَا یَبۡخَلُ عَنۡ نَّفۡسِہٖ ؕ  وَاللّٰہُ الۡغَنِیُّ وَاَنۡتُمُ الۡفُقَرَآءُ ۚ  وَاِنۡ تَتَوَلَّوۡا یَسۡتَبۡدِلۡ قَوۡمًا غَیۡرَکُمۡ ۙ  ثُمَّ لَا یَکُوۡنُوۡۤا اَمۡثَالَکُمۡ ٪ ٣٨

হাআনতুমহাউলাই তুদ‘আওনা লিতুনফিকূফী ছাবীলিল্লা-হি ফামিনকুম মাইঁ ইয়াব খালু ওয়া মাইঁ ইয়াবখাল ফাইন্নামা-ইয়াব খালু‘আন নাফছিহী ওয়াল্লা-হুল গানিইয়ুওয়া আনতুমুল ফুকারাউ ওয়া ইন তাতাওয়াল্লাও ইয়াছতাবদিল কাওমান গাইরাকুম ছু ম্মা লা-ইয়াকূনূআমছা-লাকুম।

দেখ, তোমরাই তো তারা, যাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করার জন্য ডাকা হচ্ছে অতঃপর তোমাদের মধ্যে কিছু লোকে কার্পণ্য করছে। আর যে-কেউ কার্পণ্য করে, সে তো কার্পণ্য করে নিজেরই প্রতি। ২১ আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং তোমরা অভাবগ্রস্ত। তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও তবে তোমাদের স্থানে অন্য কোন সম্প্রদায়কে সৃষ্টি করবেন অতঃপর তারা তোমাদের মত হবে না।

তাফসীরঃ

২১. কেননা আল্লাহ তাআলার আদেশ মত যদি অর্থ ব্যয় না কর তবে তার ক্ষতি তোমাদের নিজেদেরকেই ভোগ করতে হবে। প্রথমত এ কারণে যে, অর্থ ব্যয় না করলে জিহাদ সংঘটিত হবে না। ফলে শত্রু তোমাদের উপর প্রবল থাকবে। কিংবা যদি যাকাত না দাও, তবে ব্যাপক অভাব-অনটন লেগে থাকবে। আর দ্বিতীয়ত এ কারণে যে, আখেরাতে এ অবাধ্যতার কারণে তোমাদেরকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।
সূরা মুহাম্মাদ | মুসলিম বাংলা