সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা হা-মীম আস-সিজদাহ্ (ফুছছিলাত) (فصّلت) | সুস্পষ্ট বিবরণ

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৫৪

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

حٰمٓ ۚ ١

হা-মীম।

হা-মীম।

تَنۡزِیۡلٌ مِّنَ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ۚ ٢

তানঝীলুম মিনার রাহমা-নির রাহীম।

এ বাণী সেই সত্তার পক্ষ হতে অবতীর্ণ, যিনি সকলের প্রতি দয়াবান, পরম দয়ালু।

کِتٰبٌ فُصِّلَتۡ اٰیٰتُہٗ قُرۡاٰنًا عَرَبِیًّا لِّقَوۡمٍ یَّعۡلَمُوۡنَ ۙ ٣

কিতা-বুন ফুসসিলাত আ-য়া-তুহূকুরআ-নান ‘আরাবিইয়াল লিকাওমিইঁ ইয়া‘লামূন।

আরবী কুরআনরূপে এটি এমন কিতাব, জ্ঞান অর্জনকারীদের জন্য যার আয়াতসমূহ বিশদভাবে বিবৃত হয়েছে।

بَشِیۡرًا وَّنَذِیۡرًا ۚ فَاَعۡرَضَ اَکۡثَرُہُمۡ فَہُمۡ لَا یَسۡمَعُوۡنَ ٤

বাশীরাওঁ ওয়া নাযীরান ফাআ‘রাদা আকছারুহুম ফাহুম লা-ইয়াছমা‘ঊন।

যা অবতীর্ণ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। তা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশই মুখ ফিরিয়ে রেখেছে। ফলে তারা শুনতে পায় না।

وَقَالُوۡا قُلُوۡبُنَا فِیۡۤ اَکِنَّۃٍ مِّمَّا تَدۡعُوۡنَاۤ اِلَیۡہِ وَفِیۡۤ اٰذَانِنَا وَقۡرٌ وَّمِنۡۢ بَیۡنِنَا وَبَیۡنِکَ حِجَابٌ فَاعۡمَلۡ اِنَّنَا عٰمِلُوۡنَ ؓ ٥

ওয়াকা-লূকুলূবুনা-ফীআকিন্নাতিম মিম্মা-তাদ‘ঊনাইলাইহি ওয়া ফীআ-যা-নিনাওয়াকরুওঁ ওয়া মিম বাইনিনা-ওয়া বাইনিকা হিজা-বুন ফা‘মাল ইন্নানা-‘আ-মিলূন।

(রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে) তারা বলে, তুমি আমাদেরকে যার দিকে ডাকছ, সে বিষয়ে আমাদের অন্তর গিলাফে ঢাকা, আমাদের কান বধির এবং আমাদের ও তোমার মাঝখানে আছে এক অন্তরাল। সুতরাং তুমি আপন কাজ করতে থাক আমরা আমাদের কাজ করছি।

قُلۡ اِنَّمَاۤ اَنَا بَشَرٌ مِّثۡلُکُمۡ یُوۡحٰۤی اِلَیَّ اَنَّمَاۤ اِلٰـہُکُمۡ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ فَاسۡتَقِیۡمُوۡۤا اِلَیۡہِ وَاسۡتَغۡفِرُوۡہُ ؕ  وَوَیۡلٌ لِّلۡمُشۡرِکِیۡنَ ۙ ٦

কুল ইন্নামাআনা বাশারুম মিছলুকুম ইঊহাইলাইয়া আন্নামাইলা-হুকুম ইলা-হুওঁ ওয়াহিদুন ফাছতাকীমূইলাইহি ওয়াছতাগফিরূহু ওয়া ওয়াইলুলিলল মুশরিকীন।

(হে রাসূল!) বলে দাও, আমি তো তোমাদেরই মত একজন মানুষ। (অবশ্য) আমার প্রতি ওহী নাযিল হয় যে, তোমাদের মাবুদ একই মাবুদ। সুতরাং তোমরা তাঁরই অভিমুখী থাক এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। ধ্বংস মুশরিকদের জন্য

الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡتُوۡنَ الزَّکٰوۃَ وَہُمۡ بِالۡاٰخِرَۃِ ہُمۡ کٰفِرُوۡنَ ٧

আল্লাযীনা লা-ইউ’তূনাঝঝাকা-তা ওয়া হুম বিলআ-খিরাতি হুম কা-ফিরূন।

যারা যাকাত আদায় করে না। আবার তারা আখেরাতের প্রতি সম্পূর্ণ অবিশ্বাসী।

তাফসীরঃ

১. এ সূরাটি মক্কী। এ ছাড়া আরও কিছু মক্কী সূরায় যাকাত আদায়ের নির্দেশ রয়েছে। এর দ্বারা বোঝা যায়, যাকাত মক্কা মুকাররমায়ই ফরয হয়েছিল। অবশ্য এর বিস্তারিত বিধি-বিধান দেওয়া হয়েছে মদীনা মুনাওয়ারায়।

اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَہُمۡ اَجۡرٌ غَیۡرُ مَمۡنُوۡنٍ ٪ ٨

ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি লাহুম আজরুন গাইরু মামনূন।

নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য আছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।

قُلۡ اَئِنَّکُمۡ لَتَکۡفُرُوۡنَ بِالَّذِیۡ خَلَقَ الۡاَرۡضَ فِیۡ یَوۡمَیۡنِ وَتَجۡعَلُوۡنَ لَہٗۤ اَنۡدَادًا ؕ  ذٰلِکَ رَبُّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۚ ٩

কুল আইন্নাকুম লাতাকফুরূনা বিল্লাযী খালাকাল আরদা ফী ইয়াওমাইনি ওয়া তাজ‘আলূনা লাহূআনদা-দান যা-লিকা রাব্বুল ‘আ-লামীন।

বলে দাও, সত্যিই কি তোমরা সেই সত্তার সাথে কুফরী পন্থা অবলম্বন করছ, যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে এবং তার সাথে অন্যকে শরীক করছ? তিনি তো জগতসমূহের প্রতিপালক!
১০

وَجَعَلَ فِیۡہَا رَوَاسِیَ مِنۡ فَوۡقِہَا وَبٰرَکَ فِیۡہَا وَقَدَّرَ فِیۡہَاۤ اَقۡوَاتَہَا فِیۡۤ اَرۡبَعَۃِ اَیَّامٍ ؕ سَوَآءً لِّلسَّآئِلِیۡنَ ١۰

ওয়া জা‘আলা ফীহা-রাওয়া-ছিআ মিন ফাওকিহা- ওয়া বা-রাকাফীহা-ওয়াকাদ্দারাফীহা আকওয়া-তাহা- ফীআরবা‘আতি আইয়া-মিন ছাওয়াআললিছছাইলীন।

তিনি ভূমিতে সৃষ্টি করেছেন অবিচলিত পাহাড়, যা তার উপর উত্থিত রয়েছে। আর তাতে দিয়েছেন বরকত এবং তাতে তার খাদ্য সৃষ্টি করেছেন সুষমভাবে (সবকিছুই) চারদিনে সকল যাচনাকারীর জন্য সমান।

তাফসীরঃ

২. ভূমিতে বরকত দেওয়ার অর্থ, তিনি ভূমিতে সৃষ্টরাজির জন্য উপকারী ও কল্যাণকর বস্তু নিহিত রেখেছেন এবং এর জন্য এমন ব্যবস্থাপনা করেছেন যে, তা সৃষ্টির প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত আকারে উদগত হয়।
১১

ثُمَّ اسۡتَوٰۤی اِلَی السَّمَآءِ وَہِیَ دُخَانٌ فَقَالَ لَہَا وَلِلۡاَرۡضِ ائۡتِیَا طَوۡعًا اَوۡ کَرۡہًا ؕ قَالَتَاۤ اَتَیۡنَا طَآئِعِیۡنَ ١١

ছু ম্মাছ তাওয়াইলাছ ছামাই ওয়াহিয়া দুখা-নুন ফাকা-লা লাহা-ওয়ালিল আরদি’তিয়া তাও‘আন আও কার হান কা-লাতাআতাইনা-তাই‘ঈন।

তারপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দান করলেন, যা ছিল ধোঁয়া রূপে। তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা চলে এসো ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়। উভয়ে বলল, আমরা ইচ্ছাক্রমেই আসলাম।

তাফসীরঃ

৫. প্রথম দিকে আল্লাহ তাআলা আকাশের মূল উপাদান সৃষ্টি করেছিলেন, যা ছিল ধোঁয়ার আকারে। তারপর দু’দিনে তাকে সাত আকাশের রূপ দান করেন এবং তার জন্য স্বতন্ত্র ব্যবস্থা স্থির করে দেন।
১২

فَقَضٰہُنَّ سَبۡعَ سَمٰوَاتٍ فِیۡ یَوۡمَیۡنِ وَاَوۡحٰی فِیۡ کُلِّ سَمَآءٍ اَمۡرَہَا ؕ وَزَیَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنۡیَا بِمَصَابِیۡحَ ٭ۖ وَحِفۡظًا ؕ ذٰلِکَ تَقۡدِیۡرُ الۡعَزِیۡزِ الۡعَلِیۡمِ ١٢

ফাকাদা-হুন্না ছাব ‘আ ছামা-ওয়া-তিন ফী ইয়াওমাইনি ওয়া আওহা-ফী কুল্লি ছামাইন আমরাহা- ওয়া ঝাইয়ান্নাছ ছামাআদ্দুনইয়া-বিমাসা-বীহা ওয়া হিফজান যালিকা তাকদীরুল ‘আঝীঝিল ‘আলীম।

অতঃপর তিনি নিজ ফায়সালা অনুযায়ী দু’দিনে তাকে সাত আকাশে পরিণত করলেন এবং প্রতি আকাশে তার উপযোগী আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সাজিয়েছি এবং তাকে করেছি সুরক্ষিত। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ (আল্লাহ)-এর পরিমিত ব্যবস্থাপনা।

তাফসীরঃ

৭. অর্থাৎ আকাশমণ্ডলীর নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যেসব বিধান উপযোগী ছিল, সংশ্লিষ্ট মাখলুকদেরকে তা প্রদান করলেন।
১৩

فَاِنۡ اَعۡرَضُوۡا فَقُلۡ اَنۡذَرۡتُکُمۡ صٰعِقَۃً مِّثۡلَ صٰعِقَۃِ عَادٍ وَّثَمُوۡدَ ؕ ١٣

ফাইন আ‘রাদূ ফাকুলআনযারতুকুম সা-‘ইকাতাম মিছলা সা-‘ইকাতি ‘আ-দিওঁ ওয়া ছামূদ।

তারপরও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলে দাও, আমি তোমাদেরকে সতর্ক করেছি তেমনি বজ্র সম্পর্কে, যেমন বজ্র অবতীর্ণ হয়েছিল আদ ও ছামূদ (জাতি)-এর উপর।
১৪

اِذۡ جَآءَتۡہُمُ الرُّسُلُ مِنۡۢ بَیۡنِ اَیۡدِیۡہِمۡ وَمِنۡ خَلۡفِہِمۡ اَلَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّا اللّٰہَ ؕ قَالُوۡا لَوۡ شَآءَ رَبُّنَا لَاَنۡزَلَ مَلٰٓئِکَۃً فَاِنَّا بِمَاۤ اُرۡسِلۡتُمۡ بِہٖ کٰفِرُوۡنَ ١٤

ইযজাআতহুমুর রুছুলুমিম বাইনি আইদীহিম ওয়া মিন খালফিহিম আল্লা-তা‘বুদূ ইল্লাল্লাহা কা-লূলাও শাআ রাব্বুনা-লাআনঝালা মালাইকাতান ফাইন্না-বিমাউরছিলতুম বিহী কা-ফিরূন।

এটা সেই সময়ের কথা, যখন তাদের কাছে রাসূলগণ এসেছিল (কখনও) তাদের সম্মুখ দিক থেকে এবং (কখনও) তাদের পিছন দিক থেকে, এই বার্তা নিয়ে যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না। তারা বলেছিল, আমাদের প্রতিপালক চাইলে ফেরেশতাদেরকে পাঠাতেন। সুতরাং তোমাদেরকে যে বিষয়সহ পাঠানো হয়েছে আমরা তা মানতে অস্বীকার করছি।

তাফসীরঃ

৮. এটা একটা বাকশৈলী। বোঝানো উদ্দেশ্য, রাসূলগণ তাদেরকে সকল পন্থায় বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন।
১৫

فَاَمَّا عَادٌ فَاسۡتَکۡبَرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ بِغَیۡرِ الۡحَقِّ وَقَالُوۡا مَنۡ اَشَدُّ مِنَّا قُوَّۃً ؕ اَوَلَمۡ یَرَوۡا اَنَّ اللّٰہَ الَّذِیۡ خَلَقَہُمۡ ہُوَ اَشَدُّ مِنۡہُمۡ قُوَّۃً ؕ وَکَانُوۡا بِاٰیٰتِنَا یَجۡحَدُوۡنَ ١٥

ফাআম্মা-‘আ-দুন ফাছতাকবারূফিল আরদিবিগাইরিল হাক্কিওয়া কা-লূমান আশাদ্দা মিন্না-কুওওয়াতান আওয়ালাম ইয়ারাও আন্নাল্লা-হাল্লাযী খালাকাহুম হুওয়া আশাদ্দু মিনহুম কুওওয়াতাওঁ ওয়া কা-নূবিআ-য়া-তিনা-ইয়াজহাদূ ন।

অতঃপর আদের ঘটনা তো এই ঘটল যে, তারা পৃথিবীতে অন্যায় দম্ভ প্রদর্শন করতে লাগল এবং বলল, শক্তিতে আমাদের উপরে কে আছে? তবে কি তারা অনুধাবন করল না যে, যেই আল্লাহ তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন শক্তিতে তিনি তাদের অনেক উপরে? আর তারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করতে থাকল।
১৬

فَاَرۡسَلۡنَا عَلَیۡہِمۡ رِیۡحًا صَرۡصَرًا فِیۡۤ اَیَّامٍ نَّحِسَاتٍ لِّنُذِیۡقَہُمۡ عَذَابَ الۡخِزۡیِ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ؕ وَلَعَذَابُ الۡاٰخِرَۃِ اَخۡزٰی وَہُمۡ لَا یُنۡصَرُوۡنَ ١٦

ফাআরছালনা-‘আলাইহিম রীহান সারসারান ফীআইয়া-মিন নাহিছা-তিল লিনুযীকাহুম ‘আযা-বাল খিঝই ফিল হায়া-তিদ্দুইয়া- ওয়ালা‘আযা-বুল আ-খিরাতি আখঝাওয়াহুম লা-ইউনসারূন।

সুতরাং আমি অশুভ কতক দিনে তাদের উপর পাঠালাম প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া, তাদেরকে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করানোর জন্য। আর আখেরাতের শাস্তি তো আরও বেশি লাঞ্ছনাকর এবং তারা পাবে না কোন সাহায্য।

তাফসীরঃ

৯. কুরআন-হাদীছের বহু দলীল দ্বারা প্রমাণিত যে, যেহেতু সবগুলো দিন আল্লাহ তাআলারই সৃষ্টি, তাই এমনিতে এর কোনও দিনই সাধারণভাবে অশুভ নয়। এস্থলে অশুভ দিন দ্বারা বোঝানো উদ্দেশ্য যে, সে দিনগুলো বিশেষভাবে তাদের পক্ষে বড় অশুভ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
১৭

وَاَمَّا ثَمُوۡدُ فَہَدَیۡنٰہُمۡ فَاسۡتَحَبُّوا الۡعَمٰی عَلَی الۡہُدٰی فَاَخَذَتۡہُمۡ صٰعِقَۃُ الۡعَذَابِ الۡہُوۡنِ بِمَا کَانُوۡا یَکۡسِبُوۡنَ ۚ ١٧

ওয়া আম্মা-ছামূদুফাহাদাইনা-হুম ফাছতাহাব্বুল ‘আমা-‘আলাল হুদা-ফাআখাযাতহুম সা-‘ইকাতুল ‘আযা-বিল হূনি বিমা-কা-নূইয়াকছিবূন।

আর ছামূদের ঘটনা হল আমি তাদেরকে সরল পথ দেখিয়েছিলাম, কিন্তু তারা সরল পথ অবলম্বনের চেয়ে বিভ্রান্ত থাকাকেই বেশি পছন্দ করল। সুতরাং তারা যা অর্জন করেছিল তার ফলে তাদেরকে আঘাত হানল লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তির বজ্র।
১৮

وَنَجَّیۡنَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَکَانُوۡا یَتَّقُوۡنَ ٪ ١٨

ওয়া নাজ্জাইনাল্লাযীনা আ-মানূওয়াকা-নূইয়াত্তাকূন।

অপর দিকে যারা ঈমান এনেছিল ও তাকওয়া অবলম্বন করেছিল, আমি তাদেরকে রক্ষা করলাম।
১৯

وَیَوۡمَ یُحۡشَرُ اَعۡدَآءُ اللّٰہِ اِلَی النَّارِ فَہُمۡ یُوۡزَعُوۡنَ ١٩

ওয়া ইয়াওমা ইউহশারু আ‘দাউল্লা-হি ইলান্না-রি ফাহুম ইউঝা‘ঊন।

সেই দিনকে স্মরণ রাখ, যে দিন আল্লাহর শত্রুদেরকে একত্র করে আগুনের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে আর তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে। ১০

তাফসীরঃ

১০. অর্থাৎ একেক ধরনের অপরাধীদেরকে একেকটি দলে ভাগ করে দেওয়া হবে। তারপর তাদেরকে জাহান্নামের কাছে অপেক্ষায় রাখা হবে যাতে সমস্ত দল সেখানে সমবেত হয়ে যায় (-অনুবাদক, তাফসীরে উসমানী থেকে গৃহীত)।
২০

حَتّٰۤی اِذَا مَا جَآءُوۡہَا شَہِدَ عَلَیۡہِمۡ سَمۡعُہُمۡ وَاَبۡصَارُہُمۡ وَجُلُوۡدُہُمۡ بِمَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ٢۰

হাত্তাইযা-মা-জাউহা-শাহিদা ‘আলাইহিম ছাম‘উহুম ওয়া আবসা-রুহম ওয়া জুলূদুহুম বিমা-কা-নূইয়া‘মালূন।

অবশেষে যখন তারা তার (অর্থাৎ আগুনের) কাছে পৌঁছবে, তখন তাদের কান, তাদের চোখ ও তাদের চামড়া তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। ১১

তাফসীরঃ

১১. মুশরিকগণ প্রথম দিকে আতঙ্কিত অবস্থায় মিথ্যা বলে দেবে যে, আমরা কখনও শিরক করিনি, যেমন সূরা আনআমে (৬ : ২৩) বর্ণিত হয়েছে। তখন আল্লাহ তাআলা তাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়াবেন।
২১

وَقَالُوۡا لِجُلُوۡدِہِمۡ لِمَ شَہِدۡتُّمۡ عَلَیۡنَا ؕ قَالُوۡۤا اَنۡطَقَنَا اللّٰہُ الَّذِیۡۤ اَنۡطَقَ کُلَّ شَیۡءٍ وَّہُوَ خَلَقَکُمۡ اَوَّلَ مَرَّۃٍ وَّاِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ ٢١

ওয়াকা-লূলিজুলূদিহিম লিমা শাহিত্তুম ‘আলাইনা- কা-লূআনতাকানাল্লা-হুল্লাযী আনতাকা কুল্লা শাইয়িওঁ ওয়া হুওয়া খালাকাকুম আওওয়ালা মাররাতিওঁ ওয়া ইলাইহি তুর জা‘ঊন।

তারা তাদের চামড়াকে বলবে, তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে কেন? তারা বলবে, আল্লাহ আমাদেরকে বাকশক্তি দান করেছেন, যিনি বাকশক্তি দান করেছেন প্রতিটি জিনিসকে। তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন প্রথমবার আর তাঁরই কাছে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
২২

وَمَا کُنۡتُمۡ تَسۡتَتِرُوۡنَ اَنۡ یَّشۡہَدَ عَلَیۡکُمۡ سَمۡعُکُمۡ وَلَاۤ اَبۡصَارُکُمۡ وَلَا جُلُوۡدُکُمۡ وَلٰکِنۡ ظَنَنۡتُمۡ اَنَّ اللّٰہَ لَا یَعۡلَمُ کَثِیۡرًا مِّمَّا تَعۡمَلُوۡنَ ٢٢

ওয়ামা-কুনতুম তাছতাতিরূনা আইঁ ইয়াশহাদা ‘আলাইকুম ছাম‘উকুম ওয়ালাআবসা-রুকুম ওয়ালা- জুলূদুকুম ওয়ালা- কিন জানানতুম আন্নাল্লা-হা লা- ইয়া‘লামুকাছীরাম মিম্মাতা‘মালূন।

এবং (গোনাহ করার সময়) তোমরা তো তোমাদের বিরুদ্ধে তোমাদের কান, চোখ ও চামড়ার সাক্ষ্যদান থেকে আত্মগোপন করতে সক্ষম ছিলে না। বরং তোমাদের ধারণা ছিল আল্লাহ তোমাদের কর্মের বহু কিছুই জানেন না। ১২

তাফসীরঃ

১২. বুখারী শরীফের এক হাদীছে আছে, কতক নির্বোধ কাফের মনে করত, তারা গোপনে কোন গোনাহ করলে আল্লাহ তাআলা তা জানতে পারেন না। তখন তাদের বিশ্বাস ছিল, তাদের সে গোনাহের কোন সাক্ষীও থাকবে না এবং আল্লাহ তাআলা তা জানতেও পারবেন না (নাউযুবিল্লাহ)। কিন্তু আল্লাহ তাআলা নিজেই যে তাদের কর্মের প্রত্যক্ষদর্শী এবং খোদ তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে যাবে সেটা তাদের কল্পনায় ছিল না।
২৩

وَذٰلِکُمۡ ظَنُّکُمُ الَّذِیۡ ظَنَنۡتُمۡ بِرَبِّکُمۡ اَرۡدٰىکُمۡ فَاَصۡبَحۡتُمۡ مِّنَ الۡخٰسِرِیۡنَ ٢٣

ওয়া যা-লিকুম জান্নুকুমুল্লাযীজানানতুম বিরাব্বিকুম আর দা-কুম ফাআসবাহতুম মিনাল খা-ছিরীন।

আপন প্রতিপালক সম্পর্কে তোমাদের এ ধারণাই তোমাদেরকে ধ্বংস করেছে। পরিণামে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছ।
২৪

فَاِنۡ یَّصۡبِرُوۡا فَالنَّارُ مَثۡوًی لَّہُمۡ ۚ وَاِنۡ یَّسۡتَعۡتِبُوۡا فَمَا ہُمۡ مِّنَ الۡمُعۡتَبِیۡنَ ٢٤

ফাইয়ঁইয়াসবিরূফান্না-রু মাছওয়াল লাহুম ওয়া ইয়ঁইয়াছতা‘তিবূফামা-হুম মিনাল মু‘তাবীন।

এখন তারা ধৈর্য ধারণ করলেও জাহান্নামই হবে তাদের ঠিকানা আর যদি অজুহাত প্রদর্শন করে, তবে যাদের অজুহাত গৃহীত হবে, তাদের অন্তর্ভুক্ত এদেরকে করা হবে না।
২৫

وَقَیَّضۡنَا لَہُمۡ قُرَنَآءَ فَزَیَّنُوۡا لَہُمۡ مَّا بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَمَا خَلۡفَہُمۡ وَحَقَّ عَلَیۡہِمُ الۡقَوۡلُ فِیۡۤ اُمَمٍ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ مِّنَ الۡجِنِّ وَالۡاِنۡسِ ۚ  اِنَّہُمۡ کَانُوۡا خٰسِرِیۡنَ ٪ ٢٥

ওয়া কাইয়াদনা-লাহুম কুরানাআ ফাঝাইয়ানূলাহুম মা-বাইনা আইদীহিম ওয়ামাখালফাহুম ওয়াহাক্কা ‘আলাইহিমুল কাওলুফীউমামিন কাদ খালাত মিন কাবলিহিম মিনাল জিন্নি ওয়ালইনছি ইন্নাহুম কা-নূখা-ছিরীন।

আমি (দুনিয়ায়) তাদের পেছনে কিছু সহচর লাগিয়ে দিয়েছিলাম, যারা তাদের সম্মুখ ও পিছনের সমস্ত কাজকে তাদের দৃষ্টিতে শোভন করে দিয়েছিল। ১৩ ফলে তাদের পূর্বে অতিবাহিত জিন্ন ও মানব জাতিসমূহের অন্তর্ভুক্তরূপে তাদের উপরও (শাস্তির) কথা সত্যে পরিণত হয়েছে। নিশ্চয়ই তারা ছিল ক্ষতিগ্রস্ত।

তাফসীরঃ

১৩. এ আয়াতে যে সহচরের কথা বলা হয়েছে, তারা দু’রকমের। (এক) একদল শয়তান (দুষ্ট জিন), যারা মানুষকে গোনাহে লিপ্ত করার জন্য নানা রকম প্ররোচনা দেয় এবং (দুই) এক শ্রেণীর মানুষ, যারা গোনাহের কাজকে উপকারী ও দরকারী সাব্যস্ত করার জন্য নানা রকম যুক্তি-প্রমাণ পেশ করে এবং অন্যকেও তাতে বিশ্বাসী করে তোলার চেষ্টা করে।
২৬

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَا تَسۡمَعُوۡا لِہٰذَا الۡقُرۡاٰنِ وَالۡغَوۡا فِیۡہِ لَعَلَّکُمۡ تَغۡلِبُوۡنَ ٢٦

ওয়া কা-লাল্লাযীনা কাফারূ লা-তাছমা‘ঊ লিহা-যাল কুরআ-নি ওয়ালগাও ফীহি লা‘আল্লাকুম তাগলিবূন।

এবং কাফেরগণ (একে অন্যকে) বলে, এই কুরআন শুনো না এবং এর (পাঠের) মাঝে হট্টগোল কর, যাতে তোমরা জয়ী থাক।
২৭

فَلَنُذِیۡقَنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا عَذَابًا شَدِیۡدًا ۙ وَّلَنَجۡزِیَنَّہُمۡ اَسۡوَاَ الَّذِیۡ کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ٢٧

ফালানুযী কান্নাল্লাযীনা কাফারূ‘আযা-বান শাদীদাওঁ ওয়ালা নাজঝিয়ান্নাহুম আছওয়াল্লাযী কা-নূইয়া‘মালূন।

সুতরাং ওই কাফেরদেরকে আমি কঠিন শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাব এবং তারা (দুনিয়ায়) যে নিকৃষ্ট কাজ করত, তার পরিপূর্ণ প্রতিফল দেব।
২৮

ذٰلِکَ جَزَآءُ اَعۡدَآءِ اللّٰہِ النَّارُ ۚ لَہُمۡ فِیۡہَا دَارُ الۡخُلۡدِ ؕ جَزَآءًۢ بِمَا کَانُوۡا بِاٰیٰتِنَا یَجۡحَدُوۡنَ ٢٨

যা-লিকা জাঝাউ আ‘দাইল্লা-হিন্না-রু লাহুম ফীহা-দা-রুল খুলদি জাঝাআম বিমা-কা-নূবিআ-য়া-তিনা-ইয়াজহাদূ ন।

আগুনরূপে এটাই আল্লাহর শত্রুদের শাস্তি। তারই মধ্যে হবে তাদের স্থায়ী ঠিকানা, আমার আয়াতসমূহকে যে তারা অস্বীকার করত তার প্রতিফলস্বরূপ।
২৯

وَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا رَبَّنَاۤ اَرِنَا الَّذَیۡنِ اَضَلّٰنَا مِنَ الۡجِنِّ وَالۡاِنۡسِ نَجۡعَلۡہُمَا تَحۡتَ اَقۡدَامِنَا لِیَکُوۡنَا مِنَ الۡاَسۡفَلِیۡنَ ٢٩

ওয়া কা-লাল্লাযীনা কাফারূরাব্বানাআরিনাল্লাযাইনি আদাল্লা-না-মিনাল জিন্নি ওয়াল ইনছি নাজ‘আলহুমা-তাহতা আকদা-মিনা-লিইয়াকূনা মিনাল আছফালীন।

কাফেরগণ বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! যে সকল জিন ও মানুষ আমাদেরকে বিপথগামী করেছিল তাদেরকে আমাদের দেখিয়ে দাও। আমরা তাদেরকে আমাদের পায়ের নিচে রেখে এমনভাবে দলিত করব, যাতে তারা চরম লাঞ্ছিত হয়। ১৪

তাফসীরঃ

১৪. দুনিয়ায় যে সব সাথী-সঙ্গী মানুষকে দ্বীন থেকে গাফেল ও বিপথগামী করে তোলে তারা যেমন এর অন্তর্ভুক্ত, তেমনি সেই শয়তানও, যে তাকে সব সময় প্ররোচনা দেয়। এ উভয় সম্পর্কে জাহান্নামী ব্যক্তি বলবে, তাদেরকে আজ দেখতে পেলে পায়ের নিচে রেখে মাড়াতাম ও লাঞ্ছিত করতাম।
৩০

اِنَّ الَّذِیۡنَ قَالُوۡا رَبُّنَا اللّٰہُ ثُمَّ اسۡتَقَامُوۡا تَتَنَزَّلُ عَلَیۡہِمُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ اَلَّا تَخَافُوۡا وَلَا تَحۡزَنُوۡا وَاَبۡشِرُوۡا بِالۡجَنَّۃِ الَّتِیۡ کُنۡتُمۡ تُوۡعَدُوۡنَ ٣۰

ইন্নাল্লাযীনা কা-লূরাব্বুনাল্লা-হুছু ম্মাছতাকা-মূতাতানাঝঝালু‘আলাইহিমুল মালাইকাতু আল্লা-তাখা-ফূওয়ালা-তাহঝানূওয়াআবশিরূবিলজান্নাতিল্লাতী কুনতুম তূ‘আদূন।

(অপর দিকে) যারা বলেছে, আমাদের রব্ব আল্লাহ! তারপর তারা তাতে থাকে অবিচলিত, নিশ্চয়ই তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হবে (এবং বলবে) যে, তোমরা কোন ভয় করো না এবং কোন কিছুর জন্য চিন্তিত হয়ো না আর আনন্দিত হয়ে যাও সেই জান্নাতের জন্য, যার ওয়াদা তোমাদেরকে দেওয়া হত।
৩১

نَحۡنُ اَوۡلِیٰٓؤُکُمۡ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَفِی الۡاٰخِرَۃِ ۚ  وَلَکُمۡ فِیۡہَا مَا تَشۡتَہِیۡۤ اَنۡفُسُکُمۡ وَلَکُمۡ فِیۡہَا مَا تَدَّعُوۡنَ ؕ ٣١

নাহনুআওলিয়াউকুম ফিল হায়া-তিদ্দুইয়া-ওয়া ফিল আ-খিরাতি ওয়ালাকুম ফীহামা-তাশতাহীআনফুছুকুম ওয়ালাকুম ফীহা-মা-তাদ্দা‘ঊন।

আমরা পার্থিব জীবনেও তোমাদের সাথী ছিলাম এবং আখেরাতেও থাকব। জান্নাতে তোমাদের জন্য আছে এমন সব কিছুই, যা তোমাদের অন্তর চাবে এবং সেখানে তোমাদের জন্য আছে এমন সব কিছুই যার ফরমায়েশ তোমরা করবে,
৩২

نُزُلًا مِّنۡ غَفُوۡرٍ رَّحِیۡمٍ ٪ ٣٢

নুঝুলাম মিন গাফূরির রাহীম।

অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (আল্লাহ)-এর পক্ষ হতে প্রাথমিক আতিথেয়তাস্বরূপ।
৩৩

وَمَنۡ اَحۡسَنُ قَوۡلًا مِّمَّنۡ دَعَاۤ اِلَی اللّٰہِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَّقَالَ اِنَّنِیۡ مِنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ٣٣

ওয়া মান আহছানুকাওলাম মিম্মান দা‘আইলাল্লা-হি ওয়া‘আমিলা সা-লিহাওঁ ওয়াকা-লা ইন্নানী মিনাল মুছলিমীন।

তার চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে ডাকে, সৎকর্ম করে এবং বলে, আমি আনুগত্য স্বীকারকারীদের একজন।
৩৪

وَلَا تَسۡتَوِی الۡحَسَنَۃُ وَلَا السَّیِّئَۃُ ؕ اِدۡفَعۡ بِالَّتِیۡ ہِیَ اَحۡسَنُ فَاِذَا الَّذِیۡ بَیۡنَکَ وَبَیۡنَہٗ عَدَاوَۃٌ کَاَنَّہٗ وَلِیٌّ حَمِیۡمٌ ٣٤

ওয়ালা-তাছতাবিল হাছানাতুওয়ালাছ ছাইয়িআতু ইদফা‘ বিল্লাতী হিয়া আহছানু ফাইযাল্লাযী বাইনাকা ওয়া বাইনাহূ‘আদা-ওয়াতুন কাআন্নাহূওয়ালিইউন হামীম।

ভালো ও মন্দ সমান হয় না। তুমি মন্দকে প্রতিহত কর এমন পন্থায়, যা হবে উৎকৃষ্ট। ১৫ ফলে যার ও তোমার মধ্যে শত্রুতা ছিল, সে সহসাই হয়ে যাবে তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধু।

তাফসীরঃ

১৫. অর্থাৎ যে ব্যক্তি তোমার সাথে মন্দ আচরণ করে, যদিও তার সাথে অনুরূপ মন্দ আচরণ করা তোমার জন্য জায়েয, কিন্তু শ্রেষ্ঠ পন্থা সেটা নয় কিছুতেই। শ্রেষ্ঠ পন্থা হল, তুমি তার মন্দ আচরণের বিপরীতে ভালো ব্যবহার করবে। এরূপ করলে তোমার ঘোর শত্রুও একদিন তোমার পরম বন্ধু হয়ে যাবে। আর তুমি তার মন্দ আচরণে যে ধৈর্য ধারণ করবে তার উৎকৃষ্ট সওয়াব তো তুমি আখেরাতে পাবেই।
৩৫

وَمَا یُلَقّٰہَاۤ اِلَّا الَّذِیۡنَ صَبَرُوۡا ۚ وَمَا یُلَقّٰہَاۤ اِلَّا ذُوۡ حَظٍّ عَظِیۡمٍ ٣٥

ওয়ামা-ইউলাক্কা-হাইল্লাল্লাযীনা সাবারূ ওয়ামা-ইউলাক্কা-হাইল্লা-যূহাজ্জিন ‘আজীম।

আর এ গুণ কেবল তাদেরকেই দান করা হয়, যারা সবর করে এবং এ গুণ কেবল তাদেরকেই দান করা হয় যারা মহাভাগ্যবান।
৩৬

وَاِمَّا یَنۡزَغَنَّکَ مِنَ الشَّیۡطٰنِ نَزۡغٌ فَاسۡتَعِذۡ بِاللّٰہِ ؕ اِنَّہٗ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ ٣٦

ওয়া ইম্মা-ইয়ানঝাগান্নাকা মিনাশশাইতা-নি নাঝগুন ফাছতা‘ইযবিল্লা -হি ইন্নাহূহুওয়াছ ছামী‘উল ‘আলীম।

যদি শয়তানের পক্ষ থেকে তোমার কখনও কোন খোঁচা লাগে, তবে (বিতাড়িত শয়তান থেকে) আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করো। ১৬ নিশ্চয়ই তিনি সকল কথার শ্রোতা, সকল বিষয়ের জ্ঞাতা।

তাফসীরঃ

১৬. ‘শয়তানের খোঁচা’ অর্থ তার প্ররোচনা। অর্থাৎ শয়তান যদি তোমাকে কখনও কোন গোনাহের কাজে প্ররোচনা দেয়, তবে তুমি আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করবে। এর সর্বোত্তম পন্থা হল اَعُوْذُبِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ পড়া।
৩৭

وَمِنۡ اٰیٰتِہِ الَّیۡلُ وَالنَّہَارُ وَالشَّمۡسُ وَالۡقَمَرُ ؕ لَا تَسۡجُدُوۡا لِلشَّمۡسِ وَلَا لِلۡقَمَرِ وَاسۡجُدُوۡا لِلّٰہِ الَّذِیۡ خَلَقَہُنَّ اِنۡ کُنۡتُمۡ اِیَّاہُ تَعۡبُدُوۡنَ ٣٧

ওয়া মিন আ-য়া-তিহিল্লাইলুওয়ান্নাহা-রু ওয়াশশামছুওয়াল কামারু লা-তাছজু দূ লিশশামছি ওয়ালা-লিলকামারি ওয়াছজু দূ লিল্লা-হিল্লাযী খালাকাহুন্না ইন কুনতুম ইয়্যা-হু তা‘বুদূ ন।

তাঁরই নিদর্শনাবলীর অন্তর্ভুক্ত হল রাত, দিন, সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা সূর্যকে সিজদা করো না এবং চন্দ্রকেও না। বরং সিজদা করো আল্লাহকে, যিনি এগুলোকে সৃষ্টি করেছেন যদি বাস্তবিকই তোমরা তাঁর ইবাদত করে থাক।
৩৮

فَاِنِ اسۡتَکۡبَرُوۡا فَالَّذِیۡنَ عِنۡدَ رَبِّکَ یُسَبِّحُوۡنَ لَہٗ بِالَّیۡلِ وَالنَّہَارِ وَہُمۡ لَا یَسۡـَٔمُوۡنَ ٛ ٣٨

ফাইনিছতাকবারূফাল্লাযীনা ‘ইনদা রাব্বিকাইউছাব্বিহূনালাহূবিল্লাইলি ওয়ান্নাহা-রি ওয়াহুম লা-ইয়াছআমূন (ছিজদাহ-১১)।

তারপরও যদি তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ) অহমিকা প্রদর্শন করে, তবে (তা করতে থাকুক) তোমার প্রতিপালকের কাছে যারা (অর্থাৎ যেই ফেরেশতাগণ) আছে, তারা রাত-দিন তাঁর তাসবীহ পাঠ করে এবং তারা ক্লান্তি বোধ করে না। ১৭

তাফসীরঃ

১৭. এটি সিজদার আয়াত। অর্থাৎ যে ব্যক্তি এ আয়াত তেলাওয়াত করবে বা কাউকে তেলাওয়াত করতে শুনবে একটি সিজদা তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যাবে।
৩৯

وَمِنۡ اٰیٰتِہٖۤ اَنَّکَ تَرَی الۡاَرۡضَ خَاشِعَۃً فَاِذَاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡہَا الۡمَآءَ اہۡتَزَّتۡ وَرَبَتۡ ؕ اِنَّ الَّذِیۡۤ اَحۡیَاہَا لَمُحۡیِ الۡمَوۡتٰی ؕ اِنَّہٗ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ٣٩

ওয়া মিন আ-য়া-তিহীআন্নাকা তারাল আরদা খা-শি‘আতান ফাইযাআনঝালনা‘আলাইহাল মাআহতাঝঝাত ওয়া রাবাত ইন্নাল্লাযীআহইয়া-হা-লামুহইল মাওতা ইন্নাহূ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

তাঁর আরেকটি নিদর্শন হল, তুমি ভূমিকে শুষ্করূপে দেখতে পাও, তারপর যখন আমি তাতে বারি বর্ষণ করি, অমনি তা আলোড়িত হয় ও বেড়ে ওঠে। বস্তুত যিনি ভূমিতে প্রাণ সঞ্চার করেন, তিনিই মৃতদেরকেও জীবিত করবেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে শক্তিমান।
৪০

اِنَّ الَّذِیۡنَ یُلۡحِدُوۡنَ فِیۡۤ اٰیٰتِنَا لَا یَخۡفَوۡنَ عَلَیۡنَا ؕ اَفَمَنۡ یُّلۡقٰی فِی النَّارِ خَیۡرٌ اَمۡ مَّنۡ یَّاۡتِیۡۤ اٰمِنًا یَّوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ اِعۡمَلُوۡا مَا شِئۡتُمۡ ۙ اِنَّہٗ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ ٤۰

ইন্নাল্লাযীনা ইউলহিদূ না ফীআ-য়া-তিনা-লা-ইয়াখফাওনা ‘আলাইনা- আফামাইঁ ইউলকা-ফিন্না-রি খাইরুন আমমাইঁ ইয়া’তী আ-মিনাইঁ ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ই‘মালূ মা-শি’তুম ইন্নাহূবিমা-তা‘মালূনা বাসীর।

আমার আয়াতসমূহের ব্যাপারে যারা বাঁকা পথ অবলম্বন করে, ১৮ তারা আমার অগোচর নয়। আচ্ছা বলতো, যে ব্যক্তিকে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে, সে উত্তম, না সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে নির্ভয়ে-নিরাপদে? তোমরা যা ইচ্ছা করে নাও। জেনে রেখ, তোমরা যা করছ তিনি সবই দেখছেন।

তাফসীরঃ

১৮. বাঁকা পথ অবলম্বনের অর্থ, আয়াত না মানা কিংবা তার ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া। আয়াতে যে শাস্তির ধমক দেওয়া হয়েছে, তা উভয় অবস্থায়ই প্রযোজ্য।
৪১

اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِالذِّکۡرِ لَمَّا جَآءَہُمۡ ۚ  وَاِنَّہٗ لَکِتٰبٌ عَزِیۡزٌ ۙ ٤١

ইন্নাল্লাযীনা কাফারূবিযযি করি লাম্মা-জাআহুম ওয়া ইন্নাহূলাকিতা-বুন ‘আঝীঝ।

যারা উপদেশবাণী (কুরবান)-কে অস্বীকার করেছে তাদের কাছে তা আসার পর (তারা নেহাৎ মন্দ কাজ করেছে), অথচ এটি অতি মর্যাদাপূর্ণ কিতাব।
৪২

لَّا یَاۡتِیۡہِ الۡبَاطِلُ مِنۡۢ بَیۡنِ یَدَیۡہِ وَلَا مِنۡ خَلۡفِہٖ ؕ تَنۡزِیۡلٌ مِّنۡ حَکِیۡمٍ حَمِیۡدٍ ٤٢

লা-ইয়া’তীহিল বা-তিলুমিম বাইনি ইয়াদাইহি ওয়ালা-মিন খালফীহি তানঝীলুম মিন হাকীমিন হামীদ।

কোন মিথ্যা এর পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না, না এর সম্মুখ দিক থেকে এবং না এর পেছন থেকে। এটা প্রজ্ঞাময়, প্রশংসার্হ (আল্লাহ)-এর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
৪৩

مَا یُقَالُ لَکَ اِلَّا مَا قَدۡ قِیۡلَ لِلرُّسُلِ مِنۡ قَبۡلِکَ ؕ اِنَّ رَبَّکَ لَذُوۡ مَغۡفِرَۃٍ وَّذُوۡ عِقَابٍ اَلِیۡمٍ ٤٣

মা-ইউকা-লুলাকা ইল্লা-মা-কাদ কীলা লিররুছুলি মিন কাবলিকা ইন্না রাব্বাকা লাযূ মাগফীরাতিওঁ ওয়া যূ‘ইকা-বিন আলীম।

(হে রাসূল!) তোমাকে তো সেসব কথাই বলা হচ্ছে, যা তোমার পূর্ববর্তী রাসূলগণকে বলা হয়েছিল। ১৯ নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক ক্ষমাশীল এবং মর্মন্তুদ শাস্তিদাতা।

তাফসীরঃ

১৯. অর্থাৎ অবিশ্বাসীরা আপনার সঙ্গে যে আচরণ করছে সব যুগের অবিশ্বাসীরা তাদের নবীদের সঙ্গে এ রকম আচরণই করেছে। নবীগণ তো সর্বদা তাদের কল্যাণ কামনা করেছেন, আর তার বিপরীতে অবিশ্বাসীরা তাদেরকে কথায় ও কাজে নানাভাবে কষ্ট দিয়েছে। সুতরাং নবীগণ যেমন সেক্ষেত্রে সবর করেছিলেন, আপনিও তেমনি সবর করতে থাকুন। পরিণামে কিছু লোক তাওবা করে সুপথে এসে যাবে। ফলে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন আর কিছু লোক তাদের বক্রতা ও জিদের উপরই থেকে যাবে। পরিশেষে তারা যন্ত্রণাময় শাস্তির উপযুক্ত হয়ে যাবে (-অনুবাদক, তাফসীরে উসমানী থেকে গৃহীত)।
৪৪

وَلَوۡ جَعَلۡنٰہُ قُرۡاٰنًا اَعۡجَمِیًّا لَّقَالُوۡا لَوۡلَا فُصِّلَتۡ اٰیٰتُہٗ ؕ  ءَؔاَعۡجَمِیٌّ وَّعَرَبِیٌّ ؕ  قُلۡ ہُوَ لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ہُدًی وَّشِفَآءٌ ؕ  وَالَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ فِیۡۤ اٰذَانِہِمۡ وَقۡرٌ وَّہُوَ عَلَیۡہِمۡ عَمًی ؕ  اُولٰٓئِکَ یُنَادَوۡنَ مِنۡ مَّکَانٍۭ بَعِیۡدٍ ٪ ٤٤

ওয়া লাও জা‘আলনা-হু কুরআ-নান আ‘জামিয়াল লাকা-লূলাওলা-ফুসসিলাত আ-য়া-তুহূ আ আ‘জামিইয়ুওঁ ওয়া ‘আরাবীইয়ুন কুল হুওয়া লিল্লাযীনা আ-মানূহুদাওঁ ওয়া শিফাউরঁ ওয়াল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূনা ফীআ-যা-নিহিম ওয়াকরুওঁ ওয়া হুওয়া ‘আলাইহিম ‘আমা- উলাইকা ইউনা-দাওনা মিম মাকা-নিম বা‘ঈদ।

আমি যদি এ কুরআনকে অনারবী কুরআন বানাতাম, তবে তারা অবশ্যই বলত, এর আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হল না কেন? এটা কেমন কথা যে, কুরআন অনারবী এবং রাসূল আরবী? ২০ বল, যারা ঈমান আনে তাদের জন্য এটা হেদায়াত ও উপশমের ব্যবস্থা। আর যারা ঈমান আনে না, তাদের কানে ছিপি লাগানো আছে। তাদের জন্য এটা (অর্থাৎ কুরআন) বিভ্রান্তির কারণ। এরূপ লোকদেরকে বহু দূর-দূরান্ত হতে ডাকা হচ্ছে। ২১

তাফসীরঃ

২০. মক্কার কোন কোন কাফের কুরআন মাজীদ সম্পর্কে প্রশ্ন তুলত যে, এ কিতাব আরবী ভাষায় নাযিল করা হল কেন? অন্য কোন ভাষায় হলে তো এটা অনেক বড় মুজিযা ও অলৌকিক ব্যাপার হয়ে যেত। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো অন্য কোন ভাষা জানেন না। তাই তার প্রতি অন্য কোন ভাষায় ওহী নাযিল করা হলে স্পষ্ট হয়ে যেত যে, তা আল্লাহ তাআলারই পক্ষ থেকে এসেছে। এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, এ জাতীয় প্রশ্ন ও আপত্তির সিলসিলা কখনও শেষ হওয়ার নয়। কুরআন যদি অন্য কোন ভাষায় নাযিল করা হত, তবে তারা বলত, আরবী নবীর উপর অনারবী কুরআন কেন নাযিল করা হল? কথা যদি মানারই ইচ্ছা না থাকে, তবে বাহানার কোন অভাব হয় না।
৪৫

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡکِتٰبَ فَاخۡتُلِفَ فِیۡہِ ؕ وَلَوۡلَا کَلِمَۃٌ سَبَقَتۡ مِنۡ رَّبِّکَ لَقُضِیَ بَیۡنَہُمۡ ؕ وَاِنَّہُمۡ لَفِیۡ شَکٍّ مِّنۡہُ مُرِیۡبٍ ٤٥

ওয়া লাকাদ আ-তাইনা-মূছাল কিতা-বা ফাখতুলিফা ফীহি ওয়া লাওলা-কালিমাতুন ছাবাকাত মিররাব্বিকা লাকুদিয়া বাইনাহুম ওয়া ইন্নাহুম লাফী শাক্কিম মিনহু মুরীব।

৪৫. আমি মূসাকেও কিতাব দিয়েছিলাম। তারপর তাতেও মতভেদ হয়েছিল। তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে একটি কথা পূর্ব থেকেই স্থিরীকৃত না থাকলে তাদের ব্যাপারে চুকিয়ে দেওয়া হত। প্রকৃতপক্ষে তারা বিভ্রান্তিকর সন্দেহে নিপতিত।
৪৬

مَنۡ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفۡسِہٖ وَمَنۡ اَسَآءَ فَعَلَیۡہَا ؕ وَمَا رَبُّکَ بِظَلَّامٍ لِّلۡعَبِیۡدِ ٤٦

মান ‘আমিলা সা-লিহান ফালিনাফছিহী ওয়ামান আছাআ ফা‘আলাইহা- ওয়ামারাব্বুকা বিজাল্লা-মিল লিল‘আবীদ।

৪৬. কেউ সৎকর্ম করলে তা নিজেরই কল্যাণার্থে করে আর কেউ অসৎ কাজ করলে, তার ক্ষতিও তার নিজেরই। তোমার প্রতিপালক বান্দাদের প্রতি জুলুম করেন না।
৪৭

اِلَیۡہِ یُرَدُّ عِلۡمُ السَّاعَۃِ ؕ  وَمَا تَخۡرُجُ مِنۡ ثَمَرٰتٍ مِّنۡ اَکۡمَامِہَا وَمَا تَحۡمِلُ مِنۡ اُنۡثٰی وَلَا تَضَعُ اِلَّا بِعِلۡمِہٖ ؕ  وَیَوۡمَ یُنَادِیۡہِمۡ اَیۡنَ شُرَکَآءِیۡ ۙ  قَالُوۡۤا اٰذَنّٰکَ ۙ  مَا مِنَّا مِنۡ شَہِیۡدٍ ۚ ٤٧

ইলাইহি ইউরাদ্দু‘ইলমুছ ছা-‘আতি ওয়া মা-তাখরুজুমিন ছামারা-তিম মিন আকমামিহা-ওয়ামা-তাহমিলুমিন উনছা-ওয়ালা তাদা‘উ ইল্লা-বি‘ইলমিহী ওয়া ইয়াওমা ইউনা-দীহিম আইনা শুরাকাঈ কা-লূ আ-যান্না-কা মা-মিন্না-মিন শাহীদ।

কিয়ামতের জ্ঞান তারই দিকে ফেরানো হয়। ২২ আল্লাহর অজ্ঞাতসারে কোন ফল তার আবরণ থেকে বের হয় না এবং কোন নারী গর্ভ ধারণ করে না এবং সন্তান প্রসবও করে না। যে দিন তিনি তাদেরকে (অর্থাৎ মুশরিকদেরকে) ডেকে বলবেন, কোথায় আমার সেই শরীকগণ? তারা বলবে, আমরা আপনার কাছে আরজ করছি যে, আমাদের মধ্যে এখন কেউ এ কথার সাক্ষী নয় (যে, আপনার কোন শরীক আছে)।

তাফসীরঃ

২২. অর্থাৎ কিয়ামত কোন বছর কত তারিখে হবে নির্দিষ্টভাবে আল্লাহ তাআলা ছাড়া কেউ জানেনা। এ সম্পর্কে তিনি কাউকে অবহিত করেননি। যত বড় জ্ঞানীই হোক তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে এর জ্ঞানকে আল্লাহ তাআলার দিকে ফিরিয়ে দেবে, বলবে তিনিই জানেন। -অনুবাদক
৪৮

وَضَلَّ عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَدۡعُوۡنَ مِنۡ قَبۡلُ وَظَنُّوۡا مَا لَہُمۡ مِّنۡ مَّحِیۡصٍ ٤٨

ওয়া দাল্লা ‘আনহুম মা-কা-নূইয়াদ‘ঊনা মিন কাবলুওয়া জান্নূমা-লাহুম মিম মাহীছ।

পূর্বে তারা যাদেরকে (অর্থাৎ যেই মিথ্যা উপাস্যদেরকে) ডাকত এখন আর তারা তাদের কোন হদিস পাবে না। তারা উপলব্ধি করবে যে, তাদের আর নিষ্কৃতি নেই।
৪৯

لَا یَسۡـَٔمُ الۡاِنۡسَانُ مِنۡ دُعَآءِ الۡخَیۡرِ ۫ وَاِنۡ مَّسَّہُ الشَّرُّ فَیَـُٔوۡسٌ قَنُوۡطٌ ٤٩

লা-ইয়াছআমুল ইনছা-নুমিন দু‘আইল খাইরি ওয়াইম মাছছাহুশ শাররু ফাইয়াঊছুন কানূত।

মানুষ মঙ্গল প্রার্থনায় ক্লান্ত হয় না। আর তাকে যদি কোন অমঙ্গল স্পর্শ করে, তখন চরম হতাশ হয়ে পড়ে, সব আশা ছেড়ে দেয়।
৫০

وَلَئِنۡ اَذَقۡنٰہُ رَحۡمَۃً مِّنَّا مِنۡۢ بَعۡدِ ضَرَّآءَ مَسَّتۡہُ لَیَقُوۡلَنَّ ہٰذَا لِیۡ ۙ وَمَاۤ اَظُنُّ السَّاعَۃَ قَآئِمَۃً ۙ وَّلَئِنۡ رُّجِعۡتُ اِلٰی رَبِّیۡۤ اِنَّ لِیۡ عِنۡدَہٗ لَلۡحُسۡنٰی ۚ فَلَنُنَبِّئَنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِمَا عَمِلُوۡا ۫ وَلَنُذِیۡقَنَّہُمۡ مِّنۡ عَذَابٍ غَلِیۡظٍ ٥۰

ওয়ালাইন আযাকনা-হু রাহমাতাম মিন্না-মিম বা‘দি দাররাআ মাছছাতহু লাইয়াকূলান্না হা-যা-লী ওয়ামাআজুন্নুছ ছা‘আতা কাইমাতাওঁ ওয়ালাইর রুজি‘তুইলারাববীইন্না লী ‘ইনদাহূলালহুছনা- ফালানুনাব্বিআন্নাল্লাযীনা কাফারূবিমা-‘আমিলূ ওয়া লানুযীকান্নাহুম মিন ‘আযা-বিন গালীজ।

তাকে যে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করেছিল, তারপর যদি আমি আমার পক্ষ হতে তাকে রহমতের স্বাদ গ্রহণ করাই, তখন সে অবশ্যই বলবে, এটা তো আমার প্রাপ্য ছিল এবং আমি মনে করি না যে, কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর আমাকে যদি আমার রব্বের কাছে ফিরিয়ে নেওয়াও হয়, তবে আমার বিশ্বাস তাঁর কাছেও আমার কল্যাণই লাভ হবে। আমি কাফেরদেরকে অবশ্যই অবহিত করব, তারা যা-কিছু করেছে এবং তাদেরকে অবশ্যই কঠোর শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাব।
৫১

وَاِذَاۤ اَنۡعَمۡنَا عَلَی الۡاِنۡسَانِ اَعۡرَضَ وَنَاٰ بِجَانِبِہٖ ۚ وَاِذَا مَسَّہُ الشَّرُّ فَذُوۡ دُعَآءٍ عَرِیۡضٍ ٥١

ওয়া ইযা আন‘আমনা-‘আলাল ইনছা-নি আ‘রাদা ওয়া নাআ-বিজা-নিবিহী ওয়া ইযা-মাছছাহুশ শাররু ফাযূদুআইন ‘আরীদ।

আমি মানুষের প্রতি যখন কোন অনুগ্রহ করি, তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও পার্শ্ব পরিবর্তন করে দূরে সরে যায়। আবার তাকে যখন কোন অমঙ্গল স্পর্শ করে, তখন সে লম্বা-চওড়া দুআকারী হয়ে যায়।
৫২

قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ کَانَ مِنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ ثُمَّ کَفَرۡتُمۡ بِہٖ مَنۡ اَضَلُّ مِمَّنۡ ہُوَ فِیۡ شِقَاقٍۭ بَعِیۡدٍ ٥٢

কুল আরাআইতুম ইন কা-না মিন ‘ইনদিল্লা-হি ছু ম্মা কাফারতুম বিহী মান আদাল্লুমিম্মান হুওয়া ফী শিকা-কিম বা‘ঈদ।

(হে রাসূল! কাফেরদেরকে) বলে দাও, তোমরা ভেবে দেখেছ কি এ কুরআন যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে থাকে, তারপরও তোমরা এটাকে অস্বীকার কর, তবে যে ব্যক্তি (এর) ঘোর বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত থাকে, তার চেয়ে বেশি বিভ্রান্ত আর কে হতে পারে?
৫৩

سَنُرِیۡہِمۡ اٰیٰتِنَا فِی الۡاٰفَاقِ وَفِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ حَتّٰی یَتَبَیَّنَ لَہُمۡ اَنَّہُ الۡحَقُّ ؕ اَوَلَمۡ یَکۡفِ بِرَبِّکَ اَنَّہٗ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ شَہِیۡدٌ ٥٣

ছানুরীহিম আ-য়া-তিনা-ফিল আ-ফা-কিওয়া ফীআনফুছিহিম হাত্তা-ইয়াতাবাইইয়ানা লাহুম আন্নাহুল হাক্কু আওয়ালাম ইয়াকফি বিরাব্বিকা আন্নাহূ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন শাহীদ।

আমি আমার নিদর্শনাবলী তাদেরকে দেখাব বিশ্বজগতেও এবং খোদ তাদের অস্তিত্বের ভেতরও, যাতে তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এটাই সত্য। ২৩ তোমার প্রতিপালকের একথা কি যথেষ্ট নয় যে, তিনি সকল বিষয়ের সাক্ষী?

তাফসীরঃ

২৩. অর্থাৎ কুরআন যে আল্লাহর সত্য কিতাব এর অপরাপর দলীল-প্রমাণ তো আপন স্থানে আছেই। এবার আমি এর সপক্ষে আমার কুদরতের নিদর্শন দেখাব তাদের নিজ অস্তিত্বের ভেতরও এবং তাদের আশপাশে সমগ্র আরব এলাকায়, বরং সারা জাহানে। তা দ্বারা কুরআন ও কুরআনের বাহকের সত্যতা দিবালোকের মত পরিষ্কার হয়ে যাবে। কী সে নিদর্শন? তা হচ্ছে ইসলামের আজিমুশ্বান দিগ্বিজয়, যা কুরআনী ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী বাহ্যিক আসবাব-উপকরণের সম্পূর্ণ বিপরীত, অত্যন্ত বিস্ময়করভাবে সাধিত হয়েছিল। সুতরাং মক্কার কাফেরগণ বদরের যুদ্ধে খোদ নিজেদের অস্তিত্বের ভেতর, মক্কা বিজয়ে আরব জাহানের কেন্দ্রভূমিতে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে সমগ্র বিশ্বে এ নিদর্শন নিজেদের চোখে দেখে নিয়েছে। এমনও হতে পারে যে, এ আয়াতে যে নিদর্শনের প্রতি ইশারা করা হয়েছে, তা হল সেই সব সাধারণ নিদর্শন, যা চিন্তাশীল ব্যক্তি তার নিজ অস্তিত্ব ও বিশ্ব চরাচরের প্রতিটি বস্তুর মধ্যে দেখতে পায়। তা দ্বারা যেমন আল্লাহ তাআলার তাওহীদ ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়, তেমনি কুরআন মাজীদে প্রদত্ত বক্তব্যসমূহেরও সত্যতা প্রতিভাত হয়। কেননা লক্ষ্য করলে দেখা যায়, কুরআনের সব কথা বিশ্বজগতে আল্লাহ তাআলার যে শাশ্বত বিধান ও প্রাকৃতিক নিয়ম-নীতি কার্যকর রয়েছে, তার সাথে শতভাগ সঙ্গতিপূর্ণ, আর তা নিত্য-নতুনভাবে মানুষের সামনে পরিস্ফুট হচ্ছে। আর এসব বিষয় যেহেতু মানুষের কাছে একসঙ্গে প্রকাশ পায় না; বরং এক-এক করে ক্রমান্বয়ে তার উপর থেকে পর্দা উন্মোচিত হচ্ছে তাই আল্লাহ তাআলা বিষয়টাকে ‘আমি আমার নিদর্শনাবলী দেখাব’ শব্দে ব্যক্ত করেছেন (-অনুবাদক তাফসীরে উসমানী থেকে)।
৫৪

اَلَاۤ اِنَّہُمۡ فِیۡ مِرۡیَۃٍ مِّنۡ لِّقَآءِ رَبِّہِمۡ ؕ  اَلَاۤ اِنَّہٗ بِکُلِّ شَیۡءٍ مُّحِیۡطٌ ٪ ٥٤

আলাইন্নাহুম ফী মিরইয়াতিম মিলিলকাই, রাব্বিহিম আলাইন্নাহূবিকুল্লি শাইয়িম মুহীত।

জেনে রেখ, তারা তাদের প্রতিপালকের সাক্ষাত সম্পর্কে সন্দেহে পড়ে আছে। জেনে রেখ, তিনি অবশ্যই প্রতিটি বস্তুকে বেষ্টন করে আছেন।
সূরা হা-মীম আস-সিজদাহ্ (ফুছছিলাত) | মুসলিম বাংলা