সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আলে ইমরান (آل عمران) | ইমরানের পরিবার

মাদানী

মোট আয়াতঃ ২০০

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

الٓمَّٓ ۙ ١

আলিফ লাম মীম।

আলিফ-লাম-মীম

اللّٰہُ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۙ  الۡحَیُّ الۡقَیُّوۡمُ ؕ ٢

আল্লা-হু লাইলাহা ইল্লা-হুওয়াল হাইয়ুল কাইয়ূম।

আল্লাহ তিনিই, যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। যিনি চিরঞ্জীব, (সমগ্র জগতের) নিয়ন্ত্রক।

نَزَّلَ عَلَیۡکَ الۡکِتٰبَ بِالۡحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَیۡنَ یَدَیۡہِ وَاَنۡزَلَ التَّوۡرٰىۃَ وَالۡاِنۡجِیۡلَ ۙ ٣

নাঝঝালা ‘আলাইকাল কিতা-বা বিলহাক্কি মুসাদ্দিকালিলমা-বাইনা ইয়াদাইহি ওয়াআনঝালাত তাওরা-তা ওয়াল ইনজীল।

তিনি তোমার প্রতি সত্যসম্বলিত কিতাব নাযিল করেছেন, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সমর্থন করে এবং তিনিই তাওরাত ও ইনজীল নাযিল করেছেন

مِنۡ قَبۡلُ ہُدًی لِّلنَّاسِ وَاَنۡزَلَ الۡفُرۡقَانَ ۬ؕ اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِاٰیٰتِ اللّٰہِ لَہُمۡ عَذَابٌ شَدِیۡدٌ ؕ وَاللّٰہُ عَزِیۡزٌ ذُو انۡتِقَامٍ ٤

মিন কাবলু হুদাল লিন্না-ছি ওয়া আনঝালাল ফুরকানা ইন্নাল্লাযীনা কাফারূ বিআ-য়াতিল্লা-হি লাহুম ‘আযা-বুন শাদীদুওঁ ওয়াল্লা-হু ‘আঝীঝুন যুনতিকা-ম।

এর আগে, মানুষের জন্য সাক্ষাত হিদায়াতরূপে এবং তিনিই সত্য ও মিথ্যা যাচাইয়ের মানদণ্ড নাযিল করেছেন। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। আল্লাহ অতি পরাক্রমশালী ও মন্দের প্রতিফলদাতা।

তাফসীরঃ

১. কুরআন মাজীদ এস্থলে ‘ফুরকান’ শব্দ ব্যবহার করেছে। ‘ফুরকান’ বলা হয় এমন জিনিসকে, যা সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করে দেয়। কুরআন মাজীদেরও এক নাম ফুরকান। কেননা এটা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী কিতাব। সুতরাং কোনও কোনও মুফাসসির মনে করেন এস্থলে ‘ফুরকান’ দ্বারা কুরআন মাজীদকে বোঝানো হয়েছে। অন্যদের মতে এর দ্বারা সেই সকল মুজিযা বা নিদর্শনাবলীকে বোঝানো উদ্দেশ্য, যা নবীগণের হাতে প্রকাশ করা হয়েছে এবং যা দ্বারা তাদের নবুওয়াতের সত্যতা প্রমাণ করা হয়েছে। তাছাড়া এর দ্বারা সেই সকল দলীল-প্রমাণও বোঝানো হতে পারে, যা আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের প্রতি নির্দেশ করে।

اِنَّ اللّٰہَ لَا یَخۡفٰی عَلَیۡہِ شَیۡءٌ فِی الۡاَرۡضِ وَلَا فِی السَّمَآءِ ؕ ٥

ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াখফা-‘আলাইহি শাইউন ফিল আরদিওয়ালা-ফিছ ছামাই।

নিশ্চিত জেনে রেখ, আল্লাহর কাছে কোন জিনিস গোপন থাকতে পারে না পৃথিবীতেও নয় এবং আকাশেও নয়।

ہُوَ الَّذِیۡ یُصَوِّرُکُمۡ فِی الۡاَرۡحَامِ کَیۡفَ یَشَآءُ ؕ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ٦

হুওয়াল্লাযী ইউসাওবিরুকুম ফিল আরহা-মি কাইফা ইয়াশাউ লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়াল ‘আঝীঝুল হাকীম।

তিনিই সেই সত্তা, যিনি মায়ের পেটে যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের আকৃতি দান করেন। তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি পরম পরাক্রান্ত এবং সমুচ্চ প্রজ্ঞারও অধিকারী।

তাফসীরঃ

২. মানুষ যদি তার সৃষ্টির পর্যায়ক্রমিক স্তরসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করে ও চিন্তা করে যে, সে মাতৃগর্ভে কিভাবে প্রতিপালিত হয় এবং কিভাবে অপরাপর অগণ্য মানুষ থেকে তার আকৃতিকে এমন পৃথকভাবে তৈরি করা হয় যে, অন্য কারও সাথে সে শতভাগ মিলে যায় না, তবে এসব যে এক আল্লাহর কুদরত ও হিকমতের অধীনেই হচ্ছে, এটা মানতে তার এক মুহূর্ত দেরী হবে না। এ আয়াতে এই বাস্তবতাকে তুলে ধরার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব, তাঁর একত্ব ও হিকমতের প্রতি ইশারা করা উদ্দেশ্য। সেই সঙ্গে এর দ্বারা আরও একটি দিক স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রিওয়ায়াত দ্বারা জানা যায়, একবার নাজরান থেকে খ্রিস্টানদের একটি প্রতিনিধিদল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসেছিল এবং তারা তাঁর সঙ্গে নিজেদের আকীদা-বিশ্বাস সম্পর্কে কথা বলেছিল। সূরা আলে-ইমরানের কয়েকটি আয়াত সেই প্রেক্ষাপটেই নাযিল হয়েছে। প্রতিনিধিদলটির দাবী ছিল ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর পুত্র। এর সপক্ষে তাদের দলীল ছিল যে, তিনি পিতা ছাড়া জন্ম লাভ করেছিলেন। এ আয়াত তাদের সে দলীল খণ্ডন করছে। ইশারা করা হচ্ছে যে, প্রত্যেক ব্যক্তিরই সৃজন ও আকৃতি দানের কাজ আল্লাহ তাআলাই করেন। যদিও তিনি এই নিয়ম চালু করে দিয়েছেন যে, প্রত্যেক শিশু পিতার মাধ্যমে জন্ম লাভ করে, কিন্তু তিনি এ নিয়মের অধীন ও মুখাপেক্ষী নন। সুতরাং যখন চান এবং যাকে চান, পিতা ছাড়া সৃষ্টি করেন ও করতে পারেন। কাজেই পিতা ছাড়া কারও জন্মগ্রহণ দ্বারা তার ঈশ্বর বা ঈশ্বর-পুত্র হওয়া প্রমাণ হয় না।

ہُوَ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلَ عَلَیۡکَ الۡکِتٰبَ مِنۡہُ اٰیٰتٌ مُّحۡکَمٰتٌ ہُنَّ اُمُّ الۡکِتٰبِ وَاُخَرُ مُتَشٰبِہٰتٌ ؕ فَاَمَّا الَّذِیۡنَ فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ زَیۡغٌ فَیَتَّبِعُوۡنَ مَا تَشَابَہَ مِنۡہُ ابۡتِغَآءَ الۡفِتۡنَۃِ وَابۡتِغَآءَ تَاۡوِیۡلِہٖ ۚ؃ وَمَا یَعۡلَمُ تَاۡوِیۡلَہٗۤ اِلَّا اللّٰہُ ۘؔ وَالرّٰسِخُوۡنَ فِی الۡعِلۡمِ یَقُوۡلُوۡنَ اٰمَنَّا بِہٖ ۙ کُلٌّ مِّنۡ عِنۡدِ رَبِّنَا ۚ وَمَا یَذَّکَّرُ اِلَّاۤ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ ٧

হুওয়াল্লাযীআনঝালা ‘আলাইকাল কিতা-বা মিনহু আ-য়া-তুম মুহকামা-তুন হুন্না উম্মুল কিতা-বি ওয়া উখারু মুতাশা-বিহা-তুন ফাআম্মাল্লাযীনা ফী কুলূবিহিম ঝাইগুন ফাইয়াত্তাবি‘ঊন মা-তাশা-বাহা মিনহুবতিগাআল ফিতনাতি ওয়াবতিগাআ তা’বিলিহী ওয়া মা-ইয়া‘লামুতা’বিলাহু ইল্লাল্লা-হ । ওয়ার রা-ছিখূনা ফিল ‘ইলমি ইয়াকূলূনা আমান্না-বিহী কুল্লুম মিন ‘ইনদি রাব্বিনা-ওয়ামা-ইয়াযযাককারু ইল্লা উলুল আলবা-ব।

(হে রাসূল!) সে আল্লাহই এমন সত্তা, যিনি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন, যার কিছু আয়াত মুহকাম, যার উপর কিতাবের মূল ভিত্তি এবং অপর কিছু আয়াত মুতাশাবিহ। যাদের অন্তরে বক্রতা আছে, তারা সেই মুতাশাবিহ আয়াতসমূহের পেছনে পড়ে থাকে, উদ্দেশ্য ফিতনা সৃষ্টি করা এবং সেসব আয়াতের তাবীল খোঁজা, অথচ সেসব আয়াতের যথার্থ মর্ম আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। আর যাদের জ্ঞান পরিপক্ক তারা বলে, আমরা এর (সেই মর্মের) প্রতি বিশ্বাস রাখি (যা আল্লাহ তাআলার জানা)। সবকিছুই আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে এবং উপদেশ কেবল তারাই গ্রহণ করে, যারা বুদ্ধিমান।

তাফসীরঃ

৩. এ আয়াতটি বুঝবার আগে একটা বাস্তবতা উপলব্ধি করে নেওয়া জরুরী। তা এই যে, এই জগতে এমন বহু বিষয় আছে যা মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধির ঊর্ধ্বে। এমনিভাবে আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব ও তাঁর একত্ব তো এমন এক সত্য, যা প্রতিটি মানুষ নিজ জ্ঞান-বুদ্ধি দ্বারা উপলব্ধি করতে পারে, কিন্তু তাঁর সত্তা ও গুণাবলী সম্পর্কিত বিস্তারিত জ্ঞান মানুষের সীমিত বুদ্ধি দ্বারা আহরণ করা সম্ভব নয়। কেননা তা মানব বুদ্ধির বহু ঊর্ধ্বের বিষয়। কুরআন মাজীদ যেখানে আল্লাহ তাআলার সে সকল গুণের উল্লেখ করেছে, সেখানে তা দ্বারা তাঁর অপার শক্তি ও মহা প্রজ্ঞাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কোনও লোক যদি সে সকল গুণের হাকীকত ও সত্তাসারের দার্শনিক অনুসন্ধানে লিপ্ত হয়, তবে তার হয়রানী ও গোমরাহী ছাড়া আর কিছুই অর্জিত হবে না। কেননা সে তার সীমিত জ্ঞান-বুদ্ধি দ্বারা আল্লাহ তাআলার অসীম গুণাবলীর রহস্য আয়ত্ত করতে চাচ্ছে, যা তার উপলব্ধির বহু ঊর্ধ্বের। উদাহরণত কুরআন মাজীদ কয়েক জায়গায় ইরশাদ করেছে আল্লাহ তাআলার একটি আরশ আছে এবং তিনি সেই আরশে ‘মুসতাবী’ (সমাসীন) হয়েছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আরশ কেমন? আর তাতে তাঁর সমাসীন হওয়ার দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? এসব এমন প্রশ্ন, যার উত্তর মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধির বাইরের জিনিস। তাছাড়া মানব জীবনের কোনও ব্যবহারিক মাসআলা এর উপর নির্ভরশীলও নয়। এ জাতীয় বিষয় যেসব আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, তাকে ‘মুতাশাবিহ’ আয়াত বলে, এমনিভাবে বিভিন্ন সূরার শুরুতে যে পৃথক পৃথক হরফ নাযিল করা হয়েছে (যেমন এ সূরারই শুরুতে আছে ‘আলিফ-লাম-মীম’) যাকে ‘আল-হুরুফুল মুকাত্তাআত’ বলা হয়, তাও ‘মুতাশাবিহাত’-এর অন্তর্ভুক্ত। মুতাশাবিহাত সম্পর্কে কুরআন মাজীদ এ আয়াতে নির্দেশনা দিয়েছে যে, এর তত্ত্ব-তালাশের পেছনে না পড়ে বরং মোটামুটিভাবে এর প্রতি ঈমান আনতে হবে, আর এর প্রকৃত মর্ম কী, তা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিতে হবে। এর বিপরীতে কুরআন মাজীদের অন্যান্য যে আয়াতসমূহ আছে তার মর্ম সুস্পষ্ট। প্রকৃতপক্ষে সে সকল আয়াতই মানুষের চলার পথ-নির্দেশ করে। এ রকম আয়াতকে ‘মুহ্কাম’ আয়াত বলে। একজন মুমিনের কর্তব্য বিশেষভাবে এ জাতীয় আয়াতে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখা। মুতাশাবিহাত সম্পর্কে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষা দেওয়া তো এমনিতেই জরুরী ছিল, কিন্তু এ সূরায় বিষয়টিকে স্পষ্ট করার বিশেষ কারণ ছিল এই যে, নাজরানের যে খ্রিস্টান প্রতিনিধিদল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে হাজির হয়েছিল, যাদের কথা পূর্বের টীকায় উল্লেখ করা হয়েছে, তারা ‘হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর পুত্র’ এ দাবীর সপক্ষে বিভিন্ন দলীল পেশ করেছিল, যার মধ্যে একটা এই ছিল যে, খোদ কুরআন মাজীদ তাঁকে ‘কালিমাতুল্লাহ’ (আল্লাহর কালিমা) ও ‘রূহুম মিনাল্লাহ’ (আল্লাহর পক্ষ হতে আগত রূহ) নামে অভিহিত করেছে। এর দ্বারা বোঝা যায়, তিনি আল্লাহর বিশেষ গুণ ‘কালাম’ ও আল্লাহর রূহ ছিলেন। এ আয়াত তার জবাব দিয়েছে যে, কুরআন মাজীদই বিভিন্ন স্থানে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, আল্লাহ তাআলার কোন পুত্র-কন্যা থাকতে পারে না এবং হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে ‘আল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর পুত্র’ বলা শিরক ও কুফরের নামান্তর। এসব সুস্পষ্ট আয়াত ছেড়ে দিয়ে ‘কালিমাতুল্লাহ’ শব্দটিকে ধরে বসে থাকা এবং এর ভিত্তিতে এমন সব তাবীল ও ব্যাখ্যার আশ্রয় নেওয়া, যা কুরআন মাজীদের মুহকাম আয়াতের সম্পূর্ণ পরিপন্থী, এটা অন্তরের বক্রতারই পরিচায়ক। প্রকৃতপক্ষে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে ‘কালিমাতুল্লাহ’ বলার অর্থ কেবল এই যে, তিনি পিতার মাধ্যম ছাড়া আল্লাহ তাআলার ‘কুন’ (হও) কালিমা (শব্দ) দ্বারা জন্মলাভ করেছিলেন (যেমন কুরআন মাজীদের এ সূরারই ৫৯নং আয়াতে বলা হয়েছে)। আর তাঁকে ‘রূহুম মিনাল্লাহ’বলা হয়েছে এ কারণে যে, তাঁর রূহ আল্লাহ তাআলা সরাসরি সৃষ্টি করেছিলেন। অবশ্য ‘কুন’ শব্দ দ্বারা সৃষ্টি করার অবস্থাটা কেমন ছিল এটা মানব-বুদ্ধির উর্ধ্বের বিষয়। এমনিভাবে তাঁর রূহ সরাসরি কিভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিল, তাও আমাদের বুদ্ধির অতীত। এসব বিষয় ‘মুতাশাবিহাত’-এর অন্তর্ভুক্ত। তাই এর তত্ব-তালাশের পেছনে পড়া নিষেধ, (যেহেতু এসব জিনিস মানুষ বুঝতে সক্ষম নয়)। অনুরূপ এর মনগড়া তাবীল করে এর থেকে ‘আল্লাহর পুত্র’ থাকার ধারণা উদ্ভাবন করাও টেড়া মেজাজের পরিচায়ক।

رَبَّنَا لَا تُزِغۡ قُلُوۡبَنَا بَعۡدَ اِذۡ ہَدَیۡتَنَا وَہَبۡ لَنَا مِنۡ لَّدُنۡکَ رَحۡمَۃً ۚ اِنَّکَ اَنۡتَ الۡوَہَّابُ ٨

রাব্বানা-লা-তুঝিগ কুলূবানা-বা‘দা ইয হাদাইতানা -ওয়াহাবলানা-মিল্লা দুনকা রাহমাতান ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহা-ব।

(এরূপ লোক প্রার্থনা করে), হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে যখন হিদায়াত দান করেছ তারপর আর আমাদের অন্তরে বক্রতা সৃষ্টি করো না এবং একান্তভাবে নিজের পক্ষ হতে আমাদেরকে রহমত দান কর। নিশ্চয়ই তুমিই মহাদাতা।

رَبَّنَاۤ اِنَّکَ جَامِعُ النَّاسِ لِیَوۡمٍ لَّا رَیۡبَ فِیۡہِ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ لَا یُخۡلِفُ الۡمِیۡعَادَ ٪ ٩

রাব্বানা ইন্নাকা জা-মি‘উন্না-ছি লিইয়াওমিল্লা-রাইবা ফীহি ইন্নাল্লা-হা লা-ইউখলিফুল মী‘আদ।

হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি সমস্ত মানুষকে এমন এক দিন একত্র করবে, যে দিনের আগমনে কোন সন্দেহ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ ওয়াদার বিপরীত করেন না।
১০

اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَنۡ تُغۡنِیَ عَنۡہُمۡ اَمۡوَالُہُمۡ وَلَاۤ اَوۡلَادُہُمۡ مِّنَ اللّٰہِ شَیۡئًا ؕ  وَاُولٰٓئِکَ ہُمۡ وَقُوۡدُ النَّارِ ۙ ١۰

ইন্নাল্লাযীনা কাফারু লান তুগনিয়া ‘আনহুম আমওয়া-লুহুম ওয়ালা আওলা-দুহুম মিনাল্লা-হি শাইআওঁ ওয়া উলাইকাহুম ওয়াকূদুন্না-র।

নিশ্চয়ই যারা কুফর অবলম্বন করেছে, আল্লাহর বিপরীতে তাদের সম্পদও তাদের কোন কাজে আসবে না এবং তাদের সন্তান-সন্ততিও নয়। আর তারাই জাহান্নামের ইন্ধন।
১১

کَدَاۡبِ اٰلِ فِرۡعَوۡنَ ۙ وَالَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ؕ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا ۚ فَاَخَذَہُمُ اللّٰہُ بِذُنُوۡبِہِمۡ ؕ وَاللّٰہُ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ ١١

কাদা’বি আ-লি ফির‘আওনা ওয়াল্লাযীনা মিন কাবলিহিম কাযযাবূ বিআ-য়া তিনা-ফাআখাযাহুমুল্লা-হু বিযুনূবিহিম ওয়াল্লা-হু শাদীদুল ‘ইকা-ব।

(তাদের অবস্থা) ফির‘আউন ও তার পূর্ববর্তী লোকদের অবস্থার মত। তারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদেরকে তাদের পাপাচারের কারণে পাকড়াও করেছিলেন। বস্তুত আল্লাহর শাস্তি অতি কঠিন।
১২

قُلۡ لِّلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا سَتُغۡلَبُوۡنَ وَتُحۡشَرُوۡنَ اِلٰی جَہَنَّمَ ؕ وَبِئۡسَ الۡمِہَادُ ١٢

কুল লিল্লাযীনা কাফারু ছাতুগলাবূনা ওয়াতুহশারূনা ইলা-জাহান্নামা ওয়াবি’ছাল মিহা-দ।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে তাদেরকে বলে দাও, অচিরেই তোমরা পরাভূত হবে এবং তোমাদেরকে একত্র করে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হবে, আর তা অতি মন্দ ঠিকানা।

তাফসীরঃ

৪. এর দ্বারা দুনিয়ায় কাফিরদের পরাস্ত হওয়ারও ভবিষ্যদ্বাণী করা হতে পারে এবং আখিরাতের পরাজয়ও বোঝানো হতে পারে। (কোনও কোনও বর্ণনায় আছে, বদর যুদ্ধে জয়লাভ করার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়াহুদীদেরকে বলেছিলেন, তোমরা সত্য কবুল করে নাও, নচেৎ তোমাদের পরিণতিও কুরায়শদের মত হবে। উত্তরে তারা বলেছিল, অনভিজ্ঞ কুরায়শদের সাথে যুদ্ধ জিতে ধোঁকায় পড়ো না। আমাদের সাথে লড়লে টের পাবে, যুদ্ধ কাকে বলে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আলোচ্য আয়াত নাযিল হয়। এ আয়াতের ভবিষ্যদ্বাণী ফলতে বেশি দিন লাগেনি। মক্কা বিজয়ের আগেই মদীনার সবগুলো ইয়াহুদী গোত্রকে চরমভাবে পর্যুদস্ত ও বিতাড়িত করা হয়। সবশেষে মক্কা বিজয় হলে সারা আরবে ইসলামের বিজয়-ডঙ্কা বেজে যায়। -অনুবাদক
১৩

قَدۡ کَانَ لَکُمۡ اٰیَۃٌ فِیۡ فِئَتَیۡنِ الۡتَقَتَا ؕ فِئَۃٌ تُقَاتِلُ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ وَاُخۡرٰی کَافِرَۃٌ یَّرَوۡنَہُمۡ مِّثۡلَیۡہِمۡ رَاۡیَ الۡعَیۡنِ ؕ وَاللّٰہُ یُؤَیِّدُ بِنَصۡرِہٖ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَعِبۡرَۃً لِّاُولِی الۡاَبۡصَارِ ١٣

কাদ কা-না লাকুম আ-য়াতুন ফী ফিআতাইনিল তাকাতা-ফিআতুন তুকা-তিলুফী ছাবীলিল্লা-হি ওয়া উখরা-কা-ফিরাতুইঁ ইয়ারাওনাহুম মিছলাইহিম রা’ইয়াল ‘আইনি ওয়াল্লা-হু ইউআইয়িদুবিনাসরিহী মাইঁ ইয়াশাউ ইন্না ফী যা-লিকা লা‘ইবরাতাল লিউলিল আবসা-র।

তোমাদের জন্য সেই দুই দলের (ঘটনার) মধ্যে নিদর্শন রয়েছে, যারা একে অন্যের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল। (তাদের মধ্যে) একটি দল আল্লাহর পথে লড়াই করছিল এবং দ্বিতীয়টি ছিল কাফির। তারা নিজেদেরকে খোলা চোখে তাদের চেয়ে দ্বিগুণ দেখছিল। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন নিজ সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন। নিশ্চয়ই এর ভেতর চক্ষুষ্মানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।

তাফসীরঃ

৫. পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল যে, কাফিরগণ মুসলিমদের কাছে পরাভূত হবে। এবার তার একটা দৃষ্টান্ত দেওয়ার লক্ষ্যে বদর যুদ্ধের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। এ যুদ্ধে কাফিরদের বাহিনী ছিল এক হাজার সশস্ত্র সৈন্য সম্বলিত। আর মুসলিমদের সংখ্যা ছিল সাকুল্যে তিনশ তের জন। কাফিরগণ খোলা চোখে দেখছিল তাদের সংখ্যা অনেক বেশি। কিন্তু আল্লাহ তাআলা মুসলিমদেরকে সাহায্য করেন, ফলে কাফিরদেরকে চরম পরাজয়ের সম্মুখীন হতে হয়।
১৪

زُیِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّہَوٰتِ مِنَ النِّسَآءِ وَالۡبَنِیۡنَ وَالۡقَنَاطِیۡرِ الۡمُقَنۡطَرَۃِ مِنَ الذَّہَبِ وَالۡفِضَّۃِ وَالۡخَیۡلِ الۡمُسَوَّمَۃِ وَالۡاَنۡعَامِ وَالۡحَرۡثِ ؕ ذٰلِکَ مَتَاعُ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۚ وَاللّٰہُ عِنۡدَہٗ حُسۡنُ الۡمَاٰبِ ١٤

ঝুইয়িনা লিন্না-ছি হুব্বুশশাহাওয়া-তি মিনান নিছাই ওয়াল বানীনা ওয়াল কানা-তীরিল মুকানতারাতি মিনাযযাহাবি ওয়াল ফিদ্দাতি ওয়াল খাইলিল মুছাওওয়ামাতি ওয়াল আন‘আমি ওয়াল হারছিযা-লিকা মাতা-‘উল হায়া-তিদ্দুনইয়া-ওয়াল্লা-হু ‘ইনদাহু হুছনুল মাআ-ব।

মানুষের জন্য ওই সকল বস্তুর আসক্তিকে মনোরম করা হয়েছে, যা তার প্রবৃত্তির চাহিদা মোতাবেক অর্থাৎ নারী, সন্তান, রাশিকৃত সোনা-রুপা, চিহ্নিত অশ্বরাজি, চতুষ্পদ জন্তু ও ক্ষেত-খামার। এসব ইহ-জীবনের ভোগ-সামগ্রী। (কিন্তু) স্থায়ী পরিণামের সৌন্দর্য কেবল আল্লাহরই কাছে।
১৫

قُلۡ اَؤُنَبِّئُکُمۡ بِخَیۡرٍ مِّنۡ ذٰلِکُمۡ ؕ  لِلَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا عِنۡدَ رَبِّہِمۡ جَنّٰتٌ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا وَاَزۡوَاجٌ مُّطَہَّرَۃٌ وَّرِضۡوَانٌ مِّنَ اللّٰہِ ؕ  وَاللّٰہُ بَصِیۡرٌۢ بِالۡعِبَادِ ۚ ١٥

কুল আউনাব্বিউকুম বিখাইরিম মিন যা-লিকুম লিল্লাযীনাত্তাকাও ‘ইনদা রাব্বিহিম জান্না-তুন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা-ওয়াআঝওয়াজুম মুতাহহারাতুওঁ ওয়ারিদওয়া-নুম মিনাল্লা-হি ওয়াল্লা-হু বাসীরুম বিল‘ইবা-দ।

বল, আমি কি তোমাদেরকে এসব অপেক্ষা উৎকৃষ্ট জিনিসের সংবাদ দেব? যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে আছে এমন বাগ-বাগিচা, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত, যেখানে তারা সর্বদা থাকবে এবং (তাদের জন্য আছে) পবিত্র স্ত্রী ও আল্লাহর পক্ষ হতে সন্তুষ্টি। আল্লাহ সকল বান্দাকে ভালোভাবে দেখছেন।
১৬

اَلَّذِیۡنَ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَاۤ اِنَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاغۡفِرۡ لَنَا ذُنُوۡبَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ۚ ١٦

আল্লাযীনা ইয়াকূ লূনা রাব্বানা ইন্নানা আ-মান্না-ফাগফিরলানা-যুনূবানা-ওয়াকিনা‘আযা-বান্না-র।

যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা (তোমার প্রতি) ঈমান এনেছি। সুতরাং আমাদের পাপরাশি ক্ষমা কর এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা কর।
১৭

اَلصّٰبِرِیۡنَ وَالصّٰدِقِیۡنَ وَالۡقٰنِتِیۡنَ وَالۡمُنۡفِقِیۡنَ وَالۡمُسۡتَغۡفِرِیۡنَ بِالۡاَسۡحَارِ ١٧

আসসা-বিরীনা ওয়াসসা-দিকীনা ওয়াল কা-নিতীনা ওয়াল মুনফিকীনা ওয়াল মুছতাগফিরীনা বিলআছহা-র।

তারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, ইবাদতগোযার, (আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের লক্ষ্যে) অর্থ ব্যয়কারী এবং সাহরীর সময় ক্ষমা প্রার্থনাকারী।
১৮

شَہِدَ اللّٰہُ اَنَّہٗ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۙ  وَالۡمَلٰٓئِکَۃُ وَاُولُوا الۡعِلۡمِ قَآئِمًۢا بِالۡقِسۡطِ ؕ  لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ؕ ١٨

শাহিদাল্লা-হু আন্নাহু লা ইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ওয়াল মালাইকাতুওয়া উলুল ‘ইলমি কাইমাম বিলকিছতিলাইল্লা-হা ইল্লা-হুওয়াল আঝীঝুল হাকীম।

আল্লাহ স্বয়ং এ বিষয়ের সাক্ষ্য দেন এবং ফিরিশতাগণ ও জ্ঞানীগণও যে, তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই, যিনি ইনসাফের সাথে (বিশ্ব জগতের) নিয়ম-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি ছাড়া অন্য কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নয়। তাঁর ক্ষমতা পরিপূর্ণ এবং হিকমতও পরিপূর্ণ।
১৯

اِنَّ الدِّیۡنَ عِنۡدَ اللّٰہِ الۡاِسۡلَامُ ۟ وَمَا اخۡتَلَفَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ اِلَّا مِنۡۢ بَعۡدِ مَا جَآءَہُمُ الۡعِلۡمُ بَغۡیًۢا بَیۡنَہُمۡ ؕ وَمَنۡ یَّکۡفُرۡ بِاٰیٰتِ اللّٰہِ فَاِنَّ اللّٰہَ سَرِیۡعُ الۡحِسَابِ ١٩

ইন্নাদ্দীনা ‘ইনদাল্লা-হিল ইছলা-মু ওয়ামাখতালাফাল্লাযীনা ঊতুল কিতা-বা ইল্লা-মিম বা‘দি মা-জাআহুমুল ‘ইলমুবাগইয়াম বাইনাহুম ওয়ামাইঁ ইয়াকফুর বিআ-য়া-তিল্লা-হি ফাইন্নাল্লা-হা ছারী‘উল হিছা-ব।

নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট (গ্রহণযোগ্য) দীন কেবল ইসলামই। যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তারা তাদের কাছে জ্ঞান আসার পর কেবল পারস্পরিক বিদ্বেষবশত ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছে। আর যে-কেউ আল্লাহর আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করবে (তার স্মরণ রাখা উচিত যে,) আল্লাহ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।

তাফসীরঃ

৬. ‘ইসলাম’ শব্দের অর্থ আত্মসমর্পণ। আল্লাহপ্রদত্ত ধর্মকে এ নামে অভিহিত করার কারণ, এ ধর্মের অনুসারী ব্যক্তি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ তা‘আলার হাতে সমর্পণ করে ও তাঁর যাবতীয় আদেশ শিরোধার্য করে। সে কারণেই এর অনুসারীকে মুসলিম অর্থাৎ আত্মসমর্পণকারী বলে। এমনিতে তো সকল আসমানী ধর্মই ইসলাম। কিন্তু প্রাচীন ধর্মগুলোকে যেহেতু তাদের অনুসারীগণ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেনি, বরং ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় তা বিকৃত করে ফেলেছে, অবশেষে শেষ নবীর আবির্ভাবের পর তার শরীআত দ্বারা সেগুলোর অনেক বিধান রহিতও হয়ে গেছে, তাই সেগুলো আর ইসলাম নামে অভিহিত হওয়ার উপযুক্ত থাকেনি। এখন ইসলাম হল সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা (সা.) কর্তৃক আনীত ও প্রচারিত দীন ও শরীআত, যা এক পরিপূর্ণ, সার্বজনীন ও কিয়ামতকাল পর্যন্ত স্থায়ী ধর্ম। -অনুবাদক
২০

فَاِنۡ حَآجُّوۡکَ فَقُلۡ اَسۡلَمۡتُ وَجۡہِیَ لِلّٰہِ وَمَنِ اتَّبَعَنِ ؕ  وَقُلۡ لِّلَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ وَالۡاُمِّیّٖنَ ءَاَسۡلَمۡتُمۡ ؕ  فَاِنۡ اَسۡلَمُوۡا فَقَدِ اہۡتَدَوۡا ۚ  وَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَاِنَّمَا عَلَیۡکَ الۡبَلٰغُ ؕ  وَاللّٰہُ بَصِیۡرٌۢ بِالۡعِبَادِ ٪ ٢۰

ফাইন হাজ্জূকা ফাকুলআছলামতু ওয়াজহিইয়া লিল্লা-হি ওয়ামানিত তাবা‘আনি ওয়াকুল লিল্লাযীনা ঊতুল কিতা-বা ওয়াল উম্মিইয়ীনা আআছলামতুম ফাইন আছলামূ ফাকাদিহতাদাওঁ ওয়া ইন তাওয়াল্লাও ফাইন্নামা-‘আলাইকাল বালা-গু ওয়াল্লা-হু বাসীরুম বিল‘ইবা-দ।

তারপরও যদি তারা তোমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তবে বলে দাও, আমি তো নিজের চেহারাকে আল্লাহর অভিমুখী করেছি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারাও। আর কিতাবীদেরকে এবং (আরবের মুশরিক) নিরক্ষরদেরকে বলে দাও, তোমরাও কি ইসলাম গ্রহণ করলে? যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করে, তবে হিদায়াত পেয়ে গেল, আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তোমার দায়িত্ব কেবল বার্তা পৌঁছে দেওয়া। আল্লাহ বান্দাদের সম্যক দেখছেন।
২১

اِنَّ الَّذِیۡنَ یَکۡفُرُوۡنَ بِاٰیٰتِ اللّٰہِ وَیَقۡتُلُوۡنَ النَّبِیّٖنَ بِغَیۡرِ حَقٍّ ۙ وَّیَقۡتُلُوۡنَ الَّذِیۡنَ یَاۡمُرُوۡنَ بِالۡقِسۡطِ مِنَ النَّاسِ ۙ فَبَشِّرۡہُمۡ بِعَذَابٍ اَلِیۡمٍ ٢١

ইন্নাল্লাযীনা ইয়াকফুরূনা বিআ-য়া-তিল্লা-হি ওয়াইয়াকতুলূনান্নাবিইয়ীনা বিগাইরি হাক্কিওঁ ওয়া ইয়াকতুলূনাল্লাযীনা ইয়া’মুরুনা বিলকিছতিমিনান্না-ছি ফাবাশশিরহুম বি‘আযা-বিন আলীম।

যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে, নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে এবং মানুষের মধ্যে যারা ইনসাফের নির্দেশ দেয় তাদেরকেও হত্যা করে, তাদেরকে যন্ত্রণাময় শাস্তির ‘সুসংবাদ’ দাও।
২২

اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ حَبِطَتۡ اَعۡمَالُہُمۡ فِی الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ ۫ وَمَا لَہُمۡ مِّنۡ نّٰصِرِیۡنَ ٢٢

উলাইকাল্লাযীনা হাবিতাত আ‘মা-লুহুম ফিদ্দুনইয়া-ওয়াল আ-খিরাতি ওয়ামা-লাহুম মিন্না-সিরীন।

এরাই তারা, দুনিয়া ও আখিরাতে যাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে গেছে, আর তাদের কোনও সাহায্যকারী লাভ হবে না।
২৩

اَلَمۡ تَرَ اِلَی الَّذِیۡنَ اُوۡتُوۡا نَصِیۡبًا مِّنَ الۡکِتٰبِ یُدۡعَوۡنَ اِلٰی کِتٰبِ اللّٰہِ لِیَحۡکُمَ بَیۡنَہُمۡ ثُمَّ یَتَوَلّٰی فَرِیۡقٌ مِّنۡہُمۡ وَہُمۡ مُّعۡرِضُوۡنَ ٢٣

আলাম তারা ইলাল্লাযীনা ঊতূ নাসীবাম মিনাল কিতা-বি ইউদ‘আওনা ইলা-কিতা-বিল্লা-হি লিইয়াহকুমা বাইনাহুম ছুম্মা ইয়াতাওয়াল্লা-ফারীকুম মিনহুম ওয়া হুম মু‘রিদূন।

তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যাদেরকে কিতাবের কিছু অংশ দেওয়া হয়েছিল। তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে ডাকা হয়, যাতে তা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়। তথাপি তাদের একদল উপেক্ষার সাথে (তা থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়।
২৪

ذٰلِکَ بِاَنَّہُمۡ قَالُوۡا لَنۡ تَمَسَّنَا النَّارُ اِلَّاۤ اَیَّامًا مَّعۡدُوۡدٰتٍ ۪ وَغَرَّہُمۡ فِیۡ دِیۡنِہِمۡ مَّا کَانُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ ٢٤

যা-লিকা বিআন্নাহুম কা-লূ লান তামাছছানান্না-রু ইল্লা-আইয়া-মাম মা‘দূদা-তিওঁ ওয়াগাররাহুম ফী দীনিহিম মা-কা-নূ ইয়াফতারুন।

তা এ কারণে যে, তারা বলে থাকে, আগুন কখনই আমাদেরকে দিন কতকের বেশি স্পর্শ করবে না। আর তারা যেসব মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে, তাই তাদেরকে তাদের দীন সম্পর্কে ধোঁকায় ফেলেছে।
২৫

فَکَیۡفَ اِذَا جَمَعۡنٰہُمۡ لِیَوۡمٍ لَّا رَیۡبَ فِیۡہِ ۟ وَوُفِّیَتۡ کُلُّ نَفۡسٍ مَّا کَسَبَتۡ وَہُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ ٢٥

ফাকাইফা ইযা-জামা‘না-হুম লিইয়াওমিল লা-রাইবা ফীহি ওয়া উফফিয়াত কুল্লু নাফছিম মা-কাছাবাত ওয়াহুম লা-ইউজলামূন।

কিন্তু তখন (তাদের) কী অবস্থা হবে, যখন আমি তাদেরকে এমন এক দিন (-এর সম্মুখীন করা)-এর জন্য একত্র করব, যার আগমনের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। আর প্রত্যেককে সে যা-কিছু অর্জন করেছে তা পুরোপুরি দেওয়া হবে এবং কারও প্রতি কোন জুলুম করা হবে না।

তাফসীরঃ

৭. অর্থাৎ তারা কোন অন্ধকারে নিমজ্জিত আছে, সেদিন টের পাবে। সেদিন হাশরের মাঠে আগের-পরের সমস্ত মানুষ এমনকি নিজ নবীগণেরও সামনে লাঞ্ছিত হতে হবে। তাদেরকে তাদের প্রতিটি কাজের প্রতিফল দিয়ে দেওয়া হবে। সেদিন কাফফারার বিশ্বাসও কোন কাজ দেবে না এবং বংশ-গৌরব কিংবা অন্য কোন মনগড়া আকীদা-বিশ্বাসও না। -অনুবাদক, তাফসীরে উছমানী থেকে
২৬

قُلِ اللّٰہُمَّ مٰلِکَ الۡمُلۡکِ تُؤۡتِی الۡمُلۡکَ مَنۡ تَشَآءُ وَتَنۡزِعُ الۡمُلۡکَ مِمَّنۡ تَشَآءُ ۫ وَتُعِزُّ مَنۡ تَشَآءُ وَتُذِلُّ مَنۡ تَشَآءُ ؕ بِیَدِکَ الۡخَیۡرُ ؕ اِنَّکَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ٢٦

কুল্লিলা-হুম্মা মা-লিকাল মুলকি তু’তিল মুলকা মান তাশাউ ওয়া তানঝি‘উল মুলকা মিম্মান তাশাউ ওয়াতু‘ইঝঝুমান তাশাউ ওয়া তুযিল্লুমান তাশাউ বিইয়াদিকাল খাইরু; ইন্নাকা ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

বল, হে আল্লাহ! সার্বভৌম শক্তির মালিক! তুমি যাকে চাও ক্ষমতা দান কর, আর যার থেকে চাও ক্ষমতা কেড়ে নাও। যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর এবং যাকে চাও লাঞ্ছিত কর। সমস্ত কল্যাণ তোমারই হাতে। নিশ্চয়ই তুমি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।

তাফসীরঃ

৮. খন্দকের যুদ্ধকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, রোম ও ইরান সাম্রাজ্য মুসলিমদের করতলগত হবে। কাফিরগণ এটা শুনে ঠাট্টা করতে লাগল যে, নিজেদের রক্ষা করার জন্য যাদের গর্ত (পরিখা) খুড়তে হচ্ছে এবং না খেয়ে যারা দিন কাটাচ্ছে তারা কিনা দাবী করছে, রোম ও ইরান জয় করে ফেলবে। তখন এ আয়াত নাযিল হয়। এতে মুসলিমদেরকে এ দু‘আ শিক্ষাদানের মাধ্যমে এক সূক্ষ্ম পন্থায় তাদের ঠাট্টার জবাব দেওয়া হয়েছে।
২৭

تُوۡلِجُ الَّیۡلَ فِی النَّہَارِ وَتُوۡلِجُ النَّہَارَ فِی الَّیۡلِ ۫ وَتُخۡرِجُ الۡحَیَّ مِنَ الۡمَیِّتِ وَتُخۡرِجُ الۡمَیِّتَ مِنَ الۡحَیِّ ۫ وَتَرۡزُقُ مَنۡ تَشَآءُ بِغَیۡرِ حِسَابٍ ٢٧

তূলিজুল লাল্লাইলা ফিন্নাহা-রি ওয়াতূলিজুন্নাহা-রা ফিল্লাইলি ওয়াতুখরিজুল হাইইয়া মিনাল মাইয়িতি ওয়াতুখরিজুল মাইয়িতা মিনাল হাইয়ি ওয়াতারঝুকুমান তাশাউ বিগাইরি হিছা-ব।

তুমিই রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করাও এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করাও। তুমিই নিষ্প্রাণ বস্তু হতে প্রাণবান বস্তু বের কর এবং প্রাণবান থেকে নিষ্প্রাণ বস্তু বের কর, ১০ আর যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযক দান কর।

তাফসীরঃ

৯. শীতকালে দিন ছোট হয়। তখন গ্রীষ্মকালীন দিনের কিছু অংশ রাত হয়ে যায়। আবার গ্রীষ্মকালে দিন বড় হলে শীতকালীন রাতের কিছু অংশ দিনের মধ্যে ঢুকে যায়। আয়াতে সে কথাই বলা হয়েছে।
২৮

لَا یَتَّخِذِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ الۡکٰفِرِیۡنَ اَوۡلِیَآءَ مِنۡ دُوۡنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ وَمَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِکَ فَلَیۡسَ مِنَ اللّٰہِ فِیۡ شَیۡءٍ اِلَّاۤ اَنۡ تَتَّقُوۡا مِنۡہُمۡ تُقٰىۃً ؕ وَیُحَذِّرُکُمُ اللّٰہُ نَفۡسَہٗ ؕ وَاِلَی اللّٰہِ الۡمَصِیۡرُ ٢٨

লা-ইয়াত্তাখিযিল মু’মিনূনাল কা-ফিরীনা আওলিয়াআ মিন দূ নিল মু’মিমীনা ওয়া মাইঁ ইয়াফ‘আল যা-লিকা ফালাইছা মিনাল্লা-হি ফী শাইইন ইল্লাআন তাত্তাকূমিনহুম তুকা-তাওঁ ওয়া ইউহাযযিরুকুমুল্লা-হু নাফছাহূ ওয়া ইলাল্লা-হিল মাসীর।

মুমিনগণ যেন মুমিনদেরকে ছেড়ে কাফিরদেরকে (নিজেদের) মিত্র না বানায়। যে এরূপ করবে আল্লাহর সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। তবে তাদের (জুলুম) থেকে বাঁচার জন্য যদি আত্মরক্ষামূলক কোনও পন্থা অবলম্বন কর, ১১ সেটা ভিন্ন কথা। আল্লাহ তোমাদেরকে নিজ (শাস্তি) সম্পর্কে সাবধান করছেন আর তাঁরই দিকে (সকলকে) ফিরে যেতে হবে।

তাফসীরঃ

১১. ،ولى (বহুবচনে اولياء)-এর অর্থ করা হয়েছে ‘মিত্র ও সাহায্যকারী’। ওলী বা মিত্র বানানোকে ‘মুওয়ালাত’-ও বলা হয়। এর দ্বারা এমন বন্ধুত্ব ও আন্তরিক ভালোবাসাকে বোঝানো হয়, যার ফলে দু’জন লোকের জীবনের লক্ষ্য ও লাভ-লোকসান অভিন্ন হয়ে যায়। মুসলিমদের এ জাতীয় সম্পর্ক কেবল মুসলিমদের সাথেই হতে পারে। অমুসলিমদের সাথে এরূপ সম্পর্ক স্থাপন কঠিন পাপ। এ আয়াতে কঠোরভাবে তা নিষেধ করা হয়েছে। এই একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সূরা নিসা ( ৪ : ১৩৯, ১৪৪), সূরা মায়েদা (৫ : ৫১, ৫৭, ৮১), সূরা তাওবা (৯ : ২৩), সুরা মুজাদালা (৫৮ : ২২) ও সূরা মুমতাহিনায় (৬০ : ১)। অবশ্য যে অমুসলিম যুদ্ধরত নয়, তার সাথে সদাচরণ, সৌজন্যমূলক ব্যবহার ও তার কল্যাণ কামনা করা কেবল জায়েযই নয়, বরং এটাই কাম্য। যেমন কুরআন মাজীদেই সূরা মুমতাহানায় (৬০ : ৮) পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। গোটা জীবনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নীতি এটাই ছিল যে, এরূপ লোকদের সাথে তিনি সর্বদা সদয় আচরণ করেছেন। এমনিভাবে অমুসলিমদের সাথে এমন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতামূলক চুক্তি বা ব্যবসায়িক কারবারও করা যেতে পারে, যাকে অধূনা পরিভাষায় ‘মৈত্রী চুক্তি’ বলে। শর্ত হচ্ছে এরূপ চুক্তি ইসলাম ও মুসলিমদের স্বার্থবিরোধী হতে পারবে না এবং তাতে শরীয়তের পরিপন্থী কোন কর্মপন্থাও অবলম্বন করা যাবে না। খোদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরে সাহাবায়ে কিরাম এরূপ কারবার ও চুক্তি সম্পাদন করেছেন। কুরআন মাজীদ অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপনকে নিষেধ করে দেওয়ার পর যে ইরশাদ করেছে, ‘তবে তাদের (জুলুম) থেকে বাঁচার জন্য আত্মরক্ষামূলক কোন পন্থা অবলম্বন করলে সেটা ভিন্ন কথা’, এর অর্থ কাফিরদের জুলুম ও নিপীড়ন থেকে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে যদি এমন কোন পন্থা অবলম্বন করতে হয়, যা দ্বারা বাহ্যত মনে হয় তাদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করা হয়েছে, তবে তা করার অবকাশ আছে।
২৯

قُلۡ اِنۡ تُخۡفُوۡا مَا فِیۡ صُدُوۡرِکُمۡ اَوۡ تُبۡدُوۡہُ یَعۡلَمۡہُ اللّٰہُ ؕ وَیَعۡلَمُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ وَاللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ٢٩

কুল ইন তুখফু মা-ফী সুদূ রিকুম আও তুবদূ হু ইয়া‘লামহুল্লা-হু ওয়া ইয়া‘লামুমা-ফিছছামাওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদিওয়াল্লা-হু ‘আলা-কুল্লি শাইইন কাদীর।

(হে রাসূল! মানুষকে) বলে দাও, তোমাদের অন্তরে যা-কিছু আছে, তোমরা তা গোপন রাখ বা প্রকাশ কর, আল্লাহ তা অবগত আছেন এবং তিনি জানেন যা-কিছু আকাশমণ্ডল ও যমীনে আছে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
৩০

یَوۡمَ تَجِدُ کُلُّ نَفۡسٍ مَّا عَمِلَتۡ مِنۡ خَیۡرٍ مُّحۡضَرًا ۚۖۛ  وَّمَا عَمِلَتۡ مِنۡ سُوۡٓءٍ ۚۛ  تَوَدُّ لَوۡ اَنَّ بَیۡنَہَا وَبَیۡنَہٗۤ اَمَدًۢا بَعِیۡدًا ؕ  وَیُحَذِّرُکُمُ اللّٰہُ نَفۡسَہٗ ؕ  وَاللّٰہُ رَءُوۡفٌۢ بِالۡعِبَادِ ٪ ٣۰

ইয়াওমা তাজিদু কুল্লু নাফছিম মা-‘আমিলাত মিন খাইরিম মুহদারাও ওয়া-মা‘আমিলাত মিন ছূইন তাওয়াদ্দু লাও আন্না বাইনাহা-ওয়াবাইনাহূআমাদাম বা‘ঈদান ওয়া ইউহাযযিরুকুমুল্লা-হু নাফছাহু ওয়াল্লা-হু রাঊফুম বিল‘ইবা-দ।

(সেই দিনকে স্মরণ রেখ), যে দিন প্রত্যেকে যে যে ভালো কাজ করেছে তা সামনে উপস্থিত পাবে এবং যে মন্দ কাজ করেছে (তাও নিজের সামনে উপস্থিত দেখে) আকাঙ্ক্ষা করবে, তার ও সেই মন্দ কাজের মধ্যে যদি অনেক দূরের ব্যবধান থাকত! আল্লাহ তোমাদেরকে নিজ (শাস্তি) সম্পর্কে সাবধান করছেন। আর আল্লাহ নিজ বান্দাদের প্রতি অতি মমতাবান।
৩১

قُلۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تُحِبُّوۡنَ اللّٰہَ فَاتَّبِعُوۡنِیۡ یُحۡبِبۡکُمُ اللّٰہُ وَیَغۡفِرۡ لَکُمۡ ذُنُوۡبَکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٣١

কুল ইন কুনতুম তুহিববূনাল্লা-হা ফাত্তাবি‘ঊনী ইউহব্বিকুমুল্লা-হু ওয়াইয়াগফির লাকুম যুনূবাকুম ওয়াল্লা-হু গাফুরূর রাহীম।

(হে নবী! মানুষকে) বলে দাও, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবেসে থাক, তবে আমার অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ১২

তাফসীরঃ

১২. ইবনে কাছীর (রহ.) বলেন, এ আয়াত প্রমাণ করে, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভালোবাসে বলে দাবি করে, অথচ সে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তরীকা মত চলে না, সে ভালোবাসার মিথ্যুক দাবিদার। তার দাবি সত্য হবে তখনই, যখন সে তার যাবতীয় কথা ও কাজে মুহাম্মাদী শরীআতের অনুসারী হবে (-অনুবাদক, তাফসীরে ইবনে কাছীর থেকে)। একই কথা তাদের জন্যও প্রযোজ্য, যারা নবীপ্রেমের দাবি করে, অথচ তাঁর শরীআত ও সুন্নতের সাথে তাদের জীবনের কোন মিল পরিলক্ষিত হয় না। -অনুবাদক
৩২

قُلۡ اَطِیۡعُوا اللّٰہَ وَالرَّسُوۡلَ ۚ فَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَاِنَّ اللّٰہَ لَا یُحِبُّ الۡکٰفِرِیۡنَ ٣٢

কুল আতী‘উল্লা-হা ওয়ার রাছূলা ফাইন তাওয়াল্লাও ফাইন্নাল্লা-হা লা-ইউহিব্বুল কাফিরীন।

বলে দাও, আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য কর। তারপরও যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আল্লাহ কাফিরদেরকে পছন্দ করেন না।
৩৩

اِنَّ اللّٰہَ اصۡطَفٰۤی اٰدَمَ وَنُوۡحًا وَّاٰلَ اِبۡرٰہِیۡمَ وَاٰلَ عِمۡرٰنَ عَلَی الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ ٣٣

ইন্নাল্লা-হাসতাফা আ-দামা ওয়ানূহাওঁ ওয়াআ-লা ইবরা-হীমা ওয়াআ-লা ‘ইমরা-না ‘আলাল ‘আ-লামীন।

আল্লাহ আদম, নুহ, ইবরাহীমের বংশধরগণ ও ইমরানের বংশধরগণকে সমস্ত জগতের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।
৩৪

ذُرِّیَّۃًۢ بَعۡضُہَا مِنۡۢ بَعۡضٍ ؕ  وَاللّٰہُ سَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ ۚ ٣٤

যুররিইইয়াতাম বা‘দুহা-মিম বা‘দিন ওয়াল্লা-হু ছামী‘উন ‘আলীম।

এরা এমন বংশধর, যার সদস্যগণ (সৎকর্ম ও ইখলাসে) একে অন্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। ১৩ আর আল্লাহ (প্রত্যেকের কথা) শোনেন এবং (সবকিছু) জানেন।

তাফসীরঃ

১৩. আয়াতের এ তরজমা করা হয়েছে কাতাদা (রাযি.)-এর তাফসীরের উপর ভিত্তি করে (দেখুন রুহুল মাআনী, ৩য় খণ্ড, ১৭৬)। প্রকাশ থাকে যে, ইমরান যেমন হযরত মুসা আলাইহিস সালামের পিতার নাম ছিল, তেমনি হযরত মারয়াম আলাইহাস সালামেরও পিতার নাম। (উভয় ‘ইমরানের মধ্যে দীর্ঘকালের ব্যবধান। যামাখশারী বলেন, এক হাজার আটশ’ বছর) এস্থলে ইমরান দ্বারা উভয়ের যে কোনও একজনকে বোঝানো যেতে পারে। কিন্তু সামনে যেহেতু মারয়াম আলাইহাস সালামের ঘটনা আসছে, তাই এটাই বেশি পরিষ্কার যে, এস্থলে ইমরান বলতে হযরত মারয়াম আলাইহাস সালামের পিতাকে বোঝানোই উদ্দেশ্য।
৩৫

اِذۡ قَالَتِ امۡرَاَتُ عِمۡرٰنَ رَبِّ اِنِّیۡ نَذَرۡتُ لَکَ مَا فِیۡ بَطۡنِیۡ مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلۡ مِنِّیۡ ۚ اِنَّکَ اَنۡتَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ ٣٥

ইযকা-লাতিম রাআতু‘ইমরা-না রাব্বি ইন্নী নাযারতুলাকা মা-ফী বাতনী মুহাররারান ফাতাকাব্বাল মিন্নী ইন্নাকা আনতাছ ছামী‘উল ‘আলীম।

(সুতরাং দু‘আ শ্রবণ-সংক্রান্ত সেই ঘটনা স্মরণ কর) যখন ইমরানের স্ত্রী বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার গর্ভে যে শিশু আছে, তাকে সকল কাজ থেকে মুক্ত রেখে তোমার জন্য উৎসর্গ করলাম। ১৪ সুতরাং তুমি আমার পক্ষ হতে তা কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি (সকল কিছু) শোন ও (সকল বিষয়ে) জান।

তাফসীরঃ

১৪. অর্থাৎ যে পার্থিব সকল কাজকর্ম হতে মুক্ত থেকে কেবল তোমার ইবাদত-বন্দেগী ও ইবাদতখানা (বায়তুল-মুকাদ্দাস)-এর সেবায় নিয়োজিত থাকবে। -অনুবাদক
৩৬

فَلَمَّا وَضَعَتۡہَا قَالَتۡ رَبِّ اِنِّیۡ وَضَعۡتُہَاۤ اُنۡثٰی ؕ وَاللّٰہُ اَعۡلَمُ بِمَا وَضَعَتۡ ؕ وَلَیۡسَ الذَّکَرُ کَالۡاُنۡثٰی ۚ وَاِنِّیۡ سَمَّیۡتُہَا مَرۡیَمَ وَاِنِّیۡۤ اُعِیۡذُہَا بِکَ وَذُرِّیَّتَہَا مِنَ الشَّیۡطٰنِ الرَّجِیۡمِ ٣٦

ফালাম্মা-ওয়াদা‘আতহা-কালাত রাব্বি ইন্নী ওয়াদা‘তুহা উনছা-ওয়াল্লা-হু আ‘লামু বিমা-ওয়াদা‘আত ওয়ালাইছাযযাকারু কালউনছা-ওয়া ইন্নী ছাম্মাইতুহা-মারইয়ামা ওয়া ইন্নী উ‘ঈযুহা-বিকা ওয়া যুররিইইয়াতাহা-মিনাশশাইতানির রাজীম।

অতঃপর যখন তার কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করল তখন সে (আক্ষেপ করে) বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি যে কন্যা সন্তান জন্ম দিলাম! ১৫ অথচ আল্লাহ ভালো করেই জানেন, তার কী জন্ম নিয়েছে। আর ‘ছেলে তো মেয়ের মত হয় না’। ১৬ আমি তার নাম রাখলাম মারয়াম এবং তাকে ও তার বংশধরগণকে অভিশপ্ত শয়তান থেকে হেফাজতের জন্য তোমার আশ্রয়ে অর্পণ করলাম।

তাফসীরঃ

১৫. তাঁর এ আক্ষেপের কারণ, তিনি যে কাজের জন্য মানত করেছিলেন, তখনকার রেওয়াজ অনুযায়ী কন্যা সন্তানকে সেজন্য গ্রহণ করা হত না। -অনুবাদক
৩৭

فَتَقَبَّلَہَا رَبُّہَا بِقَبُوۡلٍ حَسَنٍ وَّاَنۡۢبَتَہَا نَبَاتًا حَسَنًا ۙ وَّکَفَّلَہَا زَکَرِیَّا ۚؕ کُلَّمَا دَخَلَ عَلَیۡہَا زَکَرِیَّا الۡمِحۡرَابَ ۙ وَجَدَ عِنۡدَہَا رِزۡقًا ۚ قَالَ یٰمَرۡیَمُ اَنّٰی لَکِ ہٰذَا ؕ قَالَتۡ ہُوَ مِنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَرۡزُقُ مَنۡ یَّشَآءُ بِغَیۡرِ حِسَابٍ ٣٧

ফাতাকাব্বালাহা-রাব্বুহা-বিকাবূলিন হাছানিওঁ ওয়া আম্বাতাহা-নাবাতান হাছানাওঁ ওয়াকাফফালাহা-ঝাকারিইইয়া-কুল্লামা-দাখালা ‘আলাইহা-ঝাকারিইইয়াল মিহরা-বা ওয়াজাদা ‘ইনদাহা-রিঝকান কা-লা ইয়া-মারইয়ামুআন্না-লাকি হা-যা-কা লাত হুওয়া মিন ‘ইনদিল্লা-হি ইন্নাল্লা-হা ইয়ারঝুকুমাইঁ ইয়াশাউ বিগাইরি হিছা-ব।

সুতরাং তার প্রতিপালক তাকে (মারয়ামকে) উত্তমভাবে কবুল করলেন এবং তাকে উৎকৃষ্ট পন্থায় প্রতিপালন করলেন। আর যাকারিয়া তার তত্ত্বাবধায়ক হল। ১৭ যখনই যাকারিয়া তার কাছে তার ইবাদতখানায় যেত, তার কাছে কোন রিযক পেত। সে জিজ্ঞেস করল, মারয়াম! তোমার কাছে এসব জিনিস কোথা থেকে আসে? সে বলল, এটা আল্লাহর নিকট থেকে। আল্লাহ যাকে চান অপরিমিত রিযক দান করেন।

তাফসীরঃ

১৭. হযরত ইমরান ছিলেন বায়তুল মুকাদ্দাসের ইমাম। তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল হান্না। তাঁর কোন ছেলে-মেয়ে ছিল না। তাই তিনি মানত করেছিলেন, তাঁর কোন সন্তান হলে তাকে বায়তুল মুকাদ্দাসের খেদমত করার জন্য উৎসর্গ করবেন। অতঃপর হযরত মারয়ামের জন্ম হল, কিন্তু তাঁর জন্মের আগেই তাঁর পিতার ইন্তিকাল হয়ে যায়। হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম ছিলেন হান্নার ভগ্নিপতি এবং মারয়ামের খালু। হযরত মারয়ামের তত্ত্বাবধান করার অধিকার কে পাবে তার মীমাংসার্থে যখন লটারি করা হয়, তখন সে লটারিতে হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালামের নাম উঠল। এ সূরাতেই সামনে ৪৪নং আয়াতে এ বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে।
৩৮

ہُنَالِکَ دَعَا زَکَرِیَّا رَبَّہٗ ۚ قَالَ رَبِّ ہَبۡ لِیۡ مِنۡ لَّدُنۡکَ ذُرِّیَّۃً طَیِّبَۃً ۚ اِنَّکَ سَمِیۡعُ الدُّعَآءِ ٣٨

হুনা-লিকা দা‘আ- ঝাকারিইইয়া-রাব্বাহূ কা-লা রাব্বি হাবলী মিল্লাদুনকা যুররিইইয়াতান তাইয়িবাতান ইন্নাকা ছামী‘উদ্দু‘আই।

এ সময় যাকারিয়া স্বীয় প্রতিপালকের কাছে দু‘আ করল। বলতে লাগল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তোমার নিকট হতে কোন পবিত্র সন্তান দান কর। নিশ্চয়ই তুমি দু‘আ শ্রবণকারী। ১৮

তাফসীরঃ

১৮. আল্লাহ তাআলার কুদরতে হযরত মারয়াম আলাইহাস সালামের নিকট অসময়ের ফল আসত। হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম যখন এটা দেখলেন তখন তাঁর খেয়াল হল যে, যেই আল্লাহ মারয়ামকে অসময়ে ফল দিয়ে থাকেন, তিনি আমাকে এ বৃদ্ধ বয়সে সন্তানও দান করতে পারেন। এ কথা খেয়াল হতেই তিনি আয়াতে বর্ণিত দু‘আটি করলেন।
৩৯

فَنَادَتۡہُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ وَہُوَ قَآئِمٌ یُّصَلِّیۡ فِی الۡمِحۡرَابِ ۙ اَنَّ اللّٰہَ یُبَشِّرُکَ بِیَحۡیٰی مُصَدِّقًۢا بِکَلِمَۃٍ مِّنَ اللّٰہِ وَسَیِّدًا وَّحَصُوۡرًا وَّنَبِیًّا مِّنَ الصّٰلِحِیۡنَ ٣٩

ফানা-দাতহুল মালাইকাতু ওয়া হুওয়া কাইমুইঁ ইউসাললী ফিল মিহরা-বি আন্নাল্লা-হা ইউবাশশিরুকা বিইয়াহইয়া-মুসাদ্দিকাম বিকালিমাতিম মিনাল্লা-হি ওয়া ছাইয়িদাওঁ ওয়াহাসূরাওঁ ওয়ানাবিইয়াম মিনাসসা-লিহীন।

সুতরাং (একদা) যাকারিয়া যখন ইবাদতখানায় সালাত আদায় করছিলেন, তখন ফিরিশতাগণ তাঁকে ডাক দিয়ে বলল, আল্লাহ আপনাকে ইয়াহইয়া (-এর জন্ম) সম্পর্কে সুসংবাদ দিচ্ছেন, (যিনি জন্মগ্রহণ করবেন) আল্লাহর এক কালিমার সমর্থকরূপে, ১৯ যিনি হবেন মানুষের নেতা, জিতেন্দ্রিয়, ২০ এবং পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত একজন নবী।

তাফসীরঃ

১৯. ‘আল্লাহর কালিমা’ দ্বারা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে বোঝানো হয়েছে, যেমন এ সূরার শুরুতে স্পষ্ট করা হয়েছে। তাঁকে আল্লাহর কালিমা বলা হয় এ কারণে যে, তিনি বিনা পিতায় কেবল আল্লাহ তাআলার ‘কুন’ (হও) কালিমা (শব্দ) দ্বারা সৃষ্ট। হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালামের জন্ম হয়েছিল তাঁর আগে। ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম তাঁর আগমনের তাসদীক করেছিলেন।
৪০

قَالَ رَبِّ اَنّٰی یَکُوۡنُ لِیۡ غُلٰمٌ وَّقَدۡ بَلَغَنِیَ الۡکِبَرُ وَامۡرَاَتِیۡ عَاقِرٌ ؕ قَالَ کَذٰلِکَ اللّٰہُ یَفۡعَلُ مَا یَشَآءُ ٤۰

কালা রাব্বি আন্না-ইয়াকূনু লী গুলা-মুওঁ ওয়াকাদ বালাগানিইয়াল কিবারু ওয়ামরাআতী ‘আ-কিরুন কা-লা কাযা-লিকাল্লা-হু ইয়াফ‘আলুমা-ইয়াশাউ।

যাকারিয়া বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার পুত্র সন্তান জন্ম নেবে কিভাবে, যখন আমার বার্ধক্য এসে পড়েছে এবং আমার স্ত্রীও বন্ধ্যা? ২১ আল্লাহ বললেন, এভাবেই! আল্লাহ যা চান করেন।

তাফসীরঃ

২১. যেহেতু হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম নিজেই সন্তান প্রার্থনা করেছিলেন, তাই তাঁর এ জিজ্ঞাসা কোনও রকমের অবিশ্বাসের কারণে ছিল না; বরং এক অস্বাভাবিক নিয়ামতের সংবাদ শুনে কৌতূহল প্রকাশ করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে এটাও কৃতজ্ঞতার এক ধরন। তাছাড়া তাঁর এ জিজ্ঞাসার মর্ম এটাও হতে পারে যে, আমার পুত্র সন্তান কি আমার এ বার্ধক্য অবস্থায়ই হবে, নাকি আমার যৌবন ফিরিয়ে দেওয়া হবে? আল্লাহ তাআলা উত্তরে জানিয়ে দিলেন, এভাবেই। অর্থাৎ তোমার এ বৃদ্ধ অবস্থায়ই পুত্র সন্তান জন্ম নেবে।
৪১

قَالَ رَبِّ اجۡعَلۡ لِّیۡۤ اٰیَۃً ؕ  قَالَ اٰیَتُکَ اَلَّا تُکَلِّمَ النَّاسَ ثَلٰثَۃَ اَیَّامٍ اِلَّا رَمۡزًا ؕ  وَاذۡکُرۡ رَّبَّکَ کَثِیۡرًا وَّسَبِّحۡ بِالۡعَشِیِّ وَالۡاِبۡکَارِ ٪ ٤١

কা-লা রাব্বিজ ‘আললীআ-য়াতান কা-লা আ-য়াতুকা আল্লা-তুকালিলমান্না-ছা ছালাছাতা আইয়া-মিন ইল্লা-রামঝাওঁ ওয়াযকুর রাব্বাকা কাছীরা ওঁছাব্বিহবিল‘আশিইয়ি ওয়াল ইবকা-র।

সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার জন্য কোন নিদর্শন স্থির করে দিন। আল্লাহ বললেন, তোমার নিদর্শন এই যে, তুমি তিন দিন পর্যন্ত মানুষের সাথে ইশারা ব্যতিরেকে কোনও কথা বলতে পারবে না। ২২ এবং তুমি স্বীয় প্রতিপালকের অধিক পরিমাণে যিকির করতে থাক, আর তার তাসবীহ পাঠ কর বিকাল বেলায় ও ঊষাকালে।

তাফসীরঃ

২২. হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালামের উদ্দেশ্য ছিল এই যে, আমাকে এমন কোন আলামত বলে দিন, যা দ্বারা আমি গর্ভ ধারণের বিষয়টি বুঝতে পারব, যাতে আমি শুকর আদায়ে মশগুল হতে পারি। আল্লাহ তাআলা আলামত বলে দিলেন যে, তোমার স্ত্রীর যখন গর্ভ সঞ্চার হবে তখন তোমার ভেতর এক অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হবে, যদ্দরুণ তুমি আল্লাহ তাআলার যিকির ও তাসবীহ ছাড়া কোনও রকমের কথাবার্তা বলতে পারবে না। কোন কথা বলার প্রয়োজন দেখা দিলে তা কেবল ইশারাতেই বলতে হবে।
৪২

وَاِذۡ قَالَتِ الۡمَلٰٓئِکَۃُ یٰمَرۡیَمُ اِنَّ اللّٰہَ اصۡطَفٰکِ وَطَہَّرَکِ وَاصۡطَفٰکِ عَلٰی نِسَآءِ الۡعٰلَمِیۡنَ ٤٢

ওয়া ইয কা-লাতিল মালাইকাতুইয়া-মারইয়ামু ইন্নাল্লা-হাসতাফা-কি ওয়া তাহহারাকি ওয়াসতাফা-কি ‘আলা-নিছাইল ‘আ-লামীন।

এবং (এবার সেই সময়কার বিবরণ শোন) যখন ফিরিশতাগণ বলেছিল, হে মারয়াম! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে বেছে নিয়েছেন, তোমাকে পবিত্রতা দান করেছেন এবং বিশ্বের সমস্ত নারীর মধ্যে তোমাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
৪৩

یٰمَرۡیَمُ اقۡنُتِیۡ لِرَبِّکِ وَاسۡجُدِیۡ وَارۡکَعِیۡ مَعَ الرّٰکِعِیۡنَ ٤٣

ইয়া-মারইয়ামুকনুতী লিরাব্বিকি ওয়াছজুদী ওয়ারকা‘ঈ মা‘আররা-কি‘ঈন।

হে মারয়াম! তুমি নিজ প্রতিপালকের ইবাদতে মশগুল থাক এবং সিজদা কর ও রুকূকারীদের সাথে রুকূও কর।
৪৪

ذٰلِکَ مِنۡ اَنۡۢبَآءِ الۡغَیۡبِ نُوۡحِیۡہِ اِلَیۡکَ ؕ وَمَا کُنۡتَ لَدَیۡہِمۡ اِذۡ یُلۡقُوۡنَ اَقۡلَامَہُمۡ اَیُّہُمۡ یَکۡفُلُ مَرۡیَمَ ۪ وَمَا کُنۡتَ لَدَیۡہِمۡ اِذۡ یَخۡتَصِمُوۡنَ ٤٤

যা-লিকা মিন আমবাইল গাইবি নূহীহি ইলাইকা ওয়ামা-কুনতা লাদাইহিম ইয ইউলকূনা আকলা-মাহুম আইয়ুহুম ইয়াকফুলু মারইয়ামা ওয়ামা-কুনতা লাদাইহিম ইযইয়াখতাসিমূন।

(হে নবী!) এসব অদৃশ্যের সংবাদ, যা ওহীর মাধ্যমে তোমাকে দিচ্ছি। তখন তুমি তাদের কাছে ছিলে না, যখন কে মারয়ামের তত্ত্বাবধান করবে (এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য) তারা নিজ-নিজ কলম নিক্ষেপ করছিল। ২৩ এবং তখনও তুমি তাদের কাছে ছিলে না, যখন তারা (এ বিষয়ে) একে অন্যের সাথে বাদানুবাদ করছিল।

তাফসীরঃ

২৩. পূর্বে ৩৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে যে, হযরত মারয়াম আলাইহাস সালামের পিতার মৃত্যুর পর তার লালন-পালনের ভার গ্রহণ সম্পর্কে বিরোধ দেখা দিয়েছিল এবং তার মীমাংসা করা হয়েছিল লটারির মাধ্যমে। সে কালে লটারি করা হত কলমের মাধ্যমে। তাই এস্থলে কলম নিক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (প্রত্যেকে নিজ-নিজ কলম, যা দ্বারা তাওরাত লেখা হত, পানিতে নিক্ষেপ করল। যার কলম স্রোতে ভেসে যাবে না, বরং উল্টোদিকে চলবে, সেই লটারি জিতেছে বলে ধরে নেওয়া হবে। দেখা গেল, সকলের কলম ভেসে গেছে, কিন্তু হযরত যাকারিয়া (আ.)-এরটি নয়। এভাবে তিনি হযরত মারয়ামের তত্ত্বাবধান করার অধিকার লাভ করলেন। -অনুবাদক)
৪৫

اِذۡ قَالَتِ الۡمَلٰٓئِکَۃُ یٰمَرۡیَمُ اِنَّ اللّٰہَ یُبَشِّرُکِ بِکَلِمَۃٍ مِّنۡہُ ٭ۖ  اسۡمُہُ الۡمَسِیۡحُ عِیۡسَی ابۡنُ مَرۡیَمَ وَجِیۡہًا فِی الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ وَمِنَ الۡمُقَرَّبِیۡنَ ۙ ٤٥

ইযকা-লাতিল মালাইকাতুইয়া-মারইয়ামুইন্নাল্লা-হা ইউবাশশিরুকি বিকালিমাতিম মিনহু ছমুহুল মাছীহু‘ঈছাবনুমারইয়ামা ওয়াজীহান ফিদ্দুনইয়া-ওয়াল আ-খিরাতি ওয়া মিনাল মুকাররাবীন।

(সেই সময়ের কথাও স্মরণ কর) যখন ফিরিশতাগণ বলেছিল, হে মারয়াম! আল্লাহ তোমাকে নিজের এক কালিমার (জন্মগ্রহণের) সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম হবে মাসীহ ঈসা ইবনে মারয়াম, ২৪ যে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানে মর্যাদাবান হবে এবং (আল্লাহর) নিকটতম বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

তাফসীরঃ

২৪. হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে ‘আল্লাহর কালিমা’ বলার ‘কারণ’ পূর্বে ১৯ নং টীকায় বলা হয়েছে।
৪৬

وَیُکَلِّمُ النَّاسَ فِی الۡمَہۡدِ وَکَہۡلًا وَّمِنَ الصّٰلِحِیۡنَ ٤٦

ওয়া ইউকালিলমুন্না-ছা ফিল মাহদি ওয়া কাহলাওঁ ওয়া মিনাসসা-লিহীন।

এবং সে দোলনায়ও মানুষের সাথে কথা বলবে ২৫ এবং পূর্ণ বয়সেও, আর সে হবে পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত।

তাফসীরঃ

২৫. হযরত মারয়াম আলাইহাস সালামের চারিত্রিক পবিত্রতা স্পষ্ট করার লক্ষ্যে আল্লাহ তাআলা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে অলৌকিকভাবে সেই সময় কথা বলার শক্তি দান করেছিলেন, যখন তিনি ছিলেন দুধের শিশু। সূরা মারয়ামের (১৯ : ২৯-৩৩)নং আয়াতে এটা বর্ণিত হয়েছে।
৪৭

قَالَتۡ رَبِّ اَنّٰی یَکُوۡنُ لِیۡ وَلَدٌ وَّلَمۡ یَمۡسَسۡنِیۡ بَشَرٌ ؕ قَالَ کَذٰلِکِ اللّٰہُ یَخۡلُقُ مَا یَشَآءُ ؕ اِذَا قَضٰۤی اَمۡرًا فَاِنَّمَا یَقُوۡلُ لَہٗ کُنۡ فَیَکُوۡنُ ٤٧

কা-লাত রাব্বি আন্না-ইয়াকূনু লী ওয়ালাদদুওঁ ওয়া লাম ইয়ামছাছনী বাশারুন কা-লা কাযা-লিকিল্লা-হু ইয়াখলুকুমা-ইয়াশা-উ ইযা-কাদা-আমরান ফাইন্নামা-ইয়াকূলু লাহু কুন ফাইয়াকূন।

মারয়াম বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার কিভাবে পুত্র জন্ম নেবে, যখন কোন পুরুষ আমাকে স্পর্শ পর্যন্ত করেনি? আল্লাহ বললেন, এভাবেই আল্লাহ যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যখন কোন কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তার জন্য কেবল বলেন, ‘হয়ে যাও’। ফলে তা হয়ে যায়।
৪৮

وَیُعَلِّمُہُ الۡکِتٰبَ وَالۡحِکۡمَۃَ وَالتَّوۡرٰىۃَ وَالۡاِنۡجِیۡلَ ۚ ٤٨

ওয়া ইউ‘আলিলমুহুল কিতা-বা ওয়াল হিকমাতা ওয়াত্তাওরা-তা ওয়ালইনজীল।

এবং তিনি (আল্লাহ) তাঁকে (অর্থাৎ ঈসা ইবনে মারয়ামকে) কিতাব ও হিকমত এবং তাওরাত ও ইনজীল শিক্ষা দান করবেন।
৪৯

وَرَسُوۡلًا اِلٰی بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ۬ۙ  اَنِّیۡ قَدۡ جِئۡتُکُمۡ بِاٰیَۃٍ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ ۙ  اَنِّیۡۤ اَخۡلُقُ لَکُمۡ مِّنَ الطِّیۡنِ کَہَیۡـَٔۃِ الطَّیۡرِ فَاَنۡفُخُ فِیۡہِ فَیَکُوۡنُ طَیۡرًۢا بِاِذۡنِ اللّٰہِ ۚ  وَاُبۡرِیٴُ الۡاَکۡمَہَ وَالۡاَبۡرَصَ وَاُحۡیِ الۡمَوۡتٰی بِاِذۡنِ اللّٰہِ ۚ  وَاُنَبِّئُکُمۡ بِمَا تَاۡکُلُوۡنَ وَمَا تَدَّخِرُوۡنَ ۙ  فِیۡ بُیُوۡتِکُمۡ ؕ  اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ۚ ٤٩

ওয়া রাছূলান ইলা-বানীইছরাঈলা আন্নী কাদ জি’তুকুম বিআ-য়াতিম মিররাব্বিকুম আন্নী-আখলুকুলাকুম মিনাত্তীনি কাহাইআতিত্তাইরি ফাআনফুখু ফীহি ফাইয়াকূনু তাইরাম বিইযনিল্লা-হি ওয়াউবরিউল আকমাহা ওয়াল আবরাসা ওয়া উহয়িল মাওতাবিইযনিল্লা-হি ওয়া উনাব্বিউকুম বিমা-তা’কুলূনা ওয়ামা-তাদ্দাখিরূনা ফী বুইঊতিকুম ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাল্লাকুম ইন কুনতুম ম’ুমিনীন।

এবং তাঁকে বনী ইসরাঈলের নিকট রাসূল বানিয়ে পাঠাবেন। (সে মানুষকে বলবে), আমি তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে নিদর্শন নিয়ে এসেছি, (আর সে নিদর্শন এই) যে, আমি তোমাদের সামনে কাদা দ্বারা এক পাখির আকৃতি তৈরি করব, তারপর তাতে ফু দেব, ফলে তা আল্লাহর হুকুমে পাখি হয়ে যাবে এবং আমি আল্লাহর হুকুমে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে নিরাময় করে দেব, মৃতদেরকে জীবিত করব আল্লাহর হুকুমে এবং তোমরা নিজ গৃহে যা খাও কিংবা মওজুদ কর, তা সব তোমাদেরকে জানিয়ে দেব। ২৬ তোমরা মুমিন হয়ে থাকলে এসব বিষয়ের মধ্যে তোমাদের জন্য (যথেষ্ট) নিদর্শন রয়েছে।

তাফসীরঃ

২৬. এগুলো ছিল মুজিযা, যা আল্লাহ তাআলা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে তাঁর নবুওয়াতের নিদর্শনস্বরূপ দান করেছিলেন এবং তিনি এগুলো করে দেখিয়েছিলেন। (এর প্রত্যেকটিতেই তিনি মাধ্যম মাত্র, প্রকৃত কর্তা আল্লাহ তাআলাই, যে কারণে তিনি প্রত্যেকটি কাজে بِاِذْنِ الله (আল্লাহর হুকুম) কথাটি যোগ করে দিয়েছেন, যাতে কেউ তার প্রতি ঈশ্বরত্ব আরোপ করে শিরকে লিপ্ত না হয়ে পড়ে, যেমনটা সেন্ট পৌলের অনুসারী বর্তমান খৃস্টান সম্প্রদায় হয়ে পড়েছে। -অনুবাদক)
৫০

وَمُصَدِّقًا لِّمَا بَیۡنَ یَدَیَّ مِنَ التَّوۡرٰىۃِ وَلِاُحِلَّ لَکُمۡ بَعۡضَ الَّذِیۡ حُرِّمَ عَلَیۡکُمۡ وَجِئۡتُکُمۡ بِاٰیَۃٍ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ ۟ فَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوۡنِ ٥۰

ওয়া মুসাদ্দিকালিল মা-বাইনা ইয়াদাইয়া মিনাত্তাওরা-তি ওয়া লিউহিল্লা লাকুম বা‘দাল্লাযী হূররিমা ‘আলাইকুম ওয়া জি’তুকুম বিআ-য়াতিম মির রাব্বিকুম ফাত্তাকুল্লা-হা, ওয়া আতী‘ঊন।

এবং আমার পূর্বে যে কিতাব এসেছে অর্থাৎ তাওরাত, আমি তার সমর্থনকারী এবং (আমাকে এজন্য পাঠানো হয়েছে) যাতে তোমাদের প্রতি যা হারাম করা হয়েছে, তন্মধ্যে কিছু জিনিস তোমাদের জন্য হালাল করি ২৭ এবং আমি তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার কথা মান।

তাফসীরঃ

২৭. হযরত মূসা আলাইহিস সালামের শরীয়তে বনী ইসরাঈলের প্রতি কিছু জিনিস, যেমন উটের গোশত, চর্বি, কোন কোন মাছ ও কয়েক প্রকার পাখি হারাম করা হয়েছিল। হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের শরীয়তে সেগুলোকে হালাল করে দেওয়া হয়।
৫১

اِنَّ اللّٰہَ رَبِّیۡ وَرَبُّکُمۡ فَاعۡبُدُوۡہُ ؕ ہٰذَا صِرَاطٌ مُّسۡتَقِیۡمٌ ٥١

ইন্নাল্লা-হা রাববী ওয়া রাব্বুকুম ফা‘বুদূ হু হা-যা-সিরা-তুম মুছতাকীম।

নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার প্রতিপালক এবং তোমারদেরও প্রতিপালক। এটাই সরল পথ (যে,) তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে।
৫২

فَلَمَّاۤ اَحَسَّ عِیۡسٰی مِنۡہُمُ الۡکُفۡرَ قَالَ مَنۡ اَنۡصَارِیۡۤ اِلَی اللّٰہِ ؕ قَالَ الۡحَوَارِیُّوۡنَ نَحۡنُ اَنۡصَارُ اللّٰہِ ۚ اٰمَنَّا بِاللّٰہِ ۚ وَاشۡہَدۡ بِاَنَّا مُسۡلِمُوۡنَ ٥٢

ফালাম্মাআহাছছা ‘ঈছা-মিনহুমুল কুফরা কা-লা মান আনসা-রীইলাল্লা-হি কা-লাল হাওয়া-রিইয়ূনা নাহনু আনসা-রুল্লা-হি আ-মান্না-বিল্লাহি ওয়াশহাদ বিআন্না-মুছলিমূন।

অতঃপর ঈসা যখন উপলব্ধি করল তাদের কুফর, তখন সে (তার অনুসারীদেরকে) বলল, ‘কে কে আছে, যারা আল্লাহর পথে আমার সাহায্যকারী হবে’? হাওয়ারীগণ ২৮ বলল, আমরা আল্লাহর (দীনের) সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা অনুগত। ২৯

তাফসীরঃ

২৮. হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের সাহাবীদেরকে হাওয়ারী বলা হয়।
৫৩

رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا بِمَاۤ اَنۡزَلۡتَ وَاتَّبَعۡنَا الرَّسُوۡلَ فَاکۡتُبۡنَا مَعَ الشّٰہِدِیۡنَ ٥٣

রাব্বানাআ-মান্নাবিমাআনঝালতা ওয়াত্তবা‘নার রাছূলা ফাকতুবনা-মা‘আশশা-হিদীন।

হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি যা-কিছু নাযিল করেছেন আমরা তাতে ঈমান এনেছি এবং আমরা রাসূলের অনুসরণ করেছি। সুতরাং আমাদেরকে সেই সকল লোকের মধ্যে লিখে নিন, যারা (সত্যের) সাক্ষ্যদাতা।
৫৪

وَمَکَرُوۡا وَمَکَرَ اللّٰہُ ؕ  وَاللّٰہُ خَیۡرُ الۡمٰکِرِیۡنَ ٪ ٥٤

ওয়ামাকারু ওয়া মাকারাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু খাইরুল মা-কিরীন।

আর কাফিরগণ (ঈসা আলাইহিস সালামের বিরুদ্ধে) গুপ্ত কৌশল অবলম্বন করল ৩০ এবং আল্লাহও গুপ্ত কৌশল করলেন। বস্তুত আল্লাহ সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কৌশলী।

তাফসীরঃ

৩০. তারা এই বলে ঈসা (আ.)-এর বিরুদ্ধে রাজার কান ভারী করল যে, সে একজন ধর্মদ্রোহী, সে তাওরাত কিতাবকে বদলাতে চায়। এক সময় সে সবাইকে বেদীন বানিয়ে ছাড়বে। শেষে রাজা তাকে গ্রেপ্তার করার হুকুম দিল। তাদের এ ষড়যন্ত্রের বিপরীতে আল্লাহ তা‘আলা যে কৌশল অবলম্বন করেছিলেন, পরের আয়াতে সেদিকে ইশারা করা হয়েছে। -অনুবাদক
৫৫

اِذۡ قَالَ اللّٰہُ یٰعِیۡسٰۤی اِنِّیۡ مُتَوَفِّیۡکَ وَرَافِعُکَ اِلَیَّ وَمُطَہِّرُکَ مِنَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَجَاعِلُ الَّذِیۡنَ اتَّبَعُوۡکَ فَوۡقَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ ۚ ثُمَّ اِلَیَّ مَرۡجِعُکُمۡ فَاَحۡکُمُ بَیۡنَکُمۡ فِیۡمَا کُنۡتُمۡ فِیۡہِ تَخۡتَلِفُوۡنَ ٥٥

ইযকা-লাল্লা-হু ইয়া-‘ঈছা-ইন্নী মুতাওয়াফফীকা ওয়ারা-ফি‘উকা ইলাইইয়া ওয়ামুতাহহিরুকা মিনাল্লাযীনা কাফারু ওয়া জা-‘ইলুল্লায ীনাত্তাবা‘ঊকা ফাওকাল্লাযীনা কাফারূ ইলা-ইয়াওমিল কিয়া-মাতি ছু ম্মা ইলাইইয়া মারজি‘উকুম ফাআহকুমু বাইনাকুম ফীমা-কুনতুম ফীহি তাখতালিফূন।

(তাঁর কৌশল সেই সময় প্রকাশ পেল) যখন আল্লাহ বলেছিলেন, হে ঈসা! আমি তোমাকে (সহি-সালামতে) ফেরত নিয়ে নেব, ৩১ তোমাকে নিজের কাছে তুলে নেব এবং যারা কুফরী অবলম্বন করেছে তাদের (উৎপীড়ন) থেকে তোমাকে মুক্ত করব, আর যারা তোমার অনুসরণ করেছে তাদেরকে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত সেই সকল লোকের উপর প্রবল রাখব, যারা (তোমাকে) অস্বীকার করেছে। ৩২ তারপর তোমাদের সকলকে আমার কাছে ফিরে আসতে হবে। তখন আমি তোমাদের মধ্যে সেই বিষয়ে মীমাংসা করব, যা নিয়ে তোমরা বিরোধ করতে।

তাফসীরঃ

৩১. শত্রুগণ হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে শূলে চড়ানোর ষড়যন্ত্র এঁটেছিল। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁকে আসমানে তুলে নেন এবং যারা তাঁকে গ্রেফতার করতে এসেছিল তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে তাঁর সদৃশ বানিয়ে দেন। শত্রুগণ হযরত ঈসা মনে করে তাকেই শূলে চড়ায়। আয়াতের যে তরজমা করা হয়েছে তার ভিত্তি متوفيك.-এর আভিধানিক অর্থের উপর। মুফাসসিরদের একটি বড় দল এস্থলে এ অর্থই গ্রহণ করেছেন। শব্দটির আরও একটি ব্যাখ্যা করা সম্ভব, যা হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকেও বর্ণিত আছে। তার জন্য দেখুন মাআরিফুল কুরআন ২য় খণ্ড, ৭৪ পৃষ্ঠা।
৫৬

فَاَمَّا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فَاُعَذِّبُہُمۡ عَذَابًا شَدِیۡدًا فِی الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ ۫ وَمَا لَہُمۡ مِّنۡ نّٰصِرِیۡنَ ٥٦

ফাআম্মাল্লাযীনা কাফারূফাউ‘আযযিবুহুম ‘আযা-বান শাদীদান ফিদ্দুনইয়া-ওয়াল আখিরাতি ওয়ামা-লাহুম মিন না-সিরীন।

সুতরাং যারা কুফরী অবলম্বন করেছে তাদেরকে তো আমি দুনিয়া ও আখিরাতে কঠিন শাস্তি দেব এবং তাদের কোনও রকমের সাহায্যকারী লাভ হবে না।
৫৭

وَاَمَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فَیُوَفِّیۡہِمۡ اُجُوۡرَہُمۡ ؕ وَاللّٰہُ لَا یُحِبُّ الظّٰلِمِیۡنَ ٥٧

ওয়া আম্মাল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ফাইউওয়াফফীহিম উজুরাহুম ওয়াল্লা-হু লা-ইউহিব্বুজ্জা-লিমীন।

আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদেরকে আল্লাহ তাদের পরিপূর্ণ সওয়াব দান করবেন। আল্লাহ জালিমদেরকে ভালোবাসেন না।
৫৮

ذٰلِکَ نَتۡلُوۡہُ عَلَیۡکَ مِنَ الۡاٰیٰتِ وَالذِّکۡرِ الۡحَکِیۡمِ ٥٨

যা-লিকা নাতলূহু ‘আলাইকা মিনাল আ-য়া-তি ওয়াযযিকরিল হাকীম।

(হে নবী!) এসব এমন আয়াত ও সারগর্ভ উপদেশ, যা আমি তোমাকে পড়ে শোনাচ্ছি।
৫৯

اِنَّ مَثَلَ عِیۡسٰی عِنۡدَ اللّٰہِ کَمَثَلِ اٰدَمَ ؕ خَلَقَہٗ مِنۡ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَہٗ کُنۡ فَیَکُوۡنُ ٥٩

ইন্না মাছালা ‘ঈছা-‘ইনদাল্লা-হি কামাছালি আ-দামা খালাকাহু মিন তুরা-বিন ছু ম্মা কা-লা লাহু কুন ফাইয়াকূন।

আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মত। আল্লাহ তাঁকে মাটি হতে সৃষ্টি করেন, তারপর তাকে বলেন, ‘হয়ে যাও’। ফলে সে হয়ে যায়। ৩৩

তাফসীরঃ

৩৩. খৃস্টানদের দাবি ছিল পিতা ছাড়া সন্তান হতে পারে না, কাজেই হযরত ঈসা (আ)-এর যখন কোন মানব-পিতা নেই, তখন আল্লাহ তা‘আলাই তার পিতা এবং তিনি আল্লাহর পুত্র। এ আয়াতে তার জবাব দেওয়া হয়েছে যে, হযরত আদম (আ.)-এর তো পিতা-মাতা কিছুই ছিল না। পিতা-মাতা উভয় ছাড়াই যদি মানুষ হতে পারে, তবে পিতা ছাড়া কেবল ‘মাতা’ দ্বারা হতে পারবে না কেন? পিতা ছাড়া হওয়াতে যদি হযরত ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র বলতে হয়, তবে আদমকে তো আরও বেশি করে আল্লাহর পুত্র বলা উচিত। কিন্তু তাকে তো কেউ তা বলছে না। বরং সকলে তাঁকে আল্লাহর বান্দাই বলছে। সুতরাং কেবল পিতাবিহীন হওয়ায় হযরত ঈসা (আ.)-কেও আল্লাহর পুত্র বলার প্রশ্ন আসে না। তিনিও আল্লাহ তা‘আলার এক বান্দা মাত্র।
৬০

اَلۡحَقُّ مِنۡ رَّبِّکَ فَلَا تَکُنۡ مِّنَ الۡمُمۡتَرِیۡنَ ٦۰

আলহাক্কুমিররাব্বিকা ফালা-তাকুম মিনাল মুমতারীন।

সত্য সেটাই, যা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে এসেছে। সুতরাং তুমি সন্দেহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
৬১

فَمَنۡ حَآجَّکَ فِیۡہِ مِنۡۢ بَعۡدِ مَا جَآءَکَ مِنَ الۡعِلۡمِ فَقُلۡ تَعَالَوۡا نَدۡعُ اَبۡنَآءَنَا وَاَبۡنَآءَکُمۡ وَنِسَآءَنَا وَنِسَآءَکُمۡ وَاَنۡفُسَنَا وَاَنۡفُسَکُمۡ ۟ ثُمَّ نَبۡتَہِلۡ فَنَجۡعَلۡ لَّعۡنَتَ اللّٰہِ عَلَی الۡکٰذِبِیۡنَ ٦١

ফামান হাজ্জাকা ফীহি মিম বা‘দি মা-জাআকা মিনাল ‘ইলমি ফাকুল তা‘আ-লাও নাদ‘উ আবনাআনা-ওয়া আব নাআকুম ওয়া নিছাআনা-ওয়া নিছাআকুম ওয়া আনফুছা-নাওয়া আনফুছাকুম ছু ম্মা নাবতাহিল ফানাজ‘আল লা‘নাতাল্লা-হি আলাল কা-যিবীন।

তোমার কাছে (হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের ঘটনা সম্পর্কে) যে প্রকৃত জ্ঞান এসেছে, তারপরও যারা এ বিষয়ে তোমার সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হয়, (তাদেরকে) বলে দাও, এসো, আমরা ডাকি আমাদের সন্তানদেরকে এবং তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে, আমরা আমাদের নারীদেরকে এবং তোমরা তোমাদের নারীদেরকে, আর আমাদের নিজ লোকদেরকে এবং তোমাদের নিজ লোকদেরকে, তারপর আমরা সকলে মিলে (আল্লাহর সামনে) কাকুতি-মিনতি করি এবং যারা মিথ্যাবাদী, তাদের প্রতি আল্লাহর লানত পাঠাই। ৩৪

তাফসীরঃ

৩৪. এ কাজকে ‘মুবাহালা’ বলে। তর্ক-বিতর্কের ক্ষেত্রে কোনও এক পক্ষ যদি দলীল-প্রমাণ না মেনে হঠকারিতা প্রদর্শন করে, তবে সর্বশেষ পন্থা হচ্ছে তাকে মুবাহালার জন্য ডাকা। তাতে উভয় পক্ষ আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করবে যে, আমাদের মধ্যে যারাই মিথ্যা ও বিভ্রান্তির মধ্যে আছে তারাই যেন ধ্বংস হয়ে যায়। যেমন এ সূরার শুরুতে বর্ণিত হয়েছে যে, নাজরানের এক খ্রিস্টান প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাত করেছিল। তারা তাঁর সঙ্গে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের ঈশ্বরত্ব সম্পর্কে আলোচনা করলে কুরআন মাজীদের পক্ষ হতে তার সন্তোষজনক জবাব দেওয়া হয়, যেমন পূর্বের আয়াতসমূহে বিবৃত হয়েছে। কিন্তু এসব সুস্পষ্ট প্রমাণ হাতে পাওয়া সত্ত্বেও যখন তারা তাদের গোমরাহীতে অটল থাকল, তখন আলোচ্য আয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হুকুম দেওয়া হয়েছে, তিনি যেন তাদেরকে মুবাহালার জন্য ডাকেন। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে মুবাহালার জন্য ডাকলেন এবং নিজেও সেজন্য প্রস্তুত হয়ে আহলে বায়তকে সঙ্গে নিয়ে বের হলেন, কিন্তু খ্রিস্টান প্রতিনিধিরা মুবাহালা করতে সাহস করল না। তারা পশ্চাদপসরণ করল।
৬২

اِنَّ ہٰذَا لَہُوَ الۡقَصَصُ الۡحَقُّ ۚ وَمَا مِنۡ اِلٰہٍ اِلَّا اللّٰہُ ؕ وَاِنَّ اللّٰہَ لَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ٦٢

ইন্না হা-যা-লাহুওয়াল কাসাসুল হাক্কুওয়ামা-মিন ইলা-হিন ইল্লাল্লা-হু ওয়া ইন্নাল্লা-হা লাহুওয়াল ‘আঝীঝুল হাকীম।

নিশ্চয়ই এটাই (ঘটনাবলীর) প্রকৃত বর্ণনা। আল্লাহ ছাড়া কোনও মাবুদ নেই এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।
৬৩

فَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَاِنَّ اللّٰہَ عَلِیۡمٌۢ بِالۡمُفۡسِدِیۡنَ ٪ ٦٣

ফাইন তাওয়াল্লাও ফাইন্নাল্লা-হা ‘আলীমুম বিলমুফছিদীন।

তথাপি যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আল্লাহ তো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদেরকে ভালোভাবেই জানেন।
৬৪

قُلۡ یٰۤاَہۡلَ الۡکِتٰبِ تَعَالَوۡا اِلٰی کَلِمَۃٍ سَوَآءٍۢ بَیۡنَنَا وَبَیۡنَکُمۡ اَلَّا نَعۡبُدَ اِلَّا اللّٰہَ وَلَا نُشۡرِکَ بِہٖ شَیۡئًا وَّلَا یَتَّخِذَ بَعۡضُنَا بَعۡضًا اَرۡبَابًا مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ؕ فَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَقُوۡلُوا اشۡہَدُوۡا بِاَنَّا مُسۡلِمُوۡنَ ٦٤

কুল ইয়াআহলাল কিতা-বি তা‘আ-লাও ইলা-কালিমাতিন ছাওয়াইম বাইনানা-ওয়া বাইনাকুম আল্লা-না‘বুদা ইল্লাল্লাহা ওয়ালা-নুশরিকা বিহী শাইআওঁ ওয়ালা-ইয়াত্তাখিযা বা‘দুনা-বা‘দান আরবা-বাম মিন দূ নিল্লা-হি ফাইন তাওয়াল্লাও ফকূলুশহাদূ বিআন্নামুছলিমূন।

(ইয়াহুদী ও নাসারাদের) বলে দাও যে, হে আহলে কিতাব! তোমরা এমন এক কথার দিকে এসে যাও, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই রকম। (আর তা এই যে,) আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করব না। তাঁর সঙ্গে কোনও কিছুকে শরীক করব না এবং আল্লাহকে ছেড়ে আমরা একে অন্যকে ‘রব্ব’ বানাব না। তথাপি যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলে দাও, সাক্ষী থাক যে, আমরা মুসলিম।
৬৫

یٰۤاَہۡلَ الۡکِتٰبِ لِمَ تُحَآجُّوۡنَ فِیۡۤ اِبۡرٰہِیۡمَ وَمَاۤ اُنۡزِلَتِ التَّوۡرٰىۃُ وَالۡاِنۡجِیۡلُ اِلَّا مِنۡۢ بَعۡدِہٖ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ ٦٥

ইয়াআহলাল কিতা-বি লিমা তুহাজজুনা ফীইবরা-হীমা ওয়ামা উনঝিলাতিত তাওরা-তু ওয়াল ইনজীলু ইল্লা-মিম বাদিহী আফালা-তা‘কিলূন।

হে আহলে কিতাব! তোমরা ইবরাহীম সম্পর্কে কেন বিতর্ক করছ, অথচ তাওরাত ও ইনজীল তো তাঁর পরে নাযিল হয়েছে। তোমরা কি (এতটুকুও) বোঝ না?
৬৬

ہٰۤاَنۡتُمۡ ہٰۤؤُلَآءِ حَاجَجۡتُمۡ فِیۡمَا لَکُمۡ بِہٖ عِلۡمٌ فَلِمَ تُحَآجُّوۡنَ فِیۡمَا لَیۡسَ لَکُمۡ بِہٖ عِلۡمٌ ؕ وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ وَاَنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ ٦٦

হা আনতুম হাউলাই হা-জাজতুম ফীমা-লাকুম বিহী ‘ইলমুন ফালিমা তুহাজ্জূনা ফীমা লাইছা লাকুম বিহী ‘ইলমুন ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামুওয়া আনতুম লা-তা‘লামূন।

দেখ, তোমরাই তো তারা, যারা এমন বিষয়ে বিতর্ক করেছ, যে বিষয়ে কিছু না কিছু জ্ঞান তোমাদের ছিল। ৩৫ এবার এমন সব বিষয়ে কেন বিতর্ক করছ, যে সম্পর্কে তোমাদের মোটেই জ্ঞান নেই। আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।

তাফসীরঃ

৩৫. ইয়াহুদীরা বলত, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ইয়াহুদী ছিলেন এবং খ্রিস্টানগণ বলত, তিনি ছিলেন খ্রিস্টান। কুরআন মাজীদ প্রথমত বলছে, এ সম্প্রদায় দু’টোর অস্তিত্বই হয়েছে তাওরাত ও ইনজীল নাযিল হওয়ার পর, যার বহু আগেই ইবরাহীম আলাইহিস সালাম গত হয়েছিলেন। কাজেই তাঁকে ইয়াহুদী বা খ্রিস্টান বলাটা চরম নির্বুদ্ধিতা। অতঃপর কুরআন মাজীদ বলছে, তোমাদের যেসব দলীলের ভেতর কিছু না কিছু সত্যতা নিহিত ছিল তাই যখন তোমাদের দাবীসমূহ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তখন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে এসব ভিত্তিহীন ও মূর্খতাসুলভ কথা কিভাবে তোমাদের দাবীকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে? উদাহরণত তোমরা জানতে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম বিনা বাপে জন্ম নিয়েছেন, আর এর ভিত্তিতে তোমরা তাঁর ঈশ্বর হওয়ার পক্ষে দলীল পেশ করেছ ও বিতর্কে লিপ্ত হয়েছ, কিন্তু তোমরা তাতে সফল হওনি। কেননা বিনা পিতায় জন্ম নেওয়াটা কারও ঈশ্বর হওয়ার প্রমাণ বহন করে না। হযরত আদম আলাইহিস সালাম তো পিতা ও মাতা নউভয় ছাড়াই পয়দা হয়েছিলেন। অথচ তোমরাও তাকে ঈশ্বর বা ঈশ্বরের পুত্র মনে কর না। এ অবস্থায় কেবল পিতা ছাড়া জন্ম নেওয়াটা কিভাবে ঈশ্বর হওয়ার প্রমাণ হতে পারে? তো তোমাদের যে প্রমাণের ভিত্তি সত্য ঘটনার উপর তাই যখন কোন কাজে আসেনি, তখন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম খ্রিস্টান বা ইয়াহুদী ছিলেন এই নিরেট মূর্খতাসুলভ কথা তোমাদের জন্য কী সুফল বয়ে আনতে পারে?
৬৭

مَا کَانَ اِبۡرٰہِیۡمُ یَہُوۡدِیًّا وَّلَا نَصۡرَانِیًّا وَّلٰکِنۡ کَانَ حَنِیۡفًا مُّسۡلِمًا ؕ وَمَا کَانَ مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ ٦٧

মা-কানা ইবরা-হীমুইয়াহূদিইইয়াওঁ ওয়ালা-নাসরা-নিয়ইইয়াওঁ ওয়ালা-কিন কা-না হানীফাম মুছলিমাওঁ ওয়ামা-কা-না মিনাল মুশরিকীন।

ইবরাহীম ইয়াহুদীও ছিল না এবং খ্রিস্টানও নয়। বরং সে তো একনিষ্ঠ মুসলিম ছিল। সে কখনও শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
৬৮

اِنَّ اَوۡلَی النَّاسِ بِاِبۡرٰہِیۡمَ لَلَّذِیۡنَ اتَّبَعُوۡہُ وَہٰذَا النَّبِیُّ وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ؕ وَاللّٰہُ وَلِیُّ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٦٨

ইন্না আওলান্না-ছি বিইবরাহীমা লাল্লাযীনাত্তাবা‘উহু ওয়া হা-যান্নাবিইইয়ু ওয়াল্লাযীনা আমানূ ওয়াল্লা-হু ওয়ালিইয়ুল মু’মিনীন।

ইবরাহীমের সাথে ঘনিষ্ঠতার সর্বাপেক্ষা বেশি হকদার লোক তারা, যারা তাঁর অনুসরণ করেছে এবং এই নবী (অর্থাৎ শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং সেই সকল লোক, যারা ঈমান এনেছে। আর আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক।
৬৯

وَدَّتۡ طَّآئِفَۃٌ مِّنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ لَوۡ یُضِلُّوۡنَکُمۡ ؕ وَمَا یُضِلُّوۡنَ اِلَّاۤ اَنۡفُسَہُمۡ وَمَا یَشۡعُرُوۡنَ ٦٩

ওয়াদ্দাত তাইফাতুম মিন আহলিল কিতা-বি লাও ইউদিললূনাকুম ওয়ামা ইউদিললূ না ইল্লা-আনফুছাহুম ওয়ামা-ইয়াশ‘উরূন।

(হে মুমিনগণ!) কিতাবীদের একটি দল তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে চায়, প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকে পথভ্রষ্ট করছে না, যদিও তাদের সে উপলব্ধি নেই।
৭০

یٰۤاَہۡلَ الۡکِتٰبِ لِمَ تَکۡفُرُوۡنَ بِاٰیٰتِ اللّٰہِ وَاَنۡتُمۡ تَشۡہَدُوۡنَ ٧۰

ইয়াআহলাল কিতা-বি লিমা তাকফুরুনা বিআ-য়া-তিল্লা-হি ওয়া আনতুম তাশহাদূন।

হে আহলে কিতাব! তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহ কেন অস্বীকার করছ, যখন তোমরা নিজেরাই সাক্ষী (যে, তা আল্লাহর পক্ষ হতে অবতীর্ণ)? ৩৬

তাফসীরঃ

৩৬. এস্থলে আয়াত দ্বারা তাওরাত ও ইনজীলের সেই সব আয়াত বোঝানো উদ্দেশ্য, যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমন সম্পর্কে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে যে, এক দিকে তো তোমরা সাক্ষ্য দিচ্ছ তাওরাত ও ইনজীল আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে অবতীর্ণ, অপর দিকে তাতে যার রাসূল হয়ে আসার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, সেই নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাতকে অস্বীকার করছ, যা তাওরাত ও ইনজীলের আয়াতসমূহকে অস্বীকার করারই নামান্তর।
৭১

یٰۤاَہۡلَ الۡکِتٰبِ لِمَ تَلۡبِسُوۡنَ الۡحَقَّ بِالۡبَاطِلِ وَتَکۡتُمُوۡنَ الۡحَقَّ وَاَنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ ٪ ٧١

ইয়াআহলাল কিতা-বি লিমা তালবিছূনাল হাক্কাবিলবা-তিলি ওয়া তাকতুমূনাল হাক্কাওয়া আনতুম তা‘লামূন।

হে আহলে কিতাব! তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে কেন গোলাচ্ছ? এবং জেনে শুনে কেন সত্য গোপন করছ?
৭২

وَقَالَتۡ طَّآئِفَۃٌ مِّنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ اٰمِنُوۡا بِالَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ عَلَی الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَجۡہَ النَّہَارِ وَاکۡفُرُوۡۤا اٰخِرَہٗ لَعَلَّہُمۡ یَرۡجِعُوۡنَ ۚۖ ٧٢

ওয়া কা-লাত্তাইফাতুম মিন আহলিল কিতা-বি আ-মিনূ বিল্লাযীউনঝিলা ‘আলাল্লাযীনা আ-মানূ ওয়াজহান্নাহা-রি ওয়াকফুরূআ-খিরাহু লা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন।

আহলে কিতাবের একটি দল (একে অন্যকে) বলে, মুসলিমদের প্রতি যে কিতাব নাযিল হয়েছে, দিনের শুরু দিকে তো তাতে ঈমান আনবে আর দিনের শেষাংশে তা অস্বীকার করবে। হয়ত এভাবে মুসলিমগণ (-ও তাদের দীন থেকে) ফিরে যাবে। ৩৭

তাফসীরঃ

৩৭. একদল ইয়াহুদী মুসলিমদেরকে ইসলাম হতে ফেরানোর লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল যে, তাদের মধ্যে কিছু লোক সকাল বেলা ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেবে। তারপর সন্ধ্যা বেলা এই বলে ইসলাম থেকে ফিরে যাবে যে, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কাছ থেকে দেখে নিয়েছি। আসলে তিনি সেই নবী নন, তাওরাতে যার সম্পর্কে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের ধারণা ছিল, এতে করে কিছু মুসলিম এই ভেবে ইসলাম থেকে ফিরে যাবে যে, ইয়াহুদীরা তো তাওরাতের আলেম। তারা যখন ইসলামে দাখিল হওয়ার পরও এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে, তখন তাদের এ কথার অবশ্যই গুরুত্ব আছে।
৭৩

وَلَا تُؤۡمِنُوۡۤا اِلَّا لِمَنۡ تَبِعَ دِیۡنَکُمۡ ؕ  قُلۡ اِنَّ الۡہُدٰی ہُدَی اللّٰہِ ۙ  اَنۡ یُّؤۡتٰۤی اَحَدٌ مِّثۡلَ مَاۤ اُوۡتِیۡتُمۡ اَوۡ یُحَآجُّوۡکُمۡ عِنۡدَ رَبِّکُمۡ ؕ  قُلۡ اِنَّ الۡفَضۡلَ بِیَدِ اللّٰہِ ۚ  یُؤۡتِیۡہِ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ  وَاللّٰہُ وَاسِعٌ عَلِیۡمٌ ۚۙ ٧٣

ওয়ালা-তু’মিনূ ইল্লা-লিমান তাবি‘আ দীনাকুম কুল ইন্নাল হুদা-হুদাল্লা-হি আইঁ ইউ’তাআহাদুম মিছলা মা ঊতীতুম আও ইউহাজ্জূকুম ইনদা রাব্বিকুম কুল ইন্নাল ফাদলা বিইয়াদিল্লা-হি ইউ’তীহি মাইঁ ইয়াশাউ ওয়াল্লা-হু ওয়া-ছি‘উন ‘আলীম।

আর যারা তোমাদের দীনের অনুসারী, তাদের ছাড়া অন্য কাউকে আন্তরিকভাবে মানবে না। আপনি (তাদের) বলে দিন, আল্লাহ প্রদত্ত হিদায়াতই প্রকৃত হিদায়াত। (তোমরা এসব করছ কেবল এই জিদের বশবর্তীতে যে,) তোমাদেরকে যে জিনিস (নবুওয়াত ও আসমানী কিতাব) দেওয়া হয়েছিল, সে রকম জিনিস অন্য কেউ পাবে কেন? কিংবা তারা (মুসলিমগণ) তোমাদের প্রতিপালকের সামনে তোমাদের উপর বিজয়ী হয়ে গেল কেন? আপনি বলে দিন, শ্রেষ্ঠত্ব আল্লাহরই হাতে। তিনি যাকে চান তা দান করেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্ববিষয়ে জ্ঞাত।
৭৪

یَّخۡتَصُّ بِرَحۡمَتِہٖ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَاللّٰہُ ذُو الۡفَضۡلِ الۡعَظِیۡمِ ٧٤

ইয়াখতাসসুবিরাহমাতিহী মাইঁ ইয়াশাউ ওয়াল্লা-হু যুলফাদলিল ‘আজীম।

তিনি নিজ রহমতের জন্য যাকে ইচ্ছা বিশেষভাবে মনোনীত করেন এবং আল্লাহ মহা অনুগ্রহের মালিক।
৭৫

وَمِنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ مَنۡ اِنۡ تَاۡمَنۡہُ بِقِنۡطَارٍ یُّؤَدِّہٖۤ اِلَیۡکَ ۚ وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ اِنۡ تَاۡمَنۡہُ بِدِیۡنَارٍ لَّا یُؤَدِّہٖۤ اِلَیۡکَ اِلَّا مَا دُمۡتَ عَلَیۡہِ قَآئِمًا ؕ ذٰلِکَ بِاَنَّہُمۡ قَالُوۡا لَیۡسَ عَلَیۡنَا فِی الۡاُمِّیّٖنَ سَبِیۡلٌ ۚ وَیَقُوۡلُوۡنَ عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ وَہُمۡ یَعۡلَمُوۡنَ ٧٥

ওয়া মিন আহলিল কিতা-বি মান ইন তা‘মানহু বিকিনতা-রিইঁ ইউআদ্দিহী ইলাইকা ওয়া মিনহুম মান ইন তা‘মানহু বিদীনা-রিল লা-ইউআদ্দিহীইলাইকা ইল্লা-মা-দুমতা ‘আলাইহি কাইমান যা-লিকা বিআন্নাহুম কা-লূলাইছা ‘আলাইনা-ফিল উম্মিইয়ীনা ছাবীলুওঁ ওয়া ইয়াকূলূনা ‘আলাল্লা-হিল কাযিবা ওয়াহুম ইয়া‘লামূন।

কিতাবীদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যার কাছে তুমি সম্পদের একটা স্তূপও যদি আমানত রাখ, তবে সে তা তোমাকে ওয়াপস করবে। আবার তাদের মধ্যেই এমন লোকও আছে, যার কাছে একটি দীনারও আমানত রাখলে সে তোমাকে তা ফেরত দেবে না যদি না তুমি তার মাথার উপর দাঁড়িয়ে থাক। তাদের এ কর্মপন্থা এ কারণে যে, তারা বলে থাকে, উম্মীদের (অর্থাৎ অইয়াহুদী আরবদের) ব্যাপারে আমাদের থেকে কোন কৈফিয়ত নেওয়া হবে না। ৩৮ আর (এভাবে) জেনে শুনে তারা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যাচার করে।

তাফসীরঃ

৩৮. ইয়াহুদীরা বলত, আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়পাত্র। বাকি সমস্ত মানুষ আমাদের দাস ও সেবক। সেই সুবাদে তাদের অর্থ-সম্পদ আমাদের জন্য হালাল। যেভাবেই তা ভোগ করি না কেন, সেজন্য আমাদেরকে কোন জবাবদিহি করতে হবে না। -অনুবাদক
৭৬

بَلٰی مَنۡ اَوۡفٰی بِعَہۡدِہٖ وَاتَّقٰی فَاِنَّ اللّٰہَ یُحِبُّ الۡمُتَّقِیۡنَ ٧٦

বালা-মান আওফা-বিআহদিহী ওয়াত্তাকা-ফাইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুল মুত্তাকীন।

কেন কৈফিয়ত নেওয়া হবে না? (নিয়ম তো এই যে,) যে কেউ নিজ অঙ্গীকার পূর্ণ করে ও (গুনাহ থেকে) বেঁচে থাকে, আল্লাহ এরূপ পরহেযগারদেরকে ভালোবাসেন।
৭৭

اِنَّ الَّذِیۡنَ یَشۡتَرُوۡنَ بِعَہۡدِ اللّٰہِ وَاَیۡمَانِہِمۡ ثَمَنًا قَلِیۡلًا اُولٰٓئِکَ لَا خَلَاقَ لَہُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ وَلَا یُکَلِّمُہُمُ اللّٰہُ وَلَا یَنۡظُرُ اِلَیۡہِمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ وَلَا یُزَکِّیۡہِمۡ ۪ وَلَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ٧٧

ইন্নাল্লাযীনা ইয়াশতারূনা বি‘আহদিল্লা-হি ওয়াআইমা-নিহিম ছামানান কালীলান উলাইকা লা-খালা-কা লাহুম ফিল আ-খিরাতি ওয়ালা-ইউকালিলমুহুমুল্লা-হু ওয়ালা-ইয়ানজু রু ইলাইহিম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ওয়ালা-ইউঝাক্কীহিম ওয়ালাহুম ‘আযা-বুন আলীম।

(পক্ষান্তরে) যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার ও নিজেদের কসমের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে, আখিরাতে তাদের কোনও অংশ নেই। আর আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে (সদয় দৃষ্টিতে) তাকাবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না। তাদের জন্য থাকবে কেবল যন্ত্রণাময় শাস্তি।
৭৮

وَاِنَّ مِنۡہُمۡ لَفَرِیۡقًا یَّلۡوٗنَ اَلۡسِنَتَہُمۡ بِالۡکِتٰبِ لِتَحۡسَبُوۡہُ مِنَ الۡکِتٰبِ وَمَا ہُوَ مِنَ الۡکِتٰبِ ۚ وَیَقُوۡلُوۡنَ ہُوَ مِنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ وَمَا ہُوَ مِنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ ۚ وَیَقُوۡلُوۡنَ عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ وَہُمۡ یَعۡلَمُوۡنَ ٧٨

ওয়া ইন্না মিনহুম লাফারীকাইঁ ইয়ালঊনা আলছিনাতাহুম বিলকিতা-বি লিতাহছাবূহু মিনাল কিতা-বি ওয়ামা-হুওয়া মিনাল কিতা-বি ওয়া ইয়াকূলূনা হুওয়া মিন ‘ইনদিল্লা-হি ওয়ামা হুওয়া মিন ‘ইনদিল্লা-হি ওয়া ইয়াকূলূনা ‘আলাল্লা-হিল কাযিবা ওয়াহুম ইয়া‘লামূন।

তাদেরই মধ্যে একদল লোক এমন আছে, যারা কিতাব (তাওরাত) পড়ার সময় নিজেদের জিহ্বাকে পেঁচায়, যাতে তোমরা (তাদের পেঁচিয়ে তৈরি করা) সে কথাকে কিতাবের অংশ মনে কর, অথচ তা কিতাবের অংশ নয় এবং তারা বলে, এটা আল্লাহর নিকট থেকে অবতীর্ণ, অথচ তা আল্লাহর নিকট থেকে অবতীর্ণ নয় এবং (এভাবে) তারা জেনে শুনে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে।
৭৯

مَا کَانَ لِبَشَرٍ اَنۡ یُّؤۡتِیَہُ اللّٰہُ الۡکِتٰبَ وَالۡحُکۡمَ وَالنُّبُوَّۃَ ثُمَّ یَقُوۡلَ لِلنَّاسِ کُوۡنُوۡا عِبَادًا لِّیۡ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ وَلٰکِنۡ کُوۡنُوۡا رَبّٰنِیّٖنَ بِمَا کُنۡتُمۡ تُعَلِّمُوۡنَ الۡکِتٰبَ وَبِمَا کُنۡتُمۡ تَدۡرُسُوۡنَ ۙ ٧٩

মা-কা-না লিবাশারিন আই ইউ’তিইয়াহুল্লা-হুল কিতা-বা ওয়াল হুকমা ওয়ান্নুবুওওয়াতা ছু ম্মা ইয়াকূলা লিন্না-ছি কূনূ‘ইবা-দাললী মিন দুনিল্লা-হি ওয়ালা-কিন কূনূ রাব্বানিইয়ীনা বিমা-কুনতুম তু‘আলিল মূনাল কিতা-বা ওয়া বিমা কুনতুম তাদরুছূন।

কোনও মানুষের জন্য সঙ্গত নয় যে, আল্লাহ তাকে কিতাব, হিকমত ও নবুওয়াত দান করবেন আর সে তা সত্ত্বেও মানুষকে বলবে, তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে আমার বান্দা হয়ে যাও। ৩৯ এর পরিবর্তে (সে তো এটাই বলবে যে,) তোমরা আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও, তোমরা যে কিতাব শিক্ষা দাও ও যা-কিছু নিজেরা পড়, তার ফলশ্রুতিতে।

তাফসীরঃ

৩৯. এর দ্বারা খ্রিস্টানদেরকে রদ করা হচ্ছে, যারা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে ঈশ্বর বা ঈশ্বরের পুত্র বলে এবং এভাবে যেন দাবী করে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তাদেরকে তাঁর নিজেরই ইবাদত করার হুকুম দিয়েছেন। একই অবস্থা সেই ইয়াহুদীদেরও, যারা হযরত উযায়র আলাইহিস সালামকে আল্লাহর পুত্র বলত।
৮০

وَلَا یَاۡمُرَکُمۡ اَنۡ تَتَّخِذُوا الۡمَلٰٓئِکَۃَ وَالنَّبِیّٖنَ اَرۡبَابًا ؕ  اَیَاۡمُرُکُمۡ بِالۡکُفۡرِ بَعۡدَ اِذۡ اَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ ٪ ٨۰

ওয়ালা-ইয়া’মুরাকুম আন তাত্তাখিযুল মালাইকাতা ওয়ান্নাবিইয়ীনা আরবা-বান আইয়া‘মুরুকুম বিলকুফরি বা‘দা ইযআনতুম মুছলিমূন।

এবং ফিরিশতা ও নবীগণকে রব্ব সাব্যস্ত করার নির্দেশও সে তোমাদেরকে দিতে পারে না। তোমরা মুসলিম হয়ে যাওয়ার পরও কি সে তোমাদেরকে কুফরীর হুকুম দেবে?
৮১

وَاِذۡ اَخَذَ اللّٰہُ مِیۡثَاقَ النَّبِیّٖنَ لَمَاۤ اٰتَیۡتُکُمۡ مِّنۡ کِتٰبٍ وَّحِکۡمَۃٍ ثُمَّ جَآءَکُمۡ رَسُوۡلٌ مُّصَدِّقٌ لِّمَا مَعَکُمۡ لَتُؤۡمِنُنَّ بِہٖ وَلَتَنۡصُرُنَّہٗ ؕ قَالَ ءَاَقۡرَرۡتُمۡ وَاَخَذۡتُمۡ عَلٰی ذٰلِکُمۡ اِصۡرِیۡ ؕ قَالُوۡۤا اَقۡرَرۡنَا ؕ قَالَ فَاشۡہَدُوۡا وَاَنَا مَعَکُمۡ مِّنَ الشّٰہِدِیۡنَ ٨١

ওয়া ইযআখাযাল্লা-হু মীছা-কান্নাবিইয়ীনা লামা আ-তাইতুকুম মিন কিতা-বিওঁ ওয়া হিকমাতিন ছু ম্মা জাআকুম রাছূলুম মুসাদ্দিকুল লিমা-মা‘আকুম লাতু’মিনুন্না বিহী ওয়ালাতানসুরুন্নাহু কা-লা আ আকরারতুম ওয়া আখাযতুম ‘আলা-যা-লিকুম ইসরী কালূ আকরারনা-কা-লা ফাশহাদূ ওয়া আনা মা‘আকুম মিনাশশা-হিদীন।

এবং (তাদেরকে সেই সময়ের কথা স্মরণ করাও) যখন আল্লাহ নবীগণ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন, আমি যদি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত দান করি, তারপর তোমাদের নিকট কোন রাসূল আগমন করে, যে তোমাদের কাছে যে কিতাব আছে তার সমর্থন করে, তবে তোমরা অবশ্যই তার প্রতি ঈমান আনবে এবং অবশ্যই তার সাহায্য করবে। আল্লাহ (সেই নবীদেরকে) বলেছিলেন, তোমরা কি একথা স্বীকার করছ এবং আমার পক্ষ হতে প্রদত্ত এ দায়িত্ব গ্রহণ করছ? তারা বলেছিল, আমরা স্বীকার করছি। আল্লাহ বললেন, তবে তোমরা (একে অন্যের স্বীকারোক্তি সম্পর্কে) সাক্ষী থাক এবং আমিও তোমাদের সঙ্গে সাক্ষী থাকলাম। ৪০

তাফসীরঃ

৪০. অর্থাৎ প্রত্যেক নবী থেকেই প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়েছে যে, তার জীবদ্দশায় শেষনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাব ঘটলে যেন তাঁর প্রতি ঈমান আনে ও তাঁর সাহায্য করে। অন্যথায় যেন নিজ উম্মতকে ওসিয়ত করে যায়, যখন শেষনবীর আগমন হবে তখন যেন তারা তাঁর প্রতি ঈমান আনে। সুতরাং এ হিসেবেও দুনিয়ার সমস্ত জাতির কর্তব্য শেষনবীর প্রতি ঈমান আনা। -অনুবাদক
৮২

فَمَنۡ تَوَلّٰی بَعۡدَ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡفٰسِقُوۡنَ ٨٢

ফামান তাওয়াল্লা-বা‘দা যা-লিকা ফাউলাইকা হুমুল ফা-ছিকূ ন।

এরপরও যারা (হিদায়াত থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেবে, তারাই নাফরমান।
৮৩

اَفَغَیۡرَ دِیۡنِ اللّٰہِ یَبۡغُوۡنَ وَلَہٗۤ اَسۡلَمَ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ طَوۡعًا وَّکَرۡہًا وَّاِلَیۡہِ یُرۡجَعُوۡنَ ٨٣

আফাগাইরা দীনিল্লা-হি ইয়াবগুনা ওয়ালাহূআছলামা মান ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি তাও‘আওঁ ওয়াকারহাওঁ ওয়া ইলাইহি ইউরজা‘ঊন।

তবে কি তারা আল্লাহর দীনের পরিবর্তে অন্য কোনও দীনের সন্ধানে আছে? অথচ আসমান ও যমীনে যত মাখলুক আছে, তারা সকলে আল্লাহরই সামনে মাথা নত করে রেখেছে, (কতক তো) স্বেচ্ছায় এবং (কতক) বাধ্য হয়ে। ৪১ এবং তাঁরই দিকে তারা সকলে ফিরে যাবে।

তাফসীরঃ

৪১. অর্থাৎ নিখিল বিশ্বে কেবল আল্লাহ তাআলার হুকুমই চলে। ঈমানদারগণ আল্লাহ তাআলার প্রতিটি হুকুম খুশী মনে, সাগ্রহে মেনে চলে, আর যারা আল্লাহকে স্বীকার করে না, তারাও চাক বা না চাক সর্বাবস্থায় তাঁর সেই সব বিধান মেনে চলতে বাধ্য, যা তিনি জগত পরিচালনার জন্য জারী করেন। উদাহরণত তিনি যদি কাউকে অসুস্থ করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে সে তা পছন্দ করুক আর নাই করুক, তার উপর সে সিদ্ধান্ত কার্যকর হবেই। মুমিন হোক বা কাফির, কারওই সে সিদ্ধান্তের সামনে মাথা নোয়ানো ছাড়া উপায় থাকে না।
৮৪

قُلۡ اٰمَنَّا بِاللّٰہِ وَمَاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡنَا وَمَاۤ اُنۡزِلَ عَلٰۤی اِبۡرٰہِیۡمَ وَاِسۡمٰعِیۡلَ وَاِسۡحٰقَ وَیَعۡقُوۡبَ وَالۡاَسۡبَاطِ وَمَاۤ اُوۡتِیَ مُوۡسٰی وَعِیۡسٰی وَالنَّبِیُّوۡنَ مِنۡ رَّبِّہِمۡ ۪ لَا نُفَرِّقُ بَیۡنَ اَحَدٍ مِّنۡہُمۡ ۫ وَنَحۡنُ لَہٗ مُسۡلِمُوۡنَ ٨٤

কুলআ-মান্না-বিল্লা-হি ওয়ামাউনঝিলা ‘আলাইনা-ওয়ামা-উনঝিলা ‘আলাইবরা-হীমা ওয়া ইছমা-‘ঈলা ওয়া ইছহা-কা ওয়া ইয়া‘কূবা ওয়াল আছবা-তিওয়ামাঊতিইয়া মূছা-ওয়া ‘ঈছা-ওয়ান্নাবিইয়ূনা মির রাব্বিহিম লা-নুফাররিকুবাইনা আহাদিম মিনহুম ওয়া নাহনূ লাহূমূছলিমূন।

বলে দাও, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি, আমাদের উপর যে কিতাব নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি, ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও (তাঁদের) বংশধরের প্রতি যা (যে হিদায়াত) নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি এবং মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীগণকে তাঁদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা দেওয়া হয়েছে তার প্রতি। আমরা তাঁদের (উল্লিখিত নবীদের) মধ্যে কোনও পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই (এক আল্লাহরই) সম্মুখে নতশির।
৮৫

وَمَنۡ یَّبۡتَغِ غَیۡرَ الۡاِسۡلَامِ دِیۡنًا فَلَنۡ یُّقۡبَلَ مِنۡہُ ۚ وَہُوَ فِی الۡاٰخِرَۃِ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ ٨٥

ওয়া মাই ইয়াবতাগি গাইরাল ইছলা-মি দীনান ফালাই ইউকবালা মিনহু ওয়া হুওয়া ফিল আ-খিরাতি মিনাল খা-ছিরীন।

যে ব্যক্তিই ইসলাম ছাড়া অন্য কোনও দীন অবলম্বন করতে চাবে, তার থেকে সে দীন কবুল করা হবে না এবং আখিরাতে সে মহা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
৮৬

کَیۡفَ یَہۡدِی اللّٰہُ قَوۡمًا کَفَرُوۡا بَعۡدَ اِیۡمَانِہِمۡ وَشَہِدُوۡۤا اَنَّ الرَّسُوۡلَ حَقٌّ وَّجَآءَہُمُ الۡبَیِّنٰتُ ؕ وَاللّٰہُ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ ٨٦

কাইফা ইয়াহদিল্লা-হু কাওমান কাফারূ বা‘দা ঈমা-নিহিম ওয়াশাহিদূ আন্নাররাছূলা হাক্কুওঁ ওয়াজাআহুমুল বাইয়িনা-তু ওয়াল্লা-হু লা-ইয়াহদিল কাওমাজ্জা-লিমীন।

আল্লাহ এমন লোকদের কিভাবে হিদায়াত দেবেন, যারা ঈমান আনার পর কুফর অবলম্বন করেছে, অথচ তারা সাক্ষ্য দিয়েছিল যে, রাসূল সত্য এবং তাদের কাছে উজ্জ্বল নিদর্শনাবলীও এসেছিল। ৪২ আল্লাহ এরূপ জালিমদেরকে হিদায়াত দান করেন না।

তাফসীরঃ

৪২. এর দ্বারা ইয়াহুদী ও খৃস্টান সম্প্রদায়কে বোঝানো হয়েছে। তারা তাদের কিতাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলী পড়েছে এবং সে কারণে তারা জানে তিনি সত্য নবী, তারপরও কেবল বিদ্বেষবশত তারা কুফর অবলম্বন করেছে। -অনুবাদক
৮৭

اُولٰٓئِکَ جَزَآؤُہُمۡ اَنَّ عَلَیۡہِمۡ لَعۡنَۃَ اللّٰہِ وَالۡمَلٰٓئِکَۃِ وَالنَّاسِ اَجۡمَعِیۡنَ ۙ ٨٧

উলাইকা জাঝাউহুম আন্না ‘আলাইহিম লা‘নাতাল্লা-হি ওয়াল মালাইকাতি ওয়ান্না-ছি আজমা‘ঈন।

এরূপ লোকদের শাস্তি এই যে, তাদের প্রতি আল্লাহর, ফিরিশতাদের ও সমস্ত মানুষের লানত।
৮৮

خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ۚ  لَا یُخَفَّفُ عَنۡہُمُ الۡعَذَابُ وَلَا ہُمۡ یُنۡظَرُوۡنَ ۙ ٨٨

খা-লিদীনা ফীহা-লা-ইউখাফফাফু‘আনহুমুল ‘আযা-বু ওয়ালা-হুম ইউনজারূন।

তারই মধ্যে (লানতের মধ্যে) তারা সর্বদা থাকবে। তাদের শাস্তি লাঘব করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হবে না।
৮৯

اِلَّا الَّذِیۡنَ تَابُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِ ذٰلِکَ وَاَصۡلَحُوۡا ۟ فَاِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٨٩

ইল্লাল্লাযীনা তা-বূ মিম বা‘দি যা-লিকা ওয়া আসলাহুফাইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম।

অবশ্য যারা এর পরও তাওবা করবে ও নিজেদেরকে সংশোধন করবে, (তাদের জন্য) আল্লাহ অবশ্যই ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
৯০

اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بَعۡدَ اِیۡمَانِہِمۡ ثُمَّ ازۡدَادُوۡا کُفۡرًا لَّنۡ تُقۡبَلَ تَوۡبَتُہُمۡ ۚ وَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الضَّآلُّوۡنَ ٩۰

ইন্নাল্লাযীনা কাফারূ বা‘দা ঈমা-নিহিম ছু ম মাঝ দা-দূ কুফরাল্লান তুকবালা তাওবাতুহুম ওয়া উলাইকা হুমুদ্দাললূন।

(পক্ষান্তরে) যারা ঈমান আনার পর কুফরী অবলম্বন করেছে, তারপর কুফরীতে অগ্রগামী হতে থেকেছে, তাদের তাওবা কিছুতেই কবুল হবে না। ৪৩ এবং এরূপ লোকই বিপথগামী। ৪৪

তাফসীরঃ

৪৩. অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত তারা কুফর হতে তাওবা করে ঈমান না আনবে, ততক্ষণ পর্যন্ত অন্যান্য গুনাহের ব্যাপারে তাদের তাওবা কবুল হবে না।
৯১

اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَمَاتُوۡا وَہُمۡ کُفَّارٌ فَلَنۡ یُّقۡبَلَ مِنۡ اَحَدِہِمۡ مِّلۡءُ الۡاَرۡضِ ذَہَبًا وَّلَوِ افۡتَدٰی بِہٖ ؕ  اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ وَّمَا لَہُمۡ مِّنۡ نّٰصِرِیۡنَ ٪ ٩١

ইন্নাললযীনা কাফারু ওয়ামা-তূওয়া হুম কুফফা-রুন ফালাইঁ ইউকবালা মিন আহাদিহিম মিলউল আরদিযাহাবাওঁ ওয়ালাবিফতাদা-বিহী উলাইকা লাহুম ‘আযা-বুন আলীমুওঁ ওয়ামা-লাহুম মিন না-সিরীন।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে ও কাফির অবস্থায়ই মারা গেছে, তাদের কারও থেকে পৃথিবী ভর্তি সোনাও গৃহীত হবে না যদিও তারা নিজেদের প্রাণ রক্ষার্থে তা দিতে চায়। তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি এবং তাদের কোনও রকমের সাহায্যকারী লাভ হবে না।
৯২

لَنۡ تَنَالُوا الۡبِرَّ حَتّٰی تُنۡفِقُوۡا مِمَّا تُحِبُّوۡنَ ۬ؕ وَمَا تُنۡفِقُوۡا مِنۡ شَیۡءٍ فَاِنَّ اللّٰہَ بِہٖ عَلِیۡمٌ ٩٢

লান তানা-লুল বিররা হাত্তা-তুনফিকূমিম্মা-তুহিববূনা ওয়ামা-তুনফিকূমিন শাইইন ফাইন্নাল্লা-হা বিহী ‘আলীম।

তোমরা কিছুতেই পুণ্যের নাগাল পাবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু হতে (আল্লাহর জন্য) ব্যয় করবে। ৪৫ তোমরা যা-কিছুই ব্যয় কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে পূর্ণ অবগত।

তাফসীরঃ

৪৫. পূর্বে সূরা বাকারার (২ : ২৬৭) নং আয়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, দান-সদকায় কেবল খারাপ ও রদ্দী কিসিমের মাল দিও না। বরং আল্লাহর পথে উৎকৃষ্ট মাল ব্যয় করো। এবার এ আয়াতে আরও আগে বেড়ে বলা হচ্ছে যে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যে উৎকৃষ্ট মাল ব্যয় করবে তাই নয়; বরং যে সব বস্তু তোমাদের বেশি প্রিয়, তা থেকেই আল্লাহর পথে ব্যয় করো, যাতে যথার্থভাবে তাঁর জন্য ত্যাগ ও কুরবানীর জযবা প্রকাশ পায়। এ আয়াত নাযিল হলে সাহাবীগণ তাদের সর্বাপেক্ষা প্রিয় বস্তু সদকা করতে শুরু করলেন। এ সম্পর্কিত বহু ঘটনা হাদীস ও তাফসীর গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন মাআরিফুল কুরআন, ২য় খণ্ড, ১০৭-১০৮ পৃষ্ঠা।
৯৩

کُلُّ الطَّعَامِ کَانَ حِلًّا لِّبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ اِلَّا مَا حَرَّمَ اِسۡرَآءِیۡلُ عَلٰی نَفۡسِہٖ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ تُنَزَّلَ التَّوۡرٰىۃُ ؕ قُلۡ فَاۡتُوۡا بِالتَّوۡرٰىۃِ فَاتۡلُوۡہَاۤ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ٩٣

কুলুত্তা‘আ-মি কা-না হিল্লাল লিবানীইছরাঈলা ইল্লা-মা-হাররামা ইসরাঈলু‘আলানাফছিহী মিন কাবলি আন তুনাঝঝালাত তাওরা-তু কুল ফা’তূ বিত্তাওরা-তি ফাতলূহাইন কুনতুম সা-দিকীন।

তাওরাত নাযিল হওয়ার আগে বনী ইসরাঈলের জন্য (-ও) সমস্ত খাদ্যদ্রব্য হালাল ছিল (-যা মুসলিমদের জন্য হালাল), কেবল সেই বস্তু ছাড়া, যা ইসরাঈল (অর্থাৎ ইয়াকুব আলাইহিস সালাম) নিজের জন্য হারাম করেছিল। (হে নবী! ইয়াহুদীদেরকে) বলে দাও, তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে তাওরাত নিয়ে এসো এবং তা পাঠ করো। ৪৬

তাফসীরঃ

৪৬. ইয়াহুদীরা মুসলিমদের উপর আপত্তি তুলত যে, তোমরা নিজেদেরকে ইবরাহীম আলাইহিস সালামের অনুসারী বলে দাবী কর, অথচ তোমরা উটের গোশত খাও? যা তাওরাতের দৃষ্টিতে হারাম। এ আয়াতে তার জবাব দেওয়া হয়েছে যে, উটের গোশত হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের দীনে হারাম ছিল না; বরং যে সকল জিনিস মুসলিমদের জন্য হালাল, তাওরাত নাযিল হওয়ার আগে তার সবই বনী ইসরাঈলের জন্যও হালাল ছিল। অবশ্য একথা ঠিক যে, হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম নিজের জন্য উটের গোশত হারাম করেছিলেন। আর তার কারণ হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী এই ছিল যে, হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম সায়্যাটিকা (ইরকুন নাসা) রোগে ভুগছিলেন। তাই তিনি মানত করেছিলেন, এ রোগ থেকে মুক্তি লাভ করলে আমি আমার প্রিয় খাদ্য ত্যাগ করব। উটের গোশত ছিল তার সর্বাপেক্ষা প্রিয় খাবার। তাই আরোগ্য লাভের পর তিনি তা ছেড়ে দেন (রুহুল মাআনী, মুস্তাদরাক হাকিমের বরাতে, এর সনদ সহীহ)। পরবর্তীকালে বনী ইসরাঈলের জন্যও উটের গোশত হারাম করা হয়েছিল কি না, সে সম্পর্কে কুরআন মাজীদ স্পষ্ট ভাষায় কিছু বলেনি। তবে সূরা নিসায় (৪ : ১৬০) আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি বনী ইসরাঈলের প্রতি তাদের নাফরমানীর কারণে বহু উৎকৃষ্ট জিনিস হারাম করে দিয়েছিলেন। আর এ সূরারই ৫০ নং আয়াতে গত হয়েছে যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম বনী ইসরাঈলকে বলেছিলেন, ‘আমার পূর্বে যে কিতাব নাযিল হয়েছে, আমি তার সমর্থক। আর (আমাকে এজন্য পাঠানো হয়েছে) যাতে আমি তোমাদের প্রতি যেসব বস্তু হারাম করা হয়েছিল, তন্মধ্যে কতক হালাল করে দেই’। তাছাড়া এস্থলে ‘তাওরাত নাযিল হওয়ার আগে’ কথাটি দ্বারাও বোঝা যায় যে, সম্ভবত তাওরাত নাযিলের পর উটের গোশত তাদের জন্য হারাম করা হয়েছিল। অতঃপর তাদেরকে যে চ্যালেঞ্জ করা হল ‘তোমরা সত্যবাদী হলে তাওরাত নিয়ে এসো এবং তা পাঠ করো’, এর অর্থ তাওরাতের কোথাও একথার উল্লেখ নেই যে, উটের গোশত হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সময় থেকেই হারাম হিসেবে চলে এসেছে। বরং বিষয়টি এর বিপরীত। এটা কেবল বনী ইসরাঈলের জন্যই হারাম করা হয়েছিল। এখনও বাইবেলের ‘লেবীয়’ পুস্তিকা, যা ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান উভয় সম্প্রদায়ের মতে বাইবেলের অংশ, তাতে বনী ইসরাঈলের প্রতি উটের গোশত খাওয়ার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘তুমি বনী ইসরাঈলকে বল, তোমরা এ পশু খেয়ো না, অর্থাৎ উট... এটা তোমাদের পক্ষে অপবিত্র (লেবীয় : ১১:১-৪)। সারকথা এই যে, উটের গোশত মৌলিকভাবে হালাল। কেবল হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের জন্য তাঁর মানতের কারণে আর বনী ইসরাঈলের জন্য তাদের নাফরমানীর কারণে হারাম করা হয়েছিল। এখন উম্মতে মুহাম্মাদীকে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের আমলের মূল বিধান ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
৯৪

فَمَنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ مِنۡۢ بَعۡدِ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الظّٰلِمُوۡنَ ؃ ٩٤

ফামানিফ তারা-‘আলাল্লা-হিল কাযিবা মিম বা‘দি যা-লিকা ফাউলাইকা হুমুজ্জা-লিমূন।

এসব বিষয় (স্পষ্ট হয়ে যাওয়া)-এর পরও যারা আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারাই জালিম।
৯৫

قُلۡ صَدَقَ اللّٰہُ ۟ فَاتَّبِعُوۡا مِلَّۃَ اِبۡرٰہِیۡمَ حَنِیۡفًا ؕ وَمَا کَانَ مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ ٩٥

কুল সাদাকাল্লা-হু ফাত্তাবি‘ঊ মিল্লাতা ইবরা-হীমা হানীফাওঁ ওয়ামা-কা-না মিনাল মুশরিকীন।

আপনি বলুন, আল্লাহ সত্য বলেছেন। সুতরাং তোমরা ইবরাহীমের দীন অনুসরণ কর, যে ছিল সম্পূর্ণরূপে সঠিক পথের উপর। যারা আল্লাহর শরীক স্থির করে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
৯৬

اِنَّ اَوَّلَ بَیۡتٍ وُّضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِیۡ بِبَکَّۃَ مُبٰرَکًا وَّہُدًی لِّلۡعٰلَمِیۡنَ ۚ ٩٦

ইন্না আওওয়ালা বাইতিওঁ উদি‘আ লিন্না-ছি লাল্লাযী ব্বিাক্কাতা মুবা-রাকাওঁ ওয়াহুদাল লিল‘আ-লামীন।

বাস্তবতা এই যে, মানুষের (ইবাদতের) জন্য সর্বপ্রথম যে ঘর তৈরি করা হয়, নিশ্চয়ই তা সেটি, যা মক্কায় অবস্থিত, যা বরকতময় এবং সমগ্র জগতের মানুষের জন্য হিদায়াতের উপায়। ৪৭

তাফসীরঃ

৪৭. এটা ইয়াহুদীদের আরেকটি আপত্তির উত্তর। তাদের কথা ছিল, বনী ইসরাঈলের সমস্ত নবী বায়তুল মুকাদ্দাসকে নিজেদের কিবলা মেনে আসছেন। মুসলিমগণ সেটি ছেড়ে মক্কার কাবাকে কেন কিবলা বানিয়ে নিয়েছে? আয়াত এর জবাব দিচ্ছে, কাবা তো অস্তিত্ব লাভ করেছে বায়তুল মুকাদ্দাসের বহু আগে। এটা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের নিদর্শন। সুতরাং এটাকে পুনরায় কিবলা ও পবিত্র ইবাদতখানা বানিয়ে নেওয়াটা কিছুতেই আপত্তির বিষয় হতে পারে না।
৯৭

فِیۡہِ اٰیٰتٌۢ بَیِّنٰتٌ مَّقَامُ اِبۡرٰہِیۡمَ ۬ۚ وَمَنۡ دَخَلَہٗ کَانَ اٰمِنًا ؕ وَلِلّٰہِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الۡبَیۡتِ مَنِ اسۡتَطَاعَ اِلَیۡہِ سَبِیۡلًا ؕ وَمَنۡ کَفَرَ فَاِنَّ اللّٰہَ غَنِیٌّ عَنِ الۡعٰلَمِیۡنَ ٩٧

ফীহি আ-য়া-তুম বাইয়িনা-তুম মাকা-মুইবরা-হীমা ওয়া মান দাখালাহু কা-না আমিনাওঁ ওয়ালিল্লা-হি ‘আলান্না-ছি হিজ্জুল বাইতি মানিছতাতা-‘আ ইলাইহি ছাবীলাওঁ ওয়া মান কাফারা ফাইন্নাল্লা-হা গানিইয়ুন ‘আনিল ‘আ-লামীন।

তাতে আছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী, মাকামে ইবরাহীম। যে তাতে প্রবেশ করে, সে নিরাপদ হয়ে যায়। মানুষের মধ্যে যারা সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তাদের উপর আল্লাহর জন্য এ ঘরের হজ্জ করা ফরয। কেউ (এটা) অস্বীকার করলে আল্লাহ তো বিশ্ব জগতের সমস্ত মানুষ হতে বেনিয়ায।
৯৮

قُلۡ یٰۤاَہۡلَ الۡکِتٰبِ لِمَ تَکۡفُرُوۡنَ بِاٰیٰتِ اللّٰہِ ٭ۖ وَاللّٰہُ شَہِیۡدٌ عَلٰی مَا تَعۡمَلُوۡنَ ٩٨

কুল ইয়াআহলাল কিতা-বি লিমা তাকফুরূনা বিআ-য়া-তিল্লা-হি ওয়াল্লা-হু শাহীদুন ‘আলা-মা-তা‘মালূন।

বলে দাও, হে কিতাবীগণ! তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহ কেন অস্বীকার করছ? তোমরা যা-কিছু করছ আল্লাহ তার সাক্ষী।
৯৯

قُلۡ یٰۤاَہۡلَ الۡکِتٰبِ لِمَ تَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ مَنۡ اٰمَنَ تَبۡغُوۡنَہَا عِوَجًا وَّاَنۡتُمۡ شُہَدَآءُ ؕ وَمَا اللّٰہُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُوۡنَ ٩٩

কুল ইয়াআহলাল কিতা-বি লিমা তাসুদ্দূনা ‘আন ছাবীলিল্লা-হি মান আ-মানা তাবগূনাহা ‘ইওয়াজাওঁ ওয়া আনতুম শুহাদাউ ওয়ামাল্লা-হু বিগা-ফিলিন ‘আম্মা-তা‘মালূন।

বলে দাও, হে কিতাবীগণ! মুমিনদেরকে আল্লাহর পথে বাধা দিচ্ছ কেন তাতে বক্রতা সৃষ্টির চেষ্টা করে, অথচ তোমরা নিজেরাই (প্রকৃত অবস্থার) সাক্ষী? ৪৮ তোমরা যা-কিছু করছ, আল্লাহ সে সম্পর্কে গাফিল নন।

তাফসীরঃ

৪৮. এখান থেকে ১০৮ নং পর্যন্ত আয়াতসমূহ একটি বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছে। মদীনা মুনাওয়ারায় আউস ও খাযরাজ নামে দু’টো গোত্র বাস করত। প্রাক-ইসলামী যুগে এ দুই গোত্রের মধ্যে প্রচণ্ড শত্রুতা ছিল। তাদের মধ্যে প্রায়ই যুদ্ধ-বিগ্রহ লেগে থাকত। সেসব যুদ্ধ কখনও বছরের পর বছর স্থায়ী হত। গোত্র দু’টি যখন ইসলাম গ্রহণ করল তখন ইসলামের বরকতে তাদের পারস্পরিক শত্রুতা খতম হয়ে গেল এবং তারা পরস্পরে পরম বন্ধু ও ভাই-ভাই হয়ে গেল। তাদের এ ঐক্য ইয়াহুদীদের পক্ষে চোখের কাঁটায় পরিণত হল। একবার উভয় গোত্রের লোক একটি মজলিসে বসা ছিল। শাম্মাস ইবনে কায়স নামক এক ইয়াহুদী যখন তাদের সে সম্প্রীতিপূর্ণ দৃশ্য দেখল, তখন তার গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেল। সে তাদের মধ্যে কলহ সৃষ্টির পাঁয়তারা করল এবং সেই লক্ষ্যে এই কৌশল অবলম্বন করল যে, এক ব্যক্তিকে বলল, জাহিলী যুগে আউস ও খাযরাজের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ‘বু‘আছ’-এর যুদ্ধ চলাকালে উভয় পক্ষের কবিগণ পরস্পরের বিরুদ্ধে যেসব কবিতা পাঠ করত, তুমি ওই মজলিসে গিয়ে তা আবৃত্তি কর। সেই ব্যক্তি গিয়ে তা আবৃত্তি করতে শুরু করল। তা শোনামাত্র পুরানো ঘা তাজা হয়ে উঠল। প্রথম দিকে উভয় পক্ষে কথা কাটাকাটি চলল। ক্রমে তা বিবাদে রূপ নিল এবং নতুনভাবে আবার যুদ্ধের দিন-ক্ষণ স্থির হয়ে যাওয়ার উপক্রম হল। ইত্যবসরে বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কানে গেল। তিনি ভীষণ দুঃখ পেলেন। দ্রুত সেখানে চলে আসলেন এবং তাদেরকে সতর্ক করে দিলেন যে, এটা এক শয়তানী চাল। পরিশেষে তাঁর বোঝানো-সমঝানোর ফলে সে ফিতনা খতম হয়ে গেল। আলোচ্য আয়াতসমূহে আল্লাহ তাআলা প্রথমে তো ইয়াহুদীদেরকে সম্বোধন করে বলছেন, প্রথমত তোমাদের নিজেদেরই তো ঈমান আনা উচিত। আর যদি নিজেরা সে সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হও, তবে অন্ততপক্ষে যে সকল লোক ঈমান এনেছে তাদের ঈমানের পথে অন্তরায় সৃষ্টি হতে তো ক্ষান্ত থাক। অতঃপর মুমিনদেরকে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ভাষায় উপদেশ দেওয়া হয়েছে যে, তোমরা ইয়াহুদীদের কথায় কর্ণপাত করো না। তাহলে তারা তোমাদেরকে ঈমানের আলো থেকে কুফরের অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাবে। বরং তোমাদের সামনে আল্লাহর যে আয়াত পাঠ করা হয় তার অনুসরণ কর। আল্লাহর দীন ও তাঁর কিতাবকে আঁকড়ে ধর, মৃত্যু পর্যন্ত ইসলামের অনুশাসন মেনে চল ও তাকওয়া অবলম্বন করে চল এবং তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ রেখে নিজেদের সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখ। সবশেষে আত্মকলহ থেকে বাঁচার জন্য এই ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে যে, নিজেদেরকে দীনের তাবলীগ ও প্রচার কার্যে নিয়োজিত রাখ। তাতে যেমন ইসলাম প্রচার লাভ করবে, সেই সঙ্গে নিজেদের মধ্যে সংহতিও গড়ে ওঠবে।
১০০

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنۡ تُطِیۡعُوۡا فَرِیۡقًا مِّنَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ یَرُدُّوۡکُمۡ بَعۡدَ اِیۡمَانِکُمۡ کٰفِرِیۡنَ ١۰۰

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূইন তুতী‘ঊ ফারীকাম মিনাল্লাযীনা ঊতুলকিতা-বা ইয়ারুদ্দূকুম বা‘দা ঈমা-নিকুম কা-ফিরীন।

হে মুমিনগণ! তোমরা যদি কিতাবীদের একটি দলের (অর্থাৎ ইয়াহুদীদের) কথা মেনে নাও, তবে তারা তোমাদেরকে তোমাদের ঈমান আনার পর পুনরায় কাফির বানিয়ে ছাড়বে।
১০১

وَکَیۡفَ تَکۡفُرُوۡنَ وَاَنۡتُمۡ تُتۡلٰی عَلَیۡکُمۡ اٰیٰتُ اللّٰہِ وَفِیۡکُمۡ رَسُوۡلُہٗ ؕ  وَمَنۡ یَّعۡتَصِمۡ بِاللّٰہِ فَقَدۡ ہُدِیَ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ٪ ١۰١

ওয়া কাইফা তাকফুরূনা ওয়া আনতুম তুতলা-‘আলাইকুম আ-য়া-তুল্লা-হি ওয়া ফীকুম রাসূলুহু ওয়া মাইঁ ইয়া‘তাসিম বিল্লা-হি ফাকাদ হুদিয়া ইলা-সিরা-তিম্মুছতাকীম।

তোমরা কি করেই বা কুফর অবলম্বন করবে, যখন তোমাদের সামনে আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হচ্ছে এবং তাঁর রাসূল তোমাদের মধ্যে বর্তমান রয়েছেন? আর (আল্লাহর নীতি এই যে,) যে ব্যক্তি আল্লাহর আশ্রয়কে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরে, তাকে সরল পথ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়।
১০২

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰہَ حَقَّ تُقٰتِہٖ وَلَا تَمُوۡتُنَّ اِلَّا وَاَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ ١۰٢

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানুত্তাকুল্লা-হা হাক্কাতুকা-তিহী ওয়ালা-তামূতুন্না ইল্লা-ওয়া আনতুম মুছলিমূন।

হে মুমিনগণ! অন্তরে আল্লাহকে সেইভাবে ভয় কর, যেভাবে তাকে ভয় করা উচিত। (সাবধান! অন্য কোনও অবস্থায় যেন) তোমাদের মৃত্যু (না আসে, বরং) এই অবস্থায়ই যেন আসে যে, তোমরা মুসলিম।
১০৩

وَاعۡتَصِمُوۡا بِحَبۡلِ اللّٰہِ جَمِیۡعًا وَّلَا تَفَرَّقُوۡا ۪ وَاذۡکُرُوۡا نِعۡمَتَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ اِذۡ کُنۡتُمۡ اَعۡدَآءً فَاَلَّفَ بَیۡنَ قُلُوۡبِکُمۡ فَاَصۡبَحۡتُمۡ بِنِعۡمَتِہٖۤ اِخۡوَانًا ۚ وَکُنۡتُمۡ عَلٰی شَفَا حُفۡرَۃٍ مِّنَ النَّارِ فَاَنۡقَذَکُمۡ مِّنۡہَا ؕ کَذٰلِکَ یُبَیِّنُ اللّٰہُ لَکُمۡ اٰیٰتِہٖ لَعَلَّکُمۡ تَہۡتَدُوۡنَ ١۰٣

ওয়া‘তাসিমূ বিহাবলিল্লা-হি জামী‘আওঁ ওয়ালা-তাফাররাকূওয়াযকুরূ নি‘মা-তাল্লাহি ‘আলাইকুম ইযকুনতুম আ‘দাআন ফাআল্লাফা বাইনা কুলূবিকুম ফাআসবাহতুম বিনি‘মাতিহীইখওয়া-নাওঁ ওয়া কুনতুম ‘আলা-শাফা হুফরাতিম মিনান্না-রি ফাআনকাযাকুম মিন হা-কাযা-লিকা ইউবাইয়িনুল্লা-হু লাকুম আ-য়া-তিহী লা‘আল্লাকুম তাহতাদূন।

আল্লাহর রশিকে (অর্থাৎ তাঁর দীন ও কিতাবকে) দৃঢ়ভাবে ধরে রাখ এবং পরস্পরে বিভেদ করো না। আল্লাহ তোমাদের প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন তা স্মরণ রাখ। একটা সময় ছিল, যখন তোমরা একে অন্যের শত্রু ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের অন্তরসমূহকে জুড়ে দিলেন। ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই-ভাই হয়ে গেলে। তোমরা অগ্নিকু-ের প্রান্তে ছিল। আল্লাহ তোমাদেরকে (ইসলামের মাধ্যমে) সেখান থেকে মুক্তি দিলেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বীয় নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা সঠিক পথে চলে আস।
১০৪

وَلۡتَکُنۡ مِّنۡکُمۡ اُمَّۃٌ یَّدۡعُوۡنَ اِلَی الۡخَیۡرِ وَیَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَیَنۡہَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡکَرِ ؕ وَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ ١۰٤

ওয়ালতাকুম মিনকুম উম্মাতুইঁ ইয়াদ‘ঊনা ইলাল খাইরি ওয়াইয়া’মুরূনা বিলমা‘রূফি ওয়া ইয়ানহাওনা ‘আনিল মুনকারি ওয়া উলাইকা হুমুল মুফলিহুন।

তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা চাই, যারা (মানুষকে) কল্যাণের দিকে ডাকবে, সৎকাজের আদেশ করবে ও মন্দ কাজে বাধা দেবে। এরূপ লোকই সফলতা লাভকারী।
১০৫

وَلَا تَکُوۡنُوۡا کَالَّذِیۡنَ تَفَرَّقُوۡا وَاخۡتَلَفُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِ مَا جَآءَہُمُ الۡبَیِّنٰتُ ؕ  وَاُولٰٓئِکَ لَہُمۡ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ ۙ ١۰٥

ওয়ালা-তাকূনূ কাল্লাযীনা তাফাররাকূওয়াখতালাফূ মিম বা‘দি মা-জাআহুমুল বাইয়িনা-তু ওয়া উলাইকা লাহুম ‘আযা-বুন ‘আজীম।

এবং তোমরা সেই সকল লোকের (অর্থাৎ ইয়াহুদী ও নাসারার) মত হয়ো না, যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী আসার পরও পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল ও আপসে মতভেদ সৃষ্টি করেছিল। এরূপ লোকদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি
১০৬

یَّوۡمَ تَبۡیَضُّ وُجُوۡہٌ وَّتَسۡوَدُّ وُجُوۡہٌ ۚ فَاَمَّا الَّذِیۡنَ اسۡوَدَّتۡ وُجُوۡہُہُمۡ ۟ اَکَفَرۡتُمۡ بَعۡدَ اِیۡمَانِکُمۡ فَذُوۡقُوا الۡعَذَابَ بِمَا کُنۡتُمۡ تَکۡفُرُوۡنَ ١۰٦

ইয়াওমা তাবইয়াদ্দুউজূহুওঁ ওয়া তাছওয়াদ্দু উজূহুন ফাআম্মাল্লাযী নাছওয়াদ্দাত উজূহুহুম আকাফারতুম বা‘দা ঈমা-নিকুম ফাযূকুল ‘আযা-বা বিমা-কুনতুম তাকফুরূন।

সেই দিন, যে দিন কতক মুখ (ঈমান ও আনুগত্যের আলোয়) উজ্জ্বল হবে এবং কতক মুখ (কুফল ও পাপের কালিমায়) কালো হয়ে যাবে। যাদের মুখ কালো হয়ে যাবে, (তাদেরকে বলা হবে,) তোমরা কি ঈমান আনার পর কুফল অবলম্বন করেছিলে? ৪৯ সুতরাং তোমরা শাস্তি আস্বাদন কর, যেহেতু তোমরা কুফরী করতে।

তাফসীরঃ

৪৯. এটা যদি ইয়াহুদীদের সম্পর্কে হয়, তবে ঈমান দ্বারা তাওরাতের প্রতি ঈমান আনা বোঝানো হয়েছে, আর মুনাফিকদের সম্পর্কে হলে ঈমান দ্বারা তাদের মৌখিক ঘোষণাকে বোঝানো হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা নিজেদেরকে মুমিন বলে প্রকাশ করত। তৃতীয় সম্ভাবনা এ-ও রয়েছে যে, এর দ্বারা সেই সকল লোককে বোঝানো হয়েছে, যারা কোনও সময় ঈমান আনার পর আবার মুরতাদ হয়ে গেছে। পূর্বে যেহেতু মুসলিমদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, খবরদার ইসলাম থেকে সরে যেয়ো না, তাই এখানে বলে দেওয়া হয়েছে, যারা ইসলাম গ্রহণের পর মুরতাদ হয়ে যায় (অর্থাৎ ইসলাম থেকে সরে যায়) আখিরাতে তাদের পরিণাম কী হবে।
১০৭

وَاَمَّا الَّذِیۡنَ ابۡیَضَّتۡ وُجُوۡہُہُمۡ فَفِیۡ رَحۡمَۃِ اللّٰہِ ؕ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ١۰٧

ওয়া আম্মাল্লাযীনাব ইয়াদ্দাত উজূহুহুম, ফাফী রাহমাতিল্লা-হি হুম ফীহা-খা-লিদূ ন।

পক্ষান্তরে যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে, তারা আল্লাহর রহমতের ভেতর স্থান পাবে এবং তারা তাতেই সর্বদা থাকবে।
১০৮

تِلۡکَ اٰیٰتُ اللّٰہِ نَتۡلُوۡہَا عَلَیۡکَ بِالۡحَقِّ ؕ وَمَا اللّٰہُ یُرِیۡدُ ظُلۡمًا لِّلۡعٰلَمِیۡنَ ١۰٨

তিলকা আ-য়া-তুল্লা-হি নাতলূহা-‘আলাইকা বিলহাক্কি ওয়ামাল্লা-হু ইউরীদু জুলমাল লিল‘আ-লামীন।

এসব আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমাকে যথাযথভাবে পড়ে শোনাচ্ছি। আল্লাহ জগদ্বাসীর প্রতি কোনও রকম জুলুম করতে চান না।
১০৯

وَلِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ  وَاِلَی اللّٰہِ تُرۡجَعُ الۡاُمُوۡرُ ٪ ١۰٩

ওয়ালিল্লা-হি মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদিওয়া ইলাল্লা-হি তুরজ‘উল উমূর।

আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, তা আল্লাহরই এবং তাঁরই দিকে সকল বিষয় ফিরে যাবে।
১১০

کُنۡتُمۡ خَیۡرَ اُمَّۃٍ اُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ تَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَتَنۡہَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡکَرِ وَتُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ ؕ وَلَوۡ اٰمَنَ اَہۡلُ الۡکِتٰبِ لَکَانَ خَیۡرًا لَّہُمۡ ؕ مِنۡہُمُ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ وَاَکۡثَرُہُمُ الۡفٰسِقُوۡنَ ١١۰

কুনতুম খাইরা উম্মাতিন উখরিজাত লিন্না-ছি তা’মুরূনা বিলমা‘রূফি ওয়াতানহাওনা ‘আনিল মুনকারি ওয়া তু’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়া লাও আ-মানা আহলুল কিতা-বি লাকা-না খাইরাল্লাহুম মিনহুমুল মু’মিনূনা ওয়া আকছারুহুমুল ফা-ছিকূন।

(হে মুসলিমগণ!) তোমরা সেই শ্রেষ্ঠতম দল, মানুষের কল্যাণের জন্য যাদের অস্তিত্ব দান করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ করে থাক ও অন্যায় কাজে বাধা দিয়ে থাক এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ। ৫০ কিতাবীগণ যদি ঈমান আনত, তবে তাদের পক্ষে তা কতই না ভালো হত। তাদের মধ্যে কতক তো ঈমানদার, কিন্তু তাদের অধিকাংশই নাফরমান।

তাফসীরঃ

৫০. এ উম্মতের শ্রেষ্ঠত্বের কারণ বলা হয়েছে দু’টি : (ক) সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা এবং (খ) আল্লাহর প্রতি ঈমান। প্রশ্ন হতে পারে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করার তথা দাওয়াতের দায়িত্ব তো অন্যান্য উম্মতের উপরও ছিল, যেমন বিভিন্ন আয়াত ও হাদীছ দ্বারা জানা যায়। আর বলা বাহুল্য, আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমানও তাদের ছিল, তা সত্ত্বেও তাদের অপেক্ষা এ উম্মতকে শ্রেষ্ঠ বলার কারণ কী? এর জবাব আয়াতের বাচনভঙ্গির মধ্যেই প্রচ্ছন্ন আছে। বলা হয়েছে, ‘তোমরা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করে থাক। এর মধ্যে ইশারা রয়েছে যে, অন্যান্য উম্মতের উপর এ দায়িত্ব থাকলেও তারা তা পালনে অবহেলা করত। অবহেলার কারণে কুরআন মাজীদের কোন কোন আয়াতে তাদেরকে তিরস্কারও করা হয়েছে। এবং সে অবহেলারই পরিণাম হল, তাদের ধর্ম কাল পরিক্রমায় বিকৃত ও বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অপরপক্ষে এ উম্মতের কোনও না কোনও দল এ দায়িত্ব যথারীতি আদায় করে আসছে এবং হাদীছের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী কিয়ামত পর্যন্ত পালন করে যাবে, যে কারণে দীনে ইসলাম অদ্যাবধি তার স্বরূপে সংরক্ষিত আছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে ইনশাআল্লাহ। সেই সঙ্গে শ্রেষ্ঠত্বের একটা কারণ হল দাওয়াতের পূর্ণাঙ্গতা ও সার্বজনীনতা। অর্থাৎ এ দীন পরিপূর্ণ ও সার্বজনীন হওয়ায় এ উম্মতের দাওয়াতের মধ্যেও পরিপূর্ণতা ও সার্বজনীনতার গুণ বিদ্যমান, যা অন্য কোন উম্মতের দাওয়াতে ছিল না। আর দ্বিতীয় বিষয় অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি ঈমানও যে অন্যান্য উম্মতের যথাযথ নয়, তাও এ আয়াতে স্পষ্ট। সুতরাং বলা হয়েছে, ‘কিতাবীগণ যদি ঈমান আনত’ অর্থাৎ তারা যদি শেষনবী ও কুরআন মাজীদের প্রতি ঈমান আনত! তা না আনার কারণে তাদের আপন-আপন নবী ও কিতাবের প্রতিও ঈমান পূর্ণাঙ্গ থাকেনি। ফলে তাদের ঈমান হয়ে গেছে খণ্ডিত ঈমান। পক্ষান্তরে দাওয়াতের মত এ উম্মতের ঈমানও পূর্ণাঙ্গ। তারা কিছুতে ঈমান আনে, কিছুতে আনে না, এমন নয়। বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত যত কিতাব নাযিল হয়েছে ও যত নবী প্রেরিত হয়েছেন, এরা তার সকলের প্রতিই বিশ্বাস রাখে। তাই বলা হয়েছে, তোমরা আল্লাহর প্রতি (অর্থাৎ তার সমস্ত কিতাব ও সমস্ত নবীর প্রতি) ঈমান রাখ। সুতরাং ঈমানের পরিপূর্ণতা এবং সার্বজনীনতার সাথে দাওয়াতের ধারাবাহিকতা রক্ষার ভিত্তিতেই এ উম্মতকে শ্রেষ্ঠ উম্মত বলা হয়েছে। (-অনুবাদক)
১১১

لَنۡ یَّضُرُّوۡکُمۡ اِلَّاۤ اَذًی ؕ وَاِنۡ یُّقَاتِلُوۡکُمۡ یُوَلُّوۡکُمُ الۡاَدۡبَارَ ۟ ثُمَّ لَا یُنۡصَرُوۡنَ ١١١

লাইঁ ইয়াদুররূকুম ইল্লাআযাওঁ ওয়া ইয়ঁ ইউকা-তিলূকুম ইউওয়াললূকুমুল আদবা-রা ছুম্মা লা-ইউনসারূন।

তারা সামান্য কষ্ট দান (অর্থাৎ মৌখিক গালমন্দ করা) ছাড়া তোমাদের বিশেষ কোনও ক্ষতি কখনই করতে পারবে না। আর তারা যদি কখনও তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে, তবে অবশ্যই তোমাদের পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে, অতঃপর তারা কোনও সাহায্য লাভ করবে না।
১১২

ضُرِبَتۡ عَلَیۡہِمُ الذِّلَّۃُ اَیۡنَ مَا ثُقِفُوۡۤا اِلَّا بِحَبۡلٍ مِّنَ اللّٰہِ وَحَبۡلٍ مِّنَ النَّاسِ وَبَآءُوۡ بِغَضَبٍ مِّنَ اللّٰہِ وَضُرِبَتۡ عَلَیۡہِمُ الۡمَسۡکَنَۃُ ؕ  ذٰلِکَ بِاَنَّہُمۡ کَانُوۡا یَکۡفُرُوۡنَ بِاٰیٰتِ اللّٰہِ وَیَقۡتُلُوۡنَ الۡاَنۡۢبِیَآءَ بِغَیۡرِ حَقٍّ ؕ  ذٰلِکَ بِمَا عَصَوۡا وَّکَانُوۡا یَعۡتَدُوۡنَ ٭ ١١٢

দুরিবাত ‘আলাইহিমুযযিল্লাতু আইনা মা-ছু কিফূইল্লা-বিহাবলিম মিনাল্লা-হি ওয়াহাবলিম মিনান্না-ছি ওয়া বাঊ বিগাদাবিম মিনাল্লা-হি ওয়া দুরিবাত ‘আলাইহিমুল মাছকানাতু যা-লিকা বিআন্নাহুম কানূ ইয়াকফুরূনা বিআ-য়া-তিল্লাহি ওয়াকতুলূনাল আমবিয়াআ বিগাইরিল হাক্কি যালিকা বিমা যা-লিকা বিমা-‘আসাওওয়া কা-নূ ইয়া‘তাদূ ন।

তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাক, তাদের উপর লাঞ্ছনার ছাপ মেরে দেওয়া হয়েছে, অবশ্য আল্লাহর তরফ থেকে যদি কোন উপায় সৃষ্টি হয়ে যায় কিংবা মানুষের পক্ষ হতে কোনও অবলম্বন বের হয়ে আসে, (যা তাদেরকে পোষকতা দান করবে) তবে ভিন্ন কথা। এবং তারা আল্লাহর ক্রোধ নিয়ে ফিরেছে, আর তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে অভাবগ্রস্ততা। এর কারণ এই যে, তারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করত এবং নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত। (তাছাড়া) এর কারণ এই যে, তারা অবাধ্যতা করত ও সীমালংঘনে লিপ্ত থাকত।
১১৩

لَیۡسُوۡا سَوَآءً ؕ مِنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ اُمَّۃٌ قَآئِمَۃٌ یَّتۡلُوۡنَ اٰیٰتِ اللّٰہِ اٰنَآءَ الَّیۡلِ وَہُمۡ یَسۡجُدُوۡنَ ١١٣

লাইছূ ছাওয়াআম; মিন আহলিল কিতা-বি উম্মাতুন কাইমাতুইঁ ইয়াতলূনা আ-য়া-তিল্লা হি আ-নাআল্লাইলি ওয়াহুম ইয়াছজুদূন।

(তবে) কিতাবীদের সকলে এক রকম নয়। কিতাবীদের মধ্যেই এমন লোকও আছে, যারা (সঠিক পথে) প্রতিষ্ঠিত, যারা রাতের বেলা আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করে এবং তারা (আল্লাহর উদ্দেশে) সিজদাবনত হয়। ৫১

তাফসীরঃ

৫১. এর দ্বারা সেই সব কিতাবীদেরকে বোঝানো উদ্দেশ্য, যারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান এনেছিল, যেমন ইয়াহুদীদের মধ্যে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযি.)।
১১৪

یُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ وَیَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَیَنۡہَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡکَرِ وَیُسَارِعُوۡنَ فِی الۡخَیۡرٰتِ ؕ وَاُولٰٓئِکَ مِنَ الصّٰلِحِیۡنَ ١١٤

ইউ’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়াল ইয়াওমিল আ-খিরি ওয়া ইয়া’মুরূনা বিলমা‘রূফি ওয়াইয়ানহাওনা ‘আনিল মুনকারি ওয়া ইউছা-রি‘ঊনা ফিল খাইরা-তি ওয়া উলাইকা মিনাসসা-লিহীন।

তারা আল্লাহ ও আখিরাত-দিবসে ঈমান রাখে, সৎকাজের আদেশ করে, অসৎকাজে নিষেধ করে এবং উত্তম কাজের দিকে ধাবিত হয়। আর এরাই সালিহীনের মধ্যে গণ্য।
১১৫

وَمَا یَفۡعَلُوۡا مِنۡ خَیۡرٍ فَلَنۡ یُّکۡفَرُوۡہُ ؕ وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌۢ بِالۡمُتَّقِیۡنَ ١١٥

ওয়ামা-ইয়াফ‘আলূ মিন খাইরিন ফালাইঁ ইউকফারূহু ওল্লাহু আলীমুম বিলমুত্তাকীন।

তারা যেসব ভালো কাজ করে, কিছুতেই তার অমর্যাদা করা হবে না। আল্লাহ মুত্তাকীদের সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।
১১৬

اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَنۡ تُغۡنِیَ عَنۡہُمۡ اَمۡوَالُہُمۡ وَلَاۤ اَوۡلَادُہُمۡ مِّنَ اللّٰہِ شَیۡـًٔا ؕ وَاُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۚ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ١١٦

ইন্নাল্লাযীনা কাফারূ লান তুগনিয়া ‘আনহুম আমওয়া-লুহুম ওয়ালা-আওলা-দুহুম মিনাল্লা-হি শাইআওঁ ওয়া উলাইকা আসহা-বুন্না-রি হুম ফীহা-খা-লিদূ ন।

(এর বিপরীতে) যারা কুফল অবলম্বন করেছে, আল্লাহর বিপরীতে তাদের অর্থ-সম্পদ তাদের কোনও কাজে আসবে না এবং তাদের সন্তান-সন্ততিও নয় এবং তারা জাহান্নামবাসী। তাতেই তারা সর্বদা থাকবে।
১১৭

مَثَلُ مَا یُنۡفِقُوۡنَ فِیۡ ہٰذِہِ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا کَمَثَلِ رِیۡحٍ فِیۡہَا صِرٌّ اَصَابَتۡ حَرۡثَ قَوۡمٍ ظَلَمُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ فَاَہۡلَکَتۡہُ ؕ وَمَا ظَلَمَہُمُ اللّٰہُ وَلٰکِنۡ اَنۡفُسَہُمۡ یَظۡلِمُوۡنَ ١١٧

মাছালু মা-ইউনফিকূনা ফী হা-যিহিল হায়া-তিদ্দুনইয়া-কামাছালি রীহিন ফীহাসিররুন আসা-বাত হারছা কাওমিন জালামু-আনফুছাহুম ফাআহলাকাতহু ওয়ামা-জালামাহুমুল্লা-হু ওয়ালা-কিন আনফুছাহুম ইয়াজলিমূন।

তারা এ দুনিয়ার জীবনে যা-কিছু ব্যয় করে, তার দৃষ্টান্ত এ রকম, যেমন হিমশীতল বায়ু এমন একদল লোকের শস্য-ক্ষেতে আঘাত হানে ৫২ ও তা ধ্বংস করে দেয়, যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি জুলুম করেননি; বরং তারা নিজেরাই নিজেদের উপর জুলুম করছে।

তাফসীরঃ

৫২. কাফিরগণ দান-খয়রাত ইত্যাদি যা-কিছু করে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতিদান তাদেরকে দুনিয়াতেই দিয়ে দেন। তাদের কুফরীর কারণে তারা আখিরাতে সেসব কাজের কোনও সওয়াব পাবে না। সুতরাং তাদের সেবামূলক কার্যক্রমের দৃষ্টান্ত হল শস্যক্ষেত্র, আর তাদের কুফরী কাজের দৃষ্টান্ত হিমশীতল ঝড়ো হাওয়া। সেই ঝড়ো হাওয়া যেমন মনোরম শস্যক্ষেত্রকে তছনছ করে দেয়, তেমনি তাদের কুফরও তাদের সেবামূলক কার্যক্রম ধ্বংস করে দেয়।
১১৮

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّخِذُوۡا بِطَانَۃً مِّنۡ دُوۡنِکُمۡ لَا یَاۡلُوۡنَکُمۡ خَبَالًا ؕ وَدُّوۡا مَا عَنِتُّمۡ ۚ قَدۡ بَدَتِ الۡبَغۡضَآءُ مِنۡ اَفۡوَاہِہِمۡ ۚۖ وَمَا تُخۡفِیۡ صُدُوۡرُہُمۡ اَکۡبَرُ ؕ قَدۡ بَیَّنَّا لَکُمُ الۡاٰیٰتِ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡقِلُوۡنَ ١١٨

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ লা-তাত্তাখিযূবিতা-নাতাম মিন দূ নিকুম লা-ইয়া’লূনাকুম খাবা-লাওঁ ওয়াদ্দূমা-‘আনিত্তুম কাদ বাদাতিল বাগদাউ মিন আফওয়া-হিহিম ওয়ামা-তুখফী সুদূ রুহুম আকবার কাদ বাইইয়ান্না-লাকুমুল আ-য়া-তি ইন কুনতুম তা‘কিলূন।

হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের বাইরের কোনও ব্যক্তিকে অন্তরঙ্গ বন্ধু বানিয়ো না। তারা তোমাদের অনিষ্ট কামনায় কোন রকম ত্রুটি করে না। ৫৩ যাতে তোমরা কষ্ট পাও তাই তারা কামনা করে। তাদের মুখ থেকেই আক্রোশ বের হয়ে গেছে। আর তাদের অন্তরে যা-কিছু (বিদ্বেষ) গোপন আছে, তা আরও গুরুতর। আমি আসল বৃত্তান্ত তোমাদের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিলাম যদি তোমরা বুদ্ধিকে কাজে লাগাও! ৫৪

তাফসীরঃ

৫৩. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তাদের প্রকৃত অবস্থা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিলেন এবং মুমিনদের সাথে বন্ধুত্ব ও কাফেরদের প্রতি শত্রুতা সংক্রান্ত বিধানাবলীও স্পষ্ট করে দিলেন। কাজেই বুদ্ধিমানদের উচিত এরূপ দুষ্ট প্রকৃতির লোকদেরকে অন্তরঙ্গ বন্ধু না বানিয়ে বরং তাদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং বন্ধু হিসেবে কেবল মুমিনদেরকেই যথেষ্ট মনে করা। -অনুবাদক
১১৯

ہٰۤاَنۡتُمۡ اُولَآءِ تُحِبُّوۡنَہُمۡ وَلَا یُحِبُّوۡنَکُمۡ وَتُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡکِتٰبِ کُلِّہٖ ۚ وَاِذَا لَقُوۡکُمۡ قَالُوۡۤا اٰمَنَّا ۚ٭ۖ وَاِذَا خَلَوۡا عَضُّوۡا عَلَیۡکُمُ الۡاَنَامِلَ مِنَ الۡغَیۡظِ ؕ قُلۡ مُوۡتُوۡا بِغَیۡظِکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ ١١٩

হাআনতুম উলাই তুহিববূনাহুম ওয়ালা ইউহিববূনাকুম ওয়া তু’মিনূনা বিলকিতা-বি কুল্লিহী ওয়া ইযা-লাকূকুম কা-লূ আ-মান্না-ওয়া ইযা-খালাও ‘আদ্দূ‘আলাইকুমুল আনা-মিলা মিনাল গাইজিকুল মূতূ বিগাইজিকুম ইন্নাল্লা-হা ‘আলীমুম বিযাতিস সুদূ র।

দেখ, তোমরা তো এমন যে, তোমরা তাদেরকে মহব্বত কর, কিন্তু তারা তোমাদেরকে মহব্বত করে না। আর তোমরা তো সমস্ত (আসমানী) কিতাবের উপর ঈমান রাখ, কিন্তু (তাদের অবস্থা এই যে,) তারা যখন তোমাদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে, আমরা (কুরআনের উপর) ঈমান এনেছি, আর যখন নিভৃতে চলে যায় তখন তোমাদের প্রতি আক্রোশে নিজেদের আঙ্গুল কামড়ায়। (তাদেরকে) বলে দাও, তোমরা নিজেদের আক্রোশে নিজেরা মর। আল্লাহ অন্তরের গুপ্ত বিষয়ও ভালো করে জানেন।
১২০

اِنۡ تَمۡسَسۡکُمۡ حَسَنَۃٌ تَسُؤۡہُمۡ ۫  وَاِنۡ تُصِبۡکُمۡ سَیِّئَۃٌ یَّفۡرَحُوۡا بِہَا ؕ  وَاِنۡ تَصۡبِرُوۡا وَتَتَّقُوۡا لَا یَضُرُّکُمۡ کَیۡدُہُمۡ شَیۡـًٔا ؕ  اِنَّ اللّٰہَ بِمَا یَعۡمَلُوۡنَ مُحِیۡطٌ ٪ ١٢۰

ইন তামছাছকুম হাছানাতুন তাছু’হুম ওয়া ইন তুসিবকুম ছাইয়িআতুইঁ ইয়াফরাহুবিহা-ওয়া ইন তাসবিরূ ওয়া তাত্তাকূলা-ইয়াদুররুকুম কাইদুহুম শাইআন ইন্নাল্লা-হা বিমা-ইয়া‘মালূনা মুহীত।

তোমাদের যদি কোন কল্যাণ লাভ হয়, তাদের খারাপ লাগে, পক্ষান্তরে তোমাদের মন্দ কিছু ঘটলে তারা তাতে খুশী হয়। তোমরা সবর ও তাকওয়া অবলম্বন করলে তাদের চক্রান্ত তোমাদের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। তারা যা-কিছু করছে তা সবই আল্লাহর (জ্ঞান ও শক্তির) আওতাভুক্ত।
১২১

وَاِذۡ غَدَوۡتَ مِنۡ اَہۡلِکَ تُبَوِّیٴُ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ مَقَاعِدَ لِلۡقِتَالِ ؕ  وَاللّٰہُ سَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ ۙ ١٢١

ওয়া ইযগাদাওতা মিন আহলিকা তুবাওবিউল মু’মিনীনা মাকা-‘ইদা লিলকিতা-লি ওয়াল্লা-হু ছামী‘উন ‘আলীম।

(হে নবী! উহুদ যুদ্ধের সেই সময়ের কথা স্মরণ কর) যখন সকাল বেলা তুমি নিজ গৃহ থেকে বের হয়ে মুসলিমদেরকে যুদ্ধের ঘাঁটিসমূহে মোতায়েন করেছিলে। ৫৫ আর আল্লাহ তো সব কিছুই শোনেন ও জানেন।

তাফসীরঃ

৫৫. উহুদের যুদ্ধে মক্কার কাফিরদের থেকে তিন হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী মদীনায় আক্রমণ চালানোর উদ্দেশ্যে এসেছিল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের মুকাবিলা করার জন্য উহুদ পাহাড়ের পাদদেশে গিয়ে শিবির স্থাপন করেন। সেখানেই এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সামনের আয়াতসমূহে এ যুদ্ধেরই বিভিন্ন ঘটনার প্রতি ইশারা করা হয়েছে।
১২২

اِذۡ ہَمَّتۡ طَّآئِفَتٰنِ مِنۡکُمۡ اَنۡ تَفۡشَلَا ۙ وَاللّٰہُ وَلِیُّہُمَا ؕ وَعَلَی اللّٰہِ فَلۡیَتَوَکَّلِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ١٢٢

ইযহাম্মাত তাইফাতা-নি মিনকুম আন তাফশালা-ওয়াল্লা-হু ওয়ালিইয়ুহুমা-ওয়া ‘আলাল্লা-হি ফালইয়াতাওয়াক্কালিল মু’মিনূন।

যখন তোমাদেরই মধ্যকার দু’টি দল হিম্মত হারিয়ে ফেলার উপক্রম করেছিল। ৫৬ অথচ আল্লাহ তাদের অভিভাবক ও সাহায্যকারী ছিলেন। মুমিনদের তো আল্লাহরই উপর নির্ভর করা উচিত।

তাফসীরঃ

৫৬. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুকাবিলার উদ্দেশ্যে যখন মদীনা মুনাওয়ারা থেকে বের হন, তখন তাঁর সঙ্গে সৈন্য সংখ্যা ছিল এক হাজার। কিন্তু মুনাফিকদের নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই রাস্তা থেকে এই বলে তার তিনশ’ লোককে নিয়ে ফেরত চলে যায় যে, আমাদের মত ছিল শহরের ভেতর থেকে শত্রুদের প্রতিরোধ করা। কিন্তু আপনি আমাদের মতের বিরুদ্ধে শহরের বাইরে চলে এসেছেন। কাজেই আমরা এ যুদ্ধে শরীক হব না। এ পরিস্থিতিতে খাঁটি মুসলিমদের দু’টি গোত্রও হতোদ্যম হয়ে পড়ে। একটি গোত্র বনু হারিছা, অন্যটি বনু সালিমা। তাদের অন্তরে এই ভাবনা সৃষ্টি হল যে, তিন হাজার সৈন্যের মুকাবিলায় সাতশ’ লোক তো নিতান্তই কম। এরূপ ক্ষেত্রে যুদ্ধ করার চেয়ে ফিরে যাওয়াই শ্রেয়। কিন্তু পরক্ষণেই আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সাহায্য করেন। ফলে তারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। এ আয়াতে সে দিকেই ইশারা করা হয়েছে।
১২৩

وَلَقَدۡ نَصَرَکُمُ اللّٰہُ بِبَدۡرٍ وَّاَنۡتُمۡ اَذِلَّۃٌ ۚ فَاتَّقُوا اللّٰہَ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ ١٢٣

ওয়া লাকাদ নাসারাকুমুল্লা-হু ব্বিাদরিওঁ ওয়া আনতুম আযিল্লাতুন ফাত্তাকুল্লা-হা লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন।

আল্লাহ বদর (যুদ্ধ)-এর ক্ষেত্রে এমন অবস্থায় তোমাদের সাহায্য করেছিলেন, যখন তোমরা সম্পূর্ণ সহায়-সম্বলহীন ছিলে। ৫৭ সুতরাং তোমরা অন্তরে (কেবল) আল্লাহর ভয়কেই জায়গা দিয়ো, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পার।

তাফসীরঃ

৫৭. বদরের যুদ্ধে মুসলিমদের সংখ্যা ছিল সর্বমোট তিনশ’ তেরজন। রণসামগ্রী বলতে ছিল সত্তরটি উট, দু’টি ঘোড়া এবং মাত্র আটখানা তরবারি।
১২৪

اِذۡ تَقُوۡلُ لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ اَلَنۡ یَّکۡفِیَکُمۡ اَنۡ یُّمِدَّکُمۡ رَبُّکُمۡ بِثَلٰثَۃِ اٰلٰفٍ مِّنَ الۡمَلٰٓئِکَۃِ مُنۡزَلِیۡنَ ؕ ١٢٤

ইযতাকূলুলিলমু’মিনীনা আলাইঁ ইয়াকফিয়াকুমআইঁ ইউমিদ্দাকুম রাব্বুকুমবিছালা-ছাতি আ-লা-ফিম মিনাল মালাইকাতি মুনঝালীন।

(বদরের যুদ্ধকালে) যখন তুমি মুমিনদেরকে বলছিলে, তোমাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের প্রতিপালক তিন হাজার ফিরিশতা পাঠিয়ে তোমাদের সাহায্য করবেন?
১২৫

بَلٰۤی ۙ اِنۡ تَصۡبِرُوۡا وَتَتَّقُوۡا وَیَاۡتُوۡکُمۡ مِّنۡ فَوۡرِہِمۡ ہٰذَا یُمۡدِدۡکُمۡ رَبُّکُمۡ بِخَمۡسَۃِ اٰلٰفٍ مِّنَ الۡمَلٰٓئِکَۃِ مُسَوِّمِیۡنَ ١٢٥

বালা ইন তাসবিরু ওয়া তাত্তাকূওয়া ইয়া’তূকুম মিন ফাওরিহিম হা-যা- ইউমদিদকুম রাব্বুকুম বিখামছাতি আ-লা-ফিম মিনাল মালাইকাতি মুছাওবিমীন।

নিশ্চয়ই, বরং তোমরা যদি সবর ও তাকওয়া অবলম্বন কর এবং তারা এই মুহূর্তে অকস্মাৎ তোমাদের কাছে এসে পড়ে, তবে তোমাদের প্রতিপালক পাঁচ হাজার ফিরিশতাকে তোমাদের সাহায্যার্থে পাঠিয়ে দেবেন, যারা (তাদের বিশেষ চিহ্নে) চিহ্নিত থাকবে। ৫৮

তাফসীরঃ

৫৮. এ সবই বদর যুদ্ধের কথা। সে যুদ্ধে শুরুতে তিন হাজার ফিরিশতা পাঠানোর সুসংবাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাহাবীগণ খবর পেলেন, মক্কার কাফিরদের সাহায্য করার লক্ষ্যে র্কুয ইবনে জাবির তার বাহিনী নিয়ে এগিয়ে আসছে। আগে থেকেই কাফিরদের সৈন্য সংখ্যা ছিল মুসলিমদের তিন গুণ। যখন এই খবর পাওয়া গেল, মুসলিম বাহিনী অত্যন্ত পেরেশান হয়ে পড়ল। এহেন পরিস্থিতিতে ওয়াদা করা হল, যদি র্কুযের বাহিনী হঠাৎ এসেই পড়ে তবে তিন হাজারের স্থলে পাঁচ হাজার ফিরিশতা পাঠানো হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত র্কুযের বাহিনী আসেনি। তাই পাঁচ হাজার ফিরিশতা পাঠানোরও অবকাশ আসেনি।
১২৬

وَمَا جَعَلَہُ اللّٰہُ اِلَّا بُشۡرٰی لَکُمۡ وَلِتَطۡمَئِنَّ قُلُوۡبُکُمۡ بِہٖ ؕ  وَمَا النَّصۡرُ اِلَّا مِنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ الۡعَزِیۡزِ الۡحَکِیۡمِ ۙ ١٢٦

ওয়ামা-জা‘আলাহুল্লা-হু ইল্লা-বুশরা-লাকুম ওয়া লিতাতমাইন্না কুলূবুকুম বিহী ওয়ামান্নাসরু ইল্লা-মিন ‘ইনদিল্লা-হিল ‘আঝীঝিল হাকীম।

আল্লাহ এ ব্যবস্থা কেবল এজন্যই করেছিলেন, যাতে তোমরা সুসংবাদ লাভ কর এবং এর দ্বারা তোমাদের অন্তরে স্বস্তি লাভ হয়। অন্যথায় বিজয় তো (অন্য কারও পক্ষ থেকে নয়), কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে লাভ হয়, যিনি পরিপূর্ণ ক্ষমতারও মালিক এবং পরিপূর্ণ হিকমতেরও মালিক।
১২৭

لِیَقۡطَعَ طَرَفًا مِّنَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَوۡ یَکۡبِتَہُمۡ فَیَنۡقَلِبُوۡا خَآئِبِیۡنَ ١٢٧

লিইয়াকতা‘আ তারাফাম মিনাল্লাযীনা কাফারূ আও ইয়াকবিতাহুম ফাইয়ানকালিবূ খাইবীন।

(এবং আল্লাহ তাআলা বদরের যুদ্ধে এ সাহায্য করেছিলেন এজন্য), যাতে যে সকল লোক কুফর অবলম্বন করেছে, তাদের একাংশকে খতম করে ফেলেন অথবা তাদেরকে এমন গ্লানিময় পরাজয় দান করেন, যাতে তারা ব্যর্থ মনোরথ হয়ে ফিরে যায়।
১২৮

لَیۡسَ لَکَ مِنَ الۡاَمۡرِ شَیۡءٌ اَوۡ یَتُوۡبَ عَلَیۡہِمۡ اَوۡ یُعَذِّبَہُمۡ فَاِنَّہُمۡ ظٰلِمُوۡنَ ١٢٨

লাইছা লাকা মিনাল আমরি শাইউন আও ইয়াতূবা ‘আলাইহিম আও ইউ‘আযযিবাহুম ফাইন্নাহুম জা-লিমূন।

(হে নবী!) তোমার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোন এখতিয়ার নেই যে, আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করবেন, না তাদেরকে শাস্তি দেবেন, যেহেতু তারা জালিম।
১২৯

وَلِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ  یَغۡفِرُ لِمَنۡ یَّشَآءُ وَیُعَذِّبُ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ  وَاللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٪ ١٢٩

ওয়া লিল্লা-হি মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদিইয়াগফিরু লিমাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইউ‘আযযিবুমাইঁ ইয়াশাউ ওয়াল্লা-হু গাফুরূর রাহীম।

আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, তা আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন, আর যাকে চান শাস্তি দেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
১৩০

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَاۡکُلُوا الرِّبٰۤوا اَضۡعَافًا مُّضٰعَفَۃً ۪  وَاتَّقُوا اللّٰہَ لَعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ ۚ ١٣۰

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তা’কুলুর রিবা-আদ‘আ-ফাম মু দা-‘আফাতাওঁ ওয়াত্তাকুল্লা-হা লা‘আল্লাকুম তুফলিহূন।

হে মুমিনগণ! তোমরা কয়েক গুণ বৃদ্ধি করে সুদ খেয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলতা লাভ করতে পার। ৫৯

তাফসীরঃ

৫৯. ‘আত-তাফসীরুল কাবীর’ গ্রন্থে ইমাম রাযী (রহ.) বলেন, উহুদ যুদ্ধের প্রাক্কালে মক্কার মুশরিকগণ সুদে ঋণ নিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল। তাই কোনও কোনও মুসলিমের মনে এই চিন্তা এসেছিল যে, যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য তারাও তো এ পন্থা অবলম্বন করতে পারে। এ আয়াত তাদেরকে সাবধান করছে যে, সুদে ঋণ নেওয়া সম্পূর্ণ হারাম। এস্থলে যে কয়েক গুণ বেশি সুদ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তার মানে এ নয় যে, সুদের পরিমাণ অল্প হলে তা বৈধ হয়ে যাবে। আসলে সেকালে যেহেতু সুদের পরিমাণ মূলের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হত, তাই সে হিসেবেই আয়াতে কয়েক গুণের কথা বলা হয়েছে, নয়ত সূরা বাকারায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, মূল ঋণের উপর যতটুকুই বেশি হোক না কেন তাই সুদ এবং সেটাই হারাম (দেখুন সূরা বাকারা, আয়াত নং (২ : ২৭৭-২৭৮)
১৩১

وَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِیۡۤ اُعِدَّتۡ لِلۡکٰفِرِیۡنَ ۚ ١٣١

ওয়াত্তাকুন্না-রাল্লাতী উ‘ইদ্দাত লিলকা-ফিরীন।

এবং সেই আগুনকে ভয় কর, যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
১৩২

وَاَطِیۡعُوا اللّٰہَ وَالرَّسُوۡلَ لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ ۚ ١٣٢

ওয়া আতি‘উল্লা-হা ওয়াররাছূলা লা‘আল্লাকুম তুরহামূন।

এবং আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমাদের প্রতি রহমতের আচরণ করা হয়।
১৩৩

وَسَارِعُوۡۤا اِلٰی مَغۡفِرَۃٍ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ وَجَنَّۃٍ عَرۡضُہَا السَّمٰوٰتُ وَالۡاَرۡضُ ۙ  اُعِدَّتۡ لِلۡمُتَّقِیۡنَ ۙ ١٣٣

ওয়া ছা-রি‘ঊইলা-মাগফিরাতিম মির রাব্বিকুম ওয়া জান্নাতিন ‘আরদুহাছছামা-ওয়া-তু ওয়াল আরদুউ‘ইদ্দাত লিলমুত্তাকীন।

এবং নিজ প্রতিপালকের পক্ষ হতে মাগফিরাত ও সেই জান্নাত লাভের জন্য একে অন্যের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হও, যার প্রশস্ততা আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতুল্য। তা সেই মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে
১৩৪

الَّذِیۡنَ یُنۡفِقُوۡنَ فِی السَّرَّآءِ وَالضَّرَّآءِ وَالۡکٰظِمِیۡنَ الۡغَیۡظَ وَالۡعَافِیۡنَ عَنِ النَّاسِ ؕ  وَاللّٰہُ یُحِبُّ الۡمُحۡسِنِیۡنَ ۚ ١٣٤

আল্লাযীনা ইউনফিকূনা ফিছছাররাই ওয়াদ্দাররাই ওয়াল কা-জিমীনাল গাইজা ওয়াল‘আ-ফীনা ‘আনিন্না-ছি ওয়াল্লা-হু ইউহিব্বুল মুহছিনীন।

যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় (আল্লাহর জন্য অর্থ) ব্যয় করে এবং যারা নিজের ক্রোধ হজম করতে ও মানুষকে ক্ষমা করতে অভ্যস্ত। আল্লাহ এরূপ পুণ্যবানদেরকে ভালোবাসেন।
১৩৫

وَالَّذِیۡنَ اِذَا فَعَلُوۡا فَاحِشَۃً اَوۡ ظَلَمُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ ذَکَرُوا اللّٰہَ فَاسۡتَغۡفَرُوۡا لِذُنُوۡبِہِمۡ ۪ وَمَنۡ یَّغۡفِرُ الذُّنُوۡبَ اِلَّا اللّٰہُ ۪۟ وَلَمۡ یُصِرُّوۡا عَلٰی مَا فَعَلُوۡا وَہُمۡ یَعۡلَمُوۡنَ ١٣٥

ওয়াল্লাযীনা ইযা-ফা‘আলূফা-হিশাতান আও জালামূআনফুছাহুম যাকারুল্লা-হা ফাছতাগফারু লিযুনূবিহিম ওয়া মাইঁ ইয়াগফিরুযযুনূবা ইল্লাল্লা-হু ওয়ালাম ইউছিররু ‘আলা-মা-ফা‘আলূওয়া হুম ইয়া‘লামূন।

এবং তারা সেই সকল লোক, যারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা (অন্য কোনওভাবে) নিজেদের প্রতি জুলুম করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার ফলশ্রুতিতে নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে আর আল্লাহ ছাড়া আর কেইবা আছে, যে গুনাহ ক্ষমা করতে পারে? আর তারা জেনেশুনে তাদের কৃতকর্মে অবিচল থাকে না।
১৩৬

اُولٰٓئِکَ جَزَآؤُہُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ مِّنۡ رَّبِّہِمۡ وَجَنّٰتٌ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ؕ  وَنِعۡمَ اَجۡرُ الۡعٰمِلِیۡنَ ؕ ١٣٦

উলাইকা জাঝাউহুম মাগফিরাতুম মির রাব্বিহিম ওয়া জান্না-তুন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা-ওয়ানি‘মা আজরুল ‘আ-মিলীন।

এরাই সেই লোক, যাদের পুরস্কার হচ্ছে তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে মাগফিরাত এবং সেই উদ্যানসমূহ, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত, যাতে তারা স্থায়ী জীবন লাভ করবে। তা কতই না উৎকৃষ্ট প্রতিদান, যা কর্ম সম্পাদনকারীগণ লাভ করবে।
১৩৭

قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ سُنَنٌ ۙ فَسِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَانۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُکَذِّبِیۡنَ ١٣٧

কাদ খালাত মিন কাবলিকুম ছুনানুন ফাছীরু ফিল আরদিফানজুরূকাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল মুকাযযিবীন।

তোমাদের পূর্বে বহু ঘটনা ঘটে গেছে। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করে দেখে নাও, যারা (নবীগণকে) অস্বীকার করেছিল তাদের পরিণাম কী হয়েছে!
১৩৮

ہٰذَا بَیَانٌ لِّلنَّاسِ وَہُدًی وَّمَوۡعِظَۃٌ لِّلۡمُتَّقِیۡنَ ١٣٨

হা-যা-বায়া-নুল লিন্না-ছি ওয়া হুদাওঁ ওয়া মাও‘ইজাতুল লিলমুত্তাকীন।

এসব মানুষের জন্য সুস্পষ্ট ঘোষণা। আর মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত ও উপদেশ।
১৩৯

وَلَا تَہِنُوۡا وَلَا تَحۡزَنُوۡا وَاَنۡتُمُ الۡاَعۡلَوۡنَ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ١٣٩

ওয়ালা-তাহিনূওয়ালা-তাহঝানূওয়া আনতুমুল আ‘লাওনা ইন কুনতুম মু’মিনীন।

(হে মুসলিমগণ!) তোমরা হীনবল হয়ো না এবং চিন্তিত হয়ো না। তোমরা প্রকৃত মুমিন হলে তোমরাই বিজয়ী হবে। ৬০

তাফসীরঃ

৬০. উহুদ যুদ্ধের ঘটনা সংক্ষেপে এ রকম প্রথম দিকে মুসলিমগণ হানাদার কাফিরদের উপর জয়লাভ করেছিল এবং কাফির বাহিনী পশ্চাদপসরণ করতে বাধ্য হয়েছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে পঞ্চাশ জন তীরন্দাজ সৈন্যের একটি দলকে একটি টিলায় নিযুক্ত করেছিলেন। যাতে শত্রু বাহিনী পেছন দিক থেকে আক্রমণ করতে না পারে। যখন শত্রুরা পলায়ন করতে শুরু করল এবং যুদ্ধ ক্ষেত্র শূন্য হয়ে গেল, তখন সাহাবীগণ তাদের ফেলে যাওয়া মালামাল গনীমতরূপে কুড়াতে শুরু করলেন। তীরন্দাজ বাহিনী যখন দেখলেন শত্রুরা পলায়ন করেছে তখন তারা মনে করলেন, এখন আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে গেছে এবং এখন আমাদেরও গনীমত কুড়ানোর কাজে লেগে যাওয়া উচিত। তাদের নেতা হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রাযি.) এবং তাঁর আরও কিছু সঙ্গী ঘাঁটি ত্যাগ করার বিরোধিতা করলেন এবং সকলকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ স্মরণ করিয়ে দিলেন যে, তিনি আমাদেরকে সর্বাবস্থায় এ টিলায় অবস্থানরত থাকতে বলেছিলেন, কিন্তু তাদের অধিকাংশই সে স্থলে অবস্থান করাকে অর্থহীন মনে করলেন এবং তারা ঘাঁটি ত্যাগ করলেন। শত্রুরা দূর থেকে যখন দেখল, সে জায়গা খালি হয়ে গেছে এবং মুসলিমগণ গনীমতের মালামাল কুড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, তখন তারা সে সুযোগকে কাজে লাগাল এবং ক্ষিপ্রগতিতে সেই ঘাঁটিতে হামলা চালাল। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রাযি.) ও তাঁর সাথীগণ তাদের সাধ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ করতে থাকলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সকলেই শহীদ হয়ে গেলেন। অতঃপর শত্রুগণ সেই টিলা থেকে নেমে আসল এবং যে সকল মুসলিম গনীমত কুড়াচ্ছিল তাদের উপর অতর্কিত আক্রমণ চালাল। তাদের এ আক্রমণ এমনই অপ্রত্যাশিত ও আকস্মিক ছিল যে, মুসলিমদের পক্ষে তা প্রতিহত করা সম্ভব হল না। মুহূর্তের মধ্যে রণ পরিস্থিতি পাল্টে গেল। ঠিক এই সময়ে কেউ গুজব রটিয়ে দিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শহীদ হয়ে গেছেন। এ গুজবে বহু মুসলিমের মনোবল ভেঙ্গে পড়ল। তাদের মধ্যে কতক তো ময়দান ত্যাগ করলেন এবং কতক যুদ্ধ ছেড়ে দিয়ে এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেন। কিন্তু যে সকল উৎসর্গিতপ্রাণ সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে ছিলেন, তাঁর চারপাশে অবিচল থেকে মুকাবিলা করতে থাকলেন। কাফিরদের আক্রমণ এতটাই তীব্র ছিল যে, এক পর্যায়ে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র দাঁত শহীদ হয়ে গেল এবং মুবারক চেহারা রক্ত-রঞ্জিত হয়ে গেল। একটু পরেই অন্যান্য সাহাবায়ে কিরাম বুঝতে পারলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শহীদ হওয়ার খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুজব। তখন তাদের হুঁশ ফিরে আসল এবং অল্পক্ষণের মধ্যেই তাদের অধিকাংশ ময়দানে ফিরে আসলেন। অতঃপর কাফিরদেরকে আবারও পলায়ন করতে হল। কিন্তু মধ্যবর্তী এই সময়ের ভেতর সত্তরজন সাহাবী শাহাদত বরণ করেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, এ ঘটনায় সাবাহীবগণ ভীষণভাবে মর্মাহত হয়ে পড়েছিলেন। তাই কুরআন মাজীদের এ আয়াতসমূহ তাদেরকে সান্তনা দিচ্ছে যে, এটা কেবল কালের চড়াই-উতরাই। এতে হতাশ ও হতোদ্যম হওয়া উচিত নয়। সেই সঙ্গে আয়াতসমূহ এদিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে যে, সাময়িক এ পরাজয় ছিল তাদের কিছু ভুলেরই খেসারত। এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
১৪০

اِنۡ یَّمۡسَسۡکُمۡ قَرۡحٌ فَقَدۡ مَسَّ الۡقَوۡمَ قَرۡحٌ مِّثۡلُہٗ ؕ  وَتِلۡکَ الۡاَیَّامُ نُدَاوِلُہَا بَیۡنَ النَّاسِ ۚ  وَلِیَعۡلَمَ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَیَتَّخِذَ مِنۡکُمۡ شُہَدَآءَ ؕ  وَاللّٰہُ لَا یُحِبُّ الظّٰلِمِیۡنَ ۙ ١٤۰

ইয়ঁইয়ামছাছকুম কারহুন ফাকাদ মাছছাল কাওমা কারহুম মিছলুহু ওয়া তিলকাল আইইয়া-মুনুদা-বিলুহা-বাইনান্না-ছি ওয়ালিয়া‘লামাল্লা-হুল্লাযীনা আ-মানূওয়া ইয়াত্তাখিযা মিনকুম শুহাদাআ ওয়াল্লা-হু লা-ইউহিব্বুজ্জা-লিমীন।

তোমাদের যদি আঘাত লেগে থাকে, তবে তাদেরও অনুরূপ আঘাত (ইতঃপূর্বে) লেগেছিল। ৬১ এ তো দিন-পরিক্রমা, যা আমি মানুষের মধ্যে পালাক্রমে বদলাতে থাকি। এর উদ্দেশ্য ছিল মুমিনদেরকে পরীক্ষা করা এবং তোমাদের মধ্যে কিছু লোককে শহীদ করা। আর আল্লাহ জালিমদেরকে ভালোবাসেন না।

তাফসীরঃ

৬১. এর দ্বারা বদর যুদ্ধের দিকে ইশারা করা হয়েছে, যাতে কাফিরদের পক্ষের সত্তর জন নিহত এবং সত্তর জন বন্দী হয়েছিল।
১৪১

وَلِیُمَحِّصَ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَیَمۡحَقَ الۡکٰفِرِیۡنَ ١٤١

ওয়া লিইউমাহহিসাল্লাহুল্লাযীনা আ-মানূওয়া ইয়ামহাকাল কা-ফিরীন।

এবং (উদ্দেশ্য ছিল এই-ও যে,) আল্লাহ মুমিনদেরকে যাতে পরিশুদ্ধ করতে পারেন ও কাফিরদেরকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে ফেলেন।
১৪২

اَمۡ حَسِبۡتُمۡ اَنۡ تَدۡخُلُوا الۡجَنَّۃَ وَلَمَّا یَعۡلَمِ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ جٰہَدُوۡا مِنۡکُمۡ وَیَعۡلَمَ الصّٰبِرِیۡنَ ١٤٢

আম হাছিবতুমআনতাদখুলুল জান্নাতা ওয়া লাম্মা-ইয়া‘লামিল্লা-হুল্লাযীনা জা-হাদূমিনকুম ওয়া ইয়া‘লামাসসা-বিরীন।

নাকি তোমরা মনে কর, তোমরা (এমনিতেই) জান্নাতে পৌঁছে যাবে, অথচ আল্লাহ এখনও পর্যন্ত তোমাদের মধ্য হতে সেই সকল লোককে যাচাই করে দেখেননি, যারা জিহাদ করবে এবং তাদেরকেও যাচাই করে দেখেননি, যারা অবিচল থাকবে।
১৪৩

وَلَقَدۡ کُنۡتُمۡ تَمَنَّوۡنَ الۡمَوۡتَ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ تَلۡقَوۡہُ ۪  فَقَدۡ رَاَیۡتُمُوۡہُ وَاَنۡتُمۡ تَنۡظُرُوۡنَ ٪ ١٤٣

ওয়া লাকাদ কুনতুম তামান্নাওনাল মাওতা মিন কাবলি আন তালকাওহু ফাকাদ রাআইতুমূহু ওয়া আনতুম তানজুরুন।

তোমরা নিজেরাই তো মৃত্যুর সম্মুখীন হওয়ার আগে (শাহাদাতের) মৃত্যু কামনা করেছিলে। ৬২ সুতরাং এবার তোমরা তা চাক্ষুষ দেখে নিলে।

তাফসীরঃ

৬২. যারা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তারা বদর যুদ্ধের শহীদদের ফযীলত শুনে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করত যে, তাদেরও যদি শাহাদাতের মর্যাদা লাভ হত!
১৪৪

وَمَا مُحَمَّدٌ اِلَّا رَسُوۡلٌ ۚ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِہِ الرُّسُلُ ؕ اَفَا۠ئِنۡ مَّاتَ اَوۡ قُتِلَ انۡقَلَبۡتُمۡ عَلٰۤی اَعۡقَابِکُمۡ ؕ وَمَنۡ یَّنۡقَلِبۡ عَلٰی عَقِبَیۡہِ فَلَنۡ یَّضُرَّ اللّٰہَ شَیۡئًا ؕ وَسَیَجۡزِی اللّٰہُ الشّٰکِرِیۡنَ ١٤٤

ওয়ামা-মুহাম্মাদুন ইল্লা-রাছুলুন কাদ খালাত মিন কাবলিহির রুছুলু আফাইম্মা-তা আও কুতিলানকালাবতুম ‘আলাআ‘কা-বিকুম ওয়া মাইঁ ইয়ানকালিব ‘আলা‘আকিবাইহি ফালাইঁ ইয়াদুররাল্লা-হা শাইআওঁ ওয়াছাইয়াজঝিল্লা-হুশশা-কিরীন।

আর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন রাসূল বৈ তো নন! তাঁর পূর্বে বহু রাসূল গত হয়েছে। তাঁর যদি মৃত্যু হয়ে যায় কিংবা তাঁকে হত্যা করে ফেলা হয়, তবে কি তোমরা উল্টো দিকে ফিরে যাবে? যে-কেউ উল্টো দিকে ফিরে যাবে, সে কখনই আল্লাহর কিছুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। আর যারা কৃতজ্ঞ বান্দা, আল্লাহ তাদেরকে পুরস্কার দান করবেন।
১৪৫

وَمَا کَانَ لِنَفۡسٍ اَنۡ تَمُوۡتَ اِلَّا بِاِذۡنِ اللّٰہِ کِتٰبًا مُّؤَجَّلًا ؕ وَمَنۡ یُّرِدۡ ثَوَابَ الدُّنۡیَا نُؤۡتِہٖ مِنۡہَا ۚ وَمَنۡ یُّرِدۡ ثَوَابَ الۡاٰخِرَۃِ نُؤۡتِہٖ مِنۡہَا ؕ وَسَنَجۡزِی الشّٰکِرِیۡنَ ١٤٥

ওয়ামা-কা-না লিনাফছিন আন তামূতা ইল্লা-বিইযনিল্লা-হি কিতা-বাম মুআজ্জালাওঁ ওয়া মাইঁ ইউরিদ ছাওয়া-বাদ্দুনইয়া-নু’তিহী মিনহা- ওয়া মাইঁ ইউরিদ ছাওয়া-বাল আখিরাতি নু’তিহী মিনহা-ওয়া ছানাজঝিশশা-কিরীন।

কোনও ব্যক্তির এখতিয়ারে নয় যে, আল্লাহর হুকুম ছাড়া তার মৃত্যু আসবে, নির্দিষ্ট এক সময়ে তার আগমন লিখিত রয়েছে। যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতিদান চাইবে আমি তাকে তার অংশ দিয়ে দেব। আর যে ব্যক্তি আখিরাতের প্রতিদান চাইবে আমি তাকে তার অংশ দিয়ে দেব। ৬৩ আর যারা কৃতজ্ঞ, আমি শীঘ্রই তাদেরকে (তাদের) পুরস্কার প্রদান করব।

তাফসীরঃ

৬৩. এর দ্বারা গনীমতের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। অর্থাৎ কেউ যদি কেবল গনীমত লাভের উদ্দেশ্যে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে, সে গনীমত থেকে তো অংশ লাভ করবে, কিন্তু আখিরাতের সওয়াব তার অর্জিত হবে না। পক্ষান্তরে আসল নিয়ত যদি হয় আল্লাহর হুকুম পালন করা, তবে আখিরাতের সওয়াব তো সে পাবেই, বাড়তি ফায়দা হিসেবে সে গনীমতের অংশও লাভ করবে (রুহুল মাআনী)।
১৪৬

وَکَاَیِّنۡ مِّنۡ نَّبِیٍّ قٰتَلَ ۙ مَعَہٗ رِبِّیُّوۡنَ کَثِیۡرٌ ۚ فَمَا وَہَنُوۡا لِمَاۤ اَصَابَہُمۡ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ وَمَا ضَعُفُوۡا وَمَا اسۡتَکَانُوۡا ؕ وَاللّٰہُ یُحِبُّ الصّٰبِرِیۡنَ ١٤٦

ওয়া কাআইয়িম মিন নাবিইয়িন কা-তালা মা‘আহু রিব্বিইয়ূনা কাছীরুন ফামাওয়াহানূলিমাআসা-বাহুম ফী ছাবীলিল্লা-হি ওয়ামা-দা‘উফূওয়ামাছ তাকা-নূ ওয়াল্লাহু ইউহিব্বুসসা-বিরীন।

এমন কত নবী রয়েছে, যাদের সঙ্গে মিলে বহু আল্লাহওয়ালা যুদ্ধ করেছে। এর ফলে আল্লাহর পথে তাদের যে কষ্ট-ক্লেশ ভোগ করতে হয়েছে, তাতে তারা হিম্মত হারায়নি, দুর্বল হয়ে পড়েনি এবং তারা নতি স্বীকারও করেনি। আল্লাহ অবিচল লোকদেরকে ভালোবাসেন।
১৪৭

وَمَا کَانَ قَوۡلَہُمۡ اِلَّاۤ اَنۡ قَالُوۡا رَبَّنَا اغۡفِرۡ لَنَا ذُنُوۡبَنَا وَاِسۡرَافَنَا فِیۡۤ اَمۡرِنَا وَثَبِّتۡ اَقۡدَامَنَا وَانۡصُرۡنَا عَلَی الۡقَوۡمِ الۡکٰفِرِیۡنَ ١٤٧

ওয়ামা-কা-না কাওলাহুম ইল্লাআন কা-লূরাব্বানাগ ফিরলানা-যুনূবানা-ওয়া ইছরা-ফানাফীআমরিনা-ওয়াছাব্বিত আকদা-মানা-ওয়ানসুরনা-‘আলাল কাওমিল কা-ফিরীন।

তাদের কথা এ ছাড়া আর কিছুই ছিল না যে, তারা বলেছিল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের গুনাহসমূহ এবং আমাদের দ্বারা আমাদের কার্যাবলীতে যে সীমালংঘন ঘটে গেছে তা ক্ষমা করে দিন। আমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখুন এবং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে বিজয় দান করুন।
১৪৮

فَاٰتٰىہُمُ اللّٰہُ ثَوَابَ الدُّنۡیَا وَحُسۡنَ ثَوَابِ الۡاٰخِرَۃِ ؕ  وَاللّٰہُ یُحِبُّ الۡمُحۡسِنِیۡنَ ٪ ١٤٨

ফাআ-তা-হুমুল্লা-হু ছাওয়া-বাদ্দুনইয়া-ওয়াহুছনা ছাওয়া-বিল আ-খিরাতি ওয়াল্লা-হু ইউহিব্বুল মুহছিনীন।

সুতরাং আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়ার পুরস্কারও দান করলেন এবং আখিরাতের উৎকৃষ্টতর পুরস্কারও। আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরকে ভালোবাসেন।
১৪৯

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنۡ تُطِیۡعُوا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا یَرُدُّوۡکُمۡ عَلٰۤی اَعۡقَابِکُمۡ فَتَنۡقَلِبُوۡا خٰسِرِیۡنَ ١٤٩

ইয়াআইয়ূহাল্লাযীনা আ-মানূইন তুতী‘উল্লাযীনা কাফারু ইয়ারূদ্দূকুমআলাআ‘ক বিকুম ফাতানকালিবূখা-ছিরীন।

হে মুমিনগণ! যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তোমরা যদি তাদের কথা মান, তবে তারা তোমাদেরকে তোমাদের পেছন দিকে (কুফরের দিকে) ফিরিয়ে দেবে। ফলে তোমরা উল্টে গিয়ে কঠিনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
১৫০

بَلِ اللّٰہُ مَوۡلٰىکُمۡ ۚ وَہُوَ خَیۡرُ النّٰصِرِیۡنَ ١٥۰

বালিল্লা-হু মাওলা-কুম ওয়া হুয়া খাইরুন্না-সিরীন।

(তারা তোমাদের কল্যাণকামী নয়) বরং আল্লাহই তোমাদের অভিভাবক এবং তিনি শ্রেষ্ঠতম সাহায্যকারী।
১৫১

سَنُلۡقِیۡ فِیۡ قُلُوۡبِ الَّذِیۡنَ کَفَرُوا الرُّعۡبَ بِمَاۤ اَشۡرَکُوۡا بِاللّٰہِ مَا لَمۡ یُنَزِّلۡ بِہٖ سُلۡطٰنًا ۚ وَمَاۡوٰىہُمُ النَّارُ ؕ وَبِئۡسَ مَثۡوَی الظّٰلِمِیۡنَ ١٥١

ছানুলকীফী কুলূবিল্লাযীনা কাফারুর রু‘বা বিমাআশরাকূবিল্লা-হি মা-লাম ইউনাঝঝিল বিহী ছুলতা-নাওঁ ওয়ামা’ওয়া-হুমুন্না-রু ওয়াবি’ছা মাছওয়াজ্জা-লিমীন।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, আমি অচিরেই তাদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করব। ৬৪ কেননা তারা এমন সব জিনিসকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করেছে, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ কোনও প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। তাদের ঠিকানা জাহান্নাম। আর তা জালিমদের নিকৃষ্টতম ঠিকানা।

তাফসীরঃ

৬৪. সুতরাং উহুদের যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে কুরায়শগণ ইচ্ছা করেছিল, তারা মদীনায় পুনরায় আক্রমণ করে মুসলিমদেরকে সমূলে বিনাশ করে দেবে। কিন্তু তাদের পক্ষে তা সম্ভব হয়নি। কেননা আল্লাহ তাআলা তাদের অন্তরে এমন ভীতি সঞ্চার করেন যে, তারা কালবিলম্ব না করে মক্কায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়। -অনুবাদক
১৫২

وَلَقَدۡ صَدَقَکُمُ اللّٰہُ وَعۡدَہٗۤ اِذۡ تَحُسُّوۡنَہُمۡ بِاِذۡنِہٖ ۚ حَتّٰۤی اِذَا فَشِلۡتُمۡ وَتَنَازَعۡتُمۡ فِی الۡاَمۡرِ وَعَصَیۡتُمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِ مَاۤ اَرٰىکُمۡ مَّا تُحِبُّوۡنَ ؕ مِنۡکُمۡ مَّنۡ یُّرِیۡدُ الدُّنۡیَا وَمِنۡکُمۡ مَّنۡ یُّرِیۡدُ الۡاٰخِرَۃَ ۚ ثُمَّ صَرَفَکُمۡ عَنۡہُمۡ لِیَبۡتَلِیَکُمۡ ۚ وَلَقَدۡ عَفَا عَنۡکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ ذُوۡ فَضۡلٍ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ١٥٢

ওয়া লাকাদ সাদাকাকুমুল্লা-হু ওয়া‘দাহূইযতাহুছছূনাহুম বিইযনিহী হাত্তাইযাফাশিলতুম ওয়াতানা-ঝা‘তুম ফিল আমরি ওয়া‘আসাইতুম মিম বা‘দি মাআরা-কুম মাতুহিববূনা মিনকুম মাইঁ ইউরীদুদ্দুনইয়া-ওয়া মিনকুম মাইঁ ইউরীদুল আ-খিরাতা ছুম্মা সারাফাকুম ‘আনহুম লিইয়াবতালিয়াকুম ওয়া লাকাদ ‘আফা-‘আনকুম ওয়াল্লা-হু যূফাদলিন ‘আলাল মু’মিনীন।

আল্লাহ তোমাদের সাথে নিজ প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছিলেন, যখন তাঁরই হুকুমে তোমরা শত্রুদেরকে হত্যা করছিলে, যে পর্যন্ত না তোমরা দুর্বলতা প্রদর্শন করলে এবং নির্দেশ সম্পর্কে নিজেদের মধ্যে মতভেদ করলে এবং আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের পছন্দের বস্তু ৬৫ দেখানোর পর তোমরা (নিজেদের আমীরের) কথা অমান্য করলে। তোমাদের মধ্যে কিছু লোক তো এমন, যারা দুনিয়া কামনা করছিল, আর কিছু ছিল এমন, যারা চাচ্ছিল আখিরাত। অতঃপর আল্লাহ তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য তাদের থেকে তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিলেন, ৬৬ অবশ্য তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অতি অনুগ্রহশীল।

তাফসীরঃ

৬৫. অর্থাৎ এতক্ষণ তো তারা তোমাদের থেকে পালাচ্ছিল, আর এখন যুদ্ধ পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় তোমরা তাদের থেকে পালাচ্ছ। এর দ্বারা উদ্দেশ্য তোমাদেরকে যাচাই করা, যাতে তোমাদের মধ্যে কে পরিপক্ক ঈমানের অধিকারী আর কার ঈমান কাঁচা তা পরিষ্কার হয়ে যায়। -অনুবাদক
১৫৩

اِذۡ تُصۡعِدُوۡنَ وَلَا تَلۡوٗنَ عَلٰۤی اَحَدٍ وَّالرَّسُوۡلُ یَدۡعُوۡکُمۡ فِیۡۤ اُخۡرٰىکُمۡ فَاَثَابَکُمۡ غَمًّۢا بِغَمٍّ لِّکَیۡلَا تَحۡزَنُوۡا عَلٰی مَا فَاتَکُمۡ وَلَا مَاۤ اَصَابَکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ خَبِیۡرٌۢ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ ١٥٣

ইযতুস‘ইদূ না ওয়ালা-তালঊনা ‘আলা-আহাদিওঁ ওয়ার রাছূলুইয়াদ‘ঊকুম ফীউখরা-কুম ফাআছা-বাকুম গাম্মাম বিগামমিল লিকাইলা-তাহঝানূ‘আলা-মা-ফা-তাকুম ওয়ালামাআসা-বাকুম ওয়াল্লা-হু খাবীরুম বিমা-তা‘মালূন।

(সেই সময়ের কথা স্মরণ কর) যখন তোমরা উর্ধ্বশ্বাসে ছুটছিলে এবং কারও দিকে ঘুরে তাকাচ্ছিলে না, আর রাসূল তোমাদের পিছন দিক থেকে তোমাদেরকে ডাকছিল। ফলে আল্লাহ (রাসূলকে) বেদনা (দেওয়া)-এর বদলে তোমাদেরকে (পরাজয়ের) বেদনা দিলেন, যাতে তোমরা ভবিষ্যতে বেশি দুঃখ না কর, না সেই জিনিসের কারণে যা তোমাদের হাতছাড়া হয়েছে এবং না অন্য কোনও মসিবতের কারণে যা তোমাদের দেখা দিতে পারে। ৬৭ আল্লাহ তোমাদের কার্যাবলী সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে অবগত।

তাফসীরঃ

৬৭. অর্থাৎ এ জাতীয় ঘটনার কারণে তোমাদের ভেতর পরিপক্কতা আসবে। ফলে ভবিষ্যতে কোন ক্লেশ দেখা দিলে তজ্জন্য বেশি পেরেশানী ও দুঃখ প্রকাশ না করে বরং ধৈর্য ও অবিচলতা প্রদর্শন করবে।
১৫৪

ثُمَّ اَنۡزَلَ عَلَیۡکُمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِ الۡغَمِّ اَمَنَۃً نُّعَاسًا یَّغۡشٰی طَآئِفَۃً مِّنۡکُمۡ ۙ وَطَآئِفَۃٌ قَدۡ اَہَمَّتۡہُمۡ اَنۡفُسُہُمۡ یَظُنُّوۡنَ بِاللّٰہِ غَیۡرَ الۡحَقِّ ظَنَّ الۡجَاہِلِیَّۃِ ؕ یَقُوۡلُوۡنَ ہَلۡ لَّنَا مِنَ الۡاَمۡرِ مِنۡ شَیۡءٍ ؕ قُلۡ اِنَّ الۡاَمۡرَ کُلَّہٗ لِلّٰہِ ؕ یُخۡفُوۡنَ فِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ مَّا لَا یُبۡدُوۡنَ لَکَ ؕ یَقُوۡلُوۡنَ لَوۡ کَانَ لَنَا مِنَ الۡاَمۡرِ شَیۡءٌ مَّا قُتِلۡنَا ہٰہُنَا ؕ قُلۡ لَّوۡ کُنۡتُمۡ فِیۡ بُیُوۡتِکُمۡ لَبَرَزَ الَّذِیۡنَ کُتِبَ عَلَیۡہِمُ الۡقَتۡلُ اِلٰی مَضَاجِعِہِمۡ ۚ وَلِیَبۡتَلِیَ اللّٰہُ مَا فِیۡ صُدُوۡرِکُمۡ وَلِیُمَحِّصَ مَا فِیۡ قُلُوۡبِکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ ١٥٤

ছুম্মা আনঝালা ‘আলাইকুম মিম বা‘দিল গামমি আমানাতান নু‘আ-ছাইঁ ইয়াগশাতাইফাতাম মিনকুম ওয়া তাইফাতুন কাদ আহাম্মাতহুম আনফছুহুম ইয়াজুন্নূনা বিল্লা-হি গাইরাল হাক্কিজান্নাল জা-হিলিইইয়াতি ইয়াকূলূনা হাল্লানা-মিনাল আমরি মিন শাইইন কুল ইন্নাল আমরা কুল্লাহূলিল্লা-হি ইউখফূনা ফীআনফুছিহিম মা-লাইউবদূ না লাকা ইয়াকূলূনা লাও কা-না লানা-মিনাল আমরি শাইউম মা-কুতিলনা-হাহুনা-কুল্লাও কুনতুম ফী বুয়ূতিকুম লাবারাঝাল্লাযীনা কুতিবা ‘আলাইহিমুল কাতলুইলামাদা-জি‘ইহিম ওয়া লিইয়াবতালিইয়াল্লা-হু মা-ফী সুদূ রিকুম ওয়ালিইউমাহহিসা মাফী কুলূবিকুম ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুম বিযা-তিসসুদূ র।

অতঃপর আল্লাহ তোমাদের প্রতি দুঃখের পর প্রশান্তি অবতীর্ণ করলেন তন্দ্রারূপে, যা তোমাদের মধ্যে কতক লোককে আচ্ছন্ন করেছিল। ৬৮ আর একটি দল এমন ছিল, যাদের চিন্তা ছিল কেবল নিজেদের জান নিয়ে। তারা আল্লাহ সম্পর্কে অন্যায় ধারণা করছিল, সম্পূর্ণ জাহিলী ধারণা। তারা বলছিল, আমাদের কোনও এখতিয়ার আছে নাকি? বলে দাও, সমস্ত এখতিয়ার কেবল আল্লাহরই। তারা তাদের অন্তরে এমন সব কথা গোপন রাখে, যা তোমার কাছে প্রকাশ করে না। ৬৯ তারা বলে, আমাদের যদি কিছু এখতিয়ার থাকত, তবে আমরা এখানে নিহত হতাম না। বলে দাও, তোমরা যদি নিজ-গৃহেও থাকতে, তবুও কতল হওয়া যাদের নিয়তিতে লেখা আছে, তারা নিজেরাই বের হয়ে নিজ-নিজ বধ্যভূমিতে পৌঁছে যেত। (এসব হয়েছিল) এ কারণে যে, তোমাদের বক্ষদেশে যা-কিছু আছে আল্লাহ তা পরীক্ষা করতে চান এবং যা-কিছু তোমাদের অন্তরে আছে, তা পরিশোধন করতে চান। ৭০ আল্লাহ অন্তরের ভেদ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।

তাফসীরঃ

৬৮. উহুদের যুদ্ধে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের কারণে সাহাবায়ে কেরাম চরম দুঃখ ও গ্লানিতে ভুগছিলেন। শত্রু বাহিনীর প্রস্থানের পর আল্লাহ তাআলা বহু সাহাবীদের তন্দ্রাচ্ছন্ন করে দেন। যার ফলে তারা দুঃখ ভুলে যান।
১৫৫

اِنَّ الَّذِیۡنَ تَوَلَّوۡا مِنۡکُمۡ یَوۡمَ الۡتَقَی الۡجَمۡعٰنِ ۙ  اِنَّمَا اسۡتَزَلَّہُمُ الشَّیۡطٰنُ بِبَعۡضِ مَا کَسَبُوۡا ۚ  وَلَقَدۡ عَفَا اللّٰہُ عَنۡہُمۡ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ حَلِیۡمٌ ٪ ١٥٥

ইন্নাল্লাযীনা তাওয়াল্লাও মিনকুম ইয়াওমাল তাকাল জাম‘আ-নি ইন্নামাছ তাঝাল্লাহুমুশ শাইতা-নুব্বিা‘দিমা-কাছাবূ ওয়া লাকাদ ‘আফাল্লা-হু ‘আনহুম; ইন্নাল্লা-হা গাফূরুন হালীম।

উভয় বাহিনীর পারস্পরিক সংঘর্ষের দিন তোমাদের মধ্য হতে যারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল, প্রকৃতপক্ষে শয়তান তাদেরকে তাদের কিছু কৃতকর্মের কারণে পদস্খলনে লিপ্ত করেছিল। ৭১ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম সহিষ্ণু।

তাফসীরঃ

৭১. অর্থাৎ যুদ্ধের আগে তাদের দ্বারা এমন কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটেছিল, যা দেখে শয়তান উৎসাহী হয় এবং তাদেরকে আরও কিছু ত্রুটিতে লিপ্ত করে দেয়।
১৫৬

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَکُوۡنُوۡا کَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَقَالُوۡا لِاِخۡوَانِہِمۡ اِذَا ضَرَبُوۡا فِی الۡاَرۡضِ اَوۡ کَانُوۡا غُزًّی لَّوۡ کَانُوۡا عِنۡدَنَا مَا مَاتُوۡا وَمَا قُتِلُوۡا ۚ لِیَجۡعَلَ اللّٰہُ ذٰلِکَ حَسۡرَۃً فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ ؕ وَاللّٰہُ یُحۡیٖ وَیُمِیۡتُ ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ ١٥٦

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তাকূনূকাল্লাযীনা কাফারূ ওয়া কা-লূলিইখওয়া-নিহিম ইযা-দারাবূফিল আরদিআও কা-নূগুঝঝাল্লাও কা-নু‘ইনদানা-মা-মা-তূওয়ামাকুতিলূ লিইয়াজ‘আলাল্লা-হু যা-লিকা হাছরাতান ফী কুলূবিহিম ওয়াল্লা-হু ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু ওয়াল্লা-হু বিমা-ত‘ামালূনা বাসীর।

হে মুমিনগণ! সেই সব লোকের মত হয়ে যেয়ো না, যারা কুফর অবলম্বন করেছে এবং তাদের ভাইয়েরা যখন কোনও দেশে সফর করে কিংবা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে, তখন তাদের সম্পর্কে তারা বলে, তারা আমাদের সঙ্গে থাকলে মারা যেত না এবং নিহতও হত না। (তাদের এ কথার) পরিণাম তো (কেবল) এই যে, এরূপ কথাকে আল্লাহ তাদের অন্তরের আক্ষেপে পরিণত করেন। (নচেৎ) জীবন ও মৃত্যু তো আল্লাহই দেন। আর তোমরা যে কর্মই কর, আল্লাহ তা দেখছেন।
১৫৭

وَلَئِنۡ قُتِلۡتُمۡ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ اَوۡ مُتُّمۡ لَمَغۡفِرَۃٌ مِّنَ اللّٰہِ وَرَحۡمَۃٌ خَیۡرٌ مِّمَّا یَجۡمَعُوۡنَ ١٥٧

ওয়ালাইন কুতিলতুম ফী ছাবীলিল্লা-হি আও মুততুম লামাগফিরাতুমমিনাল্লা-হি ওয়া রাহমাতুন খাইরুম মিম্মা-ইয়াজমা‘ঊন।

তোমরা যদি আল্লাহর পথে নিহত হও বা মারা যাও, তবুও আল্লাহর পক্ষ হতে (প্রাপ্তব্য) মাগফিরাত ও রহমত সেইসব বস্তু হতে ঢের শ্রেয়, যা তারা সঞ্চয় করছে।
১৫৮

وَلَئِنۡ مُّتُّمۡ اَوۡ قُتِلۡتُمۡ لَاِالَی اللّٰہِ تُحۡشَرُوۡنَ ١٥٨

ওয়ালাইম মুততুম আও কুতিলতুম লা ইলাল্লা-হি তুহশারূন।

তোমরা যদি মারা যাও বা নিহত হও, তবে তোমাদেরকে আল্লাহরই কাছে নিয়ে একত্র করা হবে।
১৫৯

فَبِمَا رَحۡمَۃٍ مِّنَ اللّٰہِ لِنۡتَ لَہُمۡ ۚ وَلَوۡ کُنۡتَ فَظًّا غَلِیۡظَ الۡقَلۡبِ لَانۡفَضُّوۡا مِنۡ حَوۡلِکَ ۪ فَاعۡفُ عَنۡہُمۡ وَاسۡتَغۡفِرۡ لَہُمۡ وَشَاوِرۡہُمۡ فِی الۡاَمۡرِ ۚ فَاِذَا عَزَمۡتَ فَتَوَکَّلۡ عَلَی اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یُحِبُّ الۡمُتَوَکِّلِیۡنَ ١٥٩

ফাবিমা-রাহমাতিম মিনাল্লা-হি লিনতা লাহুম ওয়ালাও কুনতা ফাজ্জান গালীজাল কালবি লানফাদ্দূমিন হাওলিকা ফা‘ফু‘আনহুম ওয়াছতাগফির লাহুম ওয়া শাবিরহুম ফিল আমরি ফাইযা-‘আঝামতা ফাতাওয়াক্কাল ‘আলাল্লা-হি ইন্নাল্লা-হাইউহিব্বুল মুতাওয়াক্কিলীন।

(হে নবী! এসব ঘটনার পর) আল্লাহর রহমতই ছিল, যদ্দরুন তাদের প্রতি তুমি কোমল আচরণ করেছ। তুমি যদি রূঢ় প্রকৃতির ও কঠোর হৃদয় হতে, তবে তারা তোমার আশপাশ থেকে সরে বিক্ষিপ্ত হয়ে যেত। সুতরাং তাদেরকে ক্ষমা কর, তাদের জন্য মাগফিরাতের দু‘আ কর এবং (গুরুত্বপূর্ণ) বিষয়ে তাদের সাথে পরামর্শ করতে থাক। অতঃপর তুমি যখন (কোন বিষয়ে) মনস্থির করবে, তখন আল্লাহর উপর নির্ভর করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদেরকে ভালোবাসেন।
১৬০

اِنۡ یَّنۡصُرۡکُمُ اللّٰہُ فَلَا غَالِبَ لَکُمۡ ۚ وَاِنۡ یَّخۡذُلۡکُمۡ فَمَنۡ ذَا الَّذِیۡ یَنۡصُرُکُمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِہٖ ؕ وَعَلَی اللّٰہِ فَلۡیَتَوَکَّلِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ١٦۰

ইয়ঁইয়ানসুর কুমুল্লা-হু ফালা-গা-লিবা লাকুম ওয়াইয়ঁইয়াখযু লকুম ফামান যাল্লাযী ইয়ানসুরুকুম মিম বা‘দিহী ওয়া ‘আলাল্লা-হি ফালইয়াতাওয়াক্কালিল মু’মিনূন।

আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করলে কেউ তোমাদেরকে পরাস্ত করতে পারবে না। আর তিনি যদি তোমাদেরকে অসহায় ছেড়ে দেন, তবে তিনি ছাড়া কে আছে, যে তোমাদেরকে সাহায্য করবে? মুমিনদের উচিত কেবল আল্লাহরই উপর ভরসা করা।
১৬১

وَمَا کَانَ لِنَبِیٍّ اَنۡ یَّغُلَّ ؕ وَمَنۡ یَّغۡلُلۡ یَاۡتِ بِمَا غَلَّ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ۚ ثُمَّ تُوَفّٰی کُلُّ نَفۡسٍ مَّا کَسَبَتۡ وَہُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ ١٦١

ওয়ামা-কা-না লিনাবিইয়িন আইঁ ইয়াগুল্লা ওয়ামাইঁ ইয়াগলুল ইয়া’তি বিমা-গাল্লা ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ছু ম্মা তুওয়াফফা-কুল্লুনাফছিম মা-কাছাবাত ওয়াহুম লাইউজলামূন।

এটা কোনও নবীর পক্ষে সম্ভব নয় যে, গনীমতের সম্পদে খেয়ানত করবে। ৭২ যে-কেউ খেয়ানত করবে, সে কিয়ামতের দিন সেই মাল নিয়ে উঠবে, যা সে খেয়ানতের মাধ্যমে হস্তগত করেছিল। অতঃপর প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের পুরোপুরি প্রতিদান দেওয়া হবে এবং কারও প্রতি জুলুম করা হবে না।

তাফসীরঃ

৭২. এস্থলে এ কথা বলার কারণ সম্ভবত এই যে, গনীমতের মালামাল সংগ্রহের জন্য এত তাড়াহুড়া করার দরকার ছিল না। কেননা যুদ্ধে যে সম্পদ অর্জিত হত, তা যে-ই কুড়াক না কেন, শেষ পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই শরয়ী বিধান অনুসারে তা বণ্টন করতেন। প্রত্যেকে তার অংশ যথাযথভাবে পেয়ে যেত। কেননা কোনও নবী গনীমতের মালে খেয়ানত করতে পারেন না।
১৬২

اَفَمَنِ اتَّبَعَ رِضۡوَانَ اللّٰہِ کَمَنۡۢ بَآءَ بِسَخَطٍ مِّنَ اللّٰہِ وَمَاۡوٰىہُ جَہَنَّمُ ؕ وَبِئۡسَ الۡمَصِیۡرُ ١٦٢

আফামানিত্তাবা‘আ রিদওয়া-নাল্লা-হি কামাম বা-আ বিছাখাতিম মিনাল্লা-হি ওয়ামা’ওয়া-হু জাহান্নামু; ওয়াবি’ছাল মাসীর।

তবে যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুসরণ করে, সে কি ওই ব্যক্তির মত হতে পারে যে, আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিয়ে ফিরেছে আর যার ঠিকানা হচ্ছে জাহান্নাম; যা অতি নিকৃষ্ট ঠিকানা?
১৬৩

ہُمۡ دَرَجٰتٌ عِنۡدَ اللّٰہِ ؕ وَاللّٰہُ بَصِیۡرٌۢ بِمَا یَعۡمَلُوۡنَ ١٦٣

হুম দারাজা-তুন ইনদাল্লা-হি ওয়াল্লা-হু বাসীরুম বিমা-ইয়া‘মালূন।

আল্লাহর নিকট তারা বিভিন্ন স্তরবিশিষ্ট। তারা যা-কিছু করে আল্লাহ তা ভালোভাবেই দেখেন।
১৬৪

لَقَدۡ مَنَّ اللّٰہُ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ اِذۡ بَعَثَ فِیۡہِمۡ رَسُوۡلًا مِّنۡ اَنۡفُسِہِمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡہِمۡ اٰیٰتِہٖ وَیُزَکِّیۡہِمۡ وَیُعَلِّمُہُمُ الۡکِتٰبَ وَالۡحِکۡمَۃَ ۚ وَاِنۡ کَانُوۡا مِنۡ قَبۡلُ لَفِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ ١٦٤

লাকাদ মান্নাল্লা-হু ‘আলাল মু’মিনীনা ইযবা‘আছা ফীহিম রাছূলাম মিন আনফুছিহিম ইয়াতলূ‘আলাইহিম আ-য়া-তিহী ওয়া ইউঝাক্কীহিম ওয়া ইউ‘আলিলমুহুমুল কিতা-বা ওয়াল হিকমাতা ওয়া ইন কা-নূমিন কাবলূলাফী দালা-লিম মুবীন।

প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ মুমিনদের প্রতি (অতি বড়) অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদের কাছে তাদেরই মধ্য হতে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যে তাদের সামনে আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করে এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয়, আর নিশ্চয় এর আগে তারা সুস্পষ্ট গোমরাহীর মধ্যে ছিল।
১৬৫

اَوَلَمَّاۤ اَصَابَتۡکُمۡ مُّصِیۡبَۃٌ قَدۡ اَصَبۡتُمۡ مِّثۡلَیۡہَا ۙ قُلۡتُمۡ اَنّٰی ہٰذَا ؕ قُلۡ ہُوَ مِنۡ عِنۡدِ اَنۡفُسِکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ١٦٥

আওয়ালাম্মা-আসা-বাতকুম মুসীবাতুন কাদ আসাবতুম মিছলাইহা- কুলতুম আন্না-হাযা-কুল হুওয়া মিন ‘ইনদি আনফুছিকুম ইন্নাল্লা-হা ‘আলা-কুল্লি শাইইন কাদীর।

যখন তোমরা এমন এক মসিবতে আক্রান্ত হলে, যার দ্বিগুণ মসিবতে তোমরা (শত্রুদেরকে) আক্রান্ত করেছ, ৭৩ তখন কি তোমরা বল যে, এ মসিবত কোথা হতে এসে গেল? বল, এটা তোমাদের নিজেদের থেকেই এসেছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।

তাফসীরঃ

৭৩. বদরের যুদ্ধের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। তাতে কুরাইশ-কাফিরদের সত্তর জন লোক কতল হয়েছিল এবং সত্তর জন বন্দী হয়েছিল। অপর দিকে উহুদের যুদ্ধে মুসলিমদের পক্ষে সত্তর জন শহীদ হয়েছিলেন বটে, কিন্তু তাদের কেউ বন্দী হননি। এ হিসেবে বদরে কাফিরদের ক্ষয়ক্ষতি ছিল উহুদে মুসলিমদের ক্ষয়ক্ষতি অপেক্ষা দ্বিগুণ।
১৬৬

وَمَاۤ اَصَابَکُمۡ یَوۡمَ الۡتَقَی الۡجَمۡعٰنِ فَبِاِذۡنِ اللّٰہِ وَلِیَعۡلَمَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۙ ١٦٦

ওয়ামাআসা-বাকুম ইয়াওমাল তাকাল জাম‘আ-নি ফাবিইযনিল্লা-হি ওয়ালিইয়া‘লামাল মু’মিনীন।

উভয় বাহিনীর পারস্পরিক সংঘর্ষের দিন তোমাদের যে বিপদ ঘটেছিল, তা আল্লাহর হুকুমেই (ঘটেছিল), যাতে তিনি মুমিনদেরকেও পরখ করে দেখতে পারেন।
১৬৭

وَلِیَعۡلَمَ الَّذِیۡنَ نَافَقُوۡا ۚۖ  وَقِیۡلَ لَہُمۡ تَعَالَوۡا قَاتِلُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ اَوِ ادۡفَعُوۡا ؕ  قَالُوۡا لَوۡ نَعۡلَمُ قِتَالًا لَّاتَّبَعۡنٰکُمۡ ؕ  ہُمۡ لِلۡکُفۡرِ یَوۡمَئِذٍ اَقۡرَبُ مِنۡہُمۡ لِلۡاِیۡمَانِ ۚ  یَقُوۡلُوۡنَ بِاَفۡوَاہِہِمۡ مَّا لَیۡسَ فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ ؕ  وَاللّٰہُ اَعۡلَمُ بِمَا یَکۡتُمُوۡنَ ۚ ١٦٧

ওয়ালিইয়া‘লামাল্লাযীনা না-ফাকূওয়া কীলা লাহুম তা‘আ-লাও কা-তিলূফী ছাবীলিল্লা-হি আবিদ ফা‘ঊ কা-লূলাও না‘লামুকিতা-লাল্লাত্তাবা‘না-কুম হুম লিলকুফরি ইয়াওমাইযিন আকরাবুমিনহুম লিলঈমা-নি ইয়াকূলূনা বিআফওয়া-হিহিম মা-লাইছা ফী কুলূবিহিম ওয়াল্লা-হু আ‘লামুবিমা-ইয়াকতুমূন।

এবং দেখতে পারেন মুনাফিকদেরকেও। আর তাদেরকে (মুনাফিকদেরকে) বলা হয়েছিল, এসো, আল্লাহর পথে যুদ্ধ কর কিংবা প্রতিরোধ কর। তখন তারা বলেছিল, ‘আমরা যদি দেখতাম (যুদ্ধের মত) যুদ্ধ হবে, তবে অবশ্যই তোমাদের অনুসরণ করতাম।’ ৭৪ সে দিন (যখন তারা একথা বলছিল) তারা ঈমান অপেক্ষা কুফরেরই বেশি নিকটবর্তী ছিল। তারা তাদের মুখে এমন কথা বলে, যা তাদের অন্তরে নেই। ৭৫ তারা যা-কিছু লুকায়, আল্লাহ তা ভালো করেই জানেন।

তাফসীরঃ

৭৪. অর্থাৎ মুখে তো বলত অসম যুদ্ধ না হলে আমরা অবশ্যই শরীক হতাম, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটা তাদের বাহানা মাত্র। আসলে তাদের মনের কথা হল যে, সসম যুদ্ধ হলেও তারা অংশগ্রহণ করত না।
১৬৮

اَلَّذِیۡنَ قَالُوۡا لِاِخۡوَانِہِمۡ وَقَعَدُوۡا لَوۡ اَطَاعُوۡنَا مَا قُتِلُوۡا ؕ قُلۡ فَادۡرَءُوۡا عَنۡ اَنۡفُسِکُمُ الۡمَوۡتَ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ١٦٨

আল্লাযীনা কা-লূলিইখওয়া-নিহিম ওয়াকা‘আদূলাও আতা-‘ঊনা-মা-কুতিলূ কুল ফাদরাঊ ‘আন আনফুছিকুমুল মাওতা ইন কুনতুম সা-দিকীন।

তারা সেই লোক, যারা নিজেদের (শহীদ) ভাইদের সম্পর্কে বসে বসে মন্তব্য করে যে, তারা যদি আমাদের কথা শুনত, তবে কতল হত না। বলে দাও, তোমরা সত্যবাদী হলে খোদ নিজেদের থেকেই মৃত্যুকে হটিয়ে দাও তো দেখি!
১৬৯

وَلَا تَحۡسَبَنَّ الَّذِیۡنَ قُتِلُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ اَمۡوَاتًا ؕ  بَلۡ اَحۡیَآءٌ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ یُرۡزَقُوۡنَ ۙ ١٦٩

ওয়ালা-তাহছাবান্নাল্লাযীনা কুতিলূফী ছাবীলিল্লা-হি আমওয়া-তাম বাল আহইয়াউন ‘ইনদা রাব্বিহিম ইউরঝাকুন।

এবং (হে নবী!) যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদেরকে কখনওই মৃত মনে করো না; বরং তারা জীবিত। তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের কাছে রিযক দেওয়া হয়। ৭৬

তাফসীরঃ

৭৬. অর্থাৎ মৃত্যুর পর শহীদগণ বিশেষ এক ধরনের জীবন ও আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে, যা অন্যদের লাভ হয় না। তাদের কাছে জান্নাতের রিযক পৌঁছতে থাকে এবং তাদের আত্মা সবুজ পাখির পিঞ্জরে ঢুকে জান্নাতের ভেতর ইচ্ছামত উড়ে বেড়াতে থাকে। এসব যেহেতু ভিন্ন এক জগতের ব্যাপার, তাই এর স্বরূপ বোঝা ইহজগতে বসে সম্ভব নয়। আমরা বিশ্বাস করি, কুরআন ও হাদীসে প্রদত্ত সকল সংবাদই সত্য। (-অনুবাদক)
১৭০

فَرِحِیۡنَ بِمَاۤ اٰتٰہُمُ اللّٰہُ مِنۡ فَضۡلِہٖ ۙ  وَیَسۡتَبۡشِرُوۡنَ بِالَّذِیۡنَ لَمۡ یَلۡحَقُوۡا بِہِمۡ مِّنۡ خَلۡفِہِمۡ ۙ  اَلَّا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ وَلَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ ۘ ١٧۰

ফারিহীনা বিমা-আ-তা-হুমুল্লা-হু মিন ফাদলিহী ওয়াইয়াছতাবশিরূনা বিল্লাযীনা লাম ইয়ালহাকূবিহিম মিন খালফিহিম আল্লা-খাওফুন ‘আলাইহিম ওয়ালা-হুম ইয়াহঝানূন।

আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা-কিছু দিয়েছেন, তারা তাতে প্রফুল্ল। আর তাদের পরে এখনও যারা (শাহাদতের মাধ্যমে) তাদের সঙ্গে মিলিত হয়নি, তাদের ব্যাপারে এ কারণে তারা আনন্দ বোধ করে যে, (তারা যখন তাদের সঙ্গে এসে মিলিত হবে, তখন) তাদের কোনও ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।
১৭১

یَسۡتَبۡشِرُوۡنَ بِنِعۡمَۃٍ مِّنَ اللّٰہِ وَفَضۡلٍ ۙ  وَّاَنَّ اللّٰہَ لَا یُضِیۡعُ اَجۡرَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ٪ۛ ١٧١

ইয়াছতাবশিরূনা বিনি‘মাতিম মিনাল্লা-হি ওয়াফাদলিওঁ ওয়া আন্নাল্লা-হা লা-ইউদী‘উ আজরাল মু’মিনীন।

তারা আল্লাহর নি‘আমত ও অনুগ্রহের কারণে আনন্দ উদযাপন করে এবং এ কারণেও যে, আল্লাহ মুমিনদের কর্মফল নষ্ট করেন না।
১৭২

اَلَّذِیۡنَ اسۡتَجَابُوۡا لِلّٰہِ وَالرَّسُوۡلِ مِنۡۢ بَعۡدِ مَاۤ اَصَابَہُمُ الۡقَرۡحُ ؕۛ  لِلَّذِیۡنَ اَحۡسَنُوۡا مِنۡہُمۡ وَاتَّقَوۡا اَجۡرٌ عَظِیۡمٌ ۚ ١٧٢

আল্লাযীনাছতা জা-বূলিল্লা-হি ওয়ার রাছূলি মিম বা‘দি মা-আসা-বাহুমুল কারহু লিল্লাযীনা আহছানূমিনহুম ওয়াত্তাকাও আজরুন ‘আজীম।

যারা যখম হওয়ার পরও আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছে, এরূপ সৎকর্মশীল ও মুত্তাকীদের জন্য আছে মহা প্রতিদান।
১৭৩

اَلَّذِیۡنَ قَالَ لَہُمُ النَّاسُ اِنَّ النَّاسَ قَدۡ جَمَعُوۡا لَکُمۡ فَاخۡشَوۡہُمۡ فَزَادَہُمۡ اِیۡمَانًا ٭ۖ وَّقَالُوۡا حَسۡبُنَا اللّٰہُ وَنِعۡمَ الۡوَکِیۡلُ ١٧٣

আল্লাযীনা কা-লা লাহুমুন্না-ছুইন্নান্না-ছা কাদ জামা‘ঊ লাকুম ফাখশাওহুম ফাঝা-দাহুম ঈমা-নাওঁ ওয়া কা-লূহাছবুনাল্লা-হু ওয়ানিমা‘ল ওয়াকীল।

যাদেরকে লোকে বলেছিল, (মক্কার কাফির) লোকেরা তোমাদের (সাথে যুদ্ধ করার) জন্য (পুনরায়) সেনা সংগ্রহ করেছে, সুতরাং তাদেরকে ভয় কর। তখন এটা (এই সংবাদ) তাদের ঈমানের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় এবং তারা বলে ওঠে, আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম কর্মবিধায়ক। ৭৭

তাফসীরঃ

৭৭. মক্কার কাফিরগণ উহুদের যুদ্ধ থেকে ফিরে যাওয়ার সময় রাস্তায় এই বলে পস্তাতে লাগল যে, যুদ্ধে জয়লাভ করা সত্ত্বেও আমরা অহেতুক ফিরে আসলাম। আমরা আরেকটু অগ্রসর হলে তো সমস্ত মুসলিমকেই নিশ্চিহ্ন করে ফেলতে পারতাম। এই চিন্তা করে তারা পুনরায় মদীনা মুনাওয়ারার দিকে অগ্রসর হওয়ার ইচ্ছা করল। অন্য দিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্ভবত তাদের এ ইচ্ছা সম্পর্কে অবহিত হয়ে অথবা উহুদ যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের ইচ্ছায় পর দিন ভোরে ঘোষণা করে দিলেন যে, আমরা শত্রুর পশ্চাদ্ধাবনের উদ্দেশ্যে বের হব আর এতে আমাদের সঙ্গে কেবল তারাই যাবে, যারা উহুদের যুদ্ধে শরীক ছিল। সাহাবায়ে কেরাম যদিও উহুদের যুদ্ধে ক্ষত-বিক্ষত ও ক্লান্ত-শ্রান্ত ছিলেন, কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ ডাকে সাড়া দিতে তারা এক মুহূর্ত দেরি করলেন না। এ আয়াতে তাদের সে আত্মোৎসর্গেরই প্রশংসা করা হয়েছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে ‘হামরাউল আসাদ’ নামক স্থানে পৌঁছলে সেখানে বনু খুযাআর এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হয়। তার নাম ছিল মা‘বাদ। কাফির হওয়া সত্ত্বেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তার সহানুভূতি ছিল। এ সময় মুসলিমদের উদ্যম ও সাহসিকতা তার নজর কাড়ে। অতঃপর সে আরও সামনে অগ্রসর হলে আবু সুফিয়ানসহ অন্যান্য কুরাইশ নেতাদের সঙ্গে তার সাক্ষাত হল। তখন সে তাদেরকে মুসলিম সৈন্যদের উদ্দীপনা ও সাহসিকতার কথা জানাল এবং পরামর্শ দিল যে, তাদের উচিত মদীনায় গিয়ে হামলা করার পরিকল্পনা ত্যাগ করে মক্কায় ফিরে যাওয়া। এতে কাফিরদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার হল। ফলে তারা ওয়াপস চলে গেল। কিন্তু যাওয়ার সময় তারা আবদুল কায়স গোত্রের মদীনাগামী এক কাফেলাকে বলে গেল যে, পথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে তাদের সাক্ষাত হলে যেন জানিয়ে দেয়, আবু সুফিয়ান এক বিশাল বাহিনী সংগ্রহ করেছে এবং সে মুসলিমদের নিপাত করার জন্য মদীনার দিকে এগিয়ে আসছে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য ছিল মুসলিমদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করা। সেমতে এ কাফেলা হামরাউল আসাদে পৌঁছে যখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাত পেল তখন তাঁকে একথা বলল। কিন্তু সাহাবায়ে কেরাম তাতে ভয় তো পেলেনই না, উল্টো তাঁরা তাদের ঈমানদীপ্ত সেই কথা শুনিয়ে দিলেন, যা প্রশংসার সাথে আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।
১৭৪

فَانۡقَلَبُوۡا بِنِعۡمَۃٍ مِّنَ اللّٰہِ وَفَضۡلٍ لَّمۡ یَمۡسَسۡہُمۡ سُوۡٓءٌ ۙ وَّاتَّبَعُوۡا رِضۡوَانَ اللّٰہِ ؕ وَاللّٰہُ ذُوۡ فَضۡلٍ عَظِیۡمٍ ١٧٤

ফানকালাবূ বিনি‘মাতিম মিনাল্লা-হি ওয়া ফাদলিল্লাম ইয়ামছাছহুম ছূূউওঁ ওয়াত্তাবা‘ঊ রিদওয়া-নাল্লা-হি ওয়াল্লা-হু যুফাদলিন ‘আজীম।

পরিণামে তারা আল্লাহর নি‘আমত ও অনুগ্রহ নিয়ে এভাবে ফিরে আসল যে, বিন্দুমাত্র অনিষ্ট তাদের স্পর্শ করেনি এবং তারা আল্লাহ যাতে খুশী হন তার অনুসরণ করেছে। বস্তুত আল্লাহ মহা অনুগ্রহের মালিক।
১৭৫

اِنَّمَا ذٰلِکُمُ الشَّیۡطٰنُ یُخَوِّفُ اَوۡلِیَآءَہٗ ۪ فَلَا تَخَافُوۡہُمۡ وَخَافُوۡنِ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ١٧٥

ইন্নামা-যা-লিকুমুশশাইতা-নুইউখাওবিফুআওলিয়াআহু ফালা-তাখা-ফূহুম ওয়া খা-ফূনি ইন কুনতুম মু’মিনীন।

প্রকৃতপক্ষে সে তো শয়তান, যে তার বন্ধুদের সম্পর্কে ভয় দেখায়। সুতরাং তোমরা যদি মুমিন হয়ে থাক, তবে তাদেরকে ভয় করো না। বরং কেবল আমাকেই ভয় কর।
১৭৬

وَلَا یَحۡزُنۡکَ الَّذِیۡنَ یُسَارِعُوۡنَ فِی الۡکُفۡرِ ۚ اِنَّہُمۡ لَنۡ یَّضُرُّوا اللّٰہَ شَیۡئًا ؕ یُرِیۡدُ اللّٰہُ اَلَّا یَجۡعَلَ لَہُمۡ حَظًّا فِی الۡاٰخِرَۃِ ۚ وَلَہُمۡ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ ١٧٦

ওয়ালা-ইয়াহঝুনকাল্লাযীনা ইউছা-রি‘ঊনা ফিল কুফরি ইন্নাহুম লাইঁ ইয়াদুররুল্লা-হা শাইআইঁ ইউরীদুল্লা-হু আল্লা-ইয়াজ‘আলা লাহুম হাজ্জান ফিল আ-খিরাতি ওয়া লাহুম ‘আযা-বুন ‘আজীম।

এবং (হে নবী!) যারা কুফরীতে পরস্পর প্রতিযোগিতার সাথে অগ্রসর হচ্ছে, তারা যেন তোমাকে দুঃখে না ফেলে। নিশ্চিত জেন, তারা আল্লাহর বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ চান আখিরাতে তাদের কোন অংশ না রাখতে। তাদের জন্য মহা শাস্তি (প্রস্তুত) রয়েছে।
১৭৭

اِنَّ الَّذِیۡنَ اشۡتَرَوُا الۡکُفۡرَ بِالۡاِیۡمَانِ لَنۡ یَّضُرُّوا اللّٰہَ شَیۡئًا ۚ وَلَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ١٧٧

ইন্নাল্লাযীনাশতারাউল কুফরা বিলঈমা-নি লাই ইয়াদুরুল্লা-হা শাইআওঁ ওয়ালাহুম ‘আযা-বুন আলীম।

যারা ঈমানের বদলে কুফল খরিদ করেছে, তারা কখনওই আল্লাহর বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। তাদের জন্য (প্রস্তুত) রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
১৭৮

وَلَا یَحۡسَبَنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَنَّمَا نُمۡلِیۡ لَہُمۡ خَیۡرٌ لِّاَنۡفُسِہِمۡ ؕ اِنَّمَا نُمۡلِیۡ لَہُمۡ لِیَزۡدَادُوۡۤا اِثۡمًا ۚ وَلَہُمۡ عَذَابٌ مُّہِیۡنٌ ١٧٨

ওয়ালা-ইয়াহছাবান্নাল্লাযীনা কাফারূআন্নামা-নুমলী লাহুম খাইরুল লিআনফুছিহম ইন্নামা-নুমলী লাহুম লিইয়াঝদা-দূ ইছমাওঁ ওয়ালাহুম ‘আযা-বুম মুহীন।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা যেন কিছুতেই মনে না করে, আমি তাদেরকে যে অবকাশ দিয়েছি তাদের পক্ষে তা ভালো। প্রকৃতপক্ষে আমি তাদেরকে অবকাশ দেই কেবল এ কারণে, যাতে তারা পাপাচারে আরও অগ্রগামী হয় এবং (পরিশেষে) তাদের জন্য আছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।
১৭৯

مَا کَانَ اللّٰہُ لِیَذَرَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ عَلٰی مَاۤ اَنۡتُمۡ عَلَیۡہِ حَتّٰی یَمِیۡزَ الۡخَبِیۡثَ مِنَ الطَّیِّبِ ؕ وَمَا کَانَ اللّٰہُ لِیُطۡلِعَکُمۡ عَلَی الۡغَیۡبِ وَلٰکِنَّ اللّٰہَ یَجۡتَبِیۡ مِنۡ رُّسُلِہٖ مَنۡ یَّشَآءُ ۪ فَاٰمِنُوۡا بِاللّٰہِ وَرُسُلِہٖ ۚ وَاِنۡ تُؤۡمِنُوۡا وَتَتَّقُوۡا فَلَکُمۡ اَجۡرٌ عَظِیۡمٌ ١٧٩

মা-কা-নাল্লা-হু লিইয়াযারাল মু’মিনীনা ‘আলা-মাআনতুম ‘আলাইহি হাত্তা-ইয়ামীঝাল খাবীছা মিনাত্তাইয়িবি ওয়ামা-কা-নাল্লা-হু লিইউতলি‘আকুম ‘আলাল গাইবি ওয়ালাকিনাল্লা-হা ইয়াজতাবী মিররুছুলিহী মাইঁ ইয়াশাউ ফাআ-মিনূবিল্লা-হি ওয়ারুছুলিহী ওয়া ইন তু’মিনূওয়া তাত্তাকূফালাকুম আজরুন ‘আজীম।

আল্লাহ এরূপ করতে পারেন না যে, তোমরা (এখন) যে অবস্থায় আছো মুমিনদেরকে সে অবস্থায়ই রেখে দেবেন, যতক্ষণ না তিনি পবিত্র হতে অপবিত্রকে পৃথক করে দেন এবং (অপর দিকে) তিনি এরূপও করতে পারেন না যে, তোমাদেরকে (সরাসরি) গায়বের বিষয় জানিয়ে দেবেন। হাঁ, তিনি (যতটুকু জানানো দরকার মনে করেন, তার জন্য) নিজ নবীগণের মধ্য হতে যাকে চান বেছে নেন। ৭৮ সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস রাখ। যদি তোমরা বিশ্বাস রাখ ও তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে মহা প্রতিদানের উপযুক্ত হবে।

তাফসীরঃ

৭৮. ১৭৬ নং আয়াত থেকে ১৭৮ নং আয়াত পর্যন্ত এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, কাফিরগণ আল্লাহ তাআলার অপ্রিয় হলে দুনিয়ায় তারা আরাম-আয়েশের জীবন লাভ করে কেন? উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, আখিরাতে যেহেতু তাদের কোনও অংশ নাই, তাই দুনিয়ায় তাদেরকে অবকাশ দিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে তারা আরও বেশি গুনাহ কামাই করে এবং তারা তাই করছে। একটা সময় আসবে, যখন তাদেরকে একত্র করে আযাবে নিক্ষেপ করা হবে। ১৭৯ নং আয়াতে এর বিপরীতে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, মুসলিমগণ আল্লাহ তাআলার প্রিয় হওয়া সত্ত্বেও তাদের উপর এত বিপদ কেন? তার এক উত্তর এ আয়াতে এই দেওয়া হয়েছে যে, মুসলিমদের জন্য এটা পরীক্ষা। এ পরীক্ষা নেওয়ার উদ্দেশ্য ঈমানের দাবীতে কে খাঁটি এবং কে ভেজাল এটা পরিষ্কার করে দেওয়া! আল্লাহ তাআলা এটা পরিষ্কার না করা পর্যন্ত মুসলিমদেরকে আপন অবস্থায় রেখে দিতে পারেন না। বস্তুত কে ঈমানে অটল থাকে আর কে টলে যায়, তার পরিচয় বিপদের সময়ই পাওয়া যায়। এর উপর প্রশ্ন হতে পারত যে, আল্লাহ মুসলিমদেরকে বিপদে ফেলা ছাড়াই কেন এ বিষয়টি জানিয়ে দেন না? এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা গায়বের বিষয় প্রত্যেককে জানান না। বরং যতটুকু জানাতে চান তা নিজ নবীকে জানিয়ে দেন। তাঁর হিকমতের দাবি হচ্ছে, মুসলিমগণ মুনাফিকদের দুষ্কর্ম নিজেদের চোখে দেখে নিক ও তাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিক। সে কারণেই এসব বিপদ-আপদ আসে। এর আরও তাৎপর্য সামনে ১৮৫ ও ১৮৬ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।
১৮০

وَلَا یَحۡسَبَنَّ الَّذِیۡنَ یَبۡخَلُوۡنَ بِمَاۤ اٰتٰہُمُ اللّٰہُ مِنۡ فَضۡلِہٖ ہُوَ خَیۡرًا لَّہُمۡ ؕ  بَلۡ ہُوَ شَرٌّ لَّہُمۡ ؕ  سَیُطَوَّقُوۡنَ مَا بَخِلُوۡا بِہٖ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ  وَلِلّٰہِ مِیۡرَاثُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ  وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرٌ ٪ ١٨۰

ওয়ালা-ইয়াহছাবান্নাল্লাযীনা ইয়াবখালূনা বিমাআ-তা-হুমুল্লা-হু মিন ফাদলিহী হুওয়া খাইরাল্লাহুম বাল হুওয়া শাররুল্লাহুম ছাইউতাওওয়াকূনা মা-বাখিলূবিহী ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ওয়ালিল্লা-হি মীরাছুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়াল্লাহু বিমা-তা‘মালূনা খাবীর।

আল্লাহ প্রদত্ত অনুগ্রহে (সম্পদে) যারা কৃপণতা করে, তারা যেন কিছুতেই মনে না করে, এটা তাদের জন্য ভালো কিছু। বরং এটা তাদের পক্ষে অতি মন্দ। যে সম্পদের ভেতর তারা কৃপণতা করে, কিয়ামতের দিন তাকে তাদের গলায় বেড়ি বানিয়ে দেওয়া হবে। ৭৯ আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর মীরাছ কেবল আল্লাহরই জন্য। তোমরা যা-কিছুই কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।

তাফসীরঃ

৭৯. যে কৃপণতাকে হারাম করা হয়েছে, তা হচ্ছে আল্লাহ তাআলা যে ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ের আদেশ করেছেন, সে ক্ষেত্রে ব্যয় না করা, যেমন যাকাত না দেওয়া। এরূপ কৃপণতার মাধ্যমে মানুষ যে সম্পদ সঞ্চয় করবে, কিয়ামতের দিন তাকে বেড়ি বানিয়ে তার গলায় পরিয়ে দেওয়া হবে। হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ব্যাখ্যা করেন যে, এরূপ সম্পদকে বিষাক্ত সাপ বানিয়ে তার গলায় জড়িয়ে দেওয়া হবে। সে সাপ তার গলা কামড়ে ধরে বলবে, আমি তোমার সম্পদ! আমি তোমার সঞ্চিত ধনভাণ্ডার।
১৮১

لَقَدۡ سَمِعَ اللّٰہُ قَوۡلَ الَّذِیۡنَ قَالُوۡۤا اِنَّ اللّٰہَ فَقِیۡرٌ وَّنَحۡنُ اَغۡنِیَآءُ ۘ سَنَکۡتُبُ مَا قَالُوۡا وَقَتۡلَہُمُ الۡاَنۡۢبِیَآءَ بِغَیۡرِ حَقٍّ ۙ وَّنَقُوۡلُ ذُوۡقُوۡا عَذَابَ الۡحَرِیۡقِ ١٨١

লাকাদ ছামি‘আল্লা-হু কাওলাল্লাযীনা কালূইন্নাল্লা-হা ফাকীরুওঁ ওয়ানাহনু আগনিয়াউ । ছানাকতুবুমা-কা-লূওয়া কাতলাহুমুল আম্বিয়াআ বিগাইরি হাক্কিওঁ ওয়া নাকূলুযূকূ‘আযা-বাল হারীক।

আল্লাহ তাদের কথা শুনেছেন, যারা বলে, আল্লাহ গরীব এবং আমরা ধনী। ৮০ তারা যা বলে আমি তা (তাদের আমলনামায়) লিখে রাখি এবং তারা নবীগণকে অন্যায়ভাবে যে হত্যা করেছে সেটাও। অতঃপর আমি বলব, জ্বলন্ত আগুনের স্বাদ গ্রহণ কর।

তাফসীরঃ

৮০. যাকাত ও অন্যান্য অর্থ-ব্যয় সংক্রান্ত বিধানাবলী নাযিল হলে ইয়াহুদীরা এ জাতীয় ধৃষ্টতামূলক উক্তি করেছিল। বলাবাহুল্য এ রকম বিশ্বাস তো তাদেরও ছিল না যে, আল্লাহ তাআলা গরীব নাউযুবিল্লাহ। আসলে তারা এসব বলে যাকাতের বিধানকে উপহাস ও ব্যঙ্গ করত। তাই আল্লাহ তাআলা তাদের এ বেহুদা কথার কোনও উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি। বরং এ চরম বেয়াদবীর কারণে তিনি তাদেরকে শাস্তির সতর্কবাণী শুনিয়ে দিয়েছেন।
১৮২

ذٰلِکَ بِمَا قَدَّمَتۡ اَیۡدِیۡکُمۡ وَاَنَّ اللّٰہَ لَیۡسَ بِظَلَّامٍ لِّلۡعَبِیۡدِ ۚ ١٨٢

যা-লিকা বিমা-কাদ্দামাত আইদীকুম ওয়া আন্নাল্লা-হা লাইছা বিজাল্লা-মিল লিল‘আবীদ।

এসব তোমাদের নিজ হাতের সেই কৃতকর্মের ফল, যা তোমরা সম্মুখে প্রেরণ করেছিলে। নয়ত আল্লাহ বান্দাদের প্রতি জুলুমকারী নন।
১৮৩

اَلَّذِیۡنَ قَالُوۡۤا اِنَّ اللّٰہَ عَہِدَ اِلَیۡنَاۤ اَلَّا نُؤۡمِنَ لِرَسُوۡلٍ حَتّٰی یَاۡتِیَنَا بِقُرۡبَانٍ تَاۡکُلُہُ النَّارُ ؕ قُلۡ قَدۡ جَآءَکُمۡ رُسُلٌ مِّنۡ قَبۡلِیۡ بِالۡبَیِّنٰتِ وَبِالَّذِیۡ قُلۡتُمۡ فَلِمَ قَتَلۡتُمُوۡہُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ١٨٣

আল্লাযীনা কা-লূইন্নাল্লা-হা ‘আহিদা ইলাইনাআল্লা-নু’মিনা লিরাছূলিন হাত্তাইয়া’তিইয়ানা-বিকুরবা-নিন তা’কুলুহুন্না-রু কুল কাদ জাআকুম রুছুলুম মিন কাবলী বিলবাইয়িনা-তি ওয়াবিল্লাযী কুলতুম ফালিমা কাতালতুমূহুম ইন কুনতুম সা-দিকীন।

(এরা) সেই লোক, যারা বলে, আল্লাহ আমাদের প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন যে, আমরা কোনও নবীর প্রতি ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান আনব না, যতক্ষণ না সে আমাদের কাছে এমন কোন কুরবানী উপস্থিত করবে, যাকে আগুন গ্রাস করবে। ৮১ তুমি বল, আমার আগেও তোমাদের নিকট বহু নবী সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল এবং সেই জিনিস নিয়েও, যার কথা তোমরা (আমাকে) বলছ। তা সত্ত্বেও তোমরা তাদেরকে হত্যা করলে কেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?

তাফসীরঃ

৮১. পূর্ববর্তী নবীগণের সময়ে নিয়ম ছিল, কোনও ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি বিধানের লক্ষ্যে যখন কোনও পশু কুরবানী করত, তখন তাদের জন্য তা খাওয়া হালাল হত না; বরং তারা সে পশু যবাহ করে মাঠে বা টিলায় রেখে আসত। অতঃপর আল্লাহ তাআলা সে কুরবানী কবুল করলে আসমান থেকে আগুন এসে তা জ্বালিয়ে দিত। তাকে ‘দাহ্য কুরবানী’ বলা হত। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শরীয়তে সে নিয়ম রহিত করে দেওয়া হয়েছে। এখন কুরবানীর গোশত হালাল। ইয়াহুদীরা বলেছিল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু এরূপ কুরবানী নিয়ে আসেননি, তাই আমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনতে পারি না। আসলে এটা ছিল তাদের কালক্ষেপণের এক বাহানা। ঈমান আনার কোন উদ্দেশ্য তাদের আদৌ ছিল না। তাই তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অতীতে এসব নিদর্শন তো তোমাদের কাছে এসেছিল। তখনও তোমরা ঈমান আননি; বরং নবীগণকে হত্যা করেছিলে।
১৮৪

فَاِنۡ کَذَّبُوۡکَ فَقَدۡ کُذِّبَ رُسُلٌ مِّنۡ قَبۡلِکَ جَآءُوۡ بِالۡبَیِّنٰتِ وَالزُّبُرِ وَالۡکِتٰبِ الۡمُنِیۡرِ ١٨٤

ফাইন কাযযাবূকা ফাকাদ কুযযিবা রুছুলুম মিন কাবলিকা জাঊ বিলবাইয়িনা-তি ওয়াঝঝুবুরি ওয়াল কিতা-বিল মুনীর।

(হে নবী!) তথাপি যদি তারা তোমাকে প্রত্যাখ্যান করে, তবে (এটা নতুন কোন বিষয় নয়) তোমার আগেও এমন বহু নবীকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, যারা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলীও নিয়ে এসেছিল এবং লিখিত সহীফা ও এমন কিতাবও, যা ছিল (সত্যকে) আলোকিতকারী।
১৮৫

کُلُّ نَفۡسٍ ذَآئِقَۃُ الۡمَوۡتِ ؕ وَاِنَّمَا تُوَفَّوۡنَ اُجُوۡرَکُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ فَمَنۡ زُحۡزِحَ عَنِ النَّارِ وَاُدۡخِلَ الۡجَنَّۃَ فَقَدۡ فَازَ ؕ وَمَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَاۤ اِلَّا مَتَاعُ الۡغُرُوۡرِ ١٨٥

কুল্লুনাফছিন যাইকাতুল মাওতি ওয়া ইন্নামা-তুওয়াফফাওনা উজূরাকুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ফামান ঝুহঝিহা ‘আনিন্না-রি ওয়া উদখিলাল জান্নাতা ফাকাদ ফা-ঝা ওয়ামাল হায়া-তুদ্দুনইয়া-ইল্লা-মাতা-‘উল গুরুর।

প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং তোমাদের সকলকে (তোমাদের কর্মের) পুরোপুরি প্রতিদান কিয়ামতের দিনই দেওয়া হবে। অতঃপর যাকেই জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হবে ও জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হবে, সে-ই প্রকৃত অর্থে সফলকাম হবে। আর (জান্নাতের বিপরীতে) পার্থিব জীবন তো প্রতারণার উপকরণ ছাড়া কিছুই নয়।
১৮৬

لَتُبۡلَوُنَّ فِیۡۤ اَمۡوَالِکُمۡ وَاَنۡفُسِکُمۡ ۟ وَلَتَسۡمَعُنَّ مِنَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ وَمِنَ الَّذِیۡنَ اَشۡرَکُوۡۤا اَذًی کَثِیۡرًا ؕ وَاِنۡ تَصۡبِرُوۡا وَتَتَّقُوۡا فَاِنَّ ذٰلِکَ مِنۡ عَزۡمِ الۡاُمُوۡرِ ١٨٦

লাতুবলাউন্না ফীআমওয়া-লিকুম ওয়া আনফুছিকুম ওয়ালা তাছমা‘উন্না মিনাল্লাযীনা ঊতুল কিতা-বা মিন কাবলিকুম ওয়া মিনাল্লাযীনা আশরাকূআযান কাছীরাওঁ ওয়া ইন তাসবিরু ওয়া তাত্তাকূফাইন্না যা-লিকা মিন ‘আঝমিল উমূর।

(হে মুসলিমগণ!) অবশ্যই তোমাদেরকে তোমাদের অর্থ-সম্পদ ও জীবনের ব্যাপারে (আরও) পরীক্ষা করা হবে এবং তোমরা ‘আহলে কিতাব’ ও ‘মুশরিক’ উভয় সম্প্রদায়ের পক্ষ হতে অনেক পীড়াদায়ক কথা শুনবে। তোমরা যদি সবর ও তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে নিশ্চয়ই এটা অতি বড় হিম্মতের কাজ (যা তোমাদেরকে অবলম্বন করতেই হবে)।
১৮৭

وَاِذۡ اَخَذَ اللّٰہُ مِیۡثَاقَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ لَتُبَیِّنُنَّہٗ لِلنَّاسِ وَلَا تَکۡتُمُوۡنَہٗ ۫ فَنَبَذُوۡہُ وَرَآءَ ظُہُوۡرِہِمۡ وَاشۡتَرَوۡا بِہٖ ثَمَنًا قَلِیۡلًا ؕ فَبِئۡسَ مَا یَشۡتَرُوۡنَ ١٨٧

ওয়া ইযআখাযাল্লা-হু মীছাকাল্লাযীনা ঊতুল কিতা-বা লাতুবাইয়িনুন্নাহূ লিন্না-ছি ওয়ালাতাকতুমূনাহূ ফানাবাযূহু ওয়ারাআ জুহূরিহিম ওয়াশতারাও বিহী ছামানান কালীলান ফাবি’ছা মা-ইয়াশতারূন।

আর (সেই সময়ের কথা তাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়) যখন আল্লাহ ‘আহলে কিতাব’ থেকে এই প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন যে, তোমরা এ কিতাবকে অবশ্যই মানুষের সামনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং এটা গোপন করবে না। অতঃপর তারা এ প্রতিশ্রুতিকে তাদের পেছন দিকে ছুড়ে মারে এবং এর বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য অর্জন করে। কতই না মন্দ সেই জিনিস, যা তারা ক্রয় করছে।
১৮৮

لَا تَحۡسَبَنَّ الَّذِیۡنَ یَفۡرَحُوۡنَ بِمَاۤ اَتَوۡا وَّیُحِبُّوۡنَ اَنۡ یُّحۡمَدُوۡا بِمَا لَمۡ یَفۡعَلُوۡا فَلَا تَحۡسَبَنَّہُمۡ بِمَفَازَۃٍ مِّنَ الۡعَذَابِ ۚ وَلَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ١٨٨

লা-তাহছাবান্নাল্লাযীনা ইয়াফরাহূনা বিমাআতাওঁ ওয়া ইউহিববূনা আইঁ ইউহমাদূবিমালাম ইয়াফ‘আলূফালা-তাহছাবান্নাহুম বিমাফা-ঝাতিম মিনাল ‘আযা-বি ওয়া লাহুম ‘আযা-বুন আলীম।

তুমি কিছুতেই মনে করো না যে, যারা নিজেদের কৃতকর্মের উপর বড় খুশী, আর যে কাজ করেনি তার জন্য প্রশংসার আশাবাদী, এরূপ লোকদের সম্পর্কে কিছুতেই মনে করো না যে, তারা শাস্তি হতে আত্মরক্ষায় সফল হবে। তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি (প্রস্তুত) রয়েছে। ৮২

তাফসীরঃ

৮২. ইয়াহুদীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কিত সুসংবাদসমূহ গোপন করত এবং এটাকে একটা সফল চাতুর্য মনে করে আহ্লাদিত হত। আবার তারা গোমরাহীর উপর থাকা সত্ত্বেও কামনা করত, মানুষ যেন তাদেরকে হকপন্থী বলে প্রশংসা করে। একই চরিত্র ছিল মুনাফিকদেরও। এ কারণে আয়াতে তাদেরকে কঠিন শাস্তির সতর্কবাণী শোনানো হয়েছে। এর ভেতর মুমিনদের জন্যও শিক্ষা রয়েছে যে, কোন মন্দ কাজ করে তার জন্য খুশি না হয়ে তাওবা-ইসতিগফার করা উচিত এবং কোন ভালো কাজ না করে তার জন্য প্রশংসার আশাবাদী না হয়ে বরং সেই ভালো কাজে সচেষ্ট থাকা ও করার পর আল্লাহর শুকর আদায় করা উচিত। -অনুবাদক
১৮৯

وَلِلّٰہِ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ  وَاللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ٪ ١٨٩

ওয়া লিল্লা-হি মুলকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়াল্লাহু ‘আলা-কুল্লি শাইইন কাদীর।

আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব কেবল আল্লাহরই। আল্লাহ সর্ববিষয়ে পরিপূর্ণ ক্ষমতা রাখেন।
১৯০

اِنَّ فِیۡ خَلۡقِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَاخۡتِلَافِ الَّیۡلِ وَالنَّہَارِ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی الۡاَلۡبَابِ ۚۙ ١٩۰

ইন্না ফী খালকিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়াখতিলা-ফিল্লাইলি ওয়ান্নাহা-রি লাআ-য়াতিল লিঊলিল আলবা-ব।

নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃজনে ও রাত-দিনের পালাক্রমে আগমনে বহু নিদর্শন আছে ঐ সকল বুদ্ধিমানদের জন্য
১৯১

الَّذِیۡنَ یَذۡکُرُوۡنَ اللّٰہَ قِیٰمًا وَّقُعُوۡدًا وَّعَلٰی جُنُوۡبِہِمۡ وَیَتَفَکَّرُوۡنَ فِیۡ خَلۡقِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ۚ رَبَّنَا مَا خَلَقۡتَ ہٰذَا بَاطِلًا ۚ سُبۡحٰنَکَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ١٩١

আল্লাযীনা ইয়াযকুরূনাল্লা-হা কিয়া-মাওঁ ওয়াকু‘ঊদাওঁ ওয়া‘আলা-জুনূবিহিম ওয়া ইয়াতাফাক্কারূনা ফী খালকিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিরাব্বানা-মা-খালাকতা হাযা-বা-তিলান ছুবহা-নাকা ফাকিনা-‘আযা-বান্না-র।

যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে (সর্বাবস্থায়) আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে (এবং তা লক্ষ্য করে বলে ওঠে) হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি এসব উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি করেননি। আপনি (এমন ফজুল কাজ থেকে) পবিত্র। সুতরাং আপনি আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। ৮৩

তাফসীরঃ

৮৩. অর্থাৎ বুদ্ধিমান তারাই, যারা দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে সর্বাবস্থায় অন্তরে ও মুখে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান-যমীন তথা নিখিল বিশ্বের সৃজন সম্পর্কে চিন্তা করত আল্লাহর অস্তিত্ব ও তাঁর অপার জ্ঞান-শক্তির পরিচয় লাভ করে এবং এর ফলশ্রুতিতে তার শাস্তি হতে নাজাত ও তার সন্তুষ্টি লাভের জন্য দু‘আয় রত হয়। বোঝা গেল, সৃষ্টিমালা সম্পর্কিত সেই চিন্তা-গবেষণাই প্রসংশনীয় যা আল্লাহর পরিচয় লাভের অছিলা হয়। সেই চিন্তা-গবেষণা নয়, যা জড়বাদ দ্বারা আচ্ছন্ন থাকে এবং যা প্রকৃতির সীমানা ভেদ করে তার স্রষ্টা পর্যন্ত পৌঁছায় না। -অনুবাদক
১৯২

رَبَّنَاۤ اِنَّکَ مَنۡ تُدۡخِلِ النَّارَ فَقَدۡ اَخۡزَیۡتَہٗ ؕ وَمَا لِلظّٰلِمِیۡنَ مِنۡ اَنۡصَارٍ ١٩٢

রাব্বানাইন্নাকা মান তুদখিলিন্না-রা ফাকাদ আখঝাইতাহূ ওয়ামা-লিজ্জা-লিমীনা মিন আনসা-র।

হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি যাকেই জাহান্নামে দাখিল করবেন, তাকে নিশ্চিতভাবেই লাঞ্ছিত করলেন। আর জালিমগণ তো কোনও সাহায্যকারী পাবে না।
১৯৩

رَبَّنَاۤ اِنَّنَا سَمِعۡنَا مُنَادِیًا یُّنَادِیۡ لِلۡاِیۡمَانِ اَنۡ اٰمِنُوۡا بِرَبِّکُمۡ فَاٰمَنَّا ٭ۖ  رَبَّنَا فَاغۡفِرۡ لَنَا ذُنُوۡبَنَا وَکَفِّرۡ عَنَّا سَیِّاٰتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الۡاَبۡرَارِ ۚ ١٩٣

রাব্বানা-ইন্নানা-ছামি‘না-মুনা-দিআইঁ ইউনা-দী লিল ঈমা-নি আন আ-মিনূবিরাব্বিকুম ফাআমান্না-রাব্বানা-ফাগফিরলানা-যুনূবানা-ওয়াকাফফির‘আন্না-ছাইয়িআ-তিনাওয়াতাওয়াফফানা-মা‘আল আব রা-র।

হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা এক ঘোষককে ঈমানের দিকে ডাক দিতে শুনেছি যে, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আন।’ সুতরাং আমরা ঈমান এনেছি। কাজেই হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন, আমাদের মন্দসমূহ আমাদের থেকে মিটিয়ে দিন এবং আমাদেরকে পুণ্যবানদের মধ্যে শামিল করে নিজের কাছে তুলে নিন।
১৯৪

رَبَّنَا وَاٰتِنَا مَا وَعَدۡتَّنَا عَلٰی رُسُلِکَ وَلَا تُخۡزِنَا یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ اِنَّکَ لَا تُخۡلِفُ الۡمِیۡعَادَ ١٩٤

রাব্বানা-ওয়া আ-তিনা-মা-ওয়া-‘আত্তানা-‘আলা-রুছুলিকা ওয়ালা-তুখঝিনা-ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ইন্নাকা লা-তুখলিফুল মী‘আ-দ।

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে সেই সবকিছু দান করুন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি নিজ রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদেরকে দিয়েছেন। আমাদেরকে কিয়ামতের দিন লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি কখনও প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না।
১৯৫

فَاسۡتَجَابَ لَہُمۡ رَبُّہُمۡ اَنِّیۡ لَاۤ اُضِیۡعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِّنۡکُمۡ مِّنۡ ذَکَرٍ اَوۡ اُنۡثٰی ۚ بَعۡضُکُمۡ مِّنۡۢ بَعۡضٍ ۚ فَالَّذِیۡنَ ہَاجَرُوۡا وَاُخۡرِجُوۡا مِنۡ دِیَارِہِمۡ وَاُوۡذُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِیۡ وَقٰتَلُوۡا وَقُتِلُوۡا لَاُکَفِّرَنَّ عَنۡہُمۡ سَیِّاٰتِہِمۡ وَلَاُدۡخِلَنَّہُمۡ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ ۚ ثَوَابًا مِّنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ ؕ وَاللّٰہُ عِنۡدَہٗ حُسۡنُ الثَّوَابِ ١٩٥

ফাছতাজাবা-লাহুম রাব্বুহুম আন্নী লাউদী‘উ ‘আমালা ‘আমিলিম মিনকুম মিন যাকারিন আও উনছা-বা‘দুকুম মিম বা‘দিন ফাল্লাযীনা হা-জারু ওয়া উখরিজুমিন দিয়া-রিহিম ওয়া ঊযূফী ছাবীলী ওয়া কা-তালূওয়া কুতিলূলাউকাফফিরান্না ‘আনহুম ছাইয়িআ-তিহিম ওয়ালা উদখিলান্নাহুম জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু ছাওয়া-বাম মিন ‘ইনদিল্লা-হি ওয়াল্লা-হু ‘ইনদাহু হুছনুছছাওয়া-ব।

সুতরাং তাদের প্রতিপালক তাদের দু‘আ কবুল করলেন এবং (বললেন,) আমি তোমাদের মধ্যে কোন আমলকারীর কর্মফল নষ্ট করব না, তা সে পুরুষ হোক বা নারী। তোমরা পরস্পরে একই রকম। সুতরাং যারা হিজরত করেছে এবং তাদেরকে নিজেদের ঘর-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, আমার পথে উৎপীড়ন করা হয়েছে এবং (দীনের জন্য) তারা যুদ্ধ করেছে ও নিহত হয়েছে, আমি অবশ্যই তাদের সকলের থেকে তাদের দোষ-ত্রুটি মিটিয়ে দেব এবং তাদেরকে অবশ্যই এমন সব উদ্যানে দাখিল করব, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে। (এসব কিছু) আল্লাহর পক্ষ হতে পুরস্কারস্বরূপ হবে। বস্তুত আল্লাহরই কাছে আছে উৎকৃষ্ট পুরস্কার।
১৯৬

لَا یَغُرَّنَّکَ تَقَلُّبُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فِی الۡبِلَادِ ؕ ١٩٦

লা-ইয়াগুররান্নাকা তাকাল্লুবুল্লাযীনা কাফারু ফিল বিলা-দ।

যারা কুফল অবলম্বন করেছে, দেশে দেশে তাদের (সাচ্ছন্দ্যপূর্ণ) বিচরণ যেন তোমাকে কিছুতেই ধোঁকায় না ফেলে।
১৯৭

مَتَاعٌ قَلِیۡلٌ ۟ ثُمَّ مَاۡوٰىہُمۡ جَہَنَّمُ ؕ وَبِئۡسَ الۡمِہَادُ ١٩٧

মাতা-‘উন কালীলুন ছু ম্মা মা’ওয়া-হুম জাহান্নামু ওয়া বি’ছাল মিহা-দ।

(এটা) সামান্য ভোগ (যা তারা লুটছে), অতঃপর তাদের ঠিকানা জাহান্নাম, আর তা নিকৃষ্টতম বিছানা।
১৯৮

لٰکِنِ الَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا رَبَّہُمۡ لَہُمۡ جَنّٰتٌ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا نُزُلًا مِّنۡ عِنۡدِ اللّٰہِ ؕ وَمَا عِنۡدَ اللّٰہِ خَیۡرٌ لِّلۡاَبۡرَارِ ١٩٨

লা-কিনিল্লাযীনাত তাকাও রাব্বাহুম লাহুম জান্না-তুন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা-নুঝুলাম মিন ‘ইনদিল্লা-হি ওয়ামা-‘ইনদাল্লা-হি খাইরুল লিলআবরা-র।

কিন্তু যারা নিজেদের প্রতিপালককে ভয় করে চলে, তাদের জন্য আছে এমন সব উদ্যান, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত। আল্লাহর পক্ষ হতে আতিথেয়তাস্বরূপ তারা সর্বদা সেখানে থাকবে। আর আল্লাহর কাছে যা-কিছু আছে, পুণ্যবানদের জন্য তাই শ্রেয়।
১৯৯

وَاِنَّ مِنۡ اَہۡلِ الۡکِتٰبِ لَمَنۡ یُّؤۡمِنُ بِاللّٰہِ وَمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکُمۡ وَمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡہِمۡ خٰشِعِیۡنَ لِلّٰہِ ۙ لَا یَشۡتَرُوۡنَ بِاٰیٰتِ اللّٰہِ ثَمَنًا قَلِیۡلًا ؕ اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ اَجۡرُہُمۡ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ سَرِیۡعُ الۡحِسَابِ ١٩٩

ওয়া ইন্না মিন আহলিল কিতা-বি লামাইঁ ইউ’মিনুবিল্লা-হি ওয়ামাউনঝিলা ইলাইকুম ওয়ামাউনঝিলা ইলাইহিম খা-শি‘ঈনা লিল্লা-হি লা-ইয়াশতারূনা বিআ-য়া-তিল্লা-হি ছামানান কালীলান উলাইকা লাহুম আজরুহুম ‘ইনদা রাব্বিহিম ইন্নাল্লা-হা ছারী‘উল হিছা-ব।

নিশ্চয়ই আহলে কিতাবের মধ্যেও এমন লোক আছে, যারা আল্লাহর সম্মুখে বিনয় প্রদর্শনপূর্বক আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে এবং সেই কিতাবের প্রতিও, যা তোমাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে আর সেই কিতাবের প্রতিও যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছিল। আর আল্লাহর আয়াতসমূহকে তারা তুচ্ছ মূল্যের বিনিময়ে বিক্রি করে না। এরাই তারা, যাদের প্রতিদান রয়েছে তাদের প্রতিপালকের কাছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
২০০

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اصۡبِرُوۡا وَصَابِرُوۡا وَرَابِطُوۡا ۟  وَاتَّقُوا اللّٰہَ لَعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ ٪ ٢۰۰

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানুসবিরু ওয়া সা-বিরু ওয়া রা-বিতূ ওয়াত্তাকুল্লা-হা লা‘আল্লাকুম তুফলিহুন।

হে মুমিনগণ! সবর অবলম্বন কর, মুকাবিলার সময় অবিচলতা প্রদর্শন কর এবং সীমান্ত রক্ষায় স্থিত থাক। ৮৪ আর আল্লাহকে ভয় করে চল, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।

তাফসীরঃ

৮৪. কুরআনী পরিভাষায় ‘সবর’ শব্দের অর্থ অতি ব্যাপক। এর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা আছে, যথা আল্লাহ তাআলার আনুগত্যে অবিচলতা প্রদর্শন করা, গুনাহ হতে বেঁচে থাকার জন্য মনের ইচ্ছা ও চাহিদাকে দমন করা এবং কষ্ট-ক্লেশ সহ্য করা। এ স্থলে এ তিনও প্রকার সবরের হুকুম করা হয়েছে। সীমান্ত রক্ষা বলতে যেমন ভৌগোলিক সীমানাকে বোঝায়, তেমনি চিন্তাধারাগত সীমানাও। উভয় প্রকার সীমান্তই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই সকল বিধানের উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন! আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে সূরা আলে-ইমরানের তরজমা ও ব্যাখ্যার কাজ আজ বুধবার ১৮ই রজব ১৪২৬ হিজরী মোতাবেক ২৪ আগস্ট ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ সমাপ্ত হল। [অনুবাদ শেষ হল আজ রোববার ২৮ শাওয়াল ১৪৩০ হিজরী মোতাবেক ১৮ অক্টোবর ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ] আল্লাহ তাআলা অবশিষ্টাংশও নিজ মরজি মোতাবেক সহজে সমাপ্ত করার তাওফীক দান করুন। আমীন।