সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা ফাত্বির (فاطر) | আদি স্রষ্টা

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৪৫

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ فَاطِرِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ جَاعِلِ الۡمَلٰٓئِکَۃِ رُسُلًا اُولِیۡۤ اَجۡنِحَۃٍ مَّثۡنٰی وَثُلٰثَ وَرُبٰعَ ؕ یَزِیۡدُ فِی الۡخَلۡقِ مَا یَشَآءُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ١

আল হামদুলিল্লা-হি ফা-তিরিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিজা‘ইলিল মালাইকাতি রুছুলান ঊলীআজনিহাতিম্মাছনা-ওয়া ছুলা-ছা ওয়া রুবা-‘আ ইয়াঝীদুফিল খালকিমা-ইয়াশাউ ইন্নাল্লা-হা আ‘লা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, যিনি ফেরেশতাদেরকে বার্তাবাহীরূপে নিযুক্ত করেছেন, যারা দু’-দুটি, তিন-তিনটি ও চার-চারটি পাখা বিশিষ্ট। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে যা-ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

তাফসীরঃ

১. পূর্বের বাক্যের সাথে মিলিয়ে দেখলে এর অর্থ হয় এই যে, আল্লাহ তাআলা যে ফেরেশতার পাখা-সংখ্যা বাড়াতে চান বাড়িয়ে দেন। সুতরাং হাদীস দ্বারা জানা যায়, হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামের ছয়শত পাখা আছে। কিন্তু শব্দ সাধারণ হওয়ায় যে-কোনও সৃষ্টিই এর অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির যাকে ইচ্ছা হয় তাকে বিশেষ কোন গুণ বেশি দান করেন।

مَا یَفۡتَحِ اللّٰہُ لِلنَّاسِ مِنۡ رَّحۡمَۃٍ فَلَا مُمۡسِکَ لَہَا ۚ وَمَا یُمۡسِکۡ ۙ فَلَا مُرۡسِلَ لَہٗ مِنۡۢ بَعۡدِہٖ ؕ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ٢

মা ইয়াফতাহিল্লা-হু লিন্না-ছি মির রাহমাতিন ফালা-মুম ছিকা লাহা- ওয়া মা-ইউমছিক ফালা-মুরছিলা লাহূমিম বা‘দিহী ওয়া হুওয়াল ‘আঝীঝুল হাকীম।

আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত খুলে দেন, তা রোধ করার কেউ নেই, আর যা তিনি রুদ্ধ করেন, এমন কেউ নেই যে তারপর তা উন্মুক্ত করতে পারে। তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اذۡکُرُوۡا نِعۡمَتَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ ؕ ہَلۡ مِنۡ خَالِقٍ غَیۡرُ اللّٰہِ یَرۡزُقُکُمۡ مِّنَ السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ ؕ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۫ۖ فَاَنّٰی تُؤۡفَکُوۡنَ ٣

ইয়াআইয়ুহান্না-ছুযকুরূনি‘মাতাল্লা-হি ‘আলাইকুম হাল মিন খা-লিকিন গাইরুল্লা-হি ইয়ারঝুকুকুম মিনাছ ছামাই ওয়াল আরদি লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ফাআন্নাতু’ফাকূন।

হে মানুষ! আল্লাহ তোমাদের প্রতি যে নি‘আমত বর্ষণ করেছেন তা স্মরণ কর। আল্লাহ ছাড়া আর কোন খালেক আছে কি, যে আসমান ও যমীন থেকে তোমাদেরকে রিযক দান করে? তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। সুতরাং তোমরা বিপথগামী হয়ে কোন দিকে যাচ্ছ?

وَاِنۡ یُّکَذِّبُوۡکَ فَقَدۡ کُذِّبَتۡ رُسُلٌ مِّنۡ قَبۡلِکَ ؕ وَاِلَی اللّٰہِ تُرۡجَعُ الۡاُمُوۡرُ ٤

ওয়া ইয়ঁইউকাযযিবূকা ফাকাদ কুযযিবাত রুছুলুম মিন কাবলিকা ওয়া ইলাল্লা-হি তুর জা‘উল উমূর।

এবং (হে রাসূল!) তারা যদি তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে তোমার পূর্বেও রাসূলগণকে মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল। যাবতীয় বিষয় শেষ পর্যন্ত আল্লাহরই কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اِنَّ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقٌّ فَلَا تَغُرَّنَّکُمُ الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا ٝ وَلَا یَغُرَّنَّکُمۡ بِاللّٰہِ الۡغَرُوۡرُ ٥

ইয়াআইয়ুহান্না-ছুইন্না ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুন ফালা-তাগুররান্নাকুমুল হায়াতুদ্দনইয়া- ওয়ালা-ইয়াগুররান্নাকুম বিল্লা-হিল গারূর।

হে মানুষ! নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। সুতরাং এই পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে কিছুতেই ধোঁকায় না ফেলে এবং আল্লাহর সম্পর্কেও যেন মহা ধোঁকাবাজ (শয়তান) তোমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে।

اِنَّ الشَّیۡطٰنَ لَکُمۡ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوۡہُ عَدُوًّا ؕ  اِنَّمَا یَدۡعُوۡا حِزۡبَہٗ لِیَکُوۡنُوۡا مِنۡ اَصۡحٰبِ السَّعِیۡرِ ؕ ٦

ইন্নাশশাইতা-না লাকুম ‘আদুওউন ফাত্তাখিযূহু আ‘দুওওয়ান ইন্নামা-ইয়াদ‘ঊ হিঝবাহূ লিইয়াকূনূমিন আসহা-বিছছা‘ঈর।

নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু। সুতরাং তাকে শত্রুই গণ্য করো। সে তার অনুসারীদেরকে দাওয়াত দেয় কেবল এ জন্যই, যাতে তারা জাহান্নামবাসী হয়ে যায়।

اَلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَہُمۡ عَذَابٌ شَدِیۡدٌ ۬ؕ  وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَہُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّاَجۡرٌ کَبِیۡرٌ ٪ ٧

আল্লাযীনা কাফারূলাহুম ‘আযা-বুন শাদীদুওঁ ওয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসালিহা-তি লাহুম মাগফিরাতুওঁ ওয়া আজরুন কাবীর।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য আছে মাগফিরাত ও মহা পুরস্কার।

اَفَمَنۡ زُیِّنَ لَہٗ سُوۡٓءُ عَمَلِہٖ فَرَاٰہُ حَسَنًا ؕ فَاِنَّ اللّٰہَ یُضِلُّ مَنۡ یَّشَآءُ وَیَہۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ ۫ۖ فَلَا تَذۡہَبۡ نَفۡسُکَ عَلَیۡہِمۡ حَسَرٰتٍ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلِیۡمٌۢ بِمَا یَصۡنَعُوۡنَ ٨

আফামান ঝুইয়িনা লাহূছূউ ‘আমালিহী ফারাআ-হু হাছানান ফাইন্নাল্লা-হা ইউদিল্লুমাইঁ ইয়াশাউ ফালা-তাযহাব নাফছুকা ‘আলাইহিম হাছারাতিন ইন্নাল্লা-হা ‘আলীমুম বিমা-ইয়াসনা‘ঊন।

তবে কি যার দৃষ্টিতে তার মন্দ কাজগুলো সুদৃশ্য করে দেখানো হয়েছে, ফলে সে তার মন্দ কাজকে ভালো মনে করে, (সে কি সৎকর্মশীল ব্যক্তির সমান হতে পারে?)। বস্তুত আল্লাহ যাকে চান বিপথগামী করেন আর যাকে চান সঠিক পথে পরিচালিত করেন। সুতরাং (হে নবী!) এমন যেন না হয় যে, তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) জন্য আফসোস করতে করতে তোমার প্রাণটাই চলে যায়। নিশ্চয়ই তারা যা-কিছু করছে, সে সম্পর্কে আল্লাহ পূর্ণ জ্ঞাত।

তাফসীরঃ

২. এর মানে এ নয় যে, আল্লাহ তাআলা যাকে চান জোরপূর্বক বিপথগামী করেন। বরং এর অর্থ হল, যখন কেউ হঠকারিতা করে নিজেই বিপথগামিতাকে বেছে নেয়, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে বিপথগামিতায় লিপ্ত রেখে তার অন্তরে মোহর করে দেন। দেখুন সূরা বাকারা (২ : ৭)।

وَاللّٰہُ الَّذِیۡۤ اَرۡسَلَ الرِّیٰحَ فَتُثِیۡرُ سَحَابًا فَسُقۡنٰہُ اِلٰی بَلَدٍ مَّیِّتٍ فَاَحۡیَیۡنَا بِہِ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِہَا ؕ کَذٰلِکَ النُّشُوۡرُ ٩

ওয়াল্লা-হুল্লাযীআরছালার রিইয়া-হা ফাতুছীরু ছাহা-বান ফাছুকনা-হু ইলা-বালাদিম মাইয়িতিন ফাআহইয়াইনা-বিহিল আরদা বা‘দা মাওতিহা- কাযা-লিকান নুশূর।

আল্লাহই সেই সত্তা, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, তারপর তা মেঘ সঞ্চারিত করে, তারপর আমি তা চালিয়ে নিয়ে যাই এমন নগরের দিকে, যা (খরার কারণে) নির্জীব হয়ে গেছে। তারপর আমি তা (অর্থাৎ বৃষ্টি) দ্বারা ভূমিকে তার মৃত্যুর পর সঞ্জীবিত করি। এভাবেই পুনরুত্থান হবে।
১০

مَنۡ کَانَ یُرِیۡدُ الۡعِزَّۃَ فَلِلّٰہِ الۡعِزَّۃُ جَمِیۡعًا ؕ اِلَیۡہِ یَصۡعَدُ الۡکَلِمُ الطَّیِّبُ وَالۡعَمَلُ الصَّالِحُ یَرۡفَعُہٗ ؕ وَالَّذِیۡنَ یَمۡکُرُوۡنَ السَّیِّاٰتِ لَہُمۡ عَذَابٌ شَدِیۡدٌ ؕ وَمَکۡرُ اُولٰٓئِکَ ہُوَ یَبُوۡرُ ١۰

মান কা-না ইউরীদুল ‘ইঝঝাতা ফালিল্লা-হিল ‘ইঝঝাতুজামী‘আন ইলাইহি ইয়াস‘আদুল কালিমুততাইয়িবুওয়াল ‘আমালুসসা-লিহুইয়ারফা‘উহূ ওয়াল্লাযীনা ইয়ামকুরূনাছ ছাইয়িআ-তি লাহুম ‘আযা-বুন শাদীদুওঁ ওয়া মাকরূউলাইকা হুওয়া ইয়াবূর।

যে ব্যক্তি মর্যাদা লাভ করতে চায় (সে জেনে রাখুক) সমস্ত মর্যাদা আল্লাহরই হাতে। পবিত্র কালেমা তাঁরই দিকে আরোহণ করে এবং সৎকর্ম তাকে উপরে তোলে। যারা মন্দ কাজের ষড়যন্ত্র করে, তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি আর তাদের ষড়যন্ত্র সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে যাবে।

তাফসীরঃ

৩. ‘পবিত্র কালেমা’ বলতে মানুষ যা দ্বারা নিজ ঈমানের স্বীকারোক্তি দেয়, সেই কালেমাকে বোঝানো হয়েছে। তাছাড়া আল্লাহ তাআলার যিকির সম্পর্কিত অন্যান্য শব্দাবলীও এর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলার দিকে তার আরোহণ করার অর্থ তা তাঁর কাছে কবুল হয়ে যায়। আর সৎকর্ম যে তাকে উপরে তোলে তার মানে সৎকর্মের অছিলায় পবিত্র কালেমাসমূহ পরিপূর্ণরূপে কবুল হয়।
১১

وَاللّٰہُ خَلَقَکُمۡ مِّنۡ تُرَابٍ ثُمَّ مِنۡ نُّطۡفَۃٍ ثُمَّ جَعَلَکُمۡ اَزۡوَاجًا ؕ وَمَا تَحۡمِلُ مِنۡ اُنۡثٰی وَلَا تَضَعُ اِلَّا بِعِلۡمِہٖ ؕ وَمَا یُعَمَّرُ مِنۡ مُّعَمَّرٍ وَّلَا یُنۡقَصُ مِنۡ عُمُرِہٖۤ اِلَّا فِیۡ کِتٰبٍ ؕ اِنَّ ذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ یَسِیۡرٌ ١١

ওয়াল্লা-হু খালাকাকুম মিন তুরা-বিন ছু ম্মা জা‘আলাকুম আঝওয়া-জাওঁ ওয়ামাতাহমিলুমিন উনছা-ওয়ালা-তাদা‘উ ইল্লা-বি‘ইলমিহী ওয়ামা-ইউ‘আম্মারু মিম মু‘আম্মারিওঁ ওয়ালা-ইউনকাসুমিন ‘উমুরিহী ইল্লা ফী কিতা-বিন ইন্না যা-লিকা ‘আলাল্লা-হি ইয়াছীর।

আল্লাহ তোমাদেরকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন তারপর শুক্রবিন্দু দ্বারা। তারপর তোমাদেরকে জোড়া-জোড়া বানিয়ে দিয়েছেন। নারী যা গর্ভে ধারণ করে এবং যা সে প্রসব করে তা আল্লাহর জ্ঞাতসারেই করে। কোন দীর্ঘায়ু ব্যক্তিকে যে আয়ু দেওয়া হয় এবং তার আয়ুতে যা হ্রাস করা হয়, তা সবই এক কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। বস্তুত এসব কিছুই আল্লাহর পক্ষে অতি সহজ।

তাফসীরঃ

৪. এর ইশারা ‘লাওহে মাহফুজ’-এর প্রতি।
১২

وَمَا یَسۡتَوِی الۡبَحۡرٰنِ ٭ۖ ہٰذَا عَذۡبٌ فُرَاتٌ سَآئِغٌ شَرَابُہٗ وَہٰذَا مِلۡحٌ اُجَاجٌ ؕ وَمِنۡ کُلٍّ تَاۡکُلُوۡنَ لَحۡمًا طَرِیًّا وَّتَسۡتَخۡرِجُوۡنَ حِلۡیَۃً تَلۡبَسُوۡنَہَا ۚ وَتَرَی الۡفُلۡکَ فِیۡہِ مَوَاخِرَ لِتَبۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِہٖ وَلَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ ١٢

ওয়ামা-ইয়াছতাবিলবাহরা-নি হা-যা-‘আযবুন ফুরা-তুন ছাইগুন শারা-বুহূওয়া হা-যা-মিলহুন উজা-জুওঁ ওয়া মিন কুল্লিন তা’কুলূনা লাহমান তারিইইয়াওঁ ওয়া তাছতাখরিজূনা হিলয়াতান তালবাছূনাহা-ওয়া তারাল ফুলকা ফীহি মাওয়া-খিরাঁলিতাবতাগু মিন ফাদলিহী ওয়া লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন।

দু’টি দরিয়া সমান নয়। একটি মিঠা, তৃষ্ণা নিবারক, সুপেয় আর অন্যটি অতি লোনা। প্রত্যেকটি থেকেই তোমরা খাও (মাছের) তাজা গোশত ও আহরণ কর অলংকার, যা তোমরা পরিধান কর। আর তোমরা জলযানসমূহকে দেখ তা (দরিয়ার) পানি চিরে চলাচল করে, যাতে তোমরা অনুসন্ধান করতে পার আল্লাহর অনুগ্রহ এবং যাতে তোমরা শোকর আদায় কর।

তাফসীরঃ

৫. পূর্বে একাধিকবার বলা হয়েছে, কুরআন মাজীদের পরিভাষায় আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ সন্ধানের অর্থ ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবিকা আহরণ করা। এ পরিভাষার ভেতর ইঙ্গিত রয়েছে যে, মানুষ যা কামাই-রোজগার করে, তাকে তারা তাদের মেহনতের ফসল মনে করে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ। তিনি অনুগ্রহ না করলে তাদের যাবতীয় মেহনত বৃথা যেত, তাদের অর্জিত হত না কিছুই। সুতরাং যা-কিছু রোজগার হয়, তার জন্য আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করা উচিত।
১৩

یُوۡلِجُ الَّیۡلَ فِی النَّہَارِ وَیُوۡلِجُ النَّہَارَ فِی الَّیۡلِ ۙ  وَسَخَّرَ الشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ ۫ۖ  کُلٌّ یَّجۡرِیۡ لِاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ  ذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبُّکُمۡ لَہُ الۡمُلۡکُ ؕ  وَالَّذِیۡنَ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِہٖ مَا یَمۡلِکُوۡنَ مِنۡ قِطۡمِیۡرٍ ؕ ١٣

ইঊলিজুল্লাইলা ফিন্নাহা-রি ওয়া ইঊলিজুন্নাহা-রা ফিল্লাইলি ওয়া ছাখখারাশশামছা ওয়াল কামারা কুল্লুইঁ ইয়াজরী লিআজালিম মুছাম্মান যা-লিকুমুল্লা-হু রাব্বাকুম লাহুল মুলকু ওয়াল্লাযীনা তাদ‘ঊনা মিন দূ নিহী মা-ইয়ামলিকূনা মিন কিতমীর।

তিনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবিষ্ট করান এবং দিনকে প্রবিষ্ট করান রাতের মধ্যে। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে লাগিয়ে রেখেছেন। (এর) প্রত্যেকটি এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে। ইনিই আল্লাহ তোমাদের প্রতিপালক। সকল রাজত্ব তাঁরই। তাঁকে ছেড়ে যাদেরকে (অর্থাৎ যেসব অলীক প্রভুকে) তোমরা ডাক, তারা খেজুর বীচির আবরণের সমানও কিছুর অধিকার রাখে না।
১৪

اِنۡ تَدۡعُوۡہُمۡ لَا یَسۡمَعُوۡا دُعَآءَکُمۡ ۚ  وَلَوۡ سَمِعُوۡا مَا اسۡتَجَابُوۡا لَکُمۡ ؕ  وَیَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ یَکۡفُرُوۡنَ بِشِرۡکِکُمۡ ؕ  وَلَا یُنَبِّئُکَ مِثۡلُ خَبِیۡرٍ ٪ ١٤

ইন তাদ‘ঊহুম লা-ইয়াছমা‘ঊ দু‘আআকুম ওয়ালাও ছামি‘ঊ মাছতাজা-বূলাকুম ওয়া ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ইয়াকফুরূনা বিশিরকিকুম ওয়া লা-ইউনাব্বিউকা মিছলু খাবীর।

তোমরা তাদেরকে ডাকলে তারা তোমাদের ডাক শুনবেই না আর শুনলেও তোমাদেরকে কোন সাড়া দিতে পারবে না। কিয়ামতের দিন তারা নিজেরাই তোমাদের শিরককে অস্বীকার করবে। যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে অবগত সত্তার মত সঠিক সংবাদ তোমাকে আর কেউ দিতে পারবে না।
১৫

یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اَنۡتُمُ الۡفُقَرَآءُ اِلَی اللّٰہِ ۚ وَاللّٰہُ ہُوَ الۡغَنِیُّ الۡحَمِیۡدُ ١٥

ইয়াআইয়ুহান্না-ছুআনতুমুল ফুকারাউ ইলাল্লা-হি ওয়াল্লা-হু হুওয়াল গানিইয়ুল হামীদ।

হে মানুষ! তোমরা সকলেই আল্লাহর মুখাপেক্ষী, কিন্তু আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন এবং তিনি আপনিই প্রশংসার উপযুক্ত।

তাফসীরঃ

৬. অর্থাৎ কেউ তাঁর ইবাদত করুক বা না করুক, তাঁর প্রশংসায় লিপ্ত হোক বা না হোক তার কোন ঠেকা আল্লাহ তাআলার নেই। তিনি এসবের মুখাপেক্ষী নন। তিনিই বেনিয়ায এবং তিনি সত্তাগতভাবেই প্রশংসার উপযুক্ত।
১৬

اِنۡ یَّشَاۡ یُذۡہِبۡکُمۡ وَیَاۡتِ بِخَلۡقٍ جَدِیۡدٍ ۚ ١٦

ইয়ঁইয়াশা’ ইউযহিবকুম ওয়া ইয়া’তি বিখালকিন জাদীদ।

তিনি চাইলে তোমাদের সকলকে ধ্বংস করে দিতে পারেন এবং অস্তিত্বে আনয়ন করতে পারেন এক নতুন সৃষ্টিকে।
১৭

وَمَا ذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ بِعَزِیۡزٍ ١٧

ওয়ামা-যা-লিকা ‘আলাল্লা-হি বি‘আঝীঝ।

আর এ কাজ আল্লাহর জন্য কিছুমাত্র কঠিন নয়।
১৮

وَلَا تَزِرُ وَازِرَۃٌ وِّزۡرَ اُخۡرٰی ؕ وَاِنۡ تَدۡعُ مُثۡقَلَۃٌ اِلٰی حِمۡلِہَا لَا یُحۡمَلۡ مِنۡہُ شَیۡءٌ وَّلَوۡ کَانَ ذَا قُرۡبٰی ؕ اِنَّمَا تُنۡذِرُ الَّذِیۡنَ یَخۡشَوۡنَ رَبَّہُمۡ بِالۡغَیۡبِ وَاَقَامُوا الصَّلٰوۃَ ؕ وَمَنۡ تَزَکّٰی فَاِنَّمَا یَتَزَکّٰی لِنَفۡسِہٖ ؕ وَاِلَی اللّٰہِ الۡمَصِیۡرُ ١٨

ওয়ালা-তাঝিরু ওয়া-ঝিরাতুওঁবিঝরা উখরা- ওয়া ইন তাদ‘উ মুছকালাতুন ইলাহিম লিহা-লা-ইউহমাল মিনহু শাইয়ুওঁ ওয়ালাও কা-না যা-কুরবা- ইন্নামাতুনযিরুল্লাযীনা ইয়াখশাওনা রাব্বাহুম বিলগাইবি ওয়া আকামুসসালা-তা ওয়া মান তাঝাক্কা-ফাইন্নামা-ইয়াতাঝাক্কা-লিনাফছিহী ওয়া ইলাল্লা-হিল মাসীর।

কোন ভার বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না এবং যার উপর ভারী বোঝা চাপানো থাকবে সে অন্য কাউকে তা বহন করার জন্য ডাকলে, তা থেকে কিছুই বহন করা হবে না যদিও সে (অর্থাৎ যাকে বোঝা বহনের জন্য ডাকা হবে সে) কোন নিকটাত্নীয় হয়। (হে নবী!) তুমি তো কেবল তাদেরকেই সতর্ক করতে পার, যারা তাদের প্রতিপালককে না দেখে ভয় করে এবং যারা নামায কায়েম করে। কেউ পবিত্র হলে সে তো নিজেরই কল্যাণার্থে পবিত্র হয়। শেষ পর্যন্তআল্লাহরই কাছে (সকলের) প্রত্যাবর্তন।
১৯

وَمَا یَسۡتَوِی الۡاَعۡمٰی وَالۡبَصِیۡرُ ۙ ١٩

ওয়ামা-ইয়াছতাবিল আ‘মা-ওয়াল বাসীর।

অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান হতে পারে না
২০

وَلَا الظُّلُمٰتُ وَلَا النُّوۡرُ ۙ ٢۰

ওয়ালাজ্জুলুমা-তুওয়ালান্নূর।

এবং অন্ধকার ও আলোও না।
২১

وَلَا الظِّلُّ وَلَا الۡحَرُوۡرُ ۚ ٢١

ওয়ালাজ্জিল্লুওয়ালাল হারূর।

আর না ছায়া ও রোদ।
২২

وَمَا یَسۡتَوِی الۡاَحۡیَآءُ وَلَا الۡاَمۡوَاتُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یُسۡمِعُ مَنۡ یَّشَآءُ ۚ وَمَاۤ اَنۡتَ بِمُسۡمِعٍ مَّنۡ فِی الۡقُبُوۡرِ ٢٢

ওয়ামা-ইয়াছতাবিল আহইয়াউ ওয়ালাল আমওয়া-তু ইন্নাল্লা-হা ইউছমি‘উ মাইঁ ইয়াশাউ ওয়ামাআনতা বিমুছমি‘ইম মান ফিল কুবূর।

এবং সমান হতে পারে না জীবিত ও মৃত। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা কথা শুনিয়ে দেন। যারা কবরে আছে, তুমি তাদেরকে কথা শোনাতে পারবে না।

তাফসীরঃ

৭. যারা জিদ ও হঠকারিতার দ্বারা নিজেদের জন্য সত্য গ্রহণের সকল দুয়ার বন্ধ করে রেখেছে, তাদেরকে প্রথমত অন্ধের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং তাদের কুফরীকে অন্ধকারের সাথে। এর শাস্তি স্বরূপ তাদেরকে জাহান্নামের যে শাস্তি ভোগ করতে হবে তাকে তুলনা করা হয়েছে রোদের সাথে। এর বিপরীতে সত্যের অনুসারীদেরকে চক্ষুষ্মানের সাথে, তাদের দীনকে আলোর সাথে এবং জান্নাতে তারা যে নি‘আমত লাভ করবে তাকে ছায়ার দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে। তারপর বলা হয়েছে, যারা সত্য গ্রহণের যোগ্যতা খতম করে ফেলেছে তারা তো মৃততুল্য। মৃতদেরকে আপনি নিজ এখতিয়ারে কিছু শোনাতে পারবেন না। এভাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্তনা দেওয়া হয়েছে যে, তারা সত্য কবুল না করলে আপনি সেজন্য আক্ষেপ করবেন না। তাছাড়া তাদের দ্বারা কবুল করানোর কোন দায়িত্বও আপনার উপর অর্পিত হয়নি।
২৩

اِنۡ اَنۡتَ اِلَّا نَذِیۡرٌ ٢٣

ইন আনতা ইল্লা-নাযীর।

তুমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র।
২৪

اِنَّاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ بِالۡحَقِّ بَشِیۡرًا وَّنَذِیۡرًا ؕ وَاِنۡ مِّنۡ اُمَّۃٍ اِلَّا خَلَا فِیۡہَا نَذِیۡرٌ ٢٤

ইন্নাআরছালনা-কা বিলহাক্কিবাশীরাওঁ ওয়া নাযীরাওঁ ওয়া ইম মিন উম্মাতিন ইল্লাখালা-ফীহা-নাযীর।

আমি তোমাকে সত্যবাণীসহ প্রেরণ করেছি একজন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। এমন কোন জাতি নেই, যাদের কাছে কোন সতর্ককারী আসেনি।
২৫

وَاِنۡ یُّکَذِّبُوۡکَ فَقَدۡ کَذَّبَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ۚ جَآءَتۡہُمۡ رُسُلُہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ وَبِالزُّبُرِ وَبِالۡکِتٰبِ الۡمُنِیۡرِ ٢٥

ওয়া ইয়ঁইউকাযযিবূকা ফাকাদ কাযযাবাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম জাআতহুম রুছুলহুম বিলবাইয়িনা-তি ওয়া বিঝঝুবুরি ওয়া বিলকিতা-বিল মুনীর।

তারা যদি তোমার প্রতি মিথ্যাবাদী বলে, তবে তাদের আগে যারা ছিল, তারাও (অর্থাৎ সেই কাফেরগণও রাসূলগণকে মিথ্যাবাদী বলেছিল। তাদের রাসূলগণ তাদের কাছে এসেছিল সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী, সহীফা ও দীপ্তিমান কিতাবসহ।
২৬

ثُمَّ اَخَذۡتُ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فَکَیۡفَ کَانَ نَکِیۡرِ ٪ ٢٦

ছু ম্মা আখাযতুল্লায ীনা কাফারূফাকাইফা কা-না নাকীর।

অতঃপর যারা অস্বীকৃতির পন্থা অবলম্বন করেছিল আমি তাদেরকে পাকড়াও করি। সুতরাং দেখ আমার শাস্তি কেমন (ভয়ানক) ছিল।
২৭

اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً ۚ فَاَخۡرَجۡنَا بِہٖ ثَمَرٰتٍ مُّخۡتَلِفًا اَلۡوَانُہَا ؕ وَمِنَ الۡجِبَالِ جُدَدٌۢ بِیۡضٌ وَّحُمۡرٌ مُّخۡتَلِفٌ اَلۡوَانُہَا وَغَرَابِیۡبُ سُوۡدٌ ٢٧

আলাম তারা-আন্নাল্লাহা আনঝালা মিনাছছামাই মা-আন ফাআখরাজনা-বিহী ছামারাতিম মুখতালিফান আলওয়া-নুহা- ওয়া মিনাল জিবা-লি জুদাদুম বীদুওঁ ওয়া হুম রুম মুখতালিফুন আলওয়া-নুহা-ওয়া গারা-বীবুছূদ।

তুমি কি দেখনি আল্লাহ আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেছেন, তারপর আমি তা দ্বারা বিচিত্র বর্ণের ফল-ফলাদি উৎপন্ন করেছি? আর পাহাড়ের মধ্যেও আছে বিচিত্র বর্ণের অংশ সাদা, লাল ও নিকষ কালো।
২৮

وَمِنَ النَّاسِ وَالدَّوَآبِّ وَالۡاَنۡعَامِ مُخۡتَلِفٌ اَلۡوَانُہٗ کَذٰلِکَ ؕ اِنَّمَا یَخۡشَی اللّٰہَ مِنۡ عِبَادِہِ الۡعُلَمٰٓؤُا ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَزِیۡزٌ غَفُوۡرٌ ٢٨

ওয়া মিনান্না-ছি ওয়াদ্দাওয়াব্বি ওয়াল আন ‘আ-মি মুখতালিফুন আলওয়া-নুহূকাযা-লিকা ইন্নামা-ইয়াখশাল্লা-হা মিন ‘ইবা-দিহিল ‘উলামাউ ইন্নাল্লা-হা ‘আঝীঝুন গাফূর।

এবং মানুষ, পশু ও চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যেও আছে অনুরূপ বর্ণ-বৈচিত্র্য। আল্লাহকে তো কেবল তারাই ভয় করে, যারা জ্ঞানের অধিকারী। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, অতি ক্ষমাশীল।

তাফসীরঃ

৮. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার মাহাত্ম্য ও গৌরব সম্পর্কে যাদের জ্ঞান ও উপলব্ধি আছে কেবল তারাই বিশ্ব-জগতের এসব আশ্চর্যজনক সৃষ্টি দেখে এর দ্বারা তাঁর অপার শক্তি ও তাঁর তাওহীদের সপক্ষে প্রমাণ পেশ করে এবং এর ফলশ্রুতিতে তাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত হয় এবং তারা তাঁর প্রতি বিনয়-বিগলিত হয়। আর যাদের সেই জ্ঞান ও উপলব্ধি নেই তারা সৃষ্টিজগতের এসব বিস্ময়কর বস্তুরাজির গভীরে পৌঁছা সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব ও তাঁর তাওহীদ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না।
২৯

اِنَّ الَّذِیۡنَ یَتۡلُوۡنَ کِتٰبَ اللّٰہِ وَاَقَامُوا الصَّلٰوۃَ وَاَنۡفَقُوۡا مِمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ سِرًّا وَّعَلَانِیَۃً یَّرۡجُوۡنَ تِجَارَۃً لَّنۡ تَبُوۡرَ ۙ ٢٩

ইন্নাল্লাযীনা ইয়াতলূনা কিতা-বাল্লা-হি ওয়াআকা-মুসসালা-তা ওয়াআনফাকূ মিম্মারাঝাকনা-হুম ছিররাওঁ ওয়া‘আলা-নিয়াতাইঁ ইয়ারজূনা তিজা-রাতাল্লান তাবূর।

যারা আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত করে, নামায কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে (সৎকাজে) ব্যয় করে গোপনে ও প্রকাশ্যে, তারা এমন ব্যবসায়ের আশাবাদী, যাতে কখনও লোকসান হয় না,
৩০

لِیُوَفِّیَہُمۡ اُجُوۡرَہُمۡ وَیَزِیۡدَہُمۡ مِّنۡ فَضۡلِہٖ ؕ اِنَّہٗ غَفُوۡرٌ شَکُوۡرٌ ٣۰

লিইউওয়াফিফইয়াহুম উজূরাহুম ওয়া ইয়াঝীদাহুম মিন ফাদলিহী ইন্নাহূগাফূরুন শাকূর।

যাতে আল্লাহ তাদেরকে তাদের পূর্ণ প্রতিফল দেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বেশি দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল, অত্যন্ত গুণগ্রাহী।
৩১

وَالَّذِیۡۤ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡکَ مِنَ الۡکِتٰبِ ہُوَ الۡحَقُّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَیۡنَ یَدَیۡہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ بِعِبَادِہٖ لَخَبِیۡرٌۢ بَصِیۡرٌ ٣١

ওয়াল্লাযী আওহাইনাইলাইকা মিনাল কিতা-বি হুওয়াল হাক্কুমুসাদ্দিকাল লিমা-বাইনা ইয়াদাইহি ইন্নাল্লা-হা বি‘ইবা-দিহী লাখাবীরুম বাসীর।

(হে নবী!) আমি ওহীর মাধ্যমে তোমার প্রতি যে কিতাব নাযিল করেছি তা সত্য, যা তার পূর্ববর্তী সমস্ত কিতাবের সমর্থকরূপে এসেছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ নিজ বান্দাদের সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবগত, সবকিছুর দ্রষ্টা।
৩২

ثُمَّ اَوۡرَثۡنَا الۡکِتٰبَ الَّذِیۡنَ اصۡطَفَیۡنَا مِنۡ عِبَادِنَا ۚ  فَمِنۡہُمۡ ظَالِمٌ لِّنَفۡسِہٖ ۚ  وَمِنۡہُمۡ مُّقۡتَصِدٌ ۚ  وَمِنۡہُمۡ سَابِقٌۢ بِالۡخَیۡرٰتِ بِاِذۡنِ اللّٰہِ ؕ  ذٰلِکَ ہُوَ الۡفَضۡلُ الۡکَبِیۡرُ ؕ ٣٢

ছু ম্মা আওরাছনাল কিতা-বাল্লাযীনাসতাফাইনা মিন ‘ইবা-দিনা- ফামিনহুম জালিমুললিনাফছিহী ওয়া মিনহুম মুকতাছিদুওঁ ওয়া মিনহুম ছা-বিকুম বিলখাইরা-তি বিইযনিল্লা-হি যা-লিকা হুওয়াল ফাদলুল কাবীর।

অতঃপর আমি এ কিতাবের ওয়ারিশ বানিয়েছি আমার বান্দাদের মধ্যে তাদেরকে, যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি। তাদের মধ্যে কতক তো নিজের প্রতি অত্যাচারী, কতক মধ্যপন্থী এবং কতক এমন যারা আল্লাহর ইচ্ছায় সৎকর্মে অগ্রগামী। এটা (আল্লাহর) বিরাট অনুগ্রহ।

তাফসীরঃ

৯. এর দ্বারা মুসলিমদেরকে বোঝানো হয়েছে। বলা হচ্ছে যে, এ কুরআন সরাসরি তো নাযিল হয়েছে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি। অতঃপর আল্লাহ তাআলা এর ওয়ারিশ বানিয়েছেন মুসলিমগণকে, যাদেরকে তিনি এ কিতাবের প্রতি ঈমান আনার জন্য মনোনীত করেছেন। কিন্তু ঈমান আনার পর এরা তিনভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একটি দল তো এমন, যারা ঈমান আনার পর তার দাবি অনুযায়ী পুরোপুরি কাজ করেনি। তারা তাদের কোন-কোন দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছে এবং বিভিন্ন গুনাহে লিপ্ত হয়েছে। তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা নিজেদের প্রতি জুলুম ও অত্যাচার করেছে। কেননা ঈমানের তো দাবি ছিল তারা প্রথম যাত্রাতেই জান্নাতে প্রবেশ করবে, কিন্তু তারা গুনাহ করে নিজেদেরকে শাস্তির উপযুক্ত বানিয়ে ফেলেছে। ফলে আইন অনুযায়ী তাদেরকে প্রথমে নিজেদের গুনাহের শাস্তি ভোগ করতে হবে। তারপর তারা জান্নাতে যাবে। দ্বিতীয় দল, যাদেরকে মধ্যপন্থী বলা হয়েছে, তারা হল সেই সকল মুসলিম, যারা ফরয ও ওয়াজিবসমূহ নিয়মিত আদায় করে এবং গুনাহ হতেও বেঁচে থাকে, কিন্তু নফল ইবাদত ও মুস্তাহাব আমল তেমন একটা করে না। আর তৃতীয় দল হল সেইসব লোকেরা যারা কেবল ফরয ও ওয়াজিব পালন করেই ক্ষান্ত থাকে না, বরং তারা নফল ইবাদত ও মুস্তাহাব আমলেও অত্যন্ত যত্নবান থাকে। এ তিনও প্রকারের লোক মুসলিমদেরই। তারা সকলেই জান্নাতে যাবে ইনশাআল্লাহ। যারা গুনাহগার নয় তারা তো প্রথমেই, আর যারা গুনাহগার তারা মাগফিরাত লাভের পর।
৩৩

جَنّٰتُ عَدۡنٍ یَّدۡخُلُوۡنَہَا یُحَلَّوۡنَ فِیۡہَا مِنۡ اَسَاوِرَ مِنۡ ذَہَبٍ وَّلُؤۡلُؤًا ۚ وَلِبَاسُہُمۡ فِیۡہَا حَرِیۡرٌ ٣٣

জান্না-তু‘আদনিইঁ ইয়াদখুলূনাহা-ইউহাল্লাওনা ফীহা-মিন আছা-বিরা মিন যাহাবিওঁ ওয়ালু’লুওয়া- ওয়া লিবা-ছুহুম ফীহা-হারীর।

স্থায়ী বসবাসের জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে। সেখানে তাদেরকে সোনার বালা ও মোতির দ্বারা অলংকৃত করা হবে আর সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশম।
৩৪

وَقَالُوا الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡۤ اَذۡہَبَ عَنَّا الۡحَزَنَ ؕ  اِنَّ رَبَّنَا لَغَفُوۡرٌ شَکُوۡرُۨ ۙ ٣٤

ওয়া কা-লুল হামদুলিল্লা-হিল্লাযী আযহাবা ‘আন্নাল হাঝানা ইন্না রাব্বানালাগাফূরুন শাকূর।

তারা বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের থেকে সমস্ত দুঃখ দূর করেছেন। নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালক অতি ক্ষমাশীল, অত্যন্ত গুণগ্রাহী।
৩৫

الَّذِیۡۤ اَحَلَّنَا دَارَ الۡمُقَامَۃِ مِنۡ فَضۡلِہٖ ۚ لَا یَمَسُّنَا فِیۡہَا نَصَبٌ وَّلَا یَمَسُّنَا فِیۡہَا لُغُوۡبٌ ٣٥

আল্লাযীআহাল্লানা-দা-রাল মুকা-মাতি মিন ফাদলিহী লা-ইয়ামাছছুনা-ফীহানাসাবুওঁ ওয়ালা-ইয়ামাছছুনা ফীহা-লুগূব।

যিনি স্বীয় অনুগ্রহে আমাদেরকে স্থায়ী অবস্থানের নিবাসে এনে দাখিল করেছেন, যেখানে আমাদেরকে কখনও কোনও কষ্ট স্পর্শ করবে না এবং কোন ক্লান্তিও আমাদের দেখা দেবে না।
৩৬

وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَہُمۡ نَارُ جَہَنَّمَ ۚ  لَا یُقۡضٰی عَلَیۡہِمۡ فَیَمُوۡتُوۡا وَلَا یُخَفَّفُ عَنۡہُمۡ مِّنۡ عَذَابِہَا ؕ  کَذٰلِکَ نَجۡزِیۡ کُلَّ کَفُوۡرٍ ۚ ٣٦

ওয়াল্লাযীনা কাফারূলাহুম না-রু জাহান্নামা লা-ইউকদা-‘আলাইহিম ফাইয়ামূতূ ওয়ালা-ইউখাফফাফু‘আনহুম মিন ‘আযা-বিহা- কাযা-লিকা নাজঝী কুল্লা কাফূর।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। সেখানে তাদের কর্ম সাবাড় করা হবে না যে, তাদের মৃত্যু ঘটবে এবং তাদের থেকে জাহান্নামের শাস্তিও লাঘব করা হবে না। প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ (কাফের)কে আমি এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি।
৩৭

وَہُمۡ یَصۡطَرِخُوۡنَ فِیۡہَا ۚ  رَبَّنَاۤ اَخۡرِجۡنَا نَعۡمَلۡ صَالِحًا غَیۡرَ الَّذِیۡ کُنَّا نَعۡمَلُ ؕ  اَوَلَمۡ نُعَمِّرۡکُمۡ مَّا یَتَذَکَّرُ فِیۡہِ مَنۡ تَذَکَّرَ وَجَآءَکُمُ النَّذِیۡرُ ؕ  فَذُوۡقُوۡا فَمَا لِلظّٰلِمِیۡنَ مِنۡ نَّصِیۡرٍ ٪ ٣٧

ওয়া হুম ইয়াসতারিখূনা ফীহা- রাব্বানাআখরিজনা-না‘মাল সা-লিহান গাইরাল্লাযী কুন্না-না‘মালু আওয়ালাম নু‘আম্মির কুম মা-ইয়াতাযাক্কারু ফীহি মান তাযাক্কারা ওয়াজাআ কুমুন নাযীরু ফাযূকূফামা-লিজ্জা-লিমীনা মিন নাসীর।

তারা তাতে আর্তনাদ করে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে মুক্তি দান করুন, আমরা আগে যে কাজ করতাম তা ছেড়ে ভালো কাজ করব। (উত্তরে তাদেরকে বলা হবে) আমি কি তোমাদেরকে এমন দীর্ঘ আয়ু দেইনি যে, তখন কেউ সতর্ক হতে চাইলে সতর্ক হতে পারত? এবং তোমাদের কাছে সতর্ককারীও এসেছিল। ১০ সুতরাং এখন মজা ভোগ কর। কেননা এমন জালেমদের কোন সাহায্যকারী নেই।

তাফসীরঃ

১০. মানুষকে গড়ে যে আয়ু দেওয়া হয় তা কম দীর্ঘ নয়। এ আয়ুতে মানুষ তার জীবনের বিভিন্ন ধাপ পার হয়। এসব ধাপের বাঁকে-বাঁকে তার জন্য শিক্ষা গ্রহণের বহু উপাদান আছে। সে সত্যে উপনীত হতে চাইলে এ আয়ু তার জন্যে যথেষ্ট। তদুপরি এ আয়ুর ভেতর তার কাছে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একের পর এক সতর্ককারীও আসতে থাকে। সাধারণভাবে সতর্ককারী বলে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামকে এবং এ উম্মতের জন্য মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বোঝানো হয়েছে। তারা মানুষকে আখেরাত সম্পর্কে সতর্ক করার কাজে কোন ত্রুটি করেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর তাঁর সাহাবীগণ এবং প্রতি যুগে উলামায়ে কেরামও এ দায়িত্ব পালন করছেন। কোন কোন মুফাসসির ‘সতর্ককারী’-এর ব্যাখ্যা করেন যে, মানুষ তাঁর জীবনের ধাপে-ধাপে মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মত যে সকল অবস্থার সম্মুখীন হয় সেটাই তার সতর্ককারী। সুতরাং বার্ধক্যের সূচনায় যখন চুল পাকতে শুরু করে, তখন সেটাও তার জন্য সতর্ককারী হয়ে আসে। কারও যখন নাতি-নাতনি জন্ম নেয়, তখন তা তাকে সতর্ক করে দেয় যে, তোমার মৃত্যুক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে মানুষ যে রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়, সেসবও মানুষকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় ও সাবধান করে যে, এখনই আখেরাতের সাফল্য লাভের ব্যবস্থা করে নাও, সময় কিন্তু ফুরিয়ে গেল!
৩৮

اِنَّ اللّٰہَ عٰلِمُ غَیۡبِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ اِنَّہٗ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ ٣٨

ইন্নাল্লা-হা ‘আ-লিমুগাইবিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ইন্নাহূ‘আলীমুম বিযা-তিস সুদূ র।

নিশ্চয়ই আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর গুপ্ত বিষয়ে জ্ঞাত। নিশ্চয়ই অন্তরে লুকায়িত বিষয়াবলী সম্পর্কে তিনি পূর্ণ ওয়াকিফহাল।
৩৯

ہُوَ الَّذِیۡ جَعَلَکُمۡ خَلٰٓئِفَ فِی الۡاَرۡضِ ؕ فَمَنۡ کَفَرَ فَعَلَیۡہِ کُفۡرُہٗ ؕ وَلَا یَزِیۡدُ الۡکٰفِرِیۡنَ کُفۡرُہُمۡ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ اِلَّا مَقۡتًا ۚ وَلَا یَزِیۡدُ الۡکٰفِرِیۡنَ کُفۡرُہُمۡ اِلَّا خَسَارًا ٣٩

হুওয়াল্লাযী জা‘আলাকুম খালাইফা ফিল আরদি ফামান কাফারা ফা‘আলাইহি কুফরুহূ ওয়ালা-ইয়াঝীদুল কা-ফিরীনা কুফরুহুম ‘ইনদা রাব্বিহিম ইল্লা-মাকতাওঁ ওয়ালাইয়াঝীদুল কা-ফিরীনা কুফরুহুম ইল্লা-খাছা-রা-।

তিনিই পৃথিবীতে তোমাদেরকে (পূর্ববর্তীদের) স্থলাভিষিক্ত করেছেন। যে ব্যক্তি কুফর করবে তার কুফর তারই উপর পতিত হবে। কাফেরদের জন্য তাদের কুফরী তাদের প্রতিপালকের ক্রোধ ছাড়া কিছু বৃদ্ধি করে না এবং কাফেরদের জন্য তাদের কুফরী ক্ষতি ছাড়া কিছু বৃদ্ধি করে না।
৪০

قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ شُرَکَآءَکُمُ الَّذِیۡنَ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ؕ اَرُوۡنِیۡ مَاذَا خَلَقُوۡا مِنَ الۡاَرۡضِ اَمۡ لَہُمۡ شِرۡکٌ فِی السَّمٰوٰتِ ۚ اَمۡ اٰتَیۡنٰہُمۡ کِتٰبًا فَہُمۡ عَلٰی بَیِّنَتٍ مِّنۡہُ ۚ بَلۡ اِنۡ یَّعِدُ الظّٰلِمُوۡنَ بَعۡضُہُمۡ بَعۡضًا اِلَّا غُرُوۡرًا ٤۰

কুল আরাআইতুম শুরাকাআকুমুল্লাযীনা তাদ‘ঊনা মিন দূ নিল্লা-হি আরূনী মা-যাখালাকূমিনাল আরদিআম লাহুম শিরকুন ফিছ ছামা-ওয়া-তি আম আ-তাইনা-হুম কিতা-বান ফাহুম ‘আলা-বাইয়িনাতিম মিনহু বাল ইয়ঁইয়া‘ইদুজ্জা-লিমূনা বা‘দুহুম বা‘দান ইল্লা-গুরূরা

(হে নবী!) তাদেরকে বল, আচ্ছা তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে যেই মনগড়া শরীকদের পূজা করছ তাদের বিষয়টা ভেবে দেখেছ কি? আমাকে একটু দেখাও তো তারা পৃথিবীর কোন অংশটা তৈরি করেছে? কিংবা আকাশমণ্ডলীতে (অর্থাৎ তার সৃজনে) তাদের কী অংশীদারিত্ব আছে? নাকি আমি তাদেরকে কোন কিতাব দিয়েছি, যার সুস্পষ্ট কোন নির্দেশনার উপর তারা প্রতিষ্ঠিত আছে? ১১ না, বরং এসব জালেম একে অন্যকে কেবল মিথ্যা প্রতিশ্রুতিই দিয়ে থাকে।

তাফসীরঃ

১১. যে-কোন দাবি প্রতিষ্ঠিত করতে হলে তার জন্য পন্থা দু’টিই হতে পারে (এক) বুদ্ধি-বিবেকের সাহায্যে তার পক্ষে কোন যুক্তি পেশ করা, (দুই) যার হুকুম মানা অবশ্য কর্তব্য, এমন কোন সত্তার তরফ থেকে সে দাবির সপক্ষে আদেশ লাভ। আল্লাহর সঙ্গে যারা মনগড়া মাবুদ দাঁড় করিয়েছে, তাদের কাছে এ দু’টোর কোনওটিই নেই। না কোনও যুক্তি আছে, যেহেতু কোনওভাবেই তারা প্রমাণ করতে পারবে না তাদের মনগড়া প্রভুগণ আসমান-যমীনের কোন অংশ তৈরি করেছে বা তার সৃজনে কোনওভাবে শরীক থেকেছে। আর না আছে তাদের কাছে কোন আসমানী কিতাব, যা দ্বারা আল্লাহ তাদেরকে আদেশ করেছেন তারা যেন অমুক অমুক দেবতাকে আল্লাহর শরীক মেনে তাদের পূজায় লিপ্ত থাকে।
৪১

اِنَّ اللّٰہَ یُمۡسِکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ اَنۡ تَزُوۡلَا ۬ۚ وَلَئِنۡ زَالَتَاۤ اِنۡ اَمۡسَکَہُمَا مِنۡ اَحَدٍ مِّنۡۢ بَعۡدِہٖ ؕ اِنَّہٗ کَانَ حَلِیۡمًا غَفُوۡرًا ٤١

ইন্নাল্লা-হা ইউমছিকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা আন তাঝূলা- ওয়ালাইন ঝালাতাইন আমছাকাহুমা-মিন আহাদিম মিম বা‘দিহী ইন্নাহূকা-না হালীমান গাফূরা-।

বস্তুত আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে ধরে রেখেছেন, যাতে তারা স্থানচ্যুত হতে না পারে। যদি তারা স্থানচ্যুত হয়, তবে আল্লাহ ছাড়া এমন কেউ নেই, যে তাদের ধরে রাখতে পারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি সহনশীল, পরম ক্ষমাশীল।
৪২

وَاَقۡسَمُوۡا بِاللّٰہِ جَہۡدَ اَیۡمَانِہِمۡ لَئِنۡ جَآءَہُمۡ نَذِیۡرٌ لَّیَکُوۡنُنَّ اَہۡدٰی مِنۡ اِحۡدَی الۡاُمَمِ ۚ  فَلَمَّا جَآءَہُمۡ نَذِیۡرٌ مَّا زَادَہُمۡ اِلَّا نُفُوۡرَۨا ۙ ٤٢

ওয়া আকছামূবিল্লা-হি জাহদা আইমা-নিহিম লাইন জাআহুম নাযীরুল্লাইয়াকূনুন্না আহদামিন ইহদাল উমামি ফালাম্মা-জাআহুম নাযীরুম মা-ঝা-দাহুম ইল্লা-নুফূরা-।

(পূর্বে) তারা অত্যন্ত জোরালো শপথ করেছিল যে, যদি তাদের কাছে কোন সতর্ককারী (নবী) আসে তবে তারা অন্যান্য উম্মত অপেক্ষা অধিকতর হেদায়াত গ্রহীতা হবে, ১২ কিন্তু যখন তাদের কাছে এক সতর্ককারী আসল, তখন তার আগমন তাদের সত্য-বিমুখতাই বৃদ্ধি করল

তাফসীরঃ

১২. সম্ভবত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের আগে কুরাইশ কাফেরগণ ইয়াহুদী ও নাসারাদের সাথে বিতর্ক প্রসঙ্গে জোরদার কসম খেয়েছিল যে, আমাদের কাছে কোন নবী আসলে আমরা অন্য সব জাতি অপেক্ষা হেদায়াত বেশি কবুল করব ও তাঁর অনুসরণে সবার অগ্রগামী থাকব, কিন্তু যখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাব ঘটল তখন তারা তাঁর কথায় একদম ভ্রুক্ষেপ করল না; উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে নানা রকমের চক্রান্ত আঁটতে থাকল।
৪৩

اسۡتِکۡـبَارًا فِی الۡاَرۡضِ وَمَکۡرَ السَّیِّیَٴ ؕ وَلَا یَحِیۡقُ الۡمَکۡرُ السَّیِّیٴُ اِلَّا بِاَہۡلِہٖ ؕ فَہَلۡ یَنۡظُرُوۡنَ اِلَّا سُنَّتَ الۡاَوَّلِیۡنَ ۚ فَلَنۡ تَجِدَ لِسُنَّتِ اللّٰہِ تَبۡدِیۡلًا ۬ۚ وَلَنۡ تَجِدَ لِسُنَّتِ اللّٰہِ تَحۡوِیۡلًا ٤٣

ইছতিকবা-রান ফিল আরদিওয়ামাকরাছ ছাইয়িয়ি ওয়ালা-ইয়াহীকুল মাকরুছ ছাইয়িইউ ইল্লা-বিআহলিহী ফাহাল ইয়ানজু রূনা ইল্লা-ছুন্নাতাল আওওয়ালীনা ফালান তাজিদা লিছুন্নাতিল্লা-হি তাবদীলাওঁ ওয়ালান তাজিদা লিছুন্নাতিল্লা-হি তাহবীলা-।

পৃথিবীতে তাদের আত্মগর্ব এবং (সত্যের বিরোধিতায় তাদের) কূট চক্রান্তের কারণে, অথচ কূট-চক্রান্ত খোদ তার উদ্যোক্তাদেরকেই পরিবেষ্টন করে নেয়। ১৩ তবে কি তারা পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে যা কার্যকর হয়েছিল সেই নিয়মেরই অপেক্ষা করছে? ১৪ কিন্তু তোমরা আল্লাহর স্থিরীকৃত নিয়মে কোন পরিবর্তন পাবে না এবং তোমরা আল্লাহর স্থিরীকৃত নিয়মকে কখনও টলতেও দেখবে না। ১৫

তাফসীরঃ

১৩. দূরভিসন্ধিমূলকভাবে কারও বিরুদ্ধে অন্যায় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দুনিয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা বুমেরাং হয়ে থাকে। পরের জন্য কুয়া খুদলে সাধারণত নিজেকেই তাতে পড়তে হয়। সুতরাং কাফেরগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে যত ষড়যন্ত্র করেছিল শেষ পর্যন্ত তার কুফল তাদের নিজেদেরকেই ভোগ করতে হয়েছে আর দুনিয়ায় কদাপি তার ক্ষতি থেকে বেঁচে গেলেও আখেরাতের শাস্তি তো অবধারিত আর সে শাস্তি দুনিয়ার শাস্তির চেয়ে অনেক বেশি কঠিন।
৪৪

اَوَلَمۡ یَسِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَیَنۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ وَکَانُوۡۤا اَشَدَّ مِنۡہُمۡ قُوَّۃً ؕ وَمَا کَانَ اللّٰہُ لِیُعۡجِزَہٗ مِنۡ شَیۡءٍ فِی السَّمٰوٰتِ وَلَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ اِنَّہٗ کَانَ عَلِیۡمًا قَدِیۡرًا ٤٤

আওয়ালাম ইয়াছীরূফিল আরদিফাইয়ানজুরূকাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ওয়া কা-নূআশাদ্দা মিনহুম কুওওয়াতাওঁ ওয়ামা-কা-নাল্লা-হু লিইউ‘জিঝাহূ মিন শাইয়িন ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ালা-ফিল আরদি ইন্নাহূকা-না ‘আলীমান কাদীরা-।

তারা কি পৃথিবীতে কখনও সফর করেনি, তাহলে তারা দেখতে পেত তাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদের পরিণাম কী হয়েছিল, যদিও তারা এদের অপেক্ষা বেশি শক্তিমান ছিল? আল্লাহ এমন নন যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কোন বস্তু তাকে ব্যর্থ করতে পারে। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।
৪৫

وَلَوۡ یُؤَاخِذُ اللّٰہُ النَّاسَ بِمَا کَسَبُوۡا مَا تَرَکَ عَلٰی ظَہۡرِہَا مِنۡ دَآبَّۃٍ وَّلٰکِنۡ یُّؤَخِّرُہُمۡ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ۚ  فَاِذَا جَآءَ اَجَلُہُمۡ فَاِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِعِبَادِہٖ بَصِیۡرًا ٪ ٤٥

ওয়ালাও ইউআ-খিযু ল্লা-হুন্না-ছা বিমা-কাছাবূমা-তারাকা ‘আলা-জাহরিহা-মিন দাব্বাতিওঁ ওয়ালা-কিইঁ ইউআখখিরুহুম ইলাআজালিম মুছাম্মান ফাইযা-জাআ আজালুহুম ফাইন্নাল্লা-হা কা-না বি‘ইবা-দিহী বাসীরা।

আল্লাহ মানুষকে তাদের প্রতিটি কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও করতে শুরু করলে ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী কাউকে ছাড়তেন না। বস্তুত তিনি এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দিচ্ছেন। যখন তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদ এসে যাবে তখন আল্লাহ স্বয়ং তাঁর বান্দাদের দেখে নিবেন।