সূচিপত্র

মহিলাদের নামাযের পদ্ধতি

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মহিলাদের নামাযের পদ্ধতি

আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনা এবং তাওহীদ ও রেসালাতের সাক্ষ্য দেওয়ার পর ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামায। এটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। নামাযের গুরুত্ব ও প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন।

১. নামাযের গুরুত্ব ও প্রভাব

২. নামাযের প্রভাব

৩. নামায খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মহিলাদের নামাযের পদ্ধতি

(নামাযের মধ্যে যা করতে হয় এবং যেভাবে করতে হয়,

তার ধারাবাহিক বর্ণনা)

১. নামায পড়ার জন্য পবিত্র স্থানে দাঁড়ানো ফরয। সুরা বাকারা, আয়াত : ১২৫; তিরমিজি, হাদিস : ১-৩; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ, পৃষ্ঠা: ২০৯, প্রকাশক: দারুল কুতুবুল ইলমিয়্যা

২. কেবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো ফরয। সুরা বাকারা, আয়াত ১৪৪; সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬২৫১; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৭২৬; রদ্দুল মুহতার,১/৪০১

৩. পায়ের আঙুলসমূহ কিবলার দিকে সোজাভাবে রাখা সুন্নাত। সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬২৫১; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং: ২৯৩৬; রদ্দুল মুহতার,১/৫০৩

৪. দাড়ানো অবস্থায় উভয় পা মিলিয়ে রাখা। তবে কারো স্বাস্থ্য বেশি হলে তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী যতটুকু ফাঁকা রেখে দাঁড়ালে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন—ততটুকু ফাঁকা রাখতে পারবেন। মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ১/২৭০, হাদিস : ২৭৯৪; নামাযে মহিলাদের বিশেষ মাসায়েল, ২/১১৪

৫. তাকবীরে তাহরীমা শুরু করা পর্যন্ত হাত ছেড়ে রাখা। (হাত বেঁধে না রাখা)। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৭২৬; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস নং: ৪৭৭; আহসানুল ফাতাওয়া, ২/২৯৭; 

৬. সম্পূর্ণ সোজা হওয়া (এক পায়ে ভর দিয়ে বাঁকা হয়ে না দাঁড়ানো)। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩০৪; রদ্দুল মুহতার,১/৪৪৪

৭. নিয়ত করা ফরয। নিয়ত অর্থ হলো মনস্থির করা—আমি কোন কাজটি করছি, কেন করছি এবং কার জন্য করছি, তা অন্তরে নির্ধারণ করা।

অতএব, নিয়ত হলো অন্তরের কাজ। নিয়ত অন্তরেই করতে হয়; মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়।

তবে কেউ যদি মনকে একাগ্র করতে না পারে, সে চাইলে মুখেও উচ্চারণ করে নিতে পারে। এতে কোনো দোষ নেই। উমদাতুল কারী ১/৩৩; শরহুল মুনইয়া ২৫৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪১৫

৮. সিজদার জায়গার দিকে নজর রাখা সুন্নাত। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৬৫৬৩; আদ্দুররুল মুখতার : ১/৪৪৭

৯. হাত উঠানোর সময় মাথা না ঝুঁকানো।  আদদুররুল মুখতার, ৬৫; ফাতহুল কাদীর,২/৩০-৮০

১০. হাতের তালু আঙুলের পেটসহ সম্পূর্ণ কিবলামুখী করে রাখা, আঙুলের মাথা বাঁকা না করা। বরং আকাশমুখী করে রাখা সুন্নাত। রদ্দুল মুহতার,১/৪৭৪,৪৮২

১১. হাতের আঙুলগুলো মিলিয়ে রাখা। মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক-৩/১৩৭

১২. তারপর তাকবীরে তাহরীমা ْاَللَّهُ أَكْبَر (আল্লাহু আকবার) বলে নিয়ত বাধবে। তাকবীরে তাহরীমা এক আলিফ থেকে বেশি না টানা। এই তাকবীর ফরয। আদদুররুল মুখতার, ৬২; হিদায়া, ১/৪৫-৪৭

১৩. তাকবীরে তাহরীমার সময় হাত কাপড়ের ভেতরে রেখে উঠাবে, বাইরে বের করবে না। হাত উঠানোর সময় যথাসম্ভব শরীরের সাথে লাগিয়ে রেখে সিনা পর্যন্ত উঠাবে—এমনভাবে যেন আঙুলের অগ্রভাগ কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে। আলমুজামুল কাবীর লিততাবরানী, হাদীস নং-২৮,জামেউল মাসানীদ ওয়াস সুনান, হাদীস নং-১০৬৫০,কানযুল উম্মাল-৩/১৭৫, হাদীস নং-১৯৬৪০,মাযমাউজ যাওয়ায়েদ-২/১০৩, হাদীস নং-২৫৯৪; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং: ৫০৬৬; আল মু'জামুল কাবীর হাদীস নং: ২৮

১৪. হাত সিনা পর্যন্ত উঠানোর পর আল্লাহু আকবার বলতে শুরু করা উত্তম। হাত উঠাতে উঠাতে বা হাত উঠানো শুরু করার পূর্বেও আল্লাহু আকবার বলে নেয়া যায়। হাত বাধা সম্পূর্ণ হবে, আল্লাহু আকবার বলাও শেষ হবে-এরূপ করা উত্তম। সহীহ মুসলিম, হাদীস ৩৯০; আলমাবসূত, সারাখসী ১/১১; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/২৫৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৮৪; ফাতহুল কাদীর ১/২৪৪; হালবাতুল মুজাল্লী ২/১০১

১৫. তাকবীরে তাহরীমা বলার পর সরাসরি হাত বাঁধা। (হাত বাঁধার আগে হাত ঝুলিয়ে না দেয়া)। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৭২৬; আল মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২/৪২১ হাদীস নং: ২৪৮৮

১৬. ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের উপর রেখে উভয় হাত বুকের উপর রাখা। সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৭০৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৭২৬; জামে' তিরমিযী, হাদীস নং: ২৫২; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৫০৯০; রদ্দুল মুহতার,১/৪৭৯; আল মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং: ২৪৮৮, আল মু'জামুল কাবীর হাদীস নং: ২৮

১৭. ছানা পড়া সুন্নাত। ছানা এই-

سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ  وَبِحَمْدِكَ  وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالٰى جَدُّكَ وَ لَاۤ إِلٰهَ غَيْرُكَ

সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়াতাবারাকাস্‌মুকা, ওয়াতা‘আলা জাদ্দুকা ওয়া লা-ইলাহা গাইরুক। জামে' তিরমিযী, হাদীস নং: ২৪৩; সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৮০৪

১৮. প্রথম রাকাতে ছানার পর আ‘উযুবিল্লাহ পড়া সুন্নাত।  

أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ

আ'উযু বিল্লা-হি মিনাশ শাইত্বা-নির রাজীম। সুনানে  দারাকুতনী, হাদীস: ১১৩৪; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস: ২৪৭১; বাদায়েউস সানায়ে,১/২০২

১৯. প্রত্যেক রাকাতে কিরাতের আগে বিসমিল্লাহ পড়া সুন্নাত। 

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

বিসমিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহিম। আস সুনানুল কুবরা নাসায়ী, হাদীস: ৯০৫; মুসতাদরাকে হাকেম হাদীস: ৮৪৯; বাদায়েউস সানায়ে,১/২০২; হাশিয়া তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ,২৬০

উল্লেখ্য, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে ছানা ও আ‘উজুবিল্লাহ পড়তে হয় না।

২০. ফরয নামাযের প্রথম দুই রাকাতে, নফল নামাযের সকল রাকাতে, বিতরের নামাযে ও দুই ঈদের নামাযে সূরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৮১৮; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং: ১৭৯০ ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৬; আল বাহরুর রায়েক ১/৩১২

সূরা ফাতিহা

(১) الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (২) الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (৩) مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ (৪) إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (৫) اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ (৬) صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ (৭)

২১. ফরয নামাযের তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়া সুন্নাত। রদ্দুল মুহতার,১/৫১১; হাশিয়া তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ, ২৭০

২২. সূরা ফাতিহা পড়ার পর নীরবে আমীন বলা সুন্নাত। সূরা আ’রাফ : ৫৫; সহীহ বুখারী,হাদীস নং: ৭৪৪; তিরমিযী, হাদীস নং: ২৪৮, মুসনাদে আহমাদ : ৪/৩১৬, মুসতাদরাকে হাকেম হাদীস নং: ২৯১৩; শারহুল বুখারী লিইবনে বাত্তাল,মৃত্যু ৪৪৯হিজরী; আল জাওহারুন নাকী, ২খ, ৫৮পৃ; আল-মুদাওয়ানা, ১খ.৭১ পৃ.

২৩. সূরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য সূরা মিলানো ওয়াজিব। (ফরযের প্রথম দু’রাকা‘আতে এবং ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফলের সব ক’টি রাকা‘আতে)। আলবাহরুর রায়েক ১/২৯৬; মাজমাউল আনহুর ১/১৯৭; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৯১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭১; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ১৩৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৫৯

২৪. নামাযে কমপক্ষে বড় এক আয়াত অথবা ছোট তিন আয়াত পরিমাণ কিরা‘আত (কুরআন শরীফ) পড়া ফরয। প্রতি আয়াতে কমপক্ষে দশটি করে অক্ষর থাকা জরুরী। বাদায়েউস সানায়ে,১/২৯৭; রদ্দুল মুহতার, ২/১৪৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া, ২/৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭১

উল্লেখ্য, নামাযে সুরা/কিরাআত পড়ার ক্ষেত্রে তারতীব প্রসঙ্গে জানতে ক্লিক করুন।

২৫. সুরা/কিরাআত শেষ করার পর ‍রুকুতে যাবে। রুকুতে যাওয়ার সময় তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বলা শুরু করবে এবং রুকুতে সোজা স্থির হওয়ার সাথে বলা শেষ হবে। এটা সুন্নাত। সহীহ  বুখারী, হাদীস নং: ৭৮৯; রদ্দুল মুহতার, ১/৪৭৬;

২৬. রুকুর সময় উভয় হাতের আঙুলসমূহ মিলিত রেখে চাদরের ভিতর দিয়ে হাঁটুর উপর রাখবে, হাঁটু দৃঢ়ভাবে ধরবে না। হাতের বাহু পাজরের সাথে লাগানো থাকবে। অল্প ঝুঁকে রুকু করবে, হাঁটু সামান্য সামনের দিকে থাকবে এবং পিঠ কিছুটা বাঁকা থাকবে। ইবনে আবী শাইবা-২/৪৫২, হাদীস নং- ২৫৯২; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা-২/৫০৫, হাদীস নং-২৭৯৪

২৭. রুকুতে উভয় পায়ের পাতা বা পায়ের আঙুলের প্রতি নজর রাখা। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৪৩০; মুখতাসারু  ইখতিলাফিল  উলামা ১/২০০; শরহু মুখতাসারিত ত্বহাবী ১/৬৪৮; রদ্দুল মুহতার, ১/৪৭৭;

২৮. রুকুতে কমপক্ষে তিনবার রুকুর তাসবীহ্  سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ (সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম) পড়া সুন্নাত। পাঁচ/সাত এরূপ বেজোড় সংখ্যায় পড়াও সুন্নাত। সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ১১৩৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭৫; রদ্দুল মুহতার, ১/৪৯৪-৪৯৫; আল বাহরুর রায়েক, ২/১০৫

২৯. রুকু থেকে উঠার সময় سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ (সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ্) বলা সুন্নাত। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৭৭২; সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ১১৩৩

৩০. রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো এবং দাঁড়ানোর মধ্যে স্থিরতা অর্জনের জন্য এক তাসবীহ পরিমাণ বিলম্ব করা ওয়াজিব। সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৭৫৭; রদ্দুল মুহতার, ১/৪৬৪; আল বাহরুর রায়েক, ৩/১৮৮

৩১. রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে رَبَّنَا وَلَكَ الحَمْدُ (রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ্) বলা সুন্নাত। সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬৯৮; জামে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৬৭; রদ্দুল মুহতার, ১/৪৯৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭৪

রুকু থেকে দাড়িয়ে এই দু‘আও পড়া যায়:  رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ 

(রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদু হামদান কাসীরান ত্বইয়্যিবান মুবারাকান ফীহ।)

-নাসায়ী, হাদীস নং ১০৬২

৩২. তাকবীর বলতে বলতে সিজদায় যাওয়া। সিজদায় জমীনে কপাল লাগানোর সাথে সাথে 'আকবার' বলা শেষ করবে। এটা সুন্নাত। সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৮০৩; ফাতাওয়া আলমগীরী,১/১৩১

৩৩. সিজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে উভয় হাঁটু, তারপর উভয় হাত, এরপর নাক এবং শেষে কপাল জমীনে রাখবে—এই তারতীব সুন্নাত। তবে কোনো ওজর থাকলে হাঁটুর আগে হাত রাখতে হলে প্রথমে ডান হাত, তারপর বাম হাত, এরপর উভয় হাঁটু একসাথে রাখবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৮০৯; জামে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৬৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৮৩৮; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস নং: ৬২৮; দুররে মুখতার ও ফাতাওয়া শামী ১/৮৯৪

৩৪. সিজদায় উভয় হাতের মাঝে চেহারার প্রস্থ পরিমাণ ফাঁক রাখা। সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস নং: ৬৪১; বাদায়িউস সানায়ি ফী তারতীবিশ শারায়ে,১/২১০

৩৫. উভয় হাতের আঙুলসমূহ মিলিয়ে রাখা সুন্নাত। সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস নং: ৬৪২; আল মুসতাদরাক, হাদীস নং: ৮২৬; সুনানুল কুবরা বায়হাকী, হাদীস নং: ২৫২৬; সুনানে দারাকুতনী, হাদীস নং: ১২৯৮; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং: ১৯২০; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস নং: ২৮০৭

৩৬. উভয় হাতের আঙুলসমূহের অগ্রভাগ কেবলামুখী করে রাখা সুন্নাত। সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস নং: ৬৪৩

৩৭. উভয় হাতের মধ্যখানে বৃদ্ধ আঙুলদ্বয়ের নখ বরাবর নাক রাখা। জামে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৭১, আল মুসন্নাফ ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং: ২৬৮০, মুসনাদে আবী ইয়া'লা, হাদীস নং: ১৬৬৯, কানযুল উম্মাল হাদীস নং: ২২২৩০

৩৮. নাকের অগ্রভাগের দিকে নজর রাখা। মুখতাসারু ইখতিলাফিল  উলামা ১/২০০

৩৯. সিজদায় উভয় পা ডান দিকে দিবে। দুই রানের সঙ্গে পেট এবং পাজরের সঙ্গে বাহু মিলিয়ে হাত কনুই পর্যন্ত জমিনের সাথে লাগিয়ে যথাসম্ভব চেপে সিজদা করবে। মারাসীলে আবী দাউদ, হাদীস নং:৮৪; সুনানুল কুবরা বায়হাকী, হাদীস নং: ৩৩২৫; মা'রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার ৩/২৩৬ হাদীস নং: ৪০৫৪; সুবুলুস সালাম, হাদীস নং: ২৮২ নং হাদীসের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য; শামী: ১/৫০৩; সুনানে কুবরা-বায়হাকী, হাদীস নং: ৩৩২৫; সুবুলুস সালাম শরহু বুলুগিল মারাম, হাদীস নং: ২৮২ নং হাদীসের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য; মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক ৩/১৩৮ হাদীস নং: ৫০৭২; আল মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২/৫০৪ হাদীস নং: ২৭৯৩; আস সুনানুল কুবরা বায়হাকী, হাদীস নং: ৩৩২২

৪০. সিজদায় কমপক্ষে তিনবার সিজদার তাসবীহ্ سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى (সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা) পড়া সুন্নাত। পাঁচ/সাত এরূপ বেজোড় সংখ্যায় পড়াও সুন্নাত। সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ১১৩৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭৫; রদ্দুল মুহতার, ১/৪৯৪-৪৯৫; আল বাহরুর রায়েক, ২/১০৫

৪১. আল্লাহু আকবার বলে সিজদা থেকে উঠা সুন্নাত। উঠার সময় প্রথমে কপাল, তারপর নাক, তারপর হাত জমীন থেকে উঠানো সুন্নাত। সোজা হয়ে বসার সাথে সাথে “আকবার” বলা শেষ করবে। এটা সুন্নাত তরীকা। জামে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৬৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৮৩৮; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস নং: ৬২৮; দুররে মুখতার ও ফাতাওয়া শামী ১/৮৯৪

৪২. উভয় পা ডান দিকে বের করে নিতম্বের উপর বসবে। জামিউল মাসানীদ ১/৪৯৬ হাদীস নং: ৬৫১; শরহু মুসনাদে আবী হানীফা ১/২৬৩

৪৩. দুই সিজদার মাঝখানে সোজা হয়ে স্থিরভাবে বসা ওয়াজিব। সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৭৫৭; আল বাহরুর রায়েক ১/৩১৭; মেরকাতুল মাফাতিহ, ২/৭১৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬৯১; ১১৭; আল মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২/৫০৭ হাদীস নং:২৮০৫; আল মুসন্নাফ আব্দুর রায্যাক ৩/১৩৯

৪৪. উভয় হাত উরুর উপর রাখবে, হাতের আঙুলের মাথা হাঁটু বরাবর। হাতের আঙুলসমূহ মিলিয়ে রাখবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৫০৮০; সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ১২৬৯; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৬৩৪৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১/৩০২

৪৫. নজর দুই হাঁটুর মাঝের দিকে রাখা। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৩০; মুখতাসারু  ইখতিলাফিল  উলামা ১/২০০

৪৬. দুই সিজদার মাঝখানে নিম্নোক্ত দুআ পড়া মোস্তাহাব।

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ  وَارْحَمْنِيْ وَاجْبُرْنِيْ  وَاهْدِنِيْ  وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْ

আল্লাহুম্মাগ্‌ফিরলি ওয়ারহাম্‌নি ওয়াজ্‌বুরনি ওয়াহ্‌দিনি ওয়া ‘আ-ফিনি ওয়ার্‌যুক্বনি। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৮৫০; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৮৪; সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৮৯৮; ফাতাওয়া শামী ১/৫০৫,৫৬৪

৪৭. আল্লাহু আকবার বলে দ্বিতীয় সিজদায় গিয়ে প্রথম সিজদার মতো সব নিয়ম যথাযথভাবে পালন করা। সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৭৫৭,৭৮৯,৮০৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৮৯৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৮৩৬; সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ১১৫০

৪৮. দ্বিতীয় সিজদা থেকেও আল্লাহু আকবার বলে উঠা সুন্নাত। উঠার সময় প্রথমে কপাল, তারপর নাক, তারপর হাত এবং তারপর হাঁটু জমীন থেকে উঠানো সুন্নাত। জামে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৬৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৮৩৮; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস নং: ৬২৮; দুররে মুখতার ও ফাতাওয়া শামী ১/৮৯৪

৪৯. দ্বিতীয় সিজদা থেকে উঠে বসা ছাড়াই আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়িয়ে যাওয়া সুন্নাত। সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৭৮৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৮৯৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৮৩৫; সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ১০৮২; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক হাদীস নং: ২৯৬৭; সুনানে কুবরা বাইহাকী ২/১২৬

৫০. হাঁটুর উপর হাত রেখে দাঁড়ানো। বিনা ওযরে যমীনে ভর না দেওয়া মোস্তাহাব। সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬৬৬৭; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৮৩৯; আস সুনানুল কুবরা বায়হাকী, হাদীস নং: ২৮৭৭, আল মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং: ২৯৭৬, মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার হাদীস নং: ১২৬৬

৫১. সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সাথে “আকবার” শব্দের উচ্চারণ শেষ করবে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৮০৩; ফাতাওয়া আলমগীরী,১/১৩১

৫২. দ্বিতীয় রাকাত প্রথম রাকাতের মত আদায় করবে। তবে “সানা” ও “আউজুবিল্লাহ” পড়বে না। আল মুসতাদরাক হাদীস নং: ৭৮২, সহীহ ইবনে খুযায়মাহ হাদীস নং: ১৬০৩, সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস নং: ১৯৩৬, আস সুনানুল কুবরা বায়হাকী হাদীস নং: ৩২০৫

৫৩. দ্বিতীয় রাকাআতের দ্বিতীয় সিজদার পর উপরে বর্ণিত নিয়মে বসলে সেটাই হবে প্রথম বৈঠক। আর প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পড়বে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৮৩১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৯২৪; সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ১১৬৯, সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং: ৯৬৯, সুনানে তিরমিযি, হাদীস নং: ২৮৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং: ৮৯৯, আস সুনানুল কুবরা বায়হাকী, হাদীস নং: ৪১৩০

৫৪. তাশাহুদের সময় উভয় হাতের আঙুল স্বাভাবিকভাবে হাঁটুর উপর রাখবে,অতঃপর যখন বলবে “আশহাদু আল্লা ইলা-হা” তখন ডান হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙুল কে গুটিয়ে মধ্যমা ও বৃদ্ধা আঙুল দ্বারা বৃত্ত তৈরি করে শাহাদাত আঙুল উঁচু করবে এবং “ইল্লাল্লাহ” বলার সময় ঝুঁকিয়ে উক্ত অবস্থায় নামায শেষ করবে। আর তাশাহুদের মধ্যে আঙুলকে বারবার নাড়াচড়া করা যাবেনা। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৫৭৯; জামে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৯৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫০১; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৩০০; আদ্দুররুল মুখতার : ২/২৬৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৯৯১, সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ১২৬৯, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং: ৮৫২৪, আল-ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম, হাদীস নং: ২৮৯

তাশাহুদ

اَلتَّحِيَّاتُ لِلّٰهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللّٰهِ وَبَرَكَاتُهٗ، اَلسَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلٰى عِبَادِ اللّٰهِ الصَّالِحِيْنَ، أَشْهَدُ أَنْ لَّاۤ  إِلٰهَ  إِلَّا اللّٰهُ  وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهٗ  وَرَسُوْلُهٗ 

আত্তাহিইয়াতু লিল্‌লাহি ওয়াস্‌ সালাওয়াতু ওয়াত্ ত্বাইয়িবাত। আসসালামু ‘আলাইকা আইয়ুহান নাবিইয়ু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ্‌। আস্‌সালামু ‘আলাইনা ওয়া ‘আলা ‘ইবাদিল্লাহিস্‌ সালিহীন। আশ্‌হাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আব্‌দুহু ওয়া রাসুলুহ্‌।

৫৫. শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পড়ে দুরূদ শরীফ ও দুআয়ে মাছুরা পড়বে। সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৮৩৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৭০৪৪; সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ১৩০২; সুনানে তিরমিযি, হাদীস নং: ৩৫৩১, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং: ৩৮৩৫, 

দুরূদ শরীফ 

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى اۤلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى  إِبْرَاهِيْمَ وَعَلٰى اۤلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ، اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى اۤلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلٰى اۤلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ

আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা ‘আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা ‘আলা ইব্‌রাহীমা ওয়া ‘আলা আলি ইব্‌রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ, আল্লাহুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিও ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাক্‌তা ‘আলা ইব্রাহীমা ওয়া ‘আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ।

দুআয়ে মাছুরা

اَللّٰهُمَّ  إِنِّيْ  ظَلَمْتُ  نَفْسِيْ  ظُلْمًا  كَثِيْرًا وَّ لَاۤ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِيْ مَغْفِرَةً مِّنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِيْ  إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ 

আল্লাহুম্মা ইন্নী যালামতু নাফ্‌সি যুলমান কাছীরাও ওয়ালা ইয়াগ্‌ফিরুয যুনূবা ইল্লা আন্তা, ফাগ্‌ফিরলি মাগফিরাতাম মিন ‘ইনদিকা, ওয়ারহাম্‌নি ইন্নাকা আন্তাল গাফূরুর রহীম।

৫৬. তারপর اَلسَّلامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ (আস্‌সালামু আলাইকুম ওয়া রাহ্‌মাতুল্লাহ) বলে উভয় দিকে সালাম ফিরানো ওয়াজিব। সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ১৩১৮; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং: ১৯৯১; মুসনাদে আবী ইয়া'লা আল মুসিলী হাদীস নং: ৫১০২; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং:৩৭০২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭৬

৫৭. কেবলার দিকে চেহারা থাকা অবস্থায় সালাম শুরু করা এবং চেহারা ঘুরানো অবস্থায় সালাম সম্পন্ন করতে থাকা। যাতে চেহারা ঘুরানো শেষ হওয়ার সাথে সালামও শেষ হয়ে যায়। সালাম ফিরানোর সময় কাঁধের দিকে দৃষ্টি রাখা মুস্তাহাব। সুনানে তিরমিযী হাদীস নং: ২৯৫; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং: ৯১৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৭২

উল্লেখ্য, সালাম ফিরানোর সময় ডানে-বামে শুধু চেহারা ফিরানো; সিনা না ঘুরানো। শরহু মাআনিল আসার, হাদীস নং: ১৬০৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ১৭৭২৬; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস নং: ৬৫০; ফাতাওয়া শামী, ১/৬২৭

৫৮. ডান দিকে সালাম ফিরানোর সময় ডান দিকের ফিরিশতা, এবং নামাযী জীনদের সালাম করার নিয়ত করবে। অনুরূপ বাম দিকে সালাম ফিরানোর সময় বাম দিকের ফিরিশতা, এবং নামাযী জীনদের সালামের নিয়ত করবে। মুসলিম, হাদীস নং: ৭০৪৪, ৪৫০; আকামুল মারজান ফী আহকামিল জান পৃ. ৮৭; দুররে মুখতার, ১/৫২৬; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং: ৩১৪০; বাদায়িউস সানায়ে ২/৭০

এতক্ষণ দুই রাকআত নামাযের বিবরণ পেশ করা হল। তিন/চার রাকআত বিশিষ্ট নামায হলে দ্বিতীয় রাকআতের বৈঠকে শুধু তাশাহুদ পড়ে তৃতীয় রাকআতের জন্য আল্লাহু আকবার বলে উঠে বাকি নামায সম্পন্ন করবে।

নামাযে সাহু সাজদা কখন দিতে হয়? এবং সাহু সাজদা আদায় করার পদ্ধতি কি? জানতে ক্লিক করুন।

নামাযের ফরয সমুহের বিধান

নামাযে কোন ফরয ছুটে গেলে সাহু সিজদা দ্বারা সে ক্ষতি পূরণ হয় না; বরং নামায পুনরায় পড়তে হয়। শরহুল মুনইয়াহ ২৮৯-২৯০; মুখতাসারুল কুদূরী ৭০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫১; রদ্দুল মুহতার ১/৩৬১

নামাযের ওয়াজিব সমুহের বিধান

নামাযের মধ্যে কোন ওয়াজিব ছুটে গেলে অথবা আগ-পিছ হয়ে গেলে নামাযের শেষ বৈঠকে সাজদা সাহু আদায় করলে নামায আদায় হয়ে যাবে। সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৫৯; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ, পৃষ্ঠা: ২৪৭

নামাযে মনোযোগ সৃষ্টি করার উপায়

১. হালাল রিজিক খাওয়া।

২. পাক পবিত্রতা ভালোভাবে অর্জন করা।

৩. যত্নের সঙ্গে ওযু করা।

৪. নামাযে সূরা/কিরাত, দুআ, দুরূদ, ইত্যাদি যা যা পড়া হয় তার প্রত্যেকটা শব্দে শব্দে খেয়াল করে পড়া; বে-খেয়ালীর সাথে মুখস্থ থেকে না পড়া। এবং নিজের কানে শোনা যায়—এমনভাবে অল্পস্বরে পড়া।

৫. নামাযের প্রত্যেক রুকন ও কাজ মাসআলা অনুযায়ী হচ্ছে কি না তার প্রতি খুব খেয়াল রেখে আদায় করা। এছাড়া আরো জানতে ক্লিক করুন।

নামাযের মধ্যে, নামাযের শেষে ও অন্যান্য দুআ সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মহিলাদের নামাযের পদ্ধতি | নামাজ শিক্ষা - ১ | মুসলিম বাংলা