সফর ও মুসাফিরের নামাজ
প্রশ্নঃ ৪৯৪৩০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, মুসাফির হতে যত দুরত্বে থাকা দরকার পড়ে, নিজ বাসা থেকে তত বা তার থেকে বেশি দুরত্বে অবস্থান করলেও যদি কোনো বাসায় অবস্থান করি এবং সালাত আদায়ের সকল সুবিধা থাকে বা সময় থাকে সেক্ষেত্রে পূর্ণ সালাত আদায় করা যাবে কি না সকল ওয়াক্তেই? যেহেতু কারো বাসায় বেড়াতে আসা হয়েছ এবং ১৫ দিনের কম সময় অবস্থান করা হবে।
৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ঢাকা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
যদি কোন ব্যক্তি ৪৮ মাইল (৭৭.২৩২ কিলোমিটার) রাস্তা অতিক্রম করে কোন স্থানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজ এলাকার লোকালয় থেকে বের হয়, তাহলে ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় তাকে মুসাফির বলা হয়। ইসলামী বিধান মোতাবেক তখন তাকে মুসাফিরের নামাজ আদায় করতে হয়। সেক্ষেত্রে তার সফরের ক্লান্তি থাকুক বা না থাকুক। নামাজের সুন্দর ব্যবস্থা থাকুক বা না থাকুক উভয় ক্ষেত্রেই বিধান অপরিবর্তিত থাকবে।
ইসলামে মুসাফিরের নামাজ:
মুসাফির ব্যক্তি পথিমধ্যে চার রাকাআত বিশিষ্ট ফরয নাম (অর্থাৎ জোহর,আসর ও ঈশার ফরজ নামাজ) কে দুই রাকআত পড়বে। একে কসরের নামাজ বলে। তবে যদি জামাতের সাথে (মুক্তাদি হিসেবে) নামাজ আদায় করে তাহলে ইমামের অনুসরণে পূর্ণ নামাজ আদায় করতে হবে। আর ইমামতি করলে কসরের ইমামতি-ই করবে এবং নামাজের শুরুতে বলে দিবে যে, আমি মুসাফির। তিন রাকআত বা দুই রাকাআত বিশিষ্ট ফরজ নামাজ, ওয়াজিব নামাজ এমনিভাবে সুন্নাত নামাজ পূর্ণ পড়তে হবে।
এটা হলো পথিমধ্যে থাকাকালীন সময়ের নামাজের বিধান। আর গন্তব্য পৌঁছার পর যদি সেখানে ১৫ দিন বা তদুর্ধকাল থাকার নিয়ত থাকে তাহলে কসর হবে না- নামাজ পূর্ণ পড়তে হবে। আর যদি ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত থাকে তাহলে কসর হবে। গন্তব্যস্থল নিজ বাড়ি হলে কিংবা ১৫ দিন বা তারচে’ বেশী দিন থাকার নিয়ত করলে কসর পড়া যাবে না। বরং পূর্ণ নামাজ আদায় করতে হবে।
মুসাফিরের জন্য নামাজ সংক্ষিপ্ত করে পড়া আল্লাহর পক্ষ থেকে তার প্রিয় বান্দাদের জন্য উপহার স্বরূপ। তাই মুসাফিরের জন্য ওয়াজিব হলো সেই উপহার গ্রহণ করা। কসরের বিধান কুরআন সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,
وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَن يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا ۚ إِنَّ الْكَافِرِينَ كَانُوا لَكُمْ عَدُوًّا مُّبِينًا
অর্থ: তোমরা যখন জমিনে সফর কর এবং তোমাদের আশঙ্কা হয় যে, কাফিরগণ তোমাদেরকে বিপন্ন করবে, তখন নামাজ কসর করলে তাতে তোমাদের কোনও গুনাহ নেই। নিশ্চয়ই কাফিরগণ তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।
অনেক হাদীসে এসেছে, মুহাম্মাদ সা. হজ্জ, ওমরা, যুদ্ধসহ যে কোন সফরে কসরের নামাজ পড়তেন।
ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত-
আমি মুহাম্মাদ সা. এর সাথে ছিলাম, তিনি সফরে (চার রাকাআত বিশিষ্ট নামাজ) দুই রাকাআতের বেশি পড়তেন না। আবুবকর ও ওমর একই রকম নামাজ পড়তেন। -বুখারী ও মুসলিম।
বিমান, গাড়ি, স্টিমার, ট্রেন, উট, পর্বতারোহণ ও পদব্রজ ভ্রমণের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। সবগুলোই সফর বা ভ্রমণের আওতাভুক্ত। (দূরত্বের শর্তে) সব সফরেই নামাজ কসর করতে হবে।
প্রিয় প্রশ্নকারী!
আশা করছি উপরিউক্তি বিবরণে আপনি আপনার প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর পেয়েছেন। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নিকটস্থ ওলামায়ে কেরামের মাধ্যমে জেনে নিন। বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং সময় নিয়ে বুঝার মতো।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি সাইদুজ্জামান কাসেমি
উস্তাজুল ইফতা, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১