ইসলামি শরিয়তে বাদ্যযন্ত্র ছাড়া খালি কণ্ঠে গান ও গজল শোনার বিধান
প্রশ্নঃ ১৭০২৭৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, মিউজিক শুনা কবিরা গুনাহ এখন অনেক এ লজিক দেই মিউজিক শুনতেছে তবে বাদ্যযন্ত্র রিমুভ করে,ভোকাল তবে সেটা কি গুনাহ,অনেক গুলার লিরিক্স এতো ভালো হয় না আবার অনেক গুলার লিরিক্স মোটামুটি আবার হাসবেন্ড স্ত্রী কে স্ত্রী হাসবেন্ড কে শুনানোর জন্য কি একটু রোমান্টিক গান শুনাতে পারবে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার এবং তা শোনা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও হারাম। তবে বাদ্যযন্ত্র বাদ দিয়ে শুধু মানুষের খালি কণ্ঠে গাওয়া গান শোনা নিয়ে অবস্থা ভেদে সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট ও ইসলামি বিধানের ভিন্নতা রয়েছে। যা ক্রমান্বয়ে নিচে তুলে ধরা হলো-
(১) মিউজিক বা বাদ্যযন্ত্র বাদ দিয়ে শুধু খালি গলায় গাওয়া গান বা গজল শোনার বিষয়টি গানের কথামালার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে, যথা-
ক: যদি কথামালা ভালো ও ইতিবাচক হয় এবং এতে কোনো শিরক, কুফর, অশ্লীলতা, কাউকে হিংসা বা অবৈধ ভালোবাসার দিকে প্ররোচিত করার বিষয় না থাকে, তবে তা শোনা জায়েজ।
খ : যদি এতে অশালীন কথা, অনৈতিক প্রেম-ভালোবাসা বা গুনাহের প্রতি উৎসাহ থাকে, তবে বাদ্যযন্ত্র ছাড়াও তা শোনা হারাম বা গুনাহ।
(২) স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ভালোবাসা শরিয়তসম্মত এবং পুণ্যময়। তবে গান শোনানোর ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা আবশ্যক:
(ক) গানটি হতে হবে বাদ্যযন্ত্রমুক্ত।
(খ) গানে ব্যবহৃত শব্দ বা কথা যেন কোনো প্রকার অশালীনতা, অন্য কোনো বেগানা নারী/পুরুষের প্রশংসা বা ইসলামি আকিদা-বিরোধী বক্তব্য ধারণ না করে।
যদি বাদ্যযন্ত্র না থাকে এবং কথা বা শব্দগুলো কেবল নিজেদের পবিত্র ভালোবাসা ও অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ হয়, তবে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে তা শোনাতে পারবেন এবং এতে কোনো গুনাহ নেই।
শরয়ী প্রমাণ:
عَنْ عَمْرِو بْنِ الشرِيدِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: رَدِفْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا، فَقَالَ: «هَلْ مَعَكَ مِنْ شِعْرِ أُمَيَّةَ بْنِ أَبِي الصَّلْتِ شَيْءٌ؟» قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: «هِيَ»، فَأَنْشَدْتُهُ بَيْتًا، فَقَالَ: «هِيَ»، حَتَّى أَنْشَدْتُهُ مِائَةَ بَيْتٍ. (صحيح مسلم: ٢٢٥٥)
«السَّمَاعُ بِلاَ آلاَتٍ، فَإِنْ كَانَ الْكَلاَمُ حَسَنًا لاَ يُخَالِفُ الشرَّعَ فَهُوَ حَسَنٌ، وَإِنْ كَانَ قَبِيحًا أَوْ فِيهِ دَعْوَةٌ إِلَى الْمَعْصِيَةِ فَهُوَ قَبِيحٌ وَمَمْنُوعٌ.» (الموسوعة الفقهية الكويتية: ٢٤ / ١٦٤)
«وَإِنَّمَا يُكْرَهُ الْغِنَاءُ إِذَا كَانَ فِيهِ ذِكْرُ الْفِسْقِ وَالْغَزَلِ بِامْرَأَةٍ مُعَيَّنَةٍ حَيَّةٍ، أَوْ كَانَ يَحُثُّ عَلَى الْحَرَامِ... أَمَّا إِذَا كَانَ لِإِظْهَارِ الشَّوْقِ أَوْ .لِلتَّرْوِيحِ عَنِ النَّفْسِ بِلاَ مَعْصِيَةٍ فَلاَ بَأْسَ بِهِ.»
(رد المحتار: ٦ / ٣٤٩)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুহাদ্দীস, শাইখ আবু সাঈদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার মোহাম্মাদপুর।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন