“জিরো বাল্ব” এর আলোতে নামাজ পড়ার হুকুম
প্রশ্নঃ ১৬৯২৫৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, মসজিদে সামনের লাইট চোখে লাগে বিধায় পিছনে সাদা লাইট জালানো হয়, ফলে সামনের দেয়ালে ছায়া/বিম্ব গঠিত হয়, এতে নামাজে একাগ্রতা নষ্ট হয়। তাই, পর্যাপ্ত “জিরো বাল্ব” লাগানো হয়েছে এবং এতে সকলেই সচ্ছন্দে নামাজ আদায় করতে পারে। কিন্তু একজন মুসল্লি বলেন, জিরো বাল্বে নামাজ পড়া মাখরুহ হবে। এমতাবস্থায় আয়শা রা: বর্ণিত হুজুর সা: আলো ছাড়া নামাজ পড়ার হাদিস শুনানো হলে তিনি বলেন, “এই হাদিস মসজিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় একাকী বাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য”। দয়া করে কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিষয়টি পরিষ্কার করবেন।
উল্লেখ্য: পর্যাপ্ত জিরো বাল্ব থাকায় মসজিদে কারো চলা-ফেরা বা ইবাদতে সমস্যা হয় না।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
নামাজে লাইট জ্বালিয়ে বা নিভিয়ে কিংবা জিরো বাল্বের মৃদু আলোতে নামাজ আদায় করা জায়েয। শুধু আলো কম হওয়ার কারণে নামাজ মাকরূহ হয়ে যাবে, এমন কোনো শরয়ি দলিল নেই। বরং এমন আলো যদি মুসল্লিদের জন্য আরামদায়ক হয় এবং এর ফলে নামাজে খুশু-খুযু বজায় থাকে, তাহলে তা ব্যবহার করতে কোনো অসুবিধা নেই।
কোনো ফরজ বা নফল নামাজের ক্ষেত্রেই আলো জ্বালিয়ে বা নিভিয়ে নামাজ আদায় করার বিষয়ে শরিয়তে কোনো নির্দিষ্ট বিধান নেই। এটি পরিস্থিতি ও প্রয়োজনের ওপর নির্ভরশীল একটি বিষয়।
নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
«كُنْتُ أَنَامُ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرِجْلاَيَ، فِي قِبْلَتِهِ فَإِذَا سَجَدَ غَمَزَنِي، فَقَبَضْتُ رِجْلَيَّ، فَإِذَا قَامَ بَسَطْتُهُمَا» ، قَالَتْ: وَالبُيُوتُ يَوْمَئِذٍ لَيْسَ فِيهَا مَصَابِيحُ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে ঘুমাতাম, আমার পা দু’খানা তাঁর কিবলার দিকে ছিল। তিনি সিজদায় গেলে আমার পায়ে মৃদু চাপ দিতেন, তখন আমি পা দু’খানা সংকুচিত করতাম। আর তিনি দাঁড়িয়ে গেলে আমি পা দু’খানা সম্প্রসারিত করতাম। তিনি বলেন, সে সময় ঘরগুলোতে বাতি ছিল না। -সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৮২
এ হাদীস থেকে বোঝা যায়, নবী ﷺ-এর যুগে রাতের বেলায় অনেক সময় বাতি ছাড়াই নামাজ আদায় করা হতো। তবে কোথাও আলো জ্বালানোকে নিষিদ্ধ করা হয়নি বা অন্ধকারে নামাজ পড়াকে সুন্নত বলা হয়নি। ফলে আলো জ্বালানো বা না জ্বালানো- উভয়টিই বৈধ।
তাই এটি নিয়ে বিতর্ক বা বিভেদ সৃষ্টি করা উচিত নয়। বরং সমঝোতার মাধ্যমে পরস্পরে মিলেমিশে বিষয়টির সমাধান করা উচিত।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
ۘ وَتَعَاوَنُوۡا عَلَی الۡبِرِّ وَالتَّقۡوٰی ۪ وَلَا تَعَاوَنُوۡا عَلَی الۡاِثۡمِ وَالۡعُدۡوَانِ ۪ وَاتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ
তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে। গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করবে না। আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহর শাস্তি অতি কঠিন।- সূরা আল-মায়িদা, ৫:২
** الفتاوى الهندية، كتاب الصلاة، الباب الثالث فى استقبال القبلة-1/64
رجل صلى في المسجد في ليلة مظلمة بالتحري فتبين أنه صلى إلى غير القبلة جازت صلاته؛ لأنه ليس عليه أن يقرع أبواب الناس للسؤال عن القبلة
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন