দাওয়াত খাওয়ার পর কিংবা কোনো কিছু উদ্ভোধনের পর দুআ করার বিধান
প্রশ্নঃ ১৬০১৪৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমাদের মহল্লায় কারো মৃত্যু বার্ষিকীতে,গাড়ি কিনলে, নতুন দোকান চালু করলে ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে মসজিদে দোয়া করা ও তবারক দেওয়ার প্রথা চালু আছে। যেকোনো ফরজ নামাজের পরে দোয়া এবং তবারক বিতরণের এই ঘোষণাটি দেওয়া হয়ে থাকে। এ বিষয়ে ইসলামের বিধান কি তা জানতে চাচ্ছি।
৬ জুলাই, ২০২৬
গোকুল
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
জন্মবার্ষিকী-মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা এবং একে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা ইসলামের শিক্ষা নয়। এগুলো বিজাতীয় সংস্কৃতি। এসকল অহেতুক কাজ থেকে মুসলমানদের বিরত থাকা আবশ্যক। শরীয়তে জন্ম দিবস বা মৃত্যু দিবসের আলাদা কোনো গুরুত্ব নেই। বিশেষভাবে এই দিনে কোনো ধরনের আমল বা ইবাদতের বিধান নেই।
আর মৃতব্যক্তিদের জন্য ঈসালে সাওয়াব করা শরীয়ত স্বীকৃত। তবে এর জন্য কোনো দিনক্ষণ নির্দিষ্ট নেই। বরং যে কোনো সময় বা দিনে নফল নামায, দান-সদকা, দুআ ইত্যাদির মাধ্যমে ঈসালে সাওয়াব করা যেতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট দিনে বা সময়ে করলে বিশেষ সাওয়াব পাওয়া যাবে- এমন নয়। সালাফে সালেহীন তথা স্বর্ণযুগেও নির্দিষ্ট দিনে মৃতের জন্য এ ধরনের ঈসালে সাওয়াবের আয়োজন করার কোনো প্রমাণ নেই। সুতরাং জন্মদিবস, মৃত্যুদিবস পালন বা এ সংক্রান্ত কোনো অনুষ্ঠান শরীয়তসম্মত নয়।
তাই সেই উপলক্ষ্যে দোয়ার অনুষ্ঠান করা, খাবার-তাবারুকের ব্যবস্থা করা বিদআত। এগুলোর কোনো প্রমাণ খাইরুল কুরূনে (সাহাবি ও তাবেয়িদের সর্বোত্তম যুগে) পাওয়া যায় না; বরং হাদিস শরিফে এ জাতীয় অনুষ্ঠানকে 'নাওয়াহা' (মাতম বা বিলাপ) এর অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়েছে। যেমনটি সুনানে ইবনে মাজাহ-তে হযরত জারির বিন আব্দুল্লাহ আল-বাজালি (রা.) এর বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে:
كنا نرى الإجتماع إلى أهل الميت و صنعة الطعام من النياحة‘‘. (باب ما جاء في النهي عن الاجتماع إلى أهل الميت و صنعة الطعام، ١/ ٥١٤)
" মৃতের পরিবার-পরিজনের বাড়িতে সমবেত হওয়া এবং খাবারের আয়োজন করাকে আমরা নাওয়াহা (মাতম) হিসেবে গণ্য করতাম।"
অর্থাৎ, এই সমাবেশ/জামায়েত হওয়া এবং খাবারের অংশ গ্রহন করার অপরাধকে মাতম করার পাপের মতোই মনে করা হতো।
অতএব, কুরআন খানি করার জন্য দিন-ক্ষণ নির্ধারণ করা বার্ষিকি পালন করা এবং ভোজের আয়োজন করা বিদআত, যা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। ঈসালে সওয়াব নিজের মতো করে যতটুকু সম্ভব (একাকী) করতে থাকুন। ইসালে সাওয়াবের সুন্নাহ সম্মতি পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে নিচের লিংকে প্রবেশ করুন। https://muslimbangla.com/masail/24291
এছাড়া দুনিয়াবী কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে দোয়ার আয়োজন করা এবং খাবারের জন্য দাওয়াত দেওয়া জায়েজ আছে। তবে নিছক খাবারের জন্য দাওয়াত দিলে সেখানে দোয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করা জায়েজ হবে না। কেননা, প্রচলিত পদ্ধতিতে দোয়ার বিশেষ আয়োজন ও তা আবশ্যক মনে করা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম (রা.) কিংবা সালাফে সালেহীন থেকে প্রমাণিত নয়। এটিকে দ্বীনের অংশ মনে করে করা বিদআত, তাই এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
তবে, খাবার খাওয়ার পর দাওয়াতদাতার ইচ্ছায় কোনো প্রকার বাধ্যবাধকতা বা নিয়ম বানানো ছাড়াই যদি দাওয়াতদাতা ও তার পরিবারের বরকত এবং জীবিকার প্রশস্ততার জন্য সম্মিলিত বা ব্যক্তিগতভাবে দোয়া করা হয় এবং এই দোয়াকে আবশ্যক মনে না করা হয়, তাহলে তা জায়েজ। তাছাড়া, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে খাবার খাওয়ার পর মেজবানের (দাওয়াতদাতার) পরিবারের জন্য দোয়া করার প্রমাণ পাওয়া যায়।
في مرقاۃ المفاتیح
"وعن أنس - أو غيره - «أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - استأذن على سعد بن عبادة۔۔۔۔ثم دخلوا البيت، فقرب له زبيبا، فأكل نبي الله - صلى الله عليه وسلم - فلما فرغ قال: " أكل طعامكم الأبرار، وصلت عليكم الملائكة، وأفطر عندكم الصائمون» ". رواه في " شرح السنة ."(باب الضيافة، ج: 7، ص: 2736، ط: دار الفكر بيروت۔ لبنان)
وفیہ ایضاً: "قال عبد الله بن بسر: نزل رسول الله - صلى الله عليه وسلم - على أبي، فقربنا إليه طعاما ووطية، فأكل منها، ثم أتي بتمر، فكان يأكله، ويلقي النوى بين إصبعيه ويجمع السبابة والوسطى، وفي رواية: فجعل يلقي النوى على ظهر أصبعيه السبابة والوسطى، ثم أتي بشراب، فشربه، فقال أبي - وأخذ بلجام دابته -: ادع الله لنا، فقال: "اللهم بارك لهم فيما رزقتهم، واغفر لهم، وارحمهم"فجعل يلقي"؛ أي: فطفق يسقط نوى التمر بظهر إصبعيه؛ أي: يضعها من فيه على ظهر إصبعيه السبابة والوسطى ثم يلقيها." (كتاب الدعوات، باب الدعوات في الأوقات،٢٢٤/٢،ط:دار النوادر)
وفي صحیح مسلم "اَللّٰھُمَّ اَطْعِمْ مَّنْ اَطْعَمَنِيْ وَاسْقِ مَنْ سَقَانِيْ." (باب إكرام الضيف وفضل إيثاره،)
وفي البحر الرائق "ولأن ذكر الله تعالى إذا قصد به التخصيص بوقت دون وقت أو بشيء دون شيء لم يكن مشروعا حيث لم يرد الشرع به؛ لأنه خلاف المشروع." (كتاب الصلاة، باب
العيدين، 2/ 172، ط:دار الكتاب الإسلامي بيروت)
في مسند الدارمی :"فعدوا سيئاتكم، فأنا ضامن أن لا يضيع من حسناتكم شيء ويحكم يا أمة محمد، ما أسرع هلكتكم هؤلاء صحابة نبيكم صلى الله عليه وسلم متوافرون، وهذه ثيابه لم تبل، وآنيته لم تكسر... أو مفتتحو باب ضلالة." (باب فی کراھیة أخذ الرأي، ج:1، ص:286، رقم الحديث، 210ط:دار المغني للنشر و التوضيع، السعودية)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১