সুদি ব্যাংকে চাকরির উপার্জিত সম্পদের হুকুম
প্রশ্নঃ ১৪৯৪৫৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সুদ ভিত্তিক ব্যাংকে চাকুরী হারাম জেনে জনৈক ব্যক্তি চাকুরী ছেড়ে দিয়েছে। ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত কয়েক বিঘা জমি ছাড়া আয়ের আর কোন উৎস নাই, থাকে ভাড়া বাসায়। এমতাবস্থায় তার চাকুরির টাকায় ক্রয়কৃত আসবাবপত্র ও অনান্য সামগ্রী, স্ত্রীর গহনা, পোশাক আশাক ইত্যাদির বিধান কি হবে? চাকুরী ছাড়ার পর ব্যাংক থেকে যে সার্ভিস বেনিফিট পাওয়া যাবে তার বিধান কি হবে? উক্ত বেনিফিট দিয়ে বাড়ি করার ইচ্ছা আছে। চাকুরী থাকা কালিন উক্ত ব্যক্তি ব্যাংক থেকে সল্প সুদে লোন নিয়ে বাড়ি করার জন্য একটি প্লট ক্রয় করে যা বিক্রয়ের প্রক্রিয়াধীন আছে এবং এটি বিক্রির টাকা দিয়ে ব্যাংকের লোন পরিশোধ করার পর সামান্য কিছু টাকা বাড়তি থাকবে। ঐ বাড়তি টাকার বিধান কি হবে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
হারাম সম্পত্তি প্রথমত দুই প্রকার।
১. প্রত্যক্ষ হারাম সম্পদ:
ক. চুরি-ডাকাতি, জবর দখল ও ছিনতাইয়ের সম্পদ।
খ. ধোকা ও প্রতারণা করে অর্জিত সম্পদ।
গ. ঘুষ নেওয়া সম্পদ।
=হুকুম: এই ধরনের সম্পদের ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান হল দ্রুত তাওবাহ করে সুনির্দিষ্ট প্রাপকের কাছে তার হুবহু সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া। যেহেতু এই সম্পদগুলোর সুনির্দিষ্ট মালিক রয়েছে, তাই মালিকের কাছেই তার সম্পদ ফেরত দিতে হবে। এই ধরনের সম্পদ ভোগ করা, অথবা সম্পদ ব্যবহার করে লাভ - মুনাফা অর্জন করা সবই হারাম এবং জুলুমের অন্তর্ভুক্ত।
২. পরোক্ষ হারাম সম্পদ:
(অবৈধভাবে উপার্জিত সম্পদ)
ক. সুদের সম্পদ।
খ. নিষিদ্ধ কামাই (মদের ব্যবসা, দেহ ব্যবসা, জুয়া খেলা)
গ. হারাম পেশা ও হারাম চাকরির মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদ।
=হুকুম: এই ধরনের সম্পদ উপার্জন থেকে তাওবাহ করে হালাল পথে ফিরে আসা। যেহেতু এই সম্পদগুলো সুনির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির নয় সুতরাং নির্দিষ্ট করে কারো কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সম্পদগুলোকে যথাসম্ভব (নিজের ব্যক্তির সওয়াবের নিয়ত ছাড়া) জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করে দেওয়া উচিত।
প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যক্তি ব্যাংকের চাকরি থেকে তাওবাহ করে ফিরে এসেছেন, এটা তার প্রতি আল্লাহর অনেক বড় অনুগ্রহ। তিনি নিয়ত রাখবেন, এই চাকরির মাধ্যমে যা সম্পদ অর্জন করেছেন ধীরে ধীরে সেগুলো সবই কল্যাণের কাজে ব্যয় করে দিবেন। এই মুহূর্তে তার পরিবার চলার মত যা সম্পদ আছে সবই চাকরির মাধ্যমে অর্জিত। তাই সবগুলোকে দান করে দেওয়া তার পক্ষে খুব বেশি সহজ হবে না। এগুলো আপাতত ব্যবহার করতে থাকবেন। আর হালাল কামাইয়ের মাধ্যমে এই সম্পদগুলোর প্রতিস্থাপন করতে থাকবেন। এভাবে তিনি ধীরে ধীরে সকল হারাম থেকে মুক্ত হয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ।
এখন তার স্ত্রীর গহনা, ঘরের সৌখিন সামানা এবং আবশ্যিক প্রয়োজনের বাহিরে অতিরিক্ত যা আছে সেগুলোকে দান করতে থাকবেন।
চাকুরীর বেনিফিট যেটা পাবেন সেটা স্থায়ীভাবে ভোগ করা উচিত হবে না। তবে আপাতত বাড়ি করার প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবেন। যেহেতু তিনি ভাড়া বাসায় আছেন। নিজস্ব বাড়ি একটি মৌলিক প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত। এই মৌলিক প্রয়োজন পূরণের জন্য ঐ টাকা ব্যবহার করবেন। এরপর হালাল কামাই থেকে ঐ পরিমাণ সম্পদ দান করতে থাকবেন।
লোন করে যেই জমি ক্রয় করেছেন সেটা বিক্রি করলে লোনের অতিরিক্ত টাকা ভোগ করতে পারবেন।
التَّخَلُّصُ مِنَ الْمَال الْحَرَامِ:
13 - إِذَا كَانَ الْمَال الَّذِي فِي يَدِ الْمُسْلِمِ حَرَامًا فَإِنَّهُ لاَ يَجُوزُ لَهُ إِمْسَاكُهُ وَيَجِبُ عَلَيْهِ التَّخَلُّصُ مِنْهُ، وَهَذَا الْمَال إِمَّا أَنْ يَكُونَ حَرَامًا مَحْضًا وَقَدْ سَبَقَ بَيَانُ حُكْمِهِ وَطَرِيقَةُ التَّخَلُّصِ مِنْهُ فِي مُصْطَلَحِ (كَسْبٌ ف 17) .
وَإِمَّا أَنْ يَكُونَ مُخْتَلِطًا بِأَنْ كَانَ بَعْضُهُ حَلاَلاً وَبَعْضُهُ حَرَامًا، وَلاَ يَتَمَيَّزُ بَعْضُهُ عَنْ بَعْضٍ فَجُمْهُورُ الْفُقَهَاءِ عَلَى أَنَّهُ يَجِبُ عَلَى مَنْ بِيَدِهِ هَذَا الْمَال أَنْ يُخْرِجَ قَدْرَ الْحَرَامِ وَيَدْفَعَهُ لِمُسْتَحِقِّهِ وَيَكُونُ الْبَاقِي فِي يَدِهِ حَلاَلاً.
قَال أَحْمَدُ فِي الْمَال الْمُشْتَبِهُ حَلاَلُهُ بِحَرَامِهِ: إِنْ كَانَ الْمَال كَثِيرًا أَخْرَجَ مِنْهُ قَدْرَ الْحَرَامِ وَتَصَرَّفَ فِي الْبَاقِي، وَإِنْ كَانَ الْمَال قَلِيلاً اجْتَنَبَهُ كُلَّهُ، وَهَذَا لأَِنَّ الْقَلِيل إِذَا تَنَاوَل مِنْهُ شَيْئًا فَإِنَّهُ تَبْعُدُ مَعَهُ السَّلاَمَةُ مِنَ الْحَرَامِ، بِخِلاَفِ الْكَثِيرِ.
—আল মাওসূআ আল ফিক্বহিয়্যাহ
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া
খতীব, নবোদয় সি ব্লক জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর
ইমাম, বায়তুল ওয়াহহাব জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন