ফরজ গোসলের তায়াম্মুম
প্রশ্নঃ ১৩৮১৯৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, গোসল ফরজ হয়ে গেলে পানি ছাড়া তায়াম্মুম করে নামাজ পড়বো কিভাবে?
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ওয়েস্ট বেঙ্গল ৭৪৩৩৬৩
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
যদি কোনো ব্যক্তির ওপর গোসল ফরজ হয় তাহলে তার জন্য স্বাভাবিক বিধান হলো তিনি পানি দিয়ে নিয়মতান্ত্রিক গোসল করবেন। কোনো কারণে ঠাণ্ডা পানি ব্যবহারে অক্ষম হলে গরম পানি ব্যবহার করবেন। কেননা যে ব্যক্তির উপর গোসল ফরয হয় সে ব্যক্তি নামায পড়তে চাইলে তার উপর ফরয হচ্ছে– গোসল করে নেয়া।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا আর তোমরা জুনুবী (অপবিত্র) হলে প্রকৃষ্টভাবে পবিত্রতা অর্জন (গোসল) করবে। (সূরা মায়েদা-৬)
কিন্তু যদি কেউ গোসল করতে অক্ষম হয় এমনকি গরম পানি দিয়েও সম্ভব না হয় তাহলে তার জন্য তায়াম্মুম করার বিধান দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
وَإِن كُنتُم مَّرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِّنكُم مِّنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا
আর যদি তোমরা অসুস্থ হও বা সফরে থাক বা তোমাদের কেউ মলত্যাগ করে আসে বা তোমরা স্ত্রী সহবাস কর এবং পানি না পাও তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে। (সূরা মায়েদা-৬)
সুতরাং অসুস্থ ব্যক্তি পানি ব্যবহার করার ফলে যদি তার মৃত্যু ঘটা, কিংবা রোগ বেড়ে যাওয়া কিংবা আরোগ্য লাভ বিলম্ব হওয়ার আশংকা থাকে, অথবা সফরত হওয়ার কারণে সাথে পানি না থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে তিনি তায়াম্মুম করবেন।
যেসকল ওজরের কারণে তায়াম্মুম করা জায়েজ:
(১) যদি পানি ব্যবহারের সামর্থ্য না থাকে অর্থাৎ যেখানে ব্যক্তি অবস্থান করছে, সেখান থেকে এক মাইল বা তার বেশি দূরত্বে পানি পাওয়া যায় এবং সেখানে পৌঁছাতে গেলে নামাযের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
(২) যদি পানি ব্যবহার করলে অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার বা সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
(৩) যদি প্রচণ্ড শীতের সময় গোসল ফরজ হয় (যেমন: কোনো ব্যক্তি জুনুব অবস্থায় আছে) কিন্তু গরম পানি পাওয়ার ব্যবস্থা না থাকে এবং ঠান্ডা পানি ব্যবহারে জীবন হানির বা শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অচল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
(৪) যদি পানি এমন কোনো বিপদজনক জায়গায় থাকে (যেমন: সেখানে সাপ থাকে, কোনো শত্রু ওঁত পেতে থাকে বা ভয়ঙ্কর আগুন জ্বলছে), যার কারণে সেখানে গিয়ে পানি আনতে গেলে প্রাণনাশ বা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। অথবা কেউ এমন স্থানে অবস্থান করছে, যেখান থেকে অন্যত্র গেলে তার মালামাল চুরি হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে।
(৫) যদি পানির পরিমাণ এতটাই কম হয় যে, তা কেবল পান করার প্রয়োজনেই যথেষ্ট এবং সে পানি দিয়ে অজু বা গোসল করলে কাফেলা কিংবা তাদের পশুপাখির তৃষ্ণার কারণে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।
(৬) যদি পানি কূপ বা অন্য কোনো গভীর জায়গা থেকে উঠাতে হয় কিন্তু পানি তুলার মতো কোনো উপকরণ না থাকে এবং ব্যক্তি নিজেও কূপে নামতে সক্ষম না হয় তাহলে এইসব অবস্থায় তায়াম্মুম করে নামায আদায় বৈধ হবে।
(সূত্র: কিতাবুল মাসায়েল: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮৬; প্রকাশনা: আল-মারকাযুল ইলমী লিন-নাশর ওয়াত-তাহকীক)
গোসলের তায়াম্মুম:
গোসলের তায়াম্মুম এবং ওজুর তায়াম্মুম একই। তায়াম্মুমের ধরণে কোনো পার্থক্য নেই। কাজেই যদি কারো গোসল ফরজ হয় এবং তিনি উপারিউক্ত ওজরের কারণে গোসল করতে সক্ষম না হন তাহলে তিনি প্রথমে তার শরীরে থাকা দৃশ্যমান নাপাক দূর করে অজুর তায়াম্মুমের ন্যায় তায়াম্মুম করে নিবেন। এতেই তিনি পবিত্র হয়ে যাবেন এবং সেই পবিত্রতা দিয়ে তিনি নামাজ পড়তে পারবেন।
তায়াম্মুম যেভাবে করবে:
প্রথমে তায়াম্মুম করার নিয়ত করবে।
তারপর মাটিতে অথবা মাটিজাত বস্তুতে (পাথর, দেয়াল ইত্যাদি) দুই হাতের তালু দিয়ে একটি চাপড় দিবে। উভয় হাতকে পুরো মুখমন্ডলে মাসাহ করবে। আবার মাটিতে দ্বিতীয় চাপড় দিয়ে বাঁ হাত দিয়ে ডান হাতের কনুই পর্যন্ত মাসাহ করবে। এরপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কনুই পর্যন্ত মাসাহ করবে। এই তিনটি কাজ করলেই তায়াম্মুম হয়ে যাবে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১