আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

৬- মুসাফিরের নামায - কসর নামায

হাদীস নং: ১৬৬৭
আন্তর্জাতিক নং: ৭৬৩-৭
- মুসাফিরের নামায - কসর নামায
২০. রাতের বেলা নবী (ﷺ) এর নামায ও দুআ
১৬৬৭। মুহামাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খালা মায়মুনা (রাযিঃ) এর ঘরে আমি রাত্রে ছিলাম। আমি অপেক্ষায় ছিলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি প্রকারে নামায আদায় করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে পেশাব করলেন, তারপর হাত-মুখ ধুয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লেন। পরে উঠে মশকের কাছে গিয়ে তার বাধন খুলে পাত্রে পানি ঢেলে নিলেন। তিনি হাত দিয়ে মশকটি পাত্রের উপরে কাত করে ধরলেন। তারপর দুই উযুর মাঝামাঝি উত্তমরূপে উযু করলেন। তারপর নামাযে দাঁড়ালেন। তখন আমি এসে তাঁর পাশে দাঁড়ালাম। আমি দাঁড়ালাম তাঁর বামপাশে।

ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে ধরে তাঁর ডানপাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামায তের রাকআত হল। এর পরে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন এমনকি নাক ডাকতে লাগলেন। আমরা তাঁর নাকের আওয়াজ শুনে তাঁর ঘুমিয়ে পড়া বুঝতে পারতাম। তিনি তাঁর নামাযের মধ্যে অথবা (রাবী বলেন) তাঁর সিজদায় বলতে লাগলেন ″হে আল্লাহ! আমার কলবে নূর দান করুন, আমার কানে নূর, আমার চোখে নূর এবং আমার ডানে নূর, আমার বামে নূর, আমার সামনে নূর, আমরা পিছনে নূর আমার উপরে নূর, এবং আমার নীচে নূর দান করুন এবং আমাকে দান করুন অথবা তিনি বলেছিলেন আমাকে নুরে পরিণত করুন।″
كتاب صلاة المسافرين وقصرها
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَلَمَةَ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بِتُّ فِي بَيْتِ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَبَقَيْتُ كَيْفَ يُصَلِّي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - فَقَامَ فَبَالَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ ثُمَّ نَامَ ثُمَّ قَامَ إِلَى الْقِرْبَةِ فَأَطْلَقَ شِنَاقَهَا ثُمَّ صَبَّ فِي الْجَفْنَةِ أَوِ الْقَصْعَةِ فَأَكَبَّهُ بِيَدِهِ عَلَيْهَا ثُمَّ تَوَضَّأَ وُضُوءًا حَسَنًا بَيْنَ الْوُضُوءَيْنِ ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي فَجِئْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ - قَالَ - فَأَخَذَنِي فَأَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ فَتَكَامَلَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً ثُمَّ نَامَ حَتَّى نَفَخَ وَكُنَّا نَعْرِفُهُ إِذَا نَامَ بِنَفْخِهِ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ فَصَلَّى فَجَعَلَ يَقُولُ فِي صَلاَتِهِ أَوْ فِي سُجُودِهِ " اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا وَفِي سَمْعِي نُورًا وَفِي بَصَرِي نُورًا وَعَنْ يَمِينِي نُورًا وَعَنْ شِمَالِي نُورًا وَأَمَامِي نُورًا وَخَلْفِي نُورًا وَفَوْقِي نُورًا وَتَحْتِي نُورًا وَاجْعَلْ لِي نُورًا أَوْ قَالَ وَاجْعَلْنِي نُورًا " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আলোচ্য হাদীসে দু'আ নূরী সন্নিবেশিত হয়েছে। এটি অত্যন্ত বরকতময় নূরানী দু'আ। এই দু'আর মূল কথা হল এই যে, হে আল্লাহ্! আমার অন্তর, আত্মা, আমার শরীর, শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শিরা উপশিরায় নূর সৃষ্টি কর এবং আমাকে জ্যোতির্ময় করে দাও। আমার চারিপাশ ও উপর নিচ নূর দ্বারা পূর্ণ কর। কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে: اَللهُ نُوْرُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ এই আয়াতকে সামনে রেখে এই দু'আর মূল উদ্দেশ্য দাঁড়ায় এই যে, আমার অস্তিত্ব, আশপাশ তোমার জ্যোতি দ্বারা জ্যোতির্ময় করে দাও। আমার অন্তর-বাহির ও পরিবেশ তোমার রঙ্গে রঙ্গীন করে দাও। কেননা আল্লাহর বাণী- صِبْغَةَ اللَّهِ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ صِبْغَةً "আমরা আল্লাহর রঙ গ্রহণ করলাম রঙ্গে আল্লাহ্ অপেক্ষা কে অধিকতর সুন্দর"? (১, সূরা বাকারা: ১৩৮)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)