আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

৫- মসজিদ ও নামাযের স্থান সমূহের বর্ণনা

হাদীস নং: ১২৮৮
আন্তর্জাতিক নং: ৬২২
- মসজিদ ও নামাযের স্থান সমূহের বর্ণনা
৩৪. আসরের নামায আগেভাগে আদায় করা মুস্তাহাব
১২৮৮। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব, মুহাম্মাদ ইবনে সাব্বাহ, কুতায়বা ও ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আলা ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি যোহরের নামায আদায় করে বসরায় আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) এর গৃহে প্রবেশ করলেন। তার গৃহটি ছিল মসজিদের পাশেই। আমরা তাঁর কাছে গেলে বলেলেন, তোমরা আসরের নামায আদায় করেছ কি? আমরা তাকে বললাম, আমরাতো এখনই যোহরের নামায আদায় করলাম। তিনি বললেন, তোমরা এখন আসরের নামায আদায় কর। আমরা দাঁড়িয়ে নামায আদায় করলাম। নামায থেকে আমরা যখন ফিরলাম তখন তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে,এটা মুনাফিকের নামায, যে বসে বসে সূর্যের অপেক্ষা করে; এমনকি সূর্যটি শয়তানের দুই শিং এর মাঝামাঝি আসলে সে দাঁড়িয়ে চারটি ঠোকর মারে, আল্লাহকে সে কমই স্মরণ করে।
كتاب المساجد ومواضع الصلاة
باب اسْتِحْبَابِ التَّبْكِيرِ بِالْعَصْرِ
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ فِي دَارِهِ بِالْبَصْرَةِ حِينَ انْصَرَفَ مِنَ الظُّهْرِ وَدَارُهُ بِجَنْبِ الْمَسْجِدِ فَلَمَّا دَخَلْنَا عَلَيْهِ قَالَ أَصَلَّيْتُمُ الْعَصْرَ فَقُلْنَا لَهُ إِنَّمَا انْصَرَفْنَا السَّاعَةَ مِنَ الظُّهْرِ . قَالَ فَصَلُّوا الْعَصْرَ . فَقُمْنَا فَصَلَّيْنَا فَلَمَّا انْصَرَفْنَا قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " تِلْكَ صَلاَةُ الْمُنَافِقِ يَجْلِسُ يَرْقُبُ الشَّمْسَ حَتَّى إِذَا كَانَتْ بَيْنَ قَرْنَىِ الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَهَا أَرْبَعًا لاَ يَذْكُرُ اللَّهَ فِيهَا إِلاَّ قَلِيلاً " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

নামায মুসলমানের চোখ শীতলকারী এবং অন্তরের শান্তি দানকারী। নামাযের সময় উপস্থিত হলে স্রষ্টার সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য মু'মিনের মন ব্যাকুল হয়ে উঠে। তাই মুমিন ব্যক্তি তার যাবতীয় কাজকর্ম ত্যাগ করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য সময় মত নামাযে মশগুল হয়। অপরদিকে মুনাফিকের নিকট নামায খুবই অপছন্দনীয়। মানুষকে দেখানোর জন্য বা কোনরূপ স্বার্থের বশবর্তী হয়ে সে নামায পড়ে। যেহেতু তার মনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মহব্বত নেই এবং বিচারের দিনেও বিশ্বাসী নয় তাই নামাযের প্রতি মুনাফিকের কোন অনুরাগ নেই। হৃদয়ের আকর্ষণ না থাকার দরুন মুনাফিক সময়মত নামায পড়তে পারে না। কোন কাজের বাহানা করে বিলম্ব করতে থাকে। কোন কাজ না থাকলেও অনর্থক বসে বসে সময় নষ্ট করে। অন্তিম সময়ে নামাযের জন্য দাঁড়ালেও মন তার নামাযের জন্য প্রস্তুত থাকে না, নামাযের আদাব ও আরকান পূর্ণভাবে আদায় করে না। তাই সবদিক থেকে তার নামায অপূর্ণ এবং ত্রুটিযুক্ত থাকে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)