আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
২- পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৪৬
আন্তর্জাতিক নং: ২৩৪-১
- পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়
৬. উযুর শেষে মুস্তাহাব দুআ
৪৪৬। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম ইবনে মায়মুন (রাহঃ) ......... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের উট চরানোর দায়িত্ব নিজেদের উপরে ছিল। আমার পালা এলে আমি উট চরিয়ে বিকেলে ফিরিয়ে নিয়ে এলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে পেলাম, তিনি দাঁড়িয়ে লোকদের সঙ্গে কথা বলছেন। তখন আমি তাঁর এ কথা শুনতে পেলাম, “যে মুসলমান সুন্দর রূপে উযু করে তারপর দাঁড়িয়ে দেহ ও মনকে পুরোপুরি তার প্রতি নিবদ্ধ রেখে দুই রাকআত নামায আদায় করে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।”
উকবা বলেন, কথাটি শুনে আমি বলে উঠলাম ওহ, কথাটি কত উত্তম! তখন আমার সামনের একজন বলতে লাগলেন, আগের কথাটি আরো উত্তম। আমি সে দিকে তাকিয়ে দেখলাম তিনি উমর (রাযিঃ)। তিনি আমাকে বললেন তোমাকে দেখেছি, এইমাত্র এসেছ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আগে বলেছেন, তোমাদের যে ব্যক্তি কামিল বা পূর্ণরূপে উযু করে এই দুআ পাঠ করবে - “ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নাই, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল” তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে যাবে এবং যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।
উকবা বলেন, কথাটি শুনে আমি বলে উঠলাম ওহ, কথাটি কত উত্তম! তখন আমার সামনের একজন বলতে লাগলেন, আগের কথাটি আরো উত্তম। আমি সে দিকে তাকিয়ে দেখলাম তিনি উমর (রাযিঃ)। তিনি আমাকে বললেন তোমাকে দেখেছি, এইমাত্র এসেছ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আগে বলেছেন, তোমাদের যে ব্যক্তি কামিল বা পূর্ণরূপে উযু করে এই দুআ পাঠ করবে - “ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নাই, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল” তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে যাবে এবং যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।
كتاب الطهارة
باب الذِّكْرِ الْمُسْتَحَبِّ عَقِبَ الْوُضُوءِ
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ رَبِيعَةَ، - يَعْنِي ابْنَ يَزِيدَ - عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، ح
وَحَدَّثَنِي أَبُو عُثْمَانَ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ كَانَتْ عَلَيْنَا رِعَايَةُ الإِبِلِ فَجَاءَتْ نَوْبَتِي فَرَوَّحْتُهَا بِعَشِيٍّ فَأَدْرَكْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمًا يُحَدِّثُ النَّاسَ فَأَدْرَكْتُ مِنْ قَوْلِهِ " مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ مُقْبِلٌ عَلَيْهِمَا بِقَلْبِهِ وَوَجْهِهِ إِلاَّ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ " . قَالَ فَقُلْتُ مَا أَجْوَدَ هَذِهِ . فَإِذَا قَائِلٌ بَيْنَ يَدَىَّ يَقُولُ الَّتِي قَبْلَهَا أَجْوَدُ . فَنَظَرْتُ فَإِذَا عُمَرُ قَالَ إِنِّي قَدْ رَأَيْتُكَ جِئْتَ آنِفًا قَالَ " مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُبْلِغُ - أَوْ فَيُسْبِغُ - الْوُضُوءَ ثُمَّ يَقُولُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ إِلاَّ فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ " .
وَحَدَّثَنِي أَبُو عُثْمَانَ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ كَانَتْ عَلَيْنَا رِعَايَةُ الإِبِلِ فَجَاءَتْ نَوْبَتِي فَرَوَّحْتُهَا بِعَشِيٍّ فَأَدْرَكْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمًا يُحَدِّثُ النَّاسَ فَأَدْرَكْتُ مِنْ قَوْلِهِ " مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ مُقْبِلٌ عَلَيْهِمَا بِقَلْبِهِ وَوَجْهِهِ إِلاَّ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ " . قَالَ فَقُلْتُ مَا أَجْوَدَ هَذِهِ . فَإِذَا قَائِلٌ بَيْنَ يَدَىَّ يَقُولُ الَّتِي قَبْلَهَا أَجْوَدُ . فَنَظَرْتُ فَإِذَا عُمَرُ قَالَ إِنِّي قَدْ رَأَيْتُكَ جِئْتَ آنِفًا قَالَ " مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُبْلِغُ - أَوْ فَيُسْبِغُ - الْوُضُوءَ ثُمَّ يَقُولُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ إِلاَّ فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উযূ করায় সাধারণত বাহ্যিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ পরিচ্ছন্ন হয়। তাই মু'মিন ব্যক্তি যখন উযূ করে তখন সে মূলতঃ আল্লাহর নির্দেশ পালন করে এবং বাহ্যিক পবিত্রতা অর্জন করে। কিন্তু প্রকৃত আবর্জনা ও মালিন্য হচ্ছে ঈমানের দুর্বলতা, নিষ্ঠার ঘাটতি এবং মন্দ কাজের জঞ্জাল। এ অনুভূতিকে সামনে রেখে ঈমানকে নতুন করার লক্ষ্যে, আল্লাহর ইবাদতে নিষ্ঠার পরিচয় দিতে এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পূর্ণ অনুসরণ করতে কালেমা শাহাদাত পাঠ করে যেন নতুন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। এর ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠকের জন্য মাগফিরাতের পূর্ণ ফয়সালা হয়ে যায়। তাই হাদীসে বলা হয়েছে যে, তার জন্য জান্নাতের সকল দরজা উন্মুক্ত।
ইমাম মুসলিম (র) অন্যত্র কালেমা শাহাদাতের নিম্নোক্ত শব্দগুচ্ছও বর্ণনা করেছেন- أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। তিনি একক তাঁর কোন অংশীদার নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।"
ইমাম তিরমিযী (র) এ হাদীস বর্ণনায় নিম্নোক্ত শব্দগুচ্ছও উল্লেখ করেছেন: اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَجَعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ "হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর এবং আমাকে পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের মধ্যে শামিল কর।"
ইমাম মুসলিম (র) অন্যত্র কালেমা শাহাদাতের নিম্নোক্ত শব্দগুচ্ছও বর্ণনা করেছেন- أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। তিনি একক তাঁর কোন অংশীদার নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।"
ইমাম তিরমিযী (র) এ হাদীস বর্ণনায় নিম্নোক্ত শব্দগুচ্ছও উল্লেখ করেছেন: اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَجَعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ "হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর এবং আমাকে পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের মধ্যে শামিল কর।"
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: