আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

৯- আযান-ইকামতের অধ্যায়

হাদীস নং: ৭১৮
আন্তর্জাতিক নং: ৭৫৪
- আযান-ইকামতের অধ্যায়
৪৮৬. নামাযের মধ্যে কোন কিছু ঘটলে বা কোন কিছু দেখলে বা কিবলার দিকে থুথু দেখলে, সে দিকে তাকান।
৭১৮। ইয়াহয়া ইবনে বুকাইর (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুসলমানগণ ফজরের নামাযে রত, এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশা (রাযিঃ) এর হুজরার পর্দা উঠালে তাঁরা চমকে উঠলেন। তিনি তাঁদের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, তাঁরা কাতারবদ্ধ হয়ে আছেন। তা দেখে তিনি মুচকি হাসলেন। আবু বকর (রাযিঃ) তাঁর ইমামতির স্থান ছেড়ে দিয়ে কাতারে শামিল হওয়ার জন্য পিছিয়ে আসতে চাইলেন। তিনি মনে করেছিলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হতে চান। মুসলিমগণও নামায ছেড়ে দিতে উদ্যত হয়েছিলেন। তিনি ইশারায় তাঁদের বললেন, তোমরা তোমাদের নামায পূরো করো। তারপর তিনি পর্দা ফেলে দিলেন। সে দিনেরই শেষভাগে তাঁর ইন্‌তিকাল হয়।*
*অর্থাৎ তাঁর ইনতিকালের বিষয়টি শেষ প্রহরে সকলের নিকট সুনিশ্চিতভাবে প্রতীয়মান হয়। কেননা, ঐতিহাসিকগণ এ ব্যাপারে একমত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দিনের প্রথম প্রহরে ইনতিকাল করেছেন। তাই এ হাদীসের ব্যাখ্যা এভাবেই করা যাবে।
كتاب الأذان
بَابٌ: هَلْ يَلْتَفِتُ لِأَمْرٍ يَنْزِلُ بِهِ، أَوْ يَرَى شَيْئًا، أَوْ بُصَاقًا فِي القِبْلَةِ؟
754 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ: بَيْنَمَا المُسْلِمُونَ فِي صَلاَةِ الفَجْرِ لَمْ يَفْجَأْهُمْ إِلَّا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «كَشَفَ سِتْرَ حُجْرَةِ عَائِشَةَ، فَنَظَرَ إِلَيْهِمْ وَهُمْ صُفُوفٌ، فَتَبَسَّمَ يَضْحَكُ، وَنَكَصَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَلَى عَقِبَيْهِ لِيَصِلَ لَهُ الصَّفَّ، فَظَنَّ أَنَّهُ يُرِيدُ الخُرُوجَ وَهَمَّ المُسْلِمُونَ أَنْ يَفْتَتِنُوا فِي صَلاَتِهِمْ، فَأَشَارَ إِلَيْهِمْ أَتِمُّوا صَلاَتَكُمْ، فَأَرْخَى السِّتْرَ وَتُوُفِّيَ مِنْ آخِرِ ذَلِكَ اليَوْمِ»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

যে দিন হুযূর (ﷺ)-এর ওফাত হয়েছে, সেদিন সকালে তাঁর অবস্থা বাহ্যত খুবই ভাল ও উদ্বেগমুক্ত হয়ে গিয়েছিল। হযরত আনাস রাযি.-এর এ হাদীস থেকে এর পূর্ণ সমর্থন পাওয়া যায় যে, তিনি নিজে নিজে উঠেই হুজরার দরজার নিকট আসলেন। তারপর পর্দা উঠিয়ে দেখলেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে কাতারবন্দী হয়ে নামায আদায় করতে দেখে তিনি অত্যন্ত খুশী হলেন, তাঁর চেহারায় আনন্দের দীপ্তি ফুঠে উঠল। আবূ বকর সিদ্দীক রাযি. যখন পেছনে সরে আসতে চাইলেন এবং আশংকা দেখা দিল যে, লোকেরা খুশীর আতিশয্যে নামাযের নিয়্যত ছেড়ে দেয় কি না, তখন তিনি হাত দ্বারা ইশারা করে বললেন যে, তোমরা যেভাবে নামায পড়ছ, সেভাবেই আবূ বকর রাযি.-এর মুক্তাদী হয়ে নামায শেষ করে নাও। এ দিন সকালে হুযুর (ﷺ)-এর শারীরিক অবস্থা বাহ্যত এতটুকু ভাল হয়ে গিয়েছিল যে, হযরত আবূ বকর রাযি. নিশ্চিন্ত হয়ে নিজের বাড়ী 'সুনহ'-এ তাশরীফ নিয়ে গেলেন- যা মসজিদে নববী থেকে বেশ দূরে ছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)