মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১০৩৫
নামাযের অধ্যায়
(৪) অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামাযের বিবরণ সম্পর্কে উন্মুল-মু'মিনীন আয়েশা (রা) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে
(১০৩১) যুরারাহ ইবন্ আওফা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা)-কে নবী (সা)-এর রাত্রকালীন (নফল) নামায সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছেন যে, তিনি ইশার নামায আদায় করার পর পরই আরও দু'রাকা'আত নামায আদায় করতেন। তারপর ঘুমিয়ে পড়তেন। এরপর তিনি যখন জেগে উঠতেন তখন তাঁর নিকট ওযুর পানি ঢাকা থাকতো, তাঁর মিসওয়াকও থাকতো। তিনি মিসওয়াক করতেন অতঃপর ওযু করতেন। তারপর আট রাকা'আত নামায আদায় করে নিতেন যাতে তিনি সূরা ফাতিহাসহ পবিত্র কুরআন থেকে আল্লাহর ইচ্ছায় যে কোন অংশ পাঠ করতেন। এতে তিনি অষ্টম রাকা'আত ছাড়া অন্য কোন রাকা'আতে বৈঠক করতেন না। অষ্টম রাকা'আতে বৈঠক করতেন এবং তাশাহহুদ পাঠ করতেন। তারপর তিনি সালাম না ফিরিয়েই দাঁড়িয়ে যেতেন। তারপর তিনি আরও এক রাকা'আত নামায আদায় করে নিতেন। এতে তিনি বসে যেতেন তারপর তাশাহহুদ পড়তেন এবং দু'আ করতেন। তারপর তিনি السَّلاَمُ عَلَيْكُم বলে এক সালাম ফিরাতেন। এতে তিনি তাঁর কণ্ঠস্বর এতো জোরে করতেন যে, আমাদেরকে জাগিয়ে তুলতেন। অতঃপর তিনি বসা অবস্থায় তাকবীর দিয়ে নামায আরম্ভ করতেন তারপর তেলাওয়াত করতেন এবং বসাবস্থাতেই রুকু ও সিজদা আদায় করতেন। এভাবে তিনি বসা অবস্থায় দু' রাকা'আত নামায আদায় করে নিতেন। এই হলো এগার রাকা'আত নামায। এরপর যখন তাঁর মাংস বৃদ্ধি পেল এবং শরীর স্থুল (ভারী) হয়ে গেল তখন তিনি এ নয় রাকা'আতকে সাতে পরিণত করলেন। এতেও তিনি কোন বৈঠক করতেন না প্রথমবারের ন্যায় এক বৈঠক ছাড়া। তারপর দু' রাকা'আত নামায বসে বসে আদায় করে নিতেন। মহান আল্লাহ উঠিয়ে নেয়া পর্যন্ত এই ছিলো রাসূলুল্লাহ (সা)-এর (রাত্রিকালীন) নামায।
(উক্ত রাবী হতে দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণিত) সা'দ ইবন্ হিশাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উন্মুল-মু'মিনীন আয়েশা (রা)-কে বললাম, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর রাত্রিকালীন নামায কেমন ছিল? তিনি (উত্তরে) বললেন, তিনি ইশার নামায আদায় করতেন, অতঃপর উপরোক্ত হাদীসটি উল্লেখ করেন। তারপর দাঁড়িয়ে দু' রাকা'আত নামায আদায় করতেন। এতে তিনি এতো জোরে শব্দ করে তাকবীর বলতেন যে, মনে হতো আমাদেরকে জাগিয়ে দিবেন। বরং আমাদেরকে জাগিয়েই দিত। তারপর তিনি এতো জোরে দু'আ করতেন যে, আমাদেরকে শুনানো হতো। এরপর তিনি উচ্চস্বরে সালাম ফিরাতেন।
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী, বায়হাকী ও অন্যানা।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما روي عن أم المؤمنين عائشة رضى الله عنها
في صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل
(1035) عن زرارة بن أوفى قال سألت عائشة رضي الله عنها عن صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بالليل، فقالت كان يصلي العشاء ثم يصلي بعدها ركعتين ثم ينام، فإذا استيقظ وعنده وضوءه مغطى وسواكه استاك ثم توضأ فقام فصلى ثمان ركعات يقرأ فيهن بفاتحة الكتاب وما شاء الله من القرآن، فلا يقعد في شيء منهن إلا في الثامنة فإنه يقعد فيها فيتشهد ثم يقوم ولا يسلمن فيصلي ركعةً واحدةً ثم يجلس فيتشهد ويدعو، ثم يسلم تسليمةً واحدةً السلام عليكم يرفع بها صوته حتى يوقظنا، ثم يكبر وهو جالس فيقرأ، ثم يركع ويسجد وهو جالسٌ، فيصلي جالسًا ركعتين، فهذه إحدى عشرة ركعةً، فما كثر لحمه وثقل جعل التسع سبعًا لا يقعد إلا كما يقعد في الأولى (2) ويصلي الركعتين قاعدًا، فكانت هذه صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى قبضه الله (وعنه من طريقٍ ثانٍ) (3) عن سعد بن هشامٍ قال قلت لأم المؤمنين عائشة رضي الله عنهما كيف كانت صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل؟ قالت كان يصلي العشاء فذكر الحديث (1) ويصلي ركعتين قائمًا يرفع صوته كأنه يوقظنا (2) بل يوقظنا، ثم يدعو بدعاءٍ يسمعنا، ثم يسلم تسليمةً يرفع بها صوته
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান