মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৬. পবিত্রতা অর্জন

হাদীস নং: ৫৩৭
আন্তর্জাতিক নং: ২৭৪৭৪
পবিত্রতা অর্জন
(২৫) পরিচ্ছেদঃ যে ইস্তিহাযাগ্রস্ত মহিলা তার পূর্বে ঋতুস্রাবের নিয়মের কথা জানে না এবং স্রাবও পৃথক করতে পারছে না এমতাবস্থায় সে কি করবে?
ইমরান ইবন্ তালহা তাঁর মা হাসনা বিনতে জাহাশ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমার প্রচূর রক্তস্রাব হতো। তখন আমি রাসূলুল্লাহ্ কাছে আসলাম তার কাছে এ প্রসঙ্গে ফাতওয়া চাইতে এবং তাকে জানাতে। তখন তাঁকে আমার বোন যাইনাব বিনতে জাহাশর ঘরে পেলাম। তিনি বলেন, তখন আমি তাঁকে বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনার কাছে আমার একটা প্রয়োজন আছে। তিনি বললেন, তা কি? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার প্রচুর রক্তস্রাব হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আপনি কি বলেন? তা আমাকে নামায রোযা থেকে বিরত রেখেছে। তিনি বললেন, আমি তোমাকে ফুরসফ অর্থাৎ তুলা ব্যবহারের কথা বলছি তা তোমার রক্ত বন্ধ করবে। তিনি বললেন, এ স্রাব অত্যধিক, তুলা তা বন্ধ করতে পারবে না। রাসূল (ﷺ) বলেন, আমি তোমাকে দু'টি নির্দেশ দিব । এতদুভয়ের যে কোন একটা আদেশ পালন করলেই দ্বিতীয়টাও আদায় হয়ে যাবে। আর যদি উভয় আদেশ পালন করতে পারো তাহলে তুমিই তা ভাল জান। তারপর তাকে বললেন, এটা শয়তানের একটা আঘাত। তুমি ছয় থেকে সাতদিন পর্যন্ত হায়েয (ঋতুস্রাব) পালন করবে, যা আল্লাহর ইলমে বিদ্যমান। অতঃপর গোসল করে নিজে যখন তোমার মনে হবে যে, তুমি পবিত্র হয়েছ । আর তোমার ইয়াকীন ও বিশ্বাস হবে যে, তুমি পূত-পবিত্র হয়েছ তখন থেকে চব্বিশ বা তেইশ দিন ও রাত পর্যন্ত নামায পড়বে এবং রোযা রাখবে, এটা তোমার জন্য যথেষ্ট। প্রতি মাসেই এরূপ করবে। যেমন অন্যান্য নারীর ঋতুস্রাব হয়, যেমনি তারা তাদের নির্ধারিত সময়ে পাক-পবিত্র হয়। তেমনি তুমিও পাক-পবিত্র হবে।) (আর দ্বিতীয় পথটি হল) আর যদি তুমি যোহরের নামাযকে বিলম্ব ও আছরের নামাযকে এগিয়ে নিয়ে আসতে পার তাহলো গোসল করে যোহর ও আসরের নামায একত্রে পড়বে। অতঃপর মাগরিবের নামায বিলম্ব করবে আর এশার নামাযকে এগিয়ে নিয়ে আসবে তারপর গোসল করে এতদুভয় নামাযকে একত্রে আদায় করতে পার তাহলে তা-ই করবে। আর ফজরের সময় গোসল করেই নামায পড়বে। এভাবেই সব সময় নামায পড়বে ও রোযা রাখবে। যদি তা তোমার পক্ষে সম্ভব হয়। (রাবী ইমরান) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছিলেন, এতদুভয়ের মধ্যে শেষোক্ত পদ্ধতিটাই আমার কাছে অধিক প্রিয় ।
كتاب الطهارة
(25) باب في المستحاضة التي جهلت عادتها ولم تميز، ماذا تفعل؟
(41) عن عمران بن طلحة عن أمِّه حمنة بنت جحش رضي الله عنها قالت كنت أستحاض حيضةً شديدةً كثيرةً فجئت رسول الله صلى الله عليه وسلم أستفتيه وأخبره فوجدته في بيت أختي زينب بنت جحش، قالت فقلت يا رسول الله إنّ لي إليك حاجةً: فقال وما هي؟ فقلت يا رسول الله إنّي أستحاض حيضةً كثيرةً شديدةً فا ترى فيها؟ قد منعتني الصَّلاة والصِّيام، قال أنعت لك الكرسف فإنه يذهب الدِّم، قال هو أكثر من ذلك، قال فتلجِّمي قالت إنَّما
أثجُّ ثجّا فقال لها سآمرك أمرين أيَّهما فعلت فقد أجزأ عنك من الآخر، فإن قويت عليهما فأنت أعلم: فقال لها إنَّما هذه ركضة من ركضات الشَّيطان، فتحيَّضي ستَّة أيّاَم إلى سبعة في علم الله ثمَّ اغتسلي حتَّى إذا رأيت أنَّك قد طهرت واستيقنت واستنقأت فصلّي أربعًا وعشرين ليلةً أو ثلاثًا وعشرين ليلةً وأيّامها وصومي، فإنّ ذلك يجزئك، وكذلك فافعلي في كلّ شهر كما تحيض النِّساء وكما يطهرن بميقات حيضهنَّ وطهرهنَّ، وإن قويت على أن تؤخّري الظُّهر وتعجّلي العصر فتغتسلين ثم تصلّين الظُّهر والعصر جميعًا ثمّ تؤخِّرين المغرب وتعجَّلين العشاء ثمَّ تغتسلين وتجمعين بين الصَّلاتين فافعلي، وتغتسلين مع الفجر وتصلِّين، وكذلك فافعلي وصلِّي وصومي إن قدرت على ذلك وقال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم وهذا أعجب الأمرين إليَّ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

(تخريجه) (فع. د. جه. قط. ك. مذ) وقال هذا حديث حسن صحيح قال وسألت محمدا (يعني البخاري) عن هذا الحديث فقال حديث حسن وهكذا قال أحمد بن حنبل هو حديث حسن صحيح (قال الخطابي) قد ترك بعض العلماء القول بهذا الحديث لأن ابن عقيل راويه ليس بذاك، وقال البيهقي تفرد به عبد الله بن محمد بن عقيل وهو مختلف في الاحتجاج به (وقال الحافظ الذهبي) في ترجمته بعد ذكر أقوال الجارحين والمعدلين حديثه في مرتبة الحسن

[শাফেয়ী আবূ দাউদ, ইবন্ মাজাহ্ দার কুতনী, মালেক ও তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত । তিনি হাদীসটি হাসান ও সহীহ্ বলে মন্তব্য করেন। আরও বলেন, আমি এ হাদীস সম্বন্ধে ইমাম বুখারীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনিও হাদীসটি হাসান বলে মন্তব্য করেন। ইমাম আহমদ ও হাদীসটি হাসান সহীহ্ বলে মন্তব্য করেছেন।]
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান