মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
৭. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৮২
নামাযের অধ্যায়
নামায পড়ার নিয়ম
(৭) পরিচ্ছেদঃ নামায পড়ার সঠিক নিয়ম
(৭) পরিচ্ছেদঃ নামায পড়ার সঠিক নিয়ম
(৪৮২) আব্দুর রহমান ইবন্ গানাম (র) থেকে বর্ণিত যে, আবূ মালিক আশ'আরী (রা) তাঁর গোত্রের লোকদেরকে জড়ো করে বললেন, হে আশ'আরী গোত্রের লোকেরা তোমরা একত্রিত হও এবং তোমাদের মহিলা ও সন্তানদেরকে জড়ো কর। আমি তোমাদেরকে রাসূল (ﷺ) মদীনাতে আমাদের নিয়ে যেভাবে নামায পড়েছেন সে নামায শিক্ষা দেব। তখন তাঁরা জড়ো হল এবং তাঁদের নারী ও সন্তানদের একত্রিত করল। অতঃপর তিনি ওষু করলেন এবং তাদেরকে কিভাবে ওযূ করতে হয় নিয়ম শেখালেন এবং ওযুর সমস্ত অঙ্গে পানি পৌছালেন, তারপর যখন সূর্য ঢলে পড়ল আর ছায়া ভেঙ্গে গেল (অর্থাৎ জোহরের মুসতাহাব ওয়াক্ত হলো।) তিনি দাঁড়ালেন, তারপর আযান দিলেন তারপর পুরুষদেরকে প্রথম কাতারে দাঁড় করালেন আর শিশুদেরকে তাঁদের পেছনে দাঁড় করালেন আর নারীগণকে শিশুদের পেছনে দাঁড় করালেন তারপর নামাযের ইকামত দিলেন, তারপর সামনে এগিয়ে গেলেন। তারপর দু'হাত উঠিয়ে তাকবীর দিলেন। তারপর সূরা ফাতিহা ও সহজ একটি সূরা পড়লেন। তারপর তাকবীর বলে রুকু দিলেন। তারপর রুকুতে তিনবারسُبْحَانَ اللّهِ وَ بِحَمْدِهِ 'সুবহানাল্লাহি ওয়াবি-হামিদিহী" বললেন। তারপর سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ "সামিআল্লাহু লিমান হামিদা” বলে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন, তারপর তাকবীর বলে সিজদায় গেলেন তারপর তাকবীর বলে মাথা উঠালেন, তারপর পুনরায় তাকবীর বলে সিজদায় গেলেন, তারপর তাকবীর বলে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন, এভাবে প্রথম রাক'আতে তিনি ছয়টি তাকবীর দিলেন, আর যখন দ্বিতীয় রাক'আতের জন্য উঠলেন তখনও তাকবীর বললেন। নামায শেষে গোত্রের লোকদের দিকে মুখ ফেরালেন, তারপর বললেন, তোমরা আমার তাকবীর বলা অনুসরণ কর এবং আমার রুকু ও সিজদা শিখে নাও। কারণ, এটাই রাসূল (ﷺ)-এর নামায। যা তিনি এরূপ দিনের বেলা আমাদের সাথে আদায় করেছেন। অতঃপর রাসূল (ﷺ) যখন তাঁর নামায শেষ করলেন তখন মানুষের দিকে মুখ করে বললেন, হে মানুষেরা শোন ও বুঝে নাও, এবং জেনে রাখ যে, আল্লাহর এমন কিছু বান্দা রয়েছেন যারা নবীও নন শহীদও নন। আল্লাহর নৈকট্য ও তাঁদের অবস্থানের কারণে নবীগণ এবং শহীদরা তাঁদেরকে ঈর্ষা করেন। সে সময় একজন অপরিচিত মরুবাসী এসে রাসূল (ﷺ)-এর দিকে তার হাত দ্বারা ইশারা করে বলল, হে আল্লাহর নবী (ﷺ), কিছু লোক যারা নবীও নন শহীদও নন অথচ নবী ও শহীদরা পর্যন্ত আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও মর্যাদা পাওয়ার কারণে তাদের ঈর্ষা করে! আপনি তাঁদের পরিচয় আমাদের বলুন। তার কথা শুনে আনন্দে রাসূল (ﷺ)-এর মুখমণ্ডল হাস্যোজ্জ্বল হয়ে উঠলো, রাসূল (ﷺ) বললেন, তাঁরা অপরিচিত লোক দীনের সম্পর্ক ছাড়া তোমাদের সাথে তাদের গোত্রীয় ও আত্মীয়তার কোন সম্পর্ক নেই, তারা আল্লাহর ওয়াস্তে একে অপরকে ভালবাসে এবং কাতারবন্দী হয়। আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাদের জন্য নূরের মিনার তৈরী করবেন, তারপর তাঁদেরকে তার ওপর বসাবেন, তাঁদের মুখমণ্ডল ও পোশাক নূরদ্বারা আলোকিত করবেন: সেদিন সমস্ত মানুষ ভীত হয়ে যাবে কিন্তু তাঁদের কোন ভয় থাকবে না, তাঁরা আল্লাহর ওলী বা বন্ধু তাঁদের কোন ভয় থাকবে না আর না তাঁরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে।
(মুনযিরী বলেন, হাদীসটি ইমাম আহমদ ও আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন, হাদীসের সনদ উত্তম, হাকিমও হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসের সনদ সহীহ্।)
(মুনযিরী বলেন, হাদীসটি ইমাম আহমদ ও আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন, হাদীসের সনদ উত্তম, হাকিমও হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসের সনদ সহীহ্।)
كتاب الصلاة
أبواب صفه الصلاة
(7) باب جامع صفة الصلاة
(7) باب جامع صفة الصلاة
(482) عن عبد الرحمن بن غنم أن أبا مالك الأشعري (رضى الله عنه) جمع قومه فقال يا معشر الأشعريين اجتمعوا واجمعوا نساءكم وأبناءكم أعلمكم صلاة النبي صلى الله عليه وسلم التى كان يصلى لنا بالمدينة, فاجتمعوا وجمعوا نساءهم وأبناءهم فتوضأ وأراهم كيف يتوضأ فأحصى الوضوء إلى أماكنه (1) حتى لما أن فاء الفئ (2) وانكسر الظل قام فأذن فصف الرجال فى أدنى الصف, وصف الولدان (3) خلفهم, وصف النساء خلف الولدان, ثم أقام الصلاة, فتقدم فرفع يديه فكبر, فقرأ بفاتحة الكتاب وسورة يسرها, ثم كبر فركع فقال سبحان الله وبحمده ثلاث مرات, ثم قال سمع الله لمن حمده واستوى قائما, ثم كبر وخر ساجدا ثم كبر فرفع رأسه, ثم كبر فسجد, ثم كبر فانتهض قائما, فكان تكبيره فى أول ركعة ست تكبيرات (4) وكبر حين قام إلى الركعة التانية, فلما قضى صلاته أقبل إلى قومه بوجهه فقال احفظوا تكبيرى, وتعلموا ركوعىوسجودى, فإنها صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم التى كان يصلى لنا كذا الساعة من النهار (5) ثم إن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما قضى صلاته أقبل إلى الناس بوجهه, فقال يا أيها الناس اسمعوا واعقلوا واعلموا أن لله عز وجل عبادا ليسوا بأنبياء ولا شهداء, يغبطهم (1) الأنبياء والشهداء على مجالسهم وقربهم من الله, فجاء رجل من الأعراب من قاصية الناس (2) وألوى بيده إلى نبي الله صلى الله عليه وسلم فقال يا نبي الله, ناس من الناس ليسوا بأنبياء ولا شهداء يغبطهم الأنبياء والشهداء على مجالسهم وقربهم من الله, انعتهم لنا يعني صفهم لنا, فسر وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم لسؤال الأعرابى, فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم هم ناس من أفناء الناس (3) ونوازع القبائل لم تصل بينهم أرحام متقاربة, تحابوا فى الله وتصافوا, يضع الله لهم يوم القيامة منابر من نور فيجلسهم عليها, فيجعل وجوههم نورا وثيابهم نورا, يفزع الناس يوم القيامة ولا يفزعون, وهم أولياء الله الذين لا خوف عليهم ولا يحزنون