মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১১৫
নামাযের অধ্যায়
(৪) পরিচ্ছেদঃ আসরের নামাযের সময় এবং এতদসংক্রান্ত বিষয়ে
(১১৫) যুহরী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস ইবন্ মালিক (রা) আমাকে অবহিত করেন যে, রাসূল (ﷺ) আসরের নামায এময় সময় আদায় করতেন যাতে একজন গমনকারী শহরের উপকণ্ঠের গ্রামগুলিতে যেতে পারে এমতাবস্থায় যে, সূর্য তখনও বেশ উপরে। (অপর বর্ণনায় সূর্য তখনও উজ্জীবিত শুভ্র) যুহরী বলেন, উপকণ্ঠের গ্রামগুলি হলো মদীনা থেকে দুই অথবা তিন মাইল দূরে। আমার মনে হয় তিনি চার মাইলও বলেছেন।
كتاب الصلاة
(4) باب وقت العصر وما جاء فيها
(115) وعن الزُّهرىِّ قال أخبرني أنس بن مالكٍ أنِّ رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلِّى العصر فيذهب الذَّاهب إلى العوالى والشَّمس مرتفعةٌ (وفى رواية بيضاء حيَّةٌ) قال الزُّهريُّ والعوالى على ميلين من المدينة، وثلاثة أحسبه قال وأربعة

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত আনাস (রা) দীর্ঘজীবি ছিলেন। তিনি হিজরী প্রথম শতাব্দীর শেষদিকে ইন্তিকাল করেন। তিনি খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগের অবসানের পর উমায়্যা খিলাফতের প্রায় পঁচিশ বছর জীবিত ছিলেন। তাঁর জীবদ্দশায় বনু উমায়‍্যার অনেক শাসক আসরের সালাত বিলম্বে আদায় করত। হযরত আনাস (রা) এ কাজকে ভুল এবং সুন্নাত পরিপন্থী মনে করতেন এবং সময়-সুযোগমত তিনি এ বিষয়ে অভিমত প্রকাশ করতেন। এই হাদীস বর্ণনার মূলে তাঁর এ উদ্দেশ্য ছিল যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ এত বিলম্বে কখনো আসরের সালাত আদায় করতেন না। তিনি যখন আসরের সালাত আদায় করতেন তখন সূর্য ঊর্ধ্বাকাশে থাকত। দীপ্তিও অপরিবর্তিত থাকত। এমনকি তাঁর সাথে সালাত আদায় করে যদি কেউ মদীনার উপকণ্ঠে যেত তখনো সূর্য ঊর্ধ্বাকাশে দীপ্তিমানই প্রতিভাত হতো। 'আওয়ালী' মদীনার নিকটবর্তী উপকণ্ঠকে বলা হয়। এটি মদীনা থেকে পূর্বদিকে অবস্থিত। এসবের মধ্যে যেটি অদূরে সেটির ব্যবধান দুই মাইল আর যা দূরে তার দূরত্ব পাঁচ থেকে ছয় মাইল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ - হাদীস নং ১১৫ | মুসলিম বাংলা