মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৮৩
নামাযের অধ্যায়
(১৩) পরিচ্ছেদঃ নামায যে সব পর্যায় অতিক্রম করেছে সে প্রসঙ্গে
(৮৩) আবদুর রহমান ইবন্ আবু লাইলা থেকে বর্ণিত, তিনি মু'আয ইবন্ জাবাল (রা) থেকে বর্ণনা করেন, যে তিনি বলেন, নামায তিনটি পর্যায় অতিক্রম করেছে। আর রোযাও তিনটি পর্যায় অতিক্রম করেছে। নামাযের অবস্থাগুলো হল- নবী (ﷺ) মদীনায় এসে সতের মাস পর্যন্ত বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে অভিমুখী হয়ে নামায পড়েছিলেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাঁর উপর অবতীর্ণ করলেন,

{قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ} [البقرة: 144]

(আকাশের দিকে তোমার বার বার তাকানো সে আমি অবশ্য লক্ষ্য করি। সুতরাং তোমাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দিতে চাই যা তুমি পছন্দ কর। অতএব, তুমি মসজিদে হারামের দিকে মুখ ফিরাও। তোমরা যেখানেই থাক না কেন সেদিকেই মুখ ফিরাও।) (সূরা বাকারা: ১৪৪)
তিনি বলেন, আল্লাহ এভাবেই মক্কার দিকে তাঁর মুখ ফিরালেন। এটা এক পর্যায় অবস্থা।
তিনি বলেন, লোকেরা নামাযের জন্য (প্রথমাবস্থায়) একে অপরকে ডেকে একত্রিত হত। পরিশেষে তারা ঘণ্টা বাজালেন বা বাজাবার উপক্রম হল। তিনি বলেন, অতঃপর এক আনসারী লোক -তাঁর নাম আবদুল্লাহ ইবন্ যায়েদ- রাসূল (ﷺ)-এর কাছে আসলেন। তারপর বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আমি এক স্বপ্ন দেখলাম যেমন অন্যরা দেখেন। এ স্বপ্নের ব্যাপারে যদি বলি আমি ঘুমানো ছিলাম না তাহলেও সত্যি বলা হবে। আমি যখন ঘুম ও চেতনার মধ্যে ছিলাম তখন দেখলাম যে, এক লোক দু'টি সবুজ কাপড় পরে কিবলার দিকে অভিমুখী হয়ে বলতে লাগল, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। আশহাদু আন লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। দু'বার করে বললেন। এভাবেই আযান শেষ করলেন। তারপর কিছুক্ষণ বিরত রইলেন। তিনি বলেন, তারপর যেরূপ বলছিলেন সেরূপ আবার বললেন, তবে এবার অতিরিক্ত বললেন, কাদ কামাতিস্ সালাত, কাদ কামাতিস্ সালাত।
তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, তা বিলাল (রা)-কে শিখিয়ে দাও, সে যেন এর দ্বারা আযান দেয়। বিলাল এর দ্বারা প্রথম আযান দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তারপর উমর ইবন্ খাত্তাব (রা) আসলেন, এসেই বললেন। ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আমার কাছেও পরিভ্রমণ করেছে লোকটি যেরূপ তার কাছে পরিভ্রমণ করেছে। তবে এ ব্যাপারে সে আমার আগে এসে জানিয়েছে। এটা ছিল দ্বিতীয় পর্যায়।
তিনি বলেন, লোকেরা নামাযে আসত। কখনো কখনো মহানবী (ﷺ) তাঁদের আগে এসে নামায আরম্ভ করতেন। তিনি বলেন, তখন কোন লোক নতুন আসলে অন্যকে ইশারা করে জিজ্ঞাসা করতো কয় রাক'আত পড়েছেন? সে উত্তরে বলত এক রাক'আত বা দু'রাক'আত তখন লোকটি সে নামায পড়ে নিত। তারপর লোকদের সাথে তাদের জামাতে শরীক হত। তিনি বলেন, একবার মু'আয (রা) এসে বললেন, আমি তাঁকে যে অবস্থায়ই পাই না কেন, সেই অবস্থাতেই নামাযে শরীক হব। এরপর তিনি আগে যে কয় রাক'আত পড়েছেন তা শেষে কাযা করব। তিনি বলেন, তিনি (মু'আয) আসলেন তখন দেখা গেল, মহানবী (ﷺ) আগেই কিছু নামায পড়ে ফেলেছেন। তিনি বলেন, এমতাবস্থায় (মু'আয রা) মহানবীর সাথে শরীক হলেন। যখন নবী (ﷺ) তাঁর নামায শেষ করলেন তখন তিনি দাঁড়িয়ে তাঁর বাকি নামায কাযা করলেন। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, মু'আয তোমাদের জন্য এক নতুন নিয়ম জারী করেছেন। তোমরাও অনুরূপ করো। এগুলো হলো নামাযের তিন অবস্থা। আর রোযার অবস্থা সম্বন্ধে (বাকি হাদীসে উল্লেখ করেছেন।)
(আবু দাউদ, দারাকুতনী, ইবন্ খোযাইমা, বাইহাকী, নাসাঈ ও তাহাবী কর্তৃক বর্ণিত। হাদীসটির সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(13) باب ما جاء فى الأحوال التى عرضت للصلاة
(83) عن عبد الرَّحمن بن أبى ليلى عن معاذ بن جبلٍ رضى الله عنه قال أحيلت الصَّلاة ثلاثة أحوالٍ، وأحيل الصِّيام ثلاثة أحوال، فأمَّا أحوال الصَّلاة فإنَّ النَّبى صلى الله عليه وسلم قدم المدينة وهو يصلِّى سبعة عشر شهرًا إلى بيت المقدس، ثمَّ إنَّ الله أنزل عليه (قد نرى تقلب وجهك في السَّماء فلنولِّينَّك قبلةً ترضاها، فولِّ وجهك شطر المسجد الحرام وحيث ما كنتم فولوا وجوهكم شطره) قال
فوجَّهه الله إلى مكَّة قال فهذا حولٌ
(قال) وكانوا يجتمعون للصلاة ويوذن بها بعضهم بعضًا حتَّى نقسوا أو كادوا ينقسون، قال ثمَّ إن رجلًا من الأنصار يقال له عبد الله بن زيدٍ أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله إنِّى رأيت فيما يرى النَّائم ولو قلت إنِّى لم أكن نائمًا لصدقت، إنِّى بينما أنا بين النَّائم واليقظان إذ رأيت شخصًا عليه ثوبان أخضر ان فاستقبل القبلة فقال الله أكبر، الله أكبر، أشهد أن لا إله إلَّا الله، أشهد أن لا إله إلاَّ الله مثنى حتَّى فرغ من الأذان ثمَّ أمهل ساعةً، قال ثمَّ قال مثل الَّذى قال غير أنَّه يزيد في ذلك قد قامت الصَّلاة قد قامت الصَّلاة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم علِّمها بلالًا فليؤذِّن بها، فكان بلالٌ أوَّل من أذَّن بها، قال وجاء عمر ابن الخطّاب فقال يا رسول الله إنَّه قد طاف بى مثل الذَّى أطاف به غير أنَّه سبقنى فهذان حولان
(قال) وكانوا يأتون الصَّلاة وقد سبقهم ببعضها النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم قال فكان الرَّجل يشير الى الرَّجل إن جاءكم صلَّى؟ فيقول واحدةً أو اثنتين فيصلِّيها ثمَّ يدخل مع القوم في صلاتهم، قال فجاء معاذ فقال لا أجده على حال أبدًا إلاَّ كنت عليها ثمَّ قضيت ما سبقنى، قال فجاء وقد سبقه النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم ببعضها، قال فثبت معه فلمَّا قضي رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاته قام فقضى، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إنَّه
قد سن لكم معاذٌ فهكذا فاصنعوا، فهذه ثلاثة أحوال، وأمَّا أحوال الصيِّام (فذكر الحديث)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান