আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

৬৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়

হাদীস নং: ৬০৩০
আন্তর্জাতিক নং: ৬৪৭৪
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
৩৪৩৫. যবানের হেফাযত করা।
আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে অথবা চুপ থাকে।
আল্লাহর বাণীঃ যে কথাই মানুষ উচ্চারণ করে, তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তার নিকটে একজন সদা তৎপর প্রহরী রয়েছে।
৬০৩০। মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর মুকাদ্দামী (রাহঃ) ......... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার (সন্তুষ্টির) জন্য তার দু’চোয়ালের মধ্যবর্তী বস্তু (জিহ্বা) এবং দু’রানের মাঝখানের বস্তু (লজ্জাস্থান) এর হিফাযত করবে, আমি তার জন্য জান্নাতের দায়িত্ব গ্রহণ করলাম।
كتاب الرقاق
بَابُ حِفْظِ اللِّسَانِ وَقَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ» وَقَوْلِهِ تَعَالَى: {مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ} [ق: 18]
6474 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ المُقَدَّمِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَلِيٍّ، سَمِعَ أَبَا حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ يَضْمَنْ لِي مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَضْمَنْ لَهُ الجَنَّةَ»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

জিহবা এবং লজ্জাস্থানের অপপ্রয়োগ এবং অবৈধ প্রয়োগ মানুষকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বান্দা তার জিহবা এবং লজ্জাস্থানের দ্বারা অপরাধ করে এবং সমাজ-জীবনে বিপর্যয়ের সৃষ্টি করে। তাই নবী করীম ﷺ এ দুটো জিনিস সম্পর্কে খুব সতর্ক থাকতে উপদেশ দিয়েছেন। যদি কোন ব্যক্তি তার জিহ্বা এবং লজ্জাস্থানের সঠিক হিফাযত করতে সক্ষম হয়, তাহলে আশা করা যায়, সে জান্নাতে স্থান লাভ করতে পারবে।

এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য, এসব হাদীস নবী করীম ﷺ যাঁদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তাঁরা ছিলেন পাকা ঈমানদার। ইসলামের ফরয-ওয়াজিব বিধান তাঁরা অবশ্যই পালন করতেন। সুতরাং ফরয-ওয়াজিব বিধান বাদ দিয়ে শুধু রসনা ও লজ্জাস্থানের হিফাযত করলেই জান্নাত লাভ করা যাবে মনে করা ভুল হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)