আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ৮৮৫
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) পার্থিব বস্তুর প্রতি অনাসক্ত, ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে নিজের তুলনায় অপরকে প্রাধান্য দিতেন, দুর্বলদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করে দিতেন। দানশীলতা আর অল্পে তুষ্ট থাকা ছিলো তাঁর স্বভাবজাত গুণ। তিনি পার্থিব বস্তুর চাইতে পরকালীন বিষয়কে অধিক ভালবাসতেন। এ ছাড়া তিনি কোন যাঞ্চাকারীকে কখনোই খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না, কোন আবেদনকারীকেই নিষেধ করতেন না। আল্লাহ্ তাঁর উপর, তাঁর বংশধরদের উপর ও তাঁর মহীয়সী স্ত্রীদের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
৮৮৫। হযরত আমর ইব্ন শুআয়ব তাঁর বাবার কাছ থেকে আর তিনি তাঁর দাদার কাছ থেকে বর্ণনা করেন, নবী (ﷺ) তাঁর দাড়ির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের দিকে কিছুটা পরিপাটি করতেন।
أبواب الكتاب
بَابٌ: ذِكْرُ زُهْدِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِيثَارِهِ الْأَمْوَالَ عَلَى نَفْسِهِ، وَتَفْرِيقِهَا عَلَى الْمُخْفِينِ مِنْ أَصْحَابِهِ إِذِ الْكَرَمُ طَبْعُهُ، وَالْبُلْغَةُ مِنْ شَأْنِهِ، وَالْقَنَاعَةُ سَجِيَّتُهُ، وَاخْتِيَارِهِ الْبَاقِي عَلَى الْفَانِي، وَأَنَّهُ مِنْ عَادَتِهِ أَلَا يَرُدَّ سَائِلًا، وَلَا يَمْنَعَ طَالِبًا، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ.
885 - قَالَ عَبْدَانُ: نَا أَبُو كَامِلٍ، نَا عُمَرُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْخُذُ مِنْ طُولِ لِحْيَتِهِ وَعَرْضِهَا
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীস থেকে বোঝা যায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দাড়ি মুবারকের বিক্ষিপ্ত ও বিস্তৃত অংশ ছেঁটে পরিপাটি করতেন যাতে অবিন্যস্ত না হয়। আর তিনি কখনো দাড়ি অগোছালো থাকা পছন্দ করতেন না। সুতরাং কোন কোন সাহাবীকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। তবে দাড়ি কতটুকু ছাঁটা হয়েছিলো এ হাদীসে তার কোন সীমা নির্ধারণ করা হয়নি আর তিনি সবসময় এমন করতেন নাকি মাঝেমধ্যে করতেন তাও বলা হয়নি। এ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ নিম্নে দেয়া হলোঃ
১. বেশ কিছু হাদীসে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়ি খাটো না করে লম্বা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
২. কয়েকটি হাদীসে বলা হয়েছে যে, দাড়ি লম্বা রাখা স্বভাবধর্মের চাহিদা এবং সমস্ত নবী-রাসূলের সুন্নত।
৩. শামায়েল বা রাসূলের জীবন চরিত গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাড়ি মুবারক খুবই ঘন ও বক্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো। দাড়ি আঁচড়ানো এবং ওযূর সময় দাড়িতে আঙুল চালানো (খিলাল করা) তাঁর নিয়মিত অভ্যেস ছিল।
৪. যে সব সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য ছিলেন নিবেদিত প্রাণ তাঁরা লম্বা দাড়িতে কাঁচি লাগাতেন না। কেবল হজ্জ ও উমরার সময় ইহ্রাম খোলার জন্য দাড়ি ছাঁটতেন (ফাতহুল বারী, ১০ম খণ্ড, ২৯৯ পৃষ্ঠা)
৫. আবদুল্লাহ্ ইব্ন উমর (রা) ছিলেন সুন্নত অনুসরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত । তিনি যদি জানতে পারতেন যে, সফরের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজনে অমুক জায়গায় অবতরণ করেছিলেন। সুতরাং প্রয়োজন হোক বা না হোক ইব্ন উমর (রা) সে জায়গায় অবশ্যই অবতরণ করতেন। তাঁর অভ্যেস ছিল যে, হজ্জ ও উমরা শেষ করে হাতের মুঠিতে দাড়ি ধরে অতিরিক্ত টুকু ছেঁটে ফেলতেন, আর আবূ হুরায়রা (রা)-এরও এরূপ অভ্যেস ছিল। (ফাতহুল বারী, ১০ম খণ্ড, ১৯৬. পৃষ্ঠা)
৬. দাড়িছাঁটা ও কামানো ছিলো সে যুগে ইরানী অগ্নিপূজকদের অভ্যাস। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে অগ্নিউপাসক মুশরিকদের অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। আর তাদের বিরোধিতার জন্যে দাড়ি লম্বা করতে আদেশ করেছেন।
৭. উক্ত মতামতকে সামনে রেখে ফিকহবিদগণ এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, দাড়ির নিম্নতম পরিমাপ হলো এক মুষ্ঠি। এ থেকে ছোট করা কিংবা সম্পূর্ণ মুণ্ডিয়ে ফেলা হারাম। কেননা, স্বভাবধর্ম ও নবীদের সুন্নতের বিপরীত কাজ করা গোনাহ্গার ও পথভ্রষ্টদের নিদর্শন।
উপরে বর্ণিত আলোচনা থেকে দু'টি প্রশ্নের সমাধান পাওয়া গেল । এক. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাড়ি মুবারক সব সময় বক্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকতো আর হজ্জ উমরার সময় বিক্ষিপ্ত অংশ ছাঁটার পরও এক মুষ্ঠি পর্যন্ত রেখে দিতেন। বর্তমান যুগের মানুষ দাড়িতে ক্ষুর চালানো ও শেভ মেশিন ব্যবহার করে দাড়ি কামানোর যে প্রথা চালু করেছে এটা ইসলামের দৃষ্টিতে ঘৃণিত কাজ। কিছুকাল পূর্বেও কোন ভদ্র লোককে যদি বলা হতো যে তোমার দাড়ি মুণ্ডিয়ে দেবো তাহলে এটা ছিল লজ্জা ও অপমানসূচক কথা। বর্তমানে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা দাড়ি মুন্ডানোকে একটা ফ্যাশন মনে করে। আর কেউ কেউ দাঁড়ির দৈর্ঘ্য-প্রস্থ সম্পর্কে দলীল খোঁজে। তবে আমরা এ ব্যাপারে বিস্মিত নই, কেননা এ যুগে মানব জাতির পূর্বপুরুষ আদম (আ)-কে অস্বীকার করা হচ্ছে। আর মানব বংশের উৎস মনে করা হচ্ছে বানর কিংবা শূকরকে। আর এটাকে ‘বৈজ্ঞানিক’ গবেষণার সুফল মনে করা হচ্ছে, সেখানে দাড়ি রাখার পরিবর্তে দাড়ি মুণ্ডানোকে স্বভাব সুন্দর নিয়ম বলতে বিস্ময়ের কি আছে?
১. বেশ কিছু হাদীসে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়ি খাটো না করে লম্বা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
২. কয়েকটি হাদীসে বলা হয়েছে যে, দাড়ি লম্বা রাখা স্বভাবধর্মের চাহিদা এবং সমস্ত নবী-রাসূলের সুন্নত।
৩. শামায়েল বা রাসূলের জীবন চরিত গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাড়ি মুবারক খুবই ঘন ও বক্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো। দাড়ি আঁচড়ানো এবং ওযূর সময় দাড়িতে আঙুল চালানো (খিলাল করা) তাঁর নিয়মিত অভ্যেস ছিল।
৪. যে সব সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য ছিলেন নিবেদিত প্রাণ তাঁরা লম্বা দাড়িতে কাঁচি লাগাতেন না। কেবল হজ্জ ও উমরার সময় ইহ্রাম খোলার জন্য দাড়ি ছাঁটতেন (ফাতহুল বারী, ১০ম খণ্ড, ২৯৯ পৃষ্ঠা)
৫. আবদুল্লাহ্ ইব্ন উমর (রা) ছিলেন সুন্নত অনুসরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত । তিনি যদি জানতে পারতেন যে, সফরের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজনে অমুক জায়গায় অবতরণ করেছিলেন। সুতরাং প্রয়োজন হোক বা না হোক ইব্ন উমর (রা) সে জায়গায় অবশ্যই অবতরণ করতেন। তাঁর অভ্যেস ছিল যে, হজ্জ ও উমরা শেষ করে হাতের মুঠিতে দাড়ি ধরে অতিরিক্ত টুকু ছেঁটে ফেলতেন, আর আবূ হুরায়রা (রা)-এরও এরূপ অভ্যেস ছিল। (ফাতহুল বারী, ১০ম খণ্ড, ১৯৬. পৃষ্ঠা)
৬. দাড়িছাঁটা ও কামানো ছিলো সে যুগে ইরানী অগ্নিপূজকদের অভ্যাস। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে অগ্নিউপাসক মুশরিকদের অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। আর তাদের বিরোধিতার জন্যে দাড়ি লম্বা করতে আদেশ করেছেন।
৭. উক্ত মতামতকে সামনে রেখে ফিকহবিদগণ এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, দাড়ির নিম্নতম পরিমাপ হলো এক মুষ্ঠি। এ থেকে ছোট করা কিংবা সম্পূর্ণ মুণ্ডিয়ে ফেলা হারাম। কেননা, স্বভাবধর্ম ও নবীদের সুন্নতের বিপরীত কাজ করা গোনাহ্গার ও পথভ্রষ্টদের নিদর্শন।
উপরে বর্ণিত আলোচনা থেকে দু'টি প্রশ্নের সমাধান পাওয়া গেল । এক. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাড়ি মুবারক সব সময় বক্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকতো আর হজ্জ উমরার সময় বিক্ষিপ্ত অংশ ছাঁটার পরও এক মুষ্ঠি পর্যন্ত রেখে দিতেন। বর্তমান যুগের মানুষ দাড়িতে ক্ষুর চালানো ও শেভ মেশিন ব্যবহার করে দাড়ি কামানোর যে প্রথা চালু করেছে এটা ইসলামের দৃষ্টিতে ঘৃণিত কাজ। কিছুকাল পূর্বেও কোন ভদ্র লোককে যদি বলা হতো যে তোমার দাড়ি মুণ্ডিয়ে দেবো তাহলে এটা ছিল লজ্জা ও অপমানসূচক কথা। বর্তমানে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা দাড়ি মুন্ডানোকে একটা ফ্যাশন মনে করে। আর কেউ কেউ দাঁড়ির দৈর্ঘ্য-প্রস্থ সম্পর্কে দলীল খোঁজে। তবে আমরা এ ব্যাপারে বিস্মিত নই, কেননা এ যুগে মানব জাতির পূর্বপুরুষ আদম (আ)-কে অস্বীকার করা হচ্ছে। আর মানব বংশের উৎস মনে করা হচ্ছে বানর কিংবা শূকরকে। আর এটাকে ‘বৈজ্ঞানিক’ গবেষণার সুফল মনে করা হচ্ছে, সেখানে দাড়ি রাখার পরিবর্তে দাড়ি মুণ্ডানোকে স্বভাব সুন্দর নিয়ম বলতে বিস্ময়ের কি আছে?