আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ৮৭৭
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) পার্থিব বস্তুর প্রতি অনাসক্ত, ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে নিজের তুলনায় অপরকে প্রাধান্য দিতেন, দুর্বলদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করে দিতেন। দানশীলতা আর অল্পে তুষ্ট থাকা ছিলো তাঁর স্বভাবজাত গুণ। তিনি পার্থিব বস্তুর চাইতে পরকালীন বিষয়কে অধিক ভালবাসতেন। এ ছাড়া তিনি কোন যাঞ্চাকারীকে কখনোই খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না, কোন আবেদনকারীকেই নিষেধ করতেন না। আল্লাহ্ তাঁর উপর, তাঁর বংশধরদের উপর ও তাঁর মহীয়সী স্ত্রীদের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
৮৭৭। হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আগামী কালের জন্য কোনো কিছুই সঞ্চয় করে রাখতেন না।
أبواب الكتاب
بَابٌ: ذِكْرُ زُهْدِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِيثَارِهِ الْأَمْوَالَ عَلَى نَفْسِهِ، وَتَفْرِيقِهَا عَلَى الْمُخْفِينِ مِنْ أَصْحَابِهِ إِذِ الْكَرَمُ طَبْعُهُ، وَالْبُلْغَةُ مِنْ شَأْنِهِ، وَالْقَنَاعَةُ سَجِيَّتُهُ، وَاخْتِيَارِهِ الْبَاقِي عَلَى الْفَانِي، وَأَنَّهُ مِنْ عَادَتِهِ أَلَا يَرُدَّ سَائِلًا، وَلَا يَمْنَعَ طَالِبًا، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ.
877 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْكَرِيمِ، نَا أَبُو يُوسُفَ الْقُلُوسِيُّ، نَا قَيْسُ بْنُ حَفْصٍ، نَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَدَّخِرُ شَيْئًا لِغَدٍ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এই হাদীস থেকে জানা গেল যে, আহারের পর কিছু অবশিষ্ট থাকলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর তা আগামী দিনের জন্য উঠিয়ে রাখতেন না বরং অভাবীদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন। আল্লাহ্র উপর তাওয়াক্কুলের জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন। পরবর্তী সময়ের জীবিকার মালিক আল্লাহ্, তাই তিনি পরবর্তী সময়ের রিযিকের চিন্তা না করে তা বণ্টন করে দিতেন। তিনি ভাবতেন যদি আমি জমা করে রাখি তা হলে অভাবীরা হয়ত উপোস থাকবে। বস্তুত আমাদের সমাজ ব্যবস্থা যদি নবীজীর আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত হতো তা হলে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট অনেক বদলে যেতো। আর যাকাত নেয়ার মতো লোকই হয় তো খুঁজে পাওয়া যেতো না। ইসলামী শিক্ষা ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনাদর্শ যদি হতো আমাদের সমাজ গঠনের মৌলিক উপাদান, তাহলে পৃথিবীর চেহারা ভিন্নরূপ ধারণ করতো। এখানে আলোচিত হয়েছে, সম্পদ সঞ্চয় না করা এক প্রকার তাওয়াক্কুল। এর তিনটি স্তর রয়েছেঃ
এক. পরের দিনের জন্য কোন কিছুই অবশিষ্ট না রেখে আল্লাহ্র রাস্তায় সব দান করে দেয়া। রাতের বেলায় যদি সম্পদ আসে তাহলে সকালের জন্যে কিছুই না রাখা। নবী-রাসূল, সিদ্দিকীনদের তাওয়াক্কুল ছিল এ স্তরের অন্তর্গত। যাঁরা এ পর্যায়ে পৌঁছুতে পারবে না এবং দুর্বলতার কারণে সে ধরনের সহিষ্ণু হতে পারবে না তাদের জন্য এ তাওয়াক্কুলের অনুমতি নেই।
দুই. নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মাফিক সামগ্রী রেখে অবশিষ্টগুলো দান করে দেয়া, তবে প্রয়োজন যেন কৃত্রিম না হয়। কেননা পৃথিবীর সমুদয় সম্পদও একজনের চাহিদা মিটাতে পারবে না প্রয়োজনাতিরিক্ত বস্তু দান করে দেয়া এ স্তরের তাওয়াক্কুল। সালেহীনগণ এ স্তরের অন্তর্গত। একটি বর্ণনায় আছে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে এরূপ দান করা সবার উপর ফরয ছিল। পরবর্তী সময়ে এ হুকুম রহিত হয়ে যায়।
তিন. যাকাত প্রদান ও অন্যান্য ওয়াজিব সাদাকা এ স্তরের অন্তর্ভূক্ত। অন্যান্য ওয়াজিব সাদাকা হলো- যেমন, কোন ব্যক্তি শুনতে পেল যে, অমুক লোকটি ক্ষুধার্ত ও বস্ত্রহীন। তাকে কিছু দেবার সামর্থ্য তার আছে, এ অবস্থায় অন্নহীন ও বস্ত্রহীনকে কিছু দান করা ওয়াজিব সাদাকা। মোটকথা, শরয়ী ওয়াজিব আদায়ে পরিবারের লোকজনকে ভরণপোষণ এবং আত্মীয় প্রতিবেশীদের মধ্যে অভাবীদের অভাব পূরণ করার ক্ষেত্রে কৃপণতা করা উচিত নয়। এরপরও যদি কিছু অতিরিক্ত থাকে তাহলে ভবিষ্যত প্রয়োজন মেটানোর উদ্দেশ্যে রেখে দেয়া জায়েয আছে। তবে সম্পদ অবশ্যই যেন হালাল হয় এবং হারাম উপায়ে যেন সংগৃহীত না হয়। সাধারণ মু'মিন মুসলমানগণ এ স্তরের অন্তর্ভুক্ত। ১ম ও ২য় স্তর লাভ করতে পারাটা খুবই মর্যাদার ব্যাপার। তবে ৩য় স্তরের নীচে যাওয়া মুসলমাদের নয় বরং কাফির ফাসিকদের নিদর্শন। এ ব্যাপারে কুরআন হাদীসে সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে।
এক. পরের দিনের জন্য কোন কিছুই অবশিষ্ট না রেখে আল্লাহ্র রাস্তায় সব দান করে দেয়া। রাতের বেলায় যদি সম্পদ আসে তাহলে সকালের জন্যে কিছুই না রাখা। নবী-রাসূল, সিদ্দিকীনদের তাওয়াক্কুল ছিল এ স্তরের অন্তর্গত। যাঁরা এ পর্যায়ে পৌঁছুতে পারবে না এবং দুর্বলতার কারণে সে ধরনের সহিষ্ণু হতে পারবে না তাদের জন্য এ তাওয়াক্কুলের অনুমতি নেই।
দুই. নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মাফিক সামগ্রী রেখে অবশিষ্টগুলো দান করে দেয়া, তবে প্রয়োজন যেন কৃত্রিম না হয়। কেননা পৃথিবীর সমুদয় সম্পদও একজনের চাহিদা মিটাতে পারবে না প্রয়োজনাতিরিক্ত বস্তু দান করে দেয়া এ স্তরের তাওয়াক্কুল। সালেহীনগণ এ স্তরের অন্তর্গত। একটি বর্ণনায় আছে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে এরূপ দান করা সবার উপর ফরয ছিল। পরবর্তী সময়ে এ হুকুম রহিত হয়ে যায়।
তিন. যাকাত প্রদান ও অন্যান্য ওয়াজিব সাদাকা এ স্তরের অন্তর্ভূক্ত। অন্যান্য ওয়াজিব সাদাকা হলো- যেমন, কোন ব্যক্তি শুনতে পেল যে, অমুক লোকটি ক্ষুধার্ত ও বস্ত্রহীন। তাকে কিছু দেবার সামর্থ্য তার আছে, এ অবস্থায় অন্নহীন ও বস্ত্রহীনকে কিছু দান করা ওয়াজিব সাদাকা। মোটকথা, শরয়ী ওয়াজিব আদায়ে পরিবারের লোকজনকে ভরণপোষণ এবং আত্মীয় প্রতিবেশীদের মধ্যে অভাবীদের অভাব পূরণ করার ক্ষেত্রে কৃপণতা করা উচিত নয়। এরপরও যদি কিছু অতিরিক্ত থাকে তাহলে ভবিষ্যত প্রয়োজন মেটানোর উদ্দেশ্যে রেখে দেয়া জায়েয আছে। তবে সম্পদ অবশ্যই যেন হালাল হয় এবং হারাম উপায়ে যেন সংগৃহীত না হয়। সাধারণ মু'মিন মুসলমানগণ এ স্তরের অন্তর্ভুক্ত। ১ম ও ২য় স্তর লাভ করতে পারাটা খুবই মর্যাদার ব্যাপার। তবে ৩য় স্তরের নীচে যাওয়া মুসলমাদের নয় বরং কাফির ফাসিকদের নিদর্শন। এ ব্যাপারে কুরআন হাদীসে সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে।