আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ৮৭৮
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) পার্থিব বস্তুর প্রতি অনাসক্ত, ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে নিজের তুলনায় অপরকে প্রাধান্য দিতেন, দুর্বলদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করে দিতেন। দানশীলতা আর অল্পে তুষ্ট থাকা ছিলো তাঁর স্বভাবজাত গুণ। তিনি পার্থিব বস্তুর চাইতে পরকালীন বিষয়কে অধিক ভালবাসতেন। এ ছাড়া তিনি কোন যাঞ্চাকারীকে কখনোই খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না, কোন আবেদনকারীকেই নিষেধ করতেন না। আল্লাহ্ তাঁর উপর, তাঁর বংশধরদের উপর ও তাঁর মহীয়সী স্ত্রীদের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
৮৭৮। হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, হে আয়েশা! দীনারগুলো কি করেছো? আয়েশা (রা) বলেন, আমি তখন সেগুলো নিয়ে এলাম আর তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। তারপর আবার হুঁশ হয়ে আবার জিজ্ঞেস করলেন দীনারগুলো কি করেছো? আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল । আমি সেগুলো নিয়ে আসতেই আপনি বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। আর আমরা আপনাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠলাম। তারপর নবী (ﷺ) সেগুলো হাতে নিয়ে নখ দিয়ে একটি একটি দীনার গণনা করলেন। তারপর বললেন, মুহাম্মাদ (ﷺ) এসব দীনার নিয়ে আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাত করবেন এটা কি ধারণা করা যায়? তারপর তিনি অবিলম্বে দীনারগুলো গরীব দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দেন।
أبواب الكتاب
بَابٌ: ذِكْرُ زُهْدِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِيثَارِهِ الْأَمْوَالَ عَلَى نَفْسِهِ، وَتَفْرِيقِهَا عَلَى الْمُخْفِينِ مِنْ أَصْحَابِهِ إِذِ الْكَرَمُ طَبْعُهُ، وَالْبُلْغَةُ مِنْ شَأْنِهِ، وَالْقَنَاعَةُ سَجِيَّتُهُ، وَاخْتِيَارِهِ الْبَاقِي عَلَى الْفَانِي، وَأَنَّهُ مِنْ عَادَتِهِ أَلَا يَرُدَّ سَائِلًا، وَلَا يَمْنَعَ طَالِبًا، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ.
878 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ أَيُّوبَ، نَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ ثَابِتٍ، عَنِ الْوَازِعِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: لَمَّا ثَقُلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَا عَائِشَةُ مَا فَعَلَتِ الدَّنَانِيرُ؟ قَالَتْ: فَأَتَيْتُهُ بِهَا، فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ، فَلَمَّا أَفَاقَ، قَالَ: يَا عَائِشَةُ مَا فَعَلَتِ الدَّنَانِيرُ؟ قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَتَيْتُكَ بِهَا فَأُغْمِيَ عَلَيْكَ، وَشُغِلْنَا بِكَ فَأَخَذَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَضَعَهَا فِي كَفِّهِ، ثُمَّ نَقَرَهَا عَلَى ظُفْرهِ دِينَارًا دِينَارًا، ثُمَّ قَالَ: مَا ظَنُّ مُحَمَّدٍ لَوْ لَقِيَ رَبَّهُ عَزَّ وَجَلَّ، وَهَذِهِ الدَّنَانِيرُ عِنْدَهُ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، قَالَتْ: ثُمَّ لَمْ يَبْرَحْ حَتَّى وَضَعَهَا فِي حَقِّهَا
হাদীসের ব্যাখ্যা:
নবীজীর ইন্তিকালের সময় তাঁর পরিবারের কাছে কিছু সম্পদ সঞ্চিত থাক এটা তাঁর কাছে আপত্তিকর ব্যাপার মনে হয়েছে। তাই সেগুলো তৎক্ষণাৎ দান করে দেন। এ ঘটনা থেকে তাঁর দানশীলতা, দুস্থ-গরীবদের সাহায্য ও ধন-সম্পদের প্রতি অনীহার সঠিক চিত্র ফুটে উঠেছে। তিনি ভীষণ অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুশয্যায় শায়িত, ক্ষণে ক্ষণে অচেতন হয়ে যাচ্ছেন অথচ তাঁর ঘরে যে সম্পদ রয়েছে, যতক্ষণ তা প্রাপকদের হাতে না পৌঁছেছে ততক্ষণ তিনি শাস্তি পাচ্ছেন না। মূলত এটা তো সে সমাজ ব্যবস্থার চিত্র যার কারণে সে সমাজে বহু খোঁজাখুঁজি করেও যাকাত গ্রহণ করার মতো লোক পাওয়া যেতো না। সমস্ত মানুষ যার যার অবস্থানে সুখী ও সচ্ছল ছিলেন। বর্তমানে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষা ও ইসলামী জীবন ব্যবস্থাকে পরিত্যাগ করেছি বিধায় বিপদাপদের পাহাড় আমাদের সামনে উপস্থিত। কিন্তু অনুতাপের বিষয় এই যে, এসব বিপদ থেকে মুক্তিলাভ ও সমস্যার সমাধান খোঁজার জন্যে আল্লাহ্র দেয়া জীবন ব্যবস্থা ও নবীজীর মহান আদর্শকে বাদ দিয়ে কাফির, নাস্তিক ও বাতিলের মনগড়া মতবাদের দিকে আমরা ঝুঁকে পড়েছি অথচ বাতিল মতবাদে মানুষের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি, ধ্বংস ও অস্থিরতা ছাড়া আর কিছুই নেই, যা আমরা অহরহ প্রত্যক্ষ করছি। সুতরাং যতদিন না আমরা ইসলামী সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারবো ততদিন আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে প্রকৃত শাস্তি লাভ করা অসম্ভব। কেননা ইসলামী জীবন বিধান হলো স্বভাব-সুন্দর বিধান। বিশ্ব জাহানের স্রষ্টা সৃষ্টির কল্যাণ সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত এবং সে হিসেবেই তিনি উক্ত বিধান নির্ধারণ করেছেন। আর নিঃসন্দেহে তা মানব রচিত মতবাদের চাইতে উত্তম ও নির্ভরযোগ্য। প্রতিটি বুদ্ধিমান লোকই একথা ভাল করেই জানেন যে, একজন মা তার সন্তানের স্বভাব, চরিত্র ও চাওয়া-পাওয়া সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিফহাল । সুতরাং তার মা যেভাবে তার লালন-পালন করতে পারবেন অন্যরা তা পারবে না। অনুরূপ বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা বিশ্ববাসীর স্বভাব ও ধ্যান-ধারণা, মন-মানসিকতা সম্পর্কে মহাজ্ঞানী। আর তাই তাঁর প্রদত্ত জীবন বিধানও সর্বশ্রেষ্ঠ। কোন মানব রচিত বিধান কস্মিনকালেও সেরূপ হতেই পারে না।