আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ৮৭১
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) পার্থিব বস্তুর প্রতি অনাসক্ত, ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে নিজের তুলনায় অপরকে প্রাধান্য দিতেন, দুর্বলদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করে দিতেন। দানশীলতা আর অল্পে তুষ্ট থাকা ছিলো তাঁর স্বভাবজাত গুণ। তিনি পার্থিব বস্তুর চাইতে পরকালীন বিষয়কে অধিক ভালবাসতেন। এ ছাড়া তিনি কোন যাঞ্চাকারীকে কখনোই খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না, কোন আবেদনকারীকেই নিষেধ করতেন না। আল্লাহ্ তাঁর উপর, তাঁর বংশধরদের উপর ও তাঁর মহীয়সী স্ত্রীদের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
৮৭১। মুসআব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস (রা)-কে বলতে শুনেছি একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে হাদিয়া হিসেবে কিছু খেজুর এলো, তিনি তৎক্ষণাৎ সেগুলো অন্যদের হাদিয়া দিতে শুরু করলেন, আমি দেখতে পেলাম, এরি মধ্যে তিনি ক্ষুধার তীব্রতার জন্যে একটি খেজুর খেয়ে নিলেন।
أبواب الكتاب
بَابٌ: ذِكْرُ زُهْدِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِيثَارِهِ الْأَمْوَالَ عَلَى نَفْسِهِ، وَتَفْرِيقِهَا عَلَى الْمُخْفِينِ مِنْ أَصْحَابِهِ إِذِ الْكَرَمُ طَبْعُهُ، وَالْبُلْغَةُ مِنْ شَأْنِهِ، وَالْقَنَاعَةُ سَجِيَّتُهُ، وَاخْتِيَارِهِ الْبَاقِي عَلَى الْفَانِي، وَأَنَّهُ مِنْ عَادَتِهِ أَلَا يَرُدَّ سَائِلًا، وَلَا يَمْنَعَ طَالِبًا، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ.
871 - حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، نَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، نَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ: نَا مُصْعَبٌ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسًا، قَالَ: أُهْدِيَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَمْرٌ، فَجَعَلَ يُهْدِي، وَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ تَمْرًا مُقْعِيًا مِنَ الْجُوعِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কোন খাদ্যসামগ্রী আসলে তিনি প্রথমেই তা সাহাবাদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন অথচ তিনিই তখন বেশি অভাবী। উক্ত হাদীসের বর্ণনাতে দেখা যায় যে, তিনি ক্ষুধার্ত, ক্ষুধার তীব্রতা অনুভব করছেন। কিন্তু তবুও সাহাবাদের মাঝে তিনি প্রথমেই খেজুর বিলাচ্ছেন এবং ক্ষুধার্ত অবস্থায় তিনি একটি খেজুর খেয়ে নিলেন। তিনি নিজের ক্ষুধার তীব্রতাকে প্রাধান্য দেন নাই এমনকি ভ্রূক্ষেপও করেন নাই। তাঁর এ ন্যায়বিচার ও পরোপকারিতা, অপরের প্রয়োজন মেটানো এবং দানশীলতা একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলো, যা দেখে তৎকালীন বিধর্মীগণ ঈমান আনতো আর সাহাবীগণ আরো নিবেদিত প্রাণ হয়ে ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার বন্ধনে হতেন আবদ্ধ। হায়! আজকালকার মুসলমানদের মাঝে যদি সেরূপ প্রেরণা ও পরোপকারিতার মনোভাব সৃষ্টি হতো।