আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৮৩৭
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) পার্থিব বস্তুর প্রতি অনাসক্ত, ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে নিজের তুলনায় অপরকে প্রাধান্য দিতেন, দুর্বলদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করে দিতেন। দানশীলতা আর অল্পে তুষ্ট থাকা ছিলো তাঁর স্বভাবজাত গুণ। তিনি পার্থিব বস্তুর চাইতে পরকালীন বিষয়কে অধিক ভালবাসতেন। এ ছাড়া তিনি কোন যাঞ্চাকারীকে কখনোই খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না, কোন আবেদনকারীকেই নিষেধ করতেন না। আল্লাহ্ তাঁর উপর, তাঁর বংশধরদের উপর ও তাঁর মহীয়সী স্ত্রীদের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
৮৩৭। হযরত আনাস ইব্‌ন মালিক (রা) আবূ তালহা (রা) থেকে বর্ণনা করে বলেন, একদা আমরা নবী (ﷺ)-এর কাছে আমাদের ক্ষুধার ব্যাপারে অভিযোগ পেশ করলাম এবং আমাদের পেটে বাধা একটি একটি পাথর খুলে দেখালাম। তখন নবী (ﷺ) তাঁর পেটে বাঁধা দু'টি পাথর দেখালেন।
أبواب الكتاب
بَابٌ: ذِكْرُ زُهْدِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِيثَارِهِ الْأَمْوَالَ عَلَى نَفْسِهِ، وَتَفْرِيقِهَا عَلَى الْمُخْفِينِ مِنْ أَصْحَابِهِ إِذِ الْكَرَمُ طَبْعُهُ، وَالْبُلْغَةُ مِنْ شَأْنِهِ، وَالْقَنَاعَةُ سَجِيَّتُهُ، وَاخْتِيَارِهِ الْبَاقِي عَلَى الْفَانِي، وَأَنَّهُ مِنْ عَادَتِهِ أَلَا يَرُدَّ سَائِلًا، وَلَا يَمْنَعَ طَالِبًا، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ.
837 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ، نَا سَيَّارٌ، نَا سَهْلُ بْنُ أَسْلَمَ الْعَدَوِيُّ، نَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي مَنْصُورٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي طَلْحَةَ، قَالَ: شَكَوْنَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْجُوعَ وَرَفَعْنَا عَنْ بُطُونِنَا، عَنْ حَجَرٍ حَجَرٍ، فَرَفَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَطْنِهِ عَنْ حَجَرَيْنِ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উক্ত ঘটনাটি সংঘটিত হয় খন্দক যুদ্ধে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের উপর এমন একটি কঠিন সময় উপস্থিত হয় যখন তাঁরা ক্ষুধার তীব্রতার কারণে পেটে পাথর বেঁধেছিলেন। এটা শুধু সাহাবাদের জন্যেই ছিল না বরং তাঁদের মাহবুব এবং দু'জাহানের বাদশাহ্ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ঐ সংকটে শরীক ছিলেন। ক্ষুধার কারণে সাহাবীগণ যেখানে একটি করে পাথর বেঁধেছিলেন, সেখানে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেঁধেছিলেন দু'টি পাথর। এভাবে তিনি তাঁর উম্মতের প্রতিটি দুঃখকষ্টে শরীক হতেন, বরং তিনি সর্বদা তাদেরকে নিজের উপর প্রাধান্য দিতেন। তাঁর কোন দুঃখ-কষ্ট দেখা দিলে কারো কাছে আলোচনাও করতেন না। অনুরূপ ছিল তাঁর সহচরদের অবস্থা, তাঁরাও নিজেদের দুঃখ-কষ্ট, দারিদ্র্য ও ক্ষুধার কথা সহজে কারো কাছে বলতেন না। যেদিন যখন তারা ক্ষুধার জ্বালায় অতিশয় দুর্বল হয়ে পড়েন এবং পেটে পাথর বাঁধতে বাধ্য হন, তখন তাঁদের প্রিয় নবী রাহমাতুল্লিল আলামীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তা ব্যক্ত করেন। কিন্তু তাদের তো এটা জানা ছিল না যে, তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের চাইতে বেশি ক্ষুধার্ত এবং তিনি ক্ষুধার তাড়নায় তাঁর পেটে দু' দু'টি পাথর বেঁধে রেখেছেন। তবে দরিদ্রতা ও কষ্টের একটি ক্রান্তিলগ্ন ও পরীক্ষার কাল অতি দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যায় এবং স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রাচুর্যের সমাগম হতে থাকে। রোম ও পারস্য সাম্রাজ্যের ধনভাণ্ডার তাঁর সাহাবীদের পদপ্রান্তে লুটিয়ে পড়ে। সাদাকা ও দান-খয়রাতের অর্থ-সম্পদ এত বেশি জমা হয়ে যায় যে, তা গ্রহণ করার মত লোক পাওয়া যায়নি। বস্তুত পরীক্ষার সময় থাকে অতি সামান্য যা খুব দ্রুত অতিক্রান্ত হয়ে যায়। তবে পরীক্ষায় পতিত ব্যক্তিবর্গের জন্য ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা অপরিহার্য হয়ে পড়ে । এ পরীক্ষাটা শুধুমাত্র সম্পদের ব্যাপারেই হয় না; বরং দীনের ব্যাপারেও হয়ে থাকে। মুসলমানদের জন্য এটা ছিল চরম পরীক্ষার সময়। এ সময়ে তাদের জন্য দীনী শিক্ষা ও ইসলামের রজ্জুকে দৃঢ়তার সাথে আঁকড়ে ধরা অত্যন্ত জরুরী। এ সময়ে ইসলামী শিক্ষা হাসিল করা একান্ত অপরিহার্য। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র জীবনী ও সাহাবীদের পূত পবিত্র জীবনধারা বারবার গভীরভাবে অধ্যয়ন করা এবং তাঁদের জীবনের বিভিন্ন দিক প্রকাশ করার কাজে আত্মনিয়োগ করা উচিত। পাশ্চাত্য সভ্যতা ও ঈমান হরণকারী শিক্ষার নাগপাশ থেকে নিজেদেরকে ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে বের করে আনতে হবে। আল্লাহ্ আমাদেরকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফীক এবং দীন ইসলামের সঠিক জ্ঞান দান করুন।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান