আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৮৩৮
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) পার্থিব বস্তুর প্রতি অনাসক্ত, ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে নিজের তুলনায় অপরকে প্রাধান্য দিতেন, দুর্বলদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করে দিতেন। দানশীলতা আর অল্পে তুষ্ট থাকা ছিলো তাঁর স্বভাবজাত গুণ। তিনি পার্থিব বস্তুর চাইতে পরকালীন বিষয়কে অধিক ভালবাসতেন। এ ছাড়া তিনি কোন যাঞ্চাকারীকে কখনোই খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না, কোন আবেদনকারীকেই নিষেধ করতেন না। আল্লাহ্ তাঁর উপর, তাঁর বংশধরদের উপর ও তাঁর মহীয়সী স্ত্রীদের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
৮৩৮। হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি একবার এমন একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যাদের সামনে ছাগলের ভাজা গোশ্‌ত ছিল। তাঁরা তাকে গোশ্‌ত খাবার জন্যে দাওয়াত জানালো। তিনি তা খেতে অস্বীকার করে বললেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু তিনি কখনোই যবের রুটি তৃপ্তির সাথে খেতে পাননি।
أبواب الكتاب
بَابٌ: ذِكْرُ زُهْدِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِيثَارِهِ الْأَمْوَالَ عَلَى نَفْسِهِ، وَتَفْرِيقِهَا عَلَى الْمُخْفِينِ مِنْ أَصْحَابِهِ إِذِ الْكَرَمُ طَبْعُهُ، وَالْبُلْغَةُ مِنْ شَأْنِهِ، وَالْقَنَاعَةُ سَجِيَّتُهُ، وَاخْتِيَارِهِ الْبَاقِي عَلَى الْفَانِي، وَأَنَّهُ مِنْ عَادَتِهِ أَلَا يَرُدَّ سَائِلًا، وَلَا يَمْنَعَ طَالِبًا، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ.
838 - حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ شَاذَانَ، نَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ، نَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، نَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ مَرَّ بِقَوْمٍ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ شَاةٌ مَصْلِيَّةٌ، فَدَعَوْهُ، فَأَبَى أَنْ يَأْكُلَ وَقَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الدُّنْيَا، وَلَمْ يَشْبَعْ مِنَ الشَّعِيرِ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীস থেকে আবূ হুরায়রা (রা) তথা সাহাবীদের রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কিরূপ সম্পর্ক ছিল সে বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা লাভ করা যায়। তাঁরা ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মনিবেদিত সত্যিকার প্রেমিক। তাঁরা সর্বদা তাঁর জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শরীক থাকতেন। জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না এবং আচার-আচরণে তাঁরা ছিলেন তাঁর অকৃত্রিম অনুসারী। তাদের প্রিয়বন্ধু একা শুধু দুঃখ-কষ্ট সহ্য করবেন, ক্ষুধা-দারিদ্রের মাঝে সংকটময় জীবন কাটাবেন আর তাঁরা সুখ স্বচ্ছন্দে ও পরম আনন্দে দিনাতিপাত করবেন তা ছিল কল্পনাতীত। তাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মতই তাঁরাও সাদাসিধে জীবন যাপন করতেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু সুস্বাদু খাবার গ্রহণ ও মজাদার পানাহার করতেন না, সুতরাং আবূ হুরায়রা (রা) তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে দাওয়াত কবুল করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি সুন্নত। কিন্তু আবূ হুরায়রা (রা) তাঁর প্রতি অগাধ ভক্তি ও নিখাদ ভালবাসা পোষণ করতেন বিধায় সে দাওয়াত কবুল করেননি। অন্যদের জন্য এরূপ করা ঠিক নয়। জাঁকজমকপূর্ণ বিলাসী জীবন যাপন করা থেকে বিরত থাকার যথাসাধ্য চেষ্টা করা উচিত। আল্লাহ্‌র নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে ব্যবহার করা উচিত।
সাহাবীগণ ছিলেন তাঁর সত্যিকার প্রতিনিধি। এ জন্যেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর তাঁদের মর্যাদা ও সম্মান সবচাইতে বেশি প্রদান করেছেন মহান আল্লাহ্। কারণ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁদের সম্পর্ক, আনুগত্য ও নির্দেশ পালনের বেনযীর দৃষ্টান্তের জন্য তাদেরকে আসমানের তারকারাজির সাথে তুলনা করা হয়েছে। তাদের সকলকে ন্যায়নিষ্ঠ বলে সাক্ষ্য দেয়া হয়েছে এবং তাঁদের অনুসরণ ও অনুকরণকে হেদায়েত প্রবণ সাব্যস্ত করা হয়েছে।
যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এসব অকৃত্রিম সহচর ও ন্যায়নীতির উজ্জ্বল তারকাদের সম্পর্কে অশুভ মন্তব্য করেন তারা সত্যিই হতভাগা ও বদ-নসীব। বস্তুত সাহাবীদের সাথে সম্পর্ক ও ভালোবাসা স্থাপন করাই ইসলামের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের উত্তম মাপকাঠি।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান