আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ৮২৯
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) পার্থিব বস্তুর প্রতি অনাসক্ত, ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে নিজের তুলনায় অপরকে প্রাধান্য দিতেন, দুর্বলদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করে দিতেন। দানশীলতা আর অল্পে তুষ্ট থাকা ছিলো তাঁর স্বভাবজাত গুণ। তিনি পার্থিব বস্তুর চাইতে পরকালীন বিষয়কে অধিক ভালবাসতেন। এ ছাড়া তিনি কোন যাঞ্চাকারীকে কখনোই খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না, কোন আবেদনকারীকেই নিষেধ করতেন না। আল্লাহ্ তাঁর উপর, তাঁর বংশধরদের উপর ও তাঁর মহীয়সী স্ত্রীদের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
৮২৯। শাহর ইব্ন হাওশাব (র) বলেন, আসমা বিন্ত ইয়াযীদ (রা) আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যেদিন ইন্তিকাল করেন সেদিন তাঁর বর্মটি জনৈক ইয়াহূদীর কাছে এক ওয়াসাক যবের বিনিময়ে বন্ধক ছিল।
أبواب الكتاب
بَابٌ: ذِكْرُ زُهْدِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِيثَارِهِ الْأَمْوَالَ عَلَى نَفْسِهِ، وَتَفْرِيقِهَا عَلَى الْمُخْفِينِ مِنْ أَصْحَابِهِ إِذِ الْكَرَمُ طَبْعُهُ، وَالْبُلْغَةُ مِنْ شَأْنِهِ، وَالْقَنَاعَةُ سَجِيَّتُهُ، وَاخْتِيَارِهِ الْبَاقِي عَلَى الْفَانِي، وَأَنَّهُ مِنْ عَادَتِهِ أَلَا يَرُدَّ سَائِلًا، وَلَا يَمْنَعَ طَالِبًا، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ.
829 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْمَرْوَزِيُّ، نَا إِسْحَاقُ بْنُ الْمُنْذِرِ، نَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَهْرَامَ، نَا شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي أَسْمَاءُ بِنْتُ يَزِيدَ، أَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُوُفِّيَ يَوْمَ تُوُفِّيَ وَدِرْعُهُ مَرْهُونَةٌ عِنْدَ رَجُلٍ مِنَ الْيَهُودِ بِوَسْقٍ مِنْ شَعِيرٍ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ওয়াসাক ষাট সা'র সম পরিমাণ ওজনকে বলা হয়। কতক ভাষাবিদ বলেন, এক উটের বোঝাইকে ওয়াসাক বলা হয়। সাড়ে তিন সের পরিমাণ ওজনকে এক সা' বলা হয় । এ হিসাবে এক ওয়াসাকের সমান পাঁচ মন দশ সের।
এ হাদীসের আলোকে দু'টি কথা মনে রাখতে হবে। প্রথমত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনে দারিদ্র ও অভাব লেগেই থাকত। কারণ, তিনি স্বেচ্ছায় তা গ্রহণ করেছিলেন। মহান আল্লাহ্ তাঁর সামনে ধন-সম্পদ ও স্বাচ্ছন্দ্য আর দারিদ্র ও ক্ষুধা দু'টো জিনিসই পেশ করেছিলেন এবং তাঁকে যে কোন একটি গ্রহণ করার ইখতিয়ার দিয়েছিলেন। যদি তিনি সম্পদ ও ঐশ্বর্য পছন্দ করেন তাহলে মক্কা-মদীনার পাহাড়গুলো স্বর্ণে পরিণত করা হবে, যেখানে তিনি যাবেন সেগুলো তাঁর সাথে থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু তিনি পছন্দ করে নিলেন ক্ষুধা ও দারিদ্র-পীড়িত জীবনধারা। কেননা, আখিরাতের নিয়ামতের তুলনায় দুনিয়ায় ভোগ্য সামগ্রী অত্যন্ত নগণ্য ও ধ্বংসশীল। তাই তিনি পার্থিব জীবনে দারিদ্রকেই বেছে নিলেন।
দ্বিতীয়ত, হুযুর নিজের জন্য যথাসম্ভব ঋণ গ্রহণ থেকে বেঁচে থাকতেন। কাজেই কোন কোন সময় ক্ষুধার তীব্র জ্বালায় তিনি পেটে পাথর বেঁধে রাখতেন, তবুও কারো কাছ থেকে না ঋণ গ্রহণ করতেন আর না তা প্রকাশ করতেন। যেমন উপরের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি তাঁর বর্মটি বন্ধক রেখে যে খাদ্য সামগ্রী এনেছিলেন তাও অভাবী মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্যেই। কেননা তিনি ছিলেন দানশীল ও দয়ালু এবং অন্যদেরকে নিজের উপর প্রাধান্য দিতেন।
হাদীসসমূহে বর্ণিত আছে যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বেশ কয়েকটি বর্ম ছিলো। কতক আলিম বলেন, তাঁর ৭টি বর্ম ছিলো। সেগুলোর নাম ছিল বিভিন্ন। যে বর্মটি তিনি ইয়াহূদীর কাছে বন্ধক রেখেছিলেন, নাম ছিল 'যাতুল ফুযুল'। এটা অত্যন্ত প্রশস্ত ও বৃহৎ বর্ম ছিল।
এ হাদীসের আলোকে দু'টি কথা মনে রাখতে হবে। প্রথমত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনে দারিদ্র ও অভাব লেগেই থাকত। কারণ, তিনি স্বেচ্ছায় তা গ্রহণ করেছিলেন। মহান আল্লাহ্ তাঁর সামনে ধন-সম্পদ ও স্বাচ্ছন্দ্য আর দারিদ্র ও ক্ষুধা দু'টো জিনিসই পেশ করেছিলেন এবং তাঁকে যে কোন একটি গ্রহণ করার ইখতিয়ার দিয়েছিলেন। যদি তিনি সম্পদ ও ঐশ্বর্য পছন্দ করেন তাহলে মক্কা-মদীনার পাহাড়গুলো স্বর্ণে পরিণত করা হবে, যেখানে তিনি যাবেন সেগুলো তাঁর সাথে থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু তিনি পছন্দ করে নিলেন ক্ষুধা ও দারিদ্র-পীড়িত জীবনধারা। কেননা, আখিরাতের নিয়ামতের তুলনায় দুনিয়ায় ভোগ্য সামগ্রী অত্যন্ত নগণ্য ও ধ্বংসশীল। তাই তিনি পার্থিব জীবনে দারিদ্রকেই বেছে নিলেন।
দ্বিতীয়ত, হুযুর নিজের জন্য যথাসম্ভব ঋণ গ্রহণ থেকে বেঁচে থাকতেন। কাজেই কোন কোন সময় ক্ষুধার তীব্র জ্বালায় তিনি পেটে পাথর বেঁধে রাখতেন, তবুও কারো কাছ থেকে না ঋণ গ্রহণ করতেন আর না তা প্রকাশ করতেন। যেমন উপরের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি তাঁর বর্মটি বন্ধক রেখে যে খাদ্য সামগ্রী এনেছিলেন তাও অভাবী মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্যেই। কেননা তিনি ছিলেন দানশীল ও দয়ালু এবং অন্যদেরকে নিজের উপর প্রাধান্য দিতেন।
হাদীসসমূহে বর্ণিত আছে যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বেশ কয়েকটি বর্ম ছিলো। কতক আলিম বলেন, তাঁর ৭টি বর্ম ছিলো। সেগুলোর নাম ছিল বিভিন্ন। যে বর্মটি তিনি ইয়াহূদীর কাছে বন্ধক রেখেছিলেন, নাম ছিল 'যাতুল ফুযুল'। এটা অত্যন্ত প্রশস্ত ও বৃহৎ বর্ম ছিল।