আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৮০৬
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ)-এর কথা বলার মধ্যে ফারসী শব্দ ব্যবহার করার বর্ণনা
৮০৬। হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি তখন পেটের পীড়ায় ভুগছিলাম । নবী (ﷺ) আমাকে বললেন, হে আবু হুরায়রা! তোমার কি পেটে অসুখ? তোমার কি পেটে অসুখ? তুমি সালাতের অভিমুখী হও। কেননা, সালাত সর্বপ্রকার রোগব্যাধির জন্য শিফা।
أبواب الكتاب
مَا ذُكِرَ مِنْ تُكَلُّمِهِ بِالْفَارِسِيَّةِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْجَمَّالُ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ، نَا أَبُو الْحَارِثِ الْوَرَّاقُ، نَا الصَّلْتُ بْنُ الْحَجَّاجِ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: مَرَّ بِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أَشْتَكِي بَطْنِي، فَقَالَ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ اشكنب درد، اشكنب درد عَلَيْكَ بِالصَّلَاةَ، فَإِنَّهَا شِفَاءٌ مِنْ كُلِّ سَقَمٍ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উপরোক্ত হাদীস অবলম্বনে মূল কিতাবের টীকা লেখক আবুল ফযল আবদুল্লাহ্ মুহাম্মদ আল গিমরী লিখেছেন, আলোচ্য হাদীস এবং এর পূর্ববর্তী হাদীস সঠিক নয় বলে বোঝা যায়। কেননা হযরত আবূ হুরায়রা (রা) একজন আরবী বংশোদ্ভূত দাওসী গোত্রের লোক। তারা পারস্য দেশ কখনো চোখেও দেখেননি। এভাবে ফারসী ভাষার সাথেও তাদের তেমন কোন জানাশোনা ছিলো না। তা হলে একথা কেমন করে সত্য হবে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে গোত্রের একজনের সঙ্গে এমন ভাষায় কথা বলছেন যে ভাষা তাঁরা আদৌ জানেন না। কিন্তু আমাদের মতে শুধু এতটুকু কারণের ভিত্তিতে একটি হাদীসকে দুর্বল বলা যায় না। তার কারণ হলো, হতে পারে যে, হযরত আবূ হুরায়রা (রা)-কে আনন্দ ও ফুর্তি দানের জন্য কথার ফাঁকে এক-আধটি ফারসী শব্দও সংযোগ করে তাকে সম্বোধন করেছেন। দ্বিতীয়, এও হতে পারে, বরং এমনটি হওয়াই অধিক সম্ভাবনা যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন ফারসী বাক্য ব্যবহার করা এবং হযরত আবূ হুরায়রা (রা) একজন আরবী বংশোদ্ভূত হওয়া সত্ত্বেও সে বাক্যের অর্থ বুঝে নেয়া ছিলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি মুজিযা। বিজ্ঞ আলিমগণ সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, জড় পদার্থের এমন কোন শ্রেণী অবশিষ্ট নেই যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন না কোন মুজিযার আত্মপ্রকাশ ঘটেনি। তা হলে এমন মতামত পোষণ করাও ভুল হবে না যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভাষাগত মুজিযাও দান করা হয়েছিল। উপরোক্ত মতামতের স্বপক্ষে স্পষ্ট দলীল হলো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভাষা ছিলো নিখুঁত কুরায়শী ভাষা। অন্যান্য গোত্রের ভাষা শিক্ষা করার জন্য তাঁর কোন উপায় ছিল না। এতদ্‌সত্ত্বেও তিনি প্রত্যেক গোত্রের লোকদের সাথে সেই গোত্রের নিজস্ব ভাষায় কথাবার্তা বলতেন। এ বিষয়টি এতই স্পষ্ট যাকে মুজিযা ব্যতিরেকে আর কোন নামই দেয়া চলে না। কাজেই এই নিরিখে তাঁর ফারসী ভাষায় কথা বলার বিষয়টিও বুঝে নিতে হবে। অন্যদিকে হযরত আবূ হুরায়রা (রা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফারসী কথাটি বুঝে নিতে পারাও তাঁর অপর মুজিযা। কেননা তাঁর বরকতে তাঁর এক সাহাবীও ভিন্‌ দেশীয় ভাষায় এ বাক্যটি বোঝার সুযোগ পেয়েছেন। তবে উল্লেখিত হাদীসের সনদ কিংবা মতনের উপর পারিভাষিক কোন ত্রুটি (جرح) বিদ্যমান থাকলে সেটি ভিন্ন কথা।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান