আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৮০৫
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ)-এর কথা বলার মধ্যে ফারসী শব্দ ব্যবহার করার বর্ণনা
৮০৫। হযরত মুজাহিদ (র) হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী (ﷺ) মসজিদে প্রবেশ করলেন, আমি তখন পেটের পীড়ায় ভুগছিলাম। নবী (ﷺ) আমাকে বললেন, হে আবূ হুরায়রা! তোমার কি পেটে অসুখ? আমি বললাম, জ্বী, হ্যাঁ। তিনি বললেন, দাঁড়িয়ে যাও এবং সালাত পড়ো। সালাতের মধ্যে শিফা (আরোগ্য) আছে।
أبواب الكتاب
مَا ذُكِرَ مِنْ تُكَلُّمِهِ بِالْفَارِسِيَّةِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
805 - حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عُمَرَ النَّهَاوَنْدِيُّ، نَا جُبَارَةُ، نَا ذؤادُ بْنُ عُلْبَةَ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: دَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَسْجِدَ وَأَنَا أَشْكُو مِنْ بَطْنِي، فَقَالَ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ اشْكنب درد، فَقُلْتُ: نَعَمْ، فَقَالَ: قُمْ فَصَلِّ، فَإِنَّ فِي الصَّلَاةِ شِفَاءٌ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উপরোক্ত হাদীসের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফারসী ভাষার শব্দ (شكمت درد) ব্যবহার করেছেন। বাক্যটির অর্থ হলো, তোমার কি পেটে অসুখ হয়েছে। কাজেই প্রমাণিত হচ্ছে যে, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথাবার্তার মধ্যে ফারসী শব্দের ব্যবহার করেছেন। তা ছাড়া হাদীসের আলোকে আরো বোঝা যাচ্ছে যে, সালাত বহু ধরনের রোগ-ব্যাধির নিরাময়ও করে থাকে। এ কারণেই তিনি চিকিৎসা স্বরূপ হযরত আবূ হুরায়রা (রা)-কে তার পেটের পীড়া নিরাময়ের জন্য সালাতের আদেশ করেছেন। অনুরূপভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিয়ম ছিলো যে, তিনি যখন কোন বিপদ-আপদ কিংবা কোন সমস্যার সম্মুখীন হতেন তখন সালাতে মশগুল হয়ে যেতেন। কেননা, সালাত মু'মিন ব্যক্তির জন্য মিরাজ স্বরূপ। আল্লাহ্‌র সঙ্গে একান্তে কথা বলার একটি সঠিক ও উপযুক্ত ক্ষেত্র। হাদীস গ্রন্থগুলির প্রতি দৃষ্টি দিলে সহজেই বোঝা যায় যে, হাদীসে সালাতের ফযীলত ও বরকত সম্পর্কে কত পরিমাণে বক্তব্য রাখা হয়েছে। এখানে লক্ষণীয় যে, আলোচ্য হাদীসে সালাত পড়ার জন্য যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, সেটি নফল সালাত সংক্রান্ত । নতুবা ফরয সালাত পড়া তো সর্বাবস্থাতেই আবশ্যক। ফরয সালাত ছেড়ে দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ফরয সালাতগুলিকেও জামাআতের সঙ্গে আদায় করা চাই। জামাআতের সহিত সালাত আদায় করা অসামান্য সৌভাগ্য ও বরকতের বিষয়।
অনুরূপ পবিত্র কুরআন সম্পর্কেও সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, পবিত্র কুরআন হলো সর্বোত্তম শিফা। হাদীসে বলা হয়েছে عن علي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خير الدواء القرآن» হযরত আলী ইব্‌ন আবূ তালিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ঔষধের মধ্যে সর্বোত্তম ঔষধ হলো পবিত্র কুরআনে কারীম। (ইব্‌ন মাজা)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিজের নিয়ম ছিলো এরূপ । তাঁর কাছে কখনো কোন যন্ত্রণা অনুভূত হলে তিনি সূরায়ে ফালাক ও সূরায়ে নাস পড়ে শরীরে ফুঁ দিতেন। উলামাদের মধ্যেও এ নিয়ম পাওয়া যায়। তাঁরাও রোগব্যাধি থেকে উপশমের জন্য কুরআন পাকের আয়াত পাঠ করে ফুঁ দিতেন। কিংবা কখনো আয়াত লিখে (তাবিজ বানিয়ে) দিতেন। আবার কখনো রোগী ব্যক্তিকে এভাবে নিয়মিত পাঠ করার জন্য বাতলিয়ে দিতেন।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান