আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৭৮৮
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ)-এর মিষ্টি ভাষণ ও শুভ লক্ষণ গ্রহণের প্রতি অনুরাগের বর্ণনা
৭৮৮। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইব্‌ন বুরায়দা তাঁর পিতা হযরত বুরায়দা আসলামী (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কখনো কুলক্ষণ গ্রহণ করতেন না বরং সর্বদা শুভলক্ষণ গ্রহণ করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, নবী (ﷺ) হিজরতের জন্য যখন যাত্রা করেছিলেন। তখন কোরাইশের লোকেরা সে ব্যক্তির জন্য একশ' উট পুরস্কার হিসাবে ঘোষণা দিয়েছিলো, যে ব্যক্তি (নাউযুবিল্লাহ্) নবী (ﷺ)-কে ধরিয়ে দিয়ে তাদের হাতে ন্যস্ত করবে। নবী (ﷺ) তখন মক্কা থেকে হিজরত করে মদীনার দিকে যাত্রা করছিলেন। ঘোষণা শুনে বুরায়দা নিজ গোত্র বনু সাহমের সত্তরজন অশ্বারোহীকে সঙ্গে নিয়ে নবী (ﷺ)-কে গ্রেফতারের জন্য বের হয়। তারপর রাত পর্যন্ত তারা নবী (ﷺ)-এর সন্ধান পেয়ে যায় (এবং সম্মুখে এসে উপস্থিত হয়) তখন নবী (ﷺ) তাকে বলেন, তুমি কে? সে উত্তর করলো, আমার নাম বুরায়দা। (বুরায়দা শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো শীতল ও হিমেল) তাই কথাটি শুনে নবী (ﷺ) হযরত আবূ বক্‌র (রা)-এর দিকে ফিরে (শুভলক্ষণ গ্রহণ স্বরূপ) বললেন, হে আবূ বক্র! তা হলে আমাদের ব্যাপারটি উত্তেজনামুক্ত ও সুন্দর হয়ে গেল। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, আচ্ছা তুমি কোন্ গোত্রের লোক? সে বললো, আসলাম গোত্রের। ('আসলাম' শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো সর্বাধিক নিরাপত্তা অর্জনকারী কাজেই) নবী (ﷺ) শুভলক্ষণ স্বরূপ বললেন, তা হলে তুমিও নিরাপত্তা পেয়ে গেলে। নবী (ﷺ) বললেন, আসলাম গোত্রের কোন্ শাখার সাথে তোমার সম্পর্ক? সে বললো, বনু সাহ্‌ম। (সাহ্‌ম শব্দের অর্থ হলো ভাগ্য লেখা তীর) নবী (ﷺ) বললেন, তবে তোমার তীর হস্তগত হয়ে গেলো। (অর্থাৎ তোমার ভাগ্য খুলে গেল।) তারপর লোকটি এবার নবী (ﷺ) কে বললো, আপনি কে? নবী (ﷺ) বললেন, আমি আল্লাহ্‌র রাসূল মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ্। কথাটি শোনামাত্রই বুরায়দা (রা) ইসলামের কালেমা পড়তে লাগলেনঃ اشهد ان لا اله الا الله وانك عبده ورسوله আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই, এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি নিশ্চয়ই তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল। বর্ণনাকারী বলেন, এভাবে হযরত বুরায়দা (রা) ইসলাম গ্রহণ করেন, এবং তার সঙ্গে তার দলের সকলে ইসলামে দীক্ষিত হন। পরদিন ভোরবেলা তাঁরা নবী (ﷺ)-কে বললো, (ইয়া রাসূলাল্লাহ্) আপনি এখন মদীনার সীমানায় প্রবেশ করছেন। কাজেই এ মুহূর্তে আপনার সঙ্গে একটি ঝাণ্ডা থাকা উচিত বর্ণনাকারী বলেন, ফলে হযরত বুরায়দা (রা) নিজ মস্তকের পাগড়ি খুলে সেটি একটি বর্শার অগ্রভাগে বেঁধে (পতাকার মত বানিয়ে) নেন। তারপর নবী (ﷺ) এর আগে আগে সেই পতাকা হাতে নিয়ে মদীনা পর্যন্ত হেঁটে যান।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ مَحَبَّتِهِ لِلْفألِ وَالْحَسَنِ مِنَ الْقَوْلِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
788 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ، نَا أَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، نَا أَوْسُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، حَدَّثَنِي الْحُسَيْنُ بْنُ وَاقِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَتَطَيَّرُ، وَلَكِنْ يَتَفَاءَلُ قَالَ: فَكَانَتْ قُرَيْشٌ جَعَلَتْ مِائَةً مِنَ الْإِبِلِ، لِمَنْ يَأْخُذُ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَرُدَّهُ عَلَيْهِمْ، حَيْثُ تَوَجَّهُ إِلَى الْمَدِينَةِ فَأَقْبَلَ بُرَيْدَةُ فِي سَبْعِينَ رَاكِبًا مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ مِنْ بَنِي سَهْمٍ فَتَلَقَّوْا نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلًا، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: أَنَا بُرَيْدَةُ فَالْتَفَتَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَقَالَ: يَا أَبَا بَكْرٍ، بَرُدَ أَمْرُنَا وَصَلُحَ، قَالَ: ثُمَّ مِمَّنْ؟ قَالَ: مِنْ أَسْلَمَ قَالَ: سَلِمْتَ، قَالَ: قَالَ ثُمَّ مِمَّنْ قَالَ مِنْ بَنِي سَهْمٍ قَالَ خَرَجَ سَهْمُكَ فَقَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَمَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ رَسُولُ اللَّهِ، قَالَ بُرَيْدَةُ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّكَ عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، قَالَ: فَأَسْلَمَ بُرَيْدَةُ، وَأَسْلَمَ الَّذِينَ مَعَهُ جَمِيعًا فَلَمَّا أَنْ أَصْبَحَ، قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَدْخُلِ الْمَدِينَةَ إِلَّا وَمَعَكَ لِوَاءٌ، قَالَ: فَحَلَّ عِمَامَتَهُ، ثُمَّ شَدَّهَا فِي رُمْحٍ، ثُمَّ مَشَى بَيْنَ يَدَيْهِ حَتَّى دَخَلَ الْمَدِينَةَ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আলোচ্য হাদীসে দেখা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত বুরায়দার নাম, তার গোত্র ও খান্দানের নাম থেকে শুভলক্ষণ গ্রহণ করেছেন। আর এ নামগুলোও ছিল ভাল নাম । আবার মহান আল্লাহ্ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শুভলক্ষণকে বাস্তবায়ন করে দিয়েছেন। অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পাকড়াও করার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়েছিল, (নাউযুবিল্লাহ্) তারা উল্টো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুবারক হাতে ইসলাম কবুল করে নেন। উপরন্তু তারা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহায্য ও সেবায় নিজেদেরকে সোপর্দ করে দেন। উপরোক্ত হাদীস প্রমাণ করে যে, সর্বদা ভাল নাম রাখা চাই। এবং ভাল নাম থেকে ভাল লক্ষণের আশা পোষণ করা চাই।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান