আখলাকুন্নবী (ﷺ)
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
হাদীস নং: ৭৪৬
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ)-এর উপহার গ্রহণ করা এবং তার প্রতিদান দেওয়ার বর্ণনা
৭৪৬। হযরত আনাস ইব্ন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আমাকে যদি বক্রীর একটি পাও উপহার দেয়া হয় আমি তা গ্রহণ করবো এবং যদি একটি সামনের পায়ের জন্য দাওয়াত দেয়া হয় তাতে আমি সাড়া দেবো। তিনি মানুষকে পরস্পর উপহার আদান-প্রদানের নির্দেশ দিতেন। কারণ, এভাবে মানুষে মানুষে সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয়। তিনি আরো বলেছেনঃ সবাই যদি সত্যিকার অর্থে ইসলাম গ্রহণ করে থাকে তাহলে প্রতিদানের প্রত্যাশা ছাড়াই বা ক্ষুধা না থাকলেও যেন উপহার প্রদান করে।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ قَبُولِهِ الْهَدِيَّةَ وَإِثَابَتِهِ عَلَيْهَا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
746 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ، نَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ التِّرْمِذِيُّ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ التَّنُوخِيُّ، نَا سَعِيدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَوْ أُهْدِيَ إِلَيَّ كُرَاعٌ لَقَبِلْتُ، وَلَوْ دُعِيتُ إِلَى ذِرَاعٍ لَأَجَبْتُ وَكَانَ يَأْمُرُ بِالْهَدِيَّةِ صِلَةً بَيْنَ النَّاسِ وَقَالَ: لَوْ أَسْلَمَ النَّاسُ لَتَهَادَوْا مِنْ غَيْرِ جُوعٍ.
হাদীসের ব্যাখ্যা:
'প্রতিদানের প্রত্যাশা ছাড়াই যেন পরস্পরকে উপহার প্রদান করে' নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর অর্থ হচ্ছে মুসলিম ইসলামের দাবিকে যথার্থভাবে পূরণ করবে। তাঁদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা, সমবেদনা, কল্যাণকামিতা এবং ভালবাসার পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে থাকলে নিজের অভাব ও প্রয়োজনের পরোয়া না করেই ইসলামী ভ্রাতৃত্বের অনুপ্রেরণায় মুসলিম ভাইদের উপহার প্রদান করবে। উপহার দেয়ার সময় মনের মধ্যে এ চিন্তা যেনো আদৌ না জাগে যে, আমি এর কি প্রতিদান পেতে পারি।
সেই সমাজ কতটা কল্যাণময় ও সৌভাগ্যবান যার প্রতিটি ব্যক্তির প্রচেষ্টা থাকে নিজের প্রয়োজন পূরণের পূর্বে তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণের। এরূপ জান্নাতী পরিবেশে অত্যন্ত সৌহার্দ্যের মধ্যে সবার প্রয়োজন পূরণ হবে এবং কেউ কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করবে না । এ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে কথাই শিক্ষা দিচ্ছেন। পক্ষান্তরে সমাজের প্রতিটি ব্যক্তির লক্ষ্য যদি স্বার্থপরতা ও উদরপূর্তি হয়। প্রত্যেকেই যদি চায় অন্যরা কিছু লাভ করুন আর নাই করুন আমার নিজের পেট পূর্ণ হওয়া এবং পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ শুধু আমার হওয়া দরকার তাহলে সে সমাজ জাহান্নামের নমুনা ছাড়া আর কিছুই নয়। এ সমাজে সবাই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করবে এবং সবাই তার প্রয়োজন থেকে বঞ্চনার নালিশ জানাতে থাকবে। এ হাদীস থেকে আরো জানা যায় যে, উপহার আদান-প্রদান পারস্পরিক স্নেহ-ভালবাসা সৃষ্টির একটি শক্তিশালী উপায়ও বটে।
সেই সমাজ কতটা কল্যাণময় ও সৌভাগ্যবান যার প্রতিটি ব্যক্তির প্রচেষ্টা থাকে নিজের প্রয়োজন পূরণের পূর্বে তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণের। এরূপ জান্নাতী পরিবেশে অত্যন্ত সৌহার্দ্যের মধ্যে সবার প্রয়োজন পূরণ হবে এবং কেউ কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করবে না । এ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে কথাই শিক্ষা দিচ্ছেন। পক্ষান্তরে সমাজের প্রতিটি ব্যক্তির লক্ষ্য যদি স্বার্থপরতা ও উদরপূর্তি হয়। প্রত্যেকেই যদি চায় অন্যরা কিছু লাভ করুন আর নাই করুন আমার নিজের পেট পূর্ণ হওয়া এবং পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ শুধু আমার হওয়া দরকার তাহলে সে সমাজ জাহান্নামের নমুনা ছাড়া আর কিছুই নয়। এ সমাজে সবাই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করবে এবং সবাই তার প্রয়োজন থেকে বঞ্চনার নালিশ জানাতে থাকবে। এ হাদীস থেকে আরো জানা যায় যে, উপহার আদান-প্রদান পারস্পরিক স্নেহ-ভালবাসা সৃষ্টির একটি শক্তিশালী উপায়ও বটে।